বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসে চারপাশটা একবার দেখে নিলুম। মনে হল, হাঁটা শুরুর আগে যতটা ঠান্ডা ছিল, তার থেকে অনেক বেশি ঠান্ডা তখন বোধ হচ্ছিল। একটা ফিসফিসানি শব্দ আমার চারপাশে মাঝেমাঝেই শোনা যাচ্ছিল। মাথার উপরেও কেমন একটা হালকা গর্জন শুনতে পাচ্ছিলাম। উপরে তাকিয়ে দেখি, বিরাট ঘন মেঘ দ্রুত উত্তর থেকে দক্ষিণে আকাশে ছেয়ে যাচ্ছে। বাতাসে ঝড়ের পূর্বাভাস। ঠান্ডা লাগছিল। ভাবলাম, বসে থাকা ঠিক হবে না। তাই আবার চলতে শুরু করলুম।
এবার যে জায়গাটায় এলুম, সেটা ভারি সুন্দর। বিশেষ দ্রষ্টব্য কিছু যদিও ছিল না, কিন্তু সব কিছুর মধ্যে একটা সৌন্দর্যের ভাব ছিল। সময়ের খেয়াল ছিল না। তারপর গোধূলির আলো ক্ষীণ হয়ে এলে মনে হল, এবার পথ খুঁজে বাড়ি ফিরি কি করে? বাতাস ঠান্ডা। মাথার উপর মেঘও ঘনীভূত হয়ে এসেছে। মাঝে মাঝে গম্ভীর মেঘের গর্জনও শোনা যাচ্ছে। যে গর্জনকে ভেদ করে আবার মধ্যে মধ্যে রহস্যজনক এক চিৎকার শোনা যাচ্ছে–যেটাকে ড্রাইভার বলেছিল নেকড়ের চিৎকার। খানিক ইতস্তত করলাম। আসার পথে একটা পরিত্যক্ত গ্রাম দেখেছিলাম। সেদিকেই হাঁটা দিলাম। উপস্থিত হলাম একটা খোলা প্রান্তরে। চারদিকে তার পাহাড় দিয়ে ঘেরা। গাছে ঢাকা প্রান্তভাগ নেমে গিয়েছে সমভূমির দিকে। তবে ঢাল কম। এখানে সেখানে ঝোপঝাড় আর গর্ত। একটা রাস্তা দেখলাম এঁকেবেঁকে একটা ঘন ঝোপের দিকে এগিয়ে গেছে, তারপর তার পিছনে গিয়ে হারিয়ে গেছে।
সেদিকে তাকিয়ে আছি, এমন সময় কনকনে ঠান্ডা বাতাস লাগল গায়ে। বরফ পড়া শুরু হল। মনে হল যেন পেরিয়ে এলেম অন্তবিহীন পথ। কাছেই কোনো কাঠের স্তুপে আশ্রয় নিতে গেলুম। এদিকে আকাশ কালো হয়ে এল। মুষলধারে বরফ পড়া শুরু হল। দেখতে দেখতে আমার চারপাশে সাদা গালচে বিছিয়ে গেল, তার শেষ কোথায় দেখতে পেলুম না। পথের ধারগুলো ঠিক চিহ্ন দেওয়া ছিল না। তাই সেটাও আর দেখতে পেলুম না। খানিক বাদেই পায়ের তলায় ঘাস আর শ্যাওলার স্পর্শে বুঝলুম, পথ থেকে সরে এসেছি। বাতাসের গতি জোর হল। তার বিরুদ্ধে হাঁটাও কষ্টকর হল। সেই বাতাস আবার হিমশীতল। হেঁটেও ঠান্ডার কাঁপুনি থেকে রেহাই পেলুম না। এত জোরে বরফ পড়ছিল যে চোখ খোলা রাখাও দুষ্কর হল। মাঝে মধ্যেই আকাশ বিদীর্ণ করে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। সেই আলোয় দেখলুম আমার সামনে এক ঘন জঙ্গল–মূলত ইউ আর সাইপ্রাস গাছের বন, সবটাই বরফে ঢাকা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now