বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কোচোয়ানকে বিরক্ত করে আরেকবার তাকে থামালুম; বললুম ওই রাস্তায় একটিবার যেতে। সে নানা ওজরআপত্তি তুলে বারবার বুকে ক্রুস আঁকতে লাগল। এতে আমার কৌতুহল গেল বেড়ে। তাকে নানা প্রশ্ন করতে লাগলুম। সেও নাছোড়। বার বার ঘড়ি-দর্শন প্রতিবাদ চালিয়ে গেল।
শেষে বললুম, “আচ্ছা, জোহান, শোনো। আমি ওই রাস্তায় যাচ্ছি। তুমি যেতে না চাইলে তোমাকে জোরাজুরি করব না। কিন্তু কেন ওখানে যাবে না, সেটা তো বলবে।” এবার সে বক্স থেকে নেমে এল মাটিতে। হাতজোড় করে আমাকে সেখানে না যেতে অনুরোধ করতে লাগল। তার জার্মানের মধ্যে মোটামুটি ইংরেজি মেশানো ছিল, তাতে ওর কথা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল না। সে আমাকে একটা কিছু বলতে চাইছিল–এমন একটা কিছু যা ওর কাছে খুবই ভয়ের ব্যাপার; কিন্তু প্রতিবারই ওই “Walpurgis nacht!” ছাড়া আর কিছুই বলে উঠতে পারছিল না সে।
ওর সঙ্গে খানিক তর্ক করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু যার ভাষা জানি না, তার সঙ্গে তর্ক করা মুশকিল। ওর বরং একটু সুবিধেই ছিল। যদিও সে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলতে পারত, কিন্তু তখন এত উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল যে, নিজের ভাষা ছাড়া আর কিছুই তার মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল না। প্রত্যেকবার কথা বলতে বলতে সে ঘড়ি দেখছিল। তারপর ঘোড়াগুলোও অশান্ত হয়ে বাতাসে কি যেন শুঁকতে লাগল। তাতে সে আরও ভয় পেয়ে গেল। চারদিকে তাকাতে লাগল। তারপর হঠাৎ সামনে দিকে লাফিয়ে এসে ঘোড়ার লাগাম ধরে এগিয়ে নিয়ে তাদের প্রায় কুড়ি ফুট দূরে গিয়ে রাখল। আমি পিছন পিছন গেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ও অমন করল কেন। জবাব দেওয়ার আগে সে একবার বুকে ক্রুস আঁকলে। তারপর গাড়িটা রাস্তার অন্য দিকে রাখতে রাখতে আমরা যেখানটায় দাঁড়িয়েছিলাম, সেই জায়গাটা দেখাল। তারপর চৌমাথাটা দেখিয়ে প্রথমে জার্মানে ও পরে ইংরেজিতে বলল, “তাকে কবর দিয়েছে–যে নিজেকে মেরেছিল।”
আত্মহত্যাকারী! মনে পড়ল, আত্মহত্যাকারীদের রাস্তার চৌমাথায় কবর দেওয়া হত: “ওহ্! তাই বলো, আত্মহত্যা। ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে!” অবশ্য মুখে যাই বলি, ঘোড়াগুলি কেন অমন করছিল, তা কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না।
কথা বলতে বলতে কুকুরের কান্নার মতো একটা ডাক শুনতে পেলাম। দূর থেকে আসছিল আওয়াজটা। কিন্তু ঘোড়াগুলো তাতে খুব অশান্ত হয়ে উঠল। জোহান অনেক কষ্টে তাদের শান্ত করল। সে নিজেও ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। বলল, “নেকড়ের ডাক–অথচ এদিকে এখন নেকড়ে নেই।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now