বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যাত্রা শুরু করার সময়ও মিউনিখের আকাশে জ্বল জ্বল করছিল মধ্যাহ্নসূর্য; বাতাসে ভাসছিল নববসন্তের উচ্ছ্বাস। রওনা হওয়ার ঠিক আগে হের ডেলব্রুক (যে হোটেলে উঠেছিলাম, তার মালিক) নগ্নশিরেই ছুটে এলেন আমাদের গাড়ি অবধি। আমাকে শুভ যাত্রা জানালেন। তারপর গাড়ির দরজার হাতলে হাত রেখে কোচোয়ানকে বললেন, “রাত পড়ার আগেই ফিরে আসিস কিন্তু। আকাশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু উত্তুরে হাওয়ায় একটা কাঁপুনি লাগছে। মনে হচ্ছে, ঝড় উঠবে। তাই, দেরি করিসনি।” তারপর একটু হেসে বললেন, “আজকের রাতটা কি, সে খেয়াল আছে তো!”
জোহান দৃঢ়কণ্ঠে জবাব দিলে, “Ja, mein Herr.” (“হ্যাঁ, কর্তা।”) তারপর নিজের টুপিটা চেপে ধরে গাড়ি ছুটিয়ে দিলে। শহর ছেড়ে বেরিয়ে এসে ওকে থামতে নির্দেশ করলুম। জিজ্ঞাসা করলুম:
“আজকের রাত্তিরটা কি হে জোহান?”
সে বুকে ক্রুস এঁকে ছোট্ট করে জবাব দিলে: “Walpurgis nacht.” (“ওয়ালপারজিস রাত।”) তারপর একটা সেকেলে, টার্নিপের আকার-বিশিষ্ট, জার্মান সিলভারের ঘড়ি বের করলে; সেটার দিকে তাকিয়ে খানিকটা অস্থিরভাবে কাঁধ নাচালে; বুঝলুম, অকারণে সময় নষ্ট করছি দেখে সে একটা সশ্রদ্ধ প্রতিবাদ জানালে। তাই ফিরে এসে গাড়ি হাঁকাতে বললুম। সেও সময় নষ্ট করল না। নষ্ট সময়টুকু পুষিয়ে নিতে দিল ছুট। এদিকে ঘোড়াগুলো মাঝেমধ্যেই মাথাঝাঁকানি দিয়ে উঠে খুব রহস্যজনকভাবে বাতাসে কি একটা শুঁকতে লাগল। আমিও ভয় পেয়ে আশেপাশে তাকাতে লাগলুম। রাস্তার ধারে জনবসতি সেরকম ছিল না। জায়গাটা একধরনের বায়ুতাড়িত মালভূমির মতো। যেতে যেতে দেখলুম, পাশে একটা রাস্তা এঁকেবেঁকে নেমে গিয়েছে নিচের উপত্যকার দিকে। মনে হল, সেই রাস্তায় লোক-চলাচল বিশেষ হয় না। ভারি ভাল লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now