বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"অসমাপ্ত ভালোবাসা "(১ম পর্ব)
লিখেছেনঃ রাসেল পারভেজ
পরন্তু বৈকালে গড়াই নদীর তীরে আয়েশা মৌন হইয়া বসিয়া মনে মনে প্রমাদ গুনিতেছে আর মাটির ঢেলা কুড়াইয়া লইয়া জলের দিকে ছুঁড়িয়া মারিতেছে। নদীতে পাল খাটানো নৌকা চলিতেছে, শুভ্র বর্ণের মেঘখন্ড আকাশ জুড়িয়া ভাসিয়া বেড়াইতেছে,ঝাক বাধা ধবল বলাকা সারি উড়িয়া যাইতেছে ইহা দেখিতেছিল।
হঠাৎ দৃষ্টি ভ্রম করিয়া সোহান পিছন হইতে আয়েশার চোখ জাপটাইয়া ধরিল।
আয়েশা অভিমানে মুখ বাঁকাইয়া বলিল "এখন বটে এলে...???
সোহান অভিমানের অভিনিয়মকে ভঙ্গ করিয়া উহার পাশে আড়ষ্ট হইয়া বসিয়া বলিল --মা একটু হাটে যেতে বললে তাই আসতে দেড়ি হল...!!
সোহানের কথা শেষ করিতে না দিয়েই বলিল --খবরদার নিজের দোষ অন্যের উপর চাপাবে না কিন্তু, এই বলে দিলুম...!!
-
--এইবারের মত মাপ করে দাও, আর কক্ষনও এমন হইবে নে।
-
--এ তোমার রোজকার কথা
-
--আচ্ছা বাবা ঘাট মানছি, এই কানে ধরছি, আর এমনটি হবেনে।
ইহাই বলিয়া সোহান আয়েশার কান ধরিয়া কহিল "এই তোর কান ধরে প্রতিজ্ঞে করছি আর এমনটি করব নে।
-
--নরেন কাকার মত আবার তুই তুকারি শুরু করলে....???
-
--কাকিও তো তুই তুকারি করে, তুই ও করিস।
-
--দিনদিন গাড়ল হচ্ছ...???
ইহাই বলিয়া আয়েশা ক্রোধে ফাটিয়া পড়িয়া কহিল -এবার ক্ষ্যামা দাও, তোমার সাথে আর পারিনে বাপু।
সোহান হাসিয়া উঠিয়া কহিল, ছেলেবেলায় খুব জ্বালিয়ে মারতিস।সোহান ফড়িং ধরে দে, সোহান আতা পেরে দে। একবার তো তোর হাতির মত বত্রিশটা দাঁতই হাতের উপর বসিয়ে দিয়েছিলি, এই ভুলে গেলি...???
-
--উহ...তুমি বোধহয় ছেড়ে দিয়েছিলে...??? এর জন্য বেদম প্রহার ও সহ্য করতে হয়েছিল।
সোহান লাল হইয়া বলিল, আচ্ছা তুই আমায় কি দেখে ভালবেসেছিস...???
-
--যাহ..এ কতা কইতে বুঝি লজ্জা লাগেনা...???
-
--হুম, তাতো বটেই। ফড়িং না পেয়ে যখন চোখমুখ খামচে দিতিস তখন বুঝি লজ্জা লাগতো না...???
আয়েশা চক্ষু লাল করিয়া, মুখ বাঁকাইয়া, অভিমানী সুরে কহিল, সবসময় দোষ কি আমি একলাই করতুম, তুমি বুঝি করতে না...??? আর গাড়লের মত এমন তুই তুকারি করলে কিন্তু তোমার সঙ্গে কথা কইবো না এই বলে দিলুম।
ইহাই বলিয়া আবার চোখমুখ পাকাইয়া উহার পাশ ফিরিয়া অন্যমুখো হইয়া বসিয়া রহিল।
সোহান উহার চিবুক ধরিয়া কহিল, তুই দেকচি জবর পাগলি, থুরি...তুমি দেকচি জবর পাগলি, এমন করে কেউ রাগ করে...???
-
--বাহ..রে তুমি আমাকে তুই তুকারি করবে আর আমি কিচু কইবো না...???
-
--আচ্ছা আর তুই কইবো না, এবার তোমার হাতির মত দাতে একটু হাসো দেকিনি।
-
--কি কইলে....???
-
এরপর দুইজনই খুনসুটির আনন্দে মত্য হইয়া গেল।
•
আয়েশা, সোহান দুইজন দুইজনের বিপরীত মুখী পিঠ ঠেকাইয়া অনেকক্ষণ মৌন হইয়া রইল।
সোহান নিরবতা ভঙ্গ করিয়া কহিল "আচ্ছা আয়েশা আমি যখন থাকবো না তখন কি আমায় মনে রাখবে...???
-
--থাকবেনা মানে কোথায় যাচ্ছ...???
-
--ধরে নাও মরে গেলাম, তখন কি আমায় মনে রাখবে....???
-
--বালাই সাট। এমন কথা আর যেন কখনও না শুনি..। তোমার চেয়ে যেন আমি আগে মরি, বিধাতা যেন আমাকেই আগে মরন দেন।
-
--আচ্ছা ধর, কোন এক রাজপুত্তুর এসে তোমায় বিয়ে করে নিলো, তখন আমায় মনে রাখবে....???
-
--হঠাৎ এসব প্রশ্ন কেন...??? তোমায় ছেড়ে আমি কক্খনওটি থাকতে পারব না।
একথা শুনিয়া সোহান মনে মনে খানিকটা হাসিয়া লইয়া কহিল, তাই যেন হয়। ইহাই বলিয়া উঠিতে ব্যাস্ত হইয়া গেল।আয়েশা কোনরূপ বাধা না দিয়া চুপ করিয়া ওখানেই বসিয়া রহিলো।
সোহান যাইবার কালে পিছনে ফিরিয়া মুচকি হাসিয়া একটা টাটা দিয়া চলিয়া গেল।
গোধূলীটা যেন কমলা বর্ণের সূয্যিটার সহিত মিশিয়া যাইতে চাহিতেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যের কালি মাখা অন্ধকার আসিয়া সবকিছুই গ্রাস করিয়া লইবে ।
সোহানের মূর্তিটা যতক্ষণ দুর পথের বাকেঁর সহিত মিশিয়া না গেল আয়েশা ওখানেই বসিয়া রহিলো।
•
আজকাল মাঝেমধ্যেই আয়েশার বিবাহের সম্নন্ধ আসিতেছে। আয়েশা ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করিতে পারিতেছে না, ঠিকমতো নিদ যাইতে পারিতেছে না। সমস্ত দিন বিছানায় আড়ষ্ট হইয়া বসিয়া থাকে, কাহারও সহিত কথা কহিতে চাহে না। রাসেলকে দিয়া সোহানের কাছে খবর পাঠাতেছে কিন্তু ইহার ও কোন উত্তর মিলিতেছে না। সোহান নাকি চাকরির সন্ধানে শহরে গিয়াছে, কবে ফিরিবে তাহারও কোন ঠিক ঠিকানা নাই।
শোকে চিন্তায় আয়েশার কয়েকবার মূর্ছাও গিয়াছে।
•
ইহার মাঝে আয়েশার বিবাহ ঠিক হইয়া গেল, ছেলে মাষ্টার্স পাশ ত্রিশ হাজার টাকা বেতনের চাকুরি করে। দুগ্গা পূজোর ছুটিতে দুদিনের জন্য বাড়ি আসিবে ইহার মাঝেই বিবাহের কার্য সম্পন্ন করা হইবে। এদিকে আয়েশা সারাদিন না খাইয়া, না ঘুমাইয়া আখিঁর বারি ঝরাইয়া কাটাইয়া দেয় আর বৈকাল হইলেই গড়াই তীরে গিয়া বসিয়া অপেক্ষার পহর গুনিতে থাকে।
•
দেখিতে দেখিতে আয়েশার বিবাহের দিন ঘনিয়ে আসিল। কিন্তু সোহানের ফিরিবার কোন. লক্ষন মিলিতেছে না। আয়েশা কোন দিশা না পাইয়া সোহানের বাড়িতে চলিয়া যায়।
সোহানের মা রোয়াকে বসিয়া আত্মবিলাপ করিতেছে।
আয়েশা উহার পাশে বসিয়া চোখের জল ছাড়িয়া দিয়া কহিল, চাচি আমি কি দেখতে বড়ই অসুন্দর...???
সোহানের মা চোখের নোনা জল বাধ দিয়াও ঠেকাইতে পারিল না, জল ছাড়িয়া কহিল, এত কতা কেন কইচিস পাগলী, এই পাড়াগাঁয়ে তোর মত কি আর দুটো মেয়ে মেলে...???
আয়েশা চোখ মুছিয়া কহিল, তাহলে আমায় বউ করে আনতে পারবে না...???
-
--সেইটে তো আমিও চায়, তোর বাপ কি এই গরিবের ঘরে তোকে দেবে...???
-
--না দিলে পালিয়ে চলে আসব, তুমি পারবে না তোমার ঘরের কোনে আমাকে একটু জায়গা করে দিতে...???
-
--বাপ আমার সারাদিন তোর জন্য কাদতেঁ, কইতো তোরে না পাইলে গড়াই গাঙ্গে ঝাপ দেবে, তাই বুঝিয়ে সুঝিয়ে শহরে পাঠালুম। আজ ১৭ দিন গেল, না পেলুম টেলিফোন, না কোন চিটি।
ইহাই বলিয়া সোহানের মা আয়েশাকে জড়াইয়া ধরিয়া আবার কাদতেঁ শুরু করিয়া দিল।
•
কিছুকাল পরে আয়েশার বিবাহ হইয়া গেল, যাইবার কালে সোহানকে দেখিবার জন্য কত কাদিলো, কত আত্মবিলাপ করিল, কিন্তু কোন ফল হইল না।সোহান আসিল না। বিবাহের আসরে কয়েকবার মূর্ছা গেল। কাদিতে কাদিতে পাগলী শশুড় বাড়িতে চলিয়া গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now