বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকে আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই,
যেটা আপনার হয়তো জানা নেই।
-- কি কথা?
-- আপনি হয়তো জানেন যে লাস্ট আপনাকে রিমি একটা এসএমএসের মাধ্যমে বলেছিল যে, ওকে ভুলে যেতে।
কিন্তু ওইদিন কি কারনে এমনটা বলেছিল রিমি সেটা কি জানেন,
জানেন না। রিমির খুব মাথা ব্যাথা হতো, প্রথম প্রথম ততটা গুরুত্ব না দিলেও পরে যখন টেস্ট করানো হয়
তখন রিমির মাথায় ব্রেন টিউমার ধরা পরেছিল, আর ততক্ষনে অনেক দেরিও হয়ে গিয়েছিল।
আর তাই রিমির হাতে সময় খুব কম ছিল। রিমি চায়নি যে তার এ অসুস্ততার কথা আপনি জানেন।
কেননা আপনি যদি জানতেন তাহলে আপনি অনেক কস্ট পেতেন যা রিমি চায় নি। আপনি যাতে তাকে ঘৃণা করেন, তাকে ভুলে গিয়ে নতুন করে অন্য কারো সাথে জীবন শুরু করেন
তাই ও আপনার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
-- (কান্না জরিত কন্ঠে বলে উঠলাম) তোমার কি মনে হয় আমি ওকে ভুলে থাকতে পেরেছি। পারিনি, আজও ভালোবাসি ওকে, খুব ভালোবাসি।
কখনো ভুলতে পারবো না। ওকে ছাড়া আমার একটা মূহুর্তও অতিবাহিত হয় না। প্রতিটা মূহুর্ত ওর স্মৃতি আমাকে ছিড়ে ছিড়ে খায়।
আচ্ছা তুমি কি আমাকে ওর কাছে নিয়ে যেতে পারবে, অনেক দিন হলো ওকে দেখি না। একটু নিয়ে চলনা প্লিজ।
--যাবেন, তবে চলুন আমার সাথে।
-- হুম চল।
অনেকটা পথ হাটলাম, তারপর একটা কবরস্তানের পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেল রিমির বান্ধবী।
আমি অকে বললাম যে,
-- এখানে দাড়ালে কেন?
-- হুম এখানেই তো আছে আপনার রিমি।
-- কোথায়, আমি তো দেখতে পাচ্ছি না।
-- হুম দেখাচ্ছি। অই দেখুন ২য় সারির ১ম কবরটাতেই গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে আছে রিমি।
ওর কথা শুনে আমি হতভাগ হয়ে গেলাম। কিছুই বুজতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল আমার মুখের কথা নেই।
কিন্তু দুচোখে কান্নার বৃস্টি শুরু হয়ে গেছে। প্রায় ১০মিনিট পর, হঠাৎই চিৎকার করে উঠলাম, হ্যা এইবার পেরেছি আমি
চিৎকার করতে পেরেছি। চিৎকার করে বলতে পেরেছি যে আমি তোমাকে এখনো অনেক ভালোবাসি রিমি। অনেক ভালোবাসি।
এখনো ঘুমিয়ে আছো কেন। জাগো, রিমি জাগো। তোমার অপেক্ষায় আমি বসে আছি। কেন স্বার্থপরের মত চলে গেলে, একটি বারো বলে গেলে না।
বলে গেলে তো আমরা একসাথে যেতে পারতাম তাইনা। আমরা না কথা দিয়েছিলাম বাচবো একসাথে মরবো একসাথে। তবে কেন এমনটা করলে তুমি বলো, বলো আমাকে।
তবে চলেই যখন গেছো চিন্তা করো না, খুব শীগ্রই আমদের দেখা হবে।
.
এরপর অনেকবার সুইসাইড করার চেস্টাও করেছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের হাস্যকর খেলায় একবারও সফল হতে পারিনি।
যাইহোক এখনো চেস্টা বাদ দেইনি। এই দেখুন গল্প করতে করতে সিগারেটের আগুন কখন যে হাতে লেগে পুরে গেল তা একদম বুজতে পারিনি।
এতোদিন হয়তো অনেক চেস্টার পরও বিফল হয়েছি, কিন্তু আজ আর বিফল হবো না। আজ সত্যি মনে হচ্ছে রিমির কাছে ফিরে যেতে পারবো।
আমি আসছি রিমি, আমি আসছি। যাইহোক রিলিং এ দড়িটা অনেক্ষন ধরেই ঝুলছে, যতোক্ষন আপনাদের সাথে গল্প করলাম। আজ আমার খুব
আনন্দ লাগছে কেননা, আজকে এই দড়িটাকে বরন করে নিলে রিমির থেকে আর কেও আমাকে দূরে রাখতে পারবে না। বিদায় জগতবাসি, বিদায় স্বার্থপর জগত। বিদায়।
.
লেখক: রিজভী আহমেদ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now