বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সৌন্দর্য্যই বড় নয়

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রাসেল পারভেজ (০ পয়েন্ট)

X মফিজুর সাহেব একগাল হেসে বললেন," বয়সটাতো ভালোই হলো, তা একটা বিয়ে শাদী করো। " আব্দুল্লাহ অফিসের ফাইলগুলোতে মুখ গুঁজেই বললো, এইতো করবো। " মফিজুর সাহেব একটা সুপারী মুখে দিয়ে বললো, সেই কথাটা তো কয়েক বছর ধরেই বলছো, এবার একটা বিয়ে করেই ফেলো। " আব্দুল্লাহ মুখটা মলিন করে বললো, আমি দেখতে কুৎসিত আর বেটে, কোনও মেয়ে আমাকে বিয়ে করতে চায়না। কথাটা শুনে মফিজুর সাহেব চুপ হয়ে গেল। . আব্দুল্লাহ প্রাইভেট কোম্পানিতে ছোট একটা চাকরি করেন। দেখতে একটু খাটো এবং কালো টাইপের। কিন্তু হৃদয়টা তার চকচকে হিরা । অফিসের সবার মধ্যমণি। বিশ্বত্বতা এবং সততার গুনে অফিসের দারোয়ান থেকে শুরু করে বড় কর্তা সবাই তাকে এক নামে চেনে এবং ভালোবাসে। মফিজুর সাহেব আব্দুল্লাহর সহকর্মী। বয়সে অফিসের সবার বড়। তবে অনেকটা স্বার্থপর শ্রেনীর। তাই সচরাচর কারও সাথে তার বনিবনা পড়ে না। সবার ধারনা মফিজুর সাহেব টাকা পয়সা ধার নিয়ে ফেরত দিতে চায়না। . মফিজুর সাহেব পান খাওয়া তামাটে বর্নের দাঁতে একগাল হেসে বললো, "আব্দুল্লাহ সাহেব কিছু টাকা ধার দিবেন? ছোট ছেলেটার প্রচুর জ্বর কিছুই মুখে দিতে পারছে না, অফিসে আসার সময় বলে দিয়েছে আপেল কিনে নিয়ে যেতে, কিন্তু গত মাসে মেজো মেয়েটার বিয়ের পর থেকেই হাতটা একদম খালি যাচ্ছে। আপনি জানেন আপনি ছাড়া কেউ এই অফিসের আমাকে ধার দেবে না। আপনি যদি ফিরিয়ে দেন তাহলে আমি অসহায় হয়ে যাব। কথা দিচ্ছি আগামী সপ্তায় আপনার টাকা শোধ করে দেব। " কথাগুলো শেষ করে মফিজুর সাহেবের মুখটা পানসে হয়ে গেল। মফিজুর সাহেবের মুখটা দেখে আব্দুল্লাহর মনটাও খারাপ হয়ে গেল। পকেট হাতড়ে তিনটা ১০০ টাকার নোট খুজেঁ পেল। সেটাই মফিজুর সাহেবের হাতে গুঁজে দিলো। মুহুর্তের মধ্যে মফিজুর সাহেবের বিষিয়ে যাওয়া মুখটা উজ্জ্বল হয়ে গেল এবং বাম চোখের কোনে এক বিন্দু অশ্রুর আভা খুজে পাওয়া গেল। • অফিসের বড় কর্তা মাজেদুল হক। নিয়মিত নামাজ পড়ে এবং সুন্নত মেনে চলার চেষ্টা করেন। মাজেদুল হকের কাছেও আব্দুল্লাহ খুব প্রিয় ব্যাক্তি। মাজেদুল সাহেবও মাঝে মধ্যে আব্দুল্লাহর বিয়ের জন্য তাগিদ দেয়, কিন্তু নানা ধরনের অযুহাত দেখিয়ে প্রসঙ্গটা পাল্টে ফেলতে চায়। মাজেদুল হক অফিসে বসে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে চোখ বুলাচ্ছিলো। হঠাৎ দরজার পাশে ঠকঠক শব্দে মেজাজ বিগরে গেল। চোখ না তুলেই বললো কে? দরজার ওপাশ থেকে সালাম দিয়ে বললো স্যার আমি আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ রুমে প্রবেশ করে মায়ের অসুস্থতার জন্য ছুটির আবেদন করলো। মাজেদুল হক কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসে থেকে বললো, " আপনাকে না কতবার বলেছি একটা বিয়ে করুন। অসুস্থ মাকে আর কত কষ্ট দেবেন? আব্দুল্লাহ একগাল হেসে বললো " আমি যতদিন আছি মায়ের সেবা করে যাব। পরের মেয়ে ঘরে এসে তো সেবা নাও করতে পারে। " মাজেদুল হক আরও কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, " ধুর মিয়া, আপনাকে নিয়ে আর পারিনা। চলুন আপনার আম্মাকে দেখে আসি। " এই বলে আব্দুল্লাহর সাথে বেড়িয়ে এলো। . আব্দুল্লাহ এবং মাজেদুল হক অফিসের নিচের একটা দোকান থেকে কিছু ফলমূল কিনলো। মাজেদুল হককে একজন ক্লায়েন্ট ফোন দেয়ায় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে অন্যমনস্ক হয়ে কথা বলছিলো এবং আব্দুল্লাহ মায়ের জন্য কিছু ওষুধ কিনছিলো। আব্দুল্লাহ হঠাৎ লক্ষ্য করলো বিপরীত দিকে হতে দ্রুতগতিতে একটা গাড়ি মাজেদুল হককেই লক্ষ্য করে ছুটে আসছে। আব্দুল্লাহ দৌড়ে গিয়ে মাজেদুল হককে ধাক্কা দিলো। ততক্ষণে গাড়ির বাম্পারের আঘাতে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েছে আব্দুল্লাহ। ফিনকি দিয়ে গড়িয়ে পড়লো টাটকা রক্ত। • আজ দুইদিন পরে চেতনা ফিরলো আব্দুল্লাহর। তার মাথায় গুনে গুনে ৭ টা সেলাই দেয়া হয়েছে। আব্দুল্লাহর সেবা করার মত তেমন কোনও লোক নেই। তাই এই দুইদিন মাজেদুল হকের মেয়ে শবনম দিনরাত সেবাযত্ন করেছে। মাজেদুল হকের একমাত্র মেয়ে শবনম রুপে গুনে যেমন সুশ্রী তেমনই ধর্মীয় জ্ঞানে অসাধারণ। মাজেদুল মেয়েকে বলেছিলেন, না হয় ছেলেটাকে দেখভাল করার জন্য একটা নার্স রেখে দিই৷ শবনম বলেছিলো, যে ছেলে নিজের জীবন বাজী রেখে তোমাকে বাঁচিয়েছে তাকে যদি আমরা দেখভাল না করি তাহলে আমরা আল্লাহর কাছে চরম অপরাধী হয়ে যাব। " মাজেদুল মেয়ের কথায় শুধু একগাল স্বস্তির হাসি হেসেছিলেন। . মাজেদুল আর শবনম আব্দুল্লাহর শয্যার পাশে বসে আছে। শবনম এই দুইদিন বাবার কাছ থেকে আব্দুল্লাহর সম্পর্কে সবকিছু জেনেছে। শবনম মাজেদুলের দিকে একটা মায়াভরা দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে বললো, " আব্বু তোমার কি সেই জুলাইবিব (রাঃ) ঘটনাটা মনে নেই? মাজেদুল ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো মেয়ের দিকে। শবনম বলতে শুরু করলো... রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর একজন সাহাবী ছিলেন, যার নাম ছিলো জুলাইবীব (রাঃ)। তিনি দেখতে বেটে খাটো আর কুৎসিত ছিলো। তাঁর সাথে কোনও মেয়ে কথা বলতে চাইতো না এমনকি বিয়েও করতে চাইতো না। কিন্তু তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে খুব প্রিয় সাহাবী ছিলেন। একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মদিনার এক আনসারের কাছে জুলাইবীবের বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। প্রথম দিকে আনসারটি ভেবেছিল প্রস্তাবটি বোধহয় নবীজীর নিজের জন্য; কিন্তু তিনি যখন জানতে পারলেন এটি জুলাইবিবের জন্য, তারপর তিনি মনে মনে অমত প্রকাশ করলেন। তবুও তিনি তা প্রকাশ করলেন না। নবীজীর (সাঃ) সম্মান রক্ষার্থে তিনি বললেন তিনি এই ব্যাপারটিতার স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে জানাবেন। আনসারটি ছিলো সমাজের উচ্চ-শ্রেণির ছিলেন, তার মেয়েছিল পরম-সুন্দরী, তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা আশা করেছিলেন নবীজী (সাঃ) কিংবা প্রথম সারির সাহাবীদের কেউ হয়ত তার মেয়েকে বিয়ে করবে। তাই এই প্রস্তাব শোনার পর আনসারের স্ত্রী তাড়স্বরে চেঁচাতে লাগল। মা-এর চেঁচামেচি শুনে মেয়ে ছুটে এলো। প্রস্তাব শোনার পর মেয়েটি তার বাবা-মাকে জানালো সে এই প্রস্তাবে রাজি কেননা এই প্রস্তাব এসেছে আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) এর তরফ থেকে, তাই তাঁকে ফিরিয়ে দেয়ার সুঃসাহস সে করতে চায় না। নিশ্চয়ই এর মধ্যেই তার জন্য সকল কল্যাণনিহিত। অতঃপর জুলাইবিবের বিয়ে হল পরম সুন্দরী আনসারের মেয়েটির সাথে। রাসূলুল্লাহ্ (স) জুলাইবিবকে এতটাই ভালোবাসতেন যে উ’হুদের যুদ্ধের পর তিনি যখন জুলাইবিবকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন তিনি সবাইকে বলছিলেন যে তিনি (সাঃ) জুলাইবিবকে খুজছেন করছেন। যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ময়দানে জুলাইবিবের লাশ দেখতে পেলেন, তখন দেখলেন লাশের পাশে ৭ জন শত্রু সৈন্যের লাশ ও পড়ে আছে অর্থাৎ জুলাইবিব শহীদ হবার আগে ৭ জন শত্রুকে হত্যা করেছিল। জুলাইবিব গড়নে ছোট-খাটো ছিলো বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজ হাতে জুলাইবিবকে তুলে নিলেন। নিজ হাতে তার কবর খুড়লেন এবং তাকে দাফন করলেন। " ঘটনাটা বলে শবনম থামলো। খানিকক্ষণ শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো তাঁর বাবার দিকে। তারপর বললো, আব্বু তুমি কি তোমার মেয়েকে আরেকজন জুলাইবীবের হাতে তুলে দিতে পারবে না? এতক্ষনে মাজেদুল হকের চোঁখ ছাপিয়ে জল এসে গেছে। বাম হাত দিয়ে সেই অশ্রু টুকু মুছে ফেলে শবনমের মাথায় হাতটা রেখে এক টুকরো বিজয়ের হাসি হাসলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now