বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
>> ভাইয়া একটু দাঁড়ান।
কথা আছে।( অধরা)
>> কি কথা বলো। আমি বাজারে যাব। (রিহান)
>> ভাইয়া এ দিকে আসেন। ঐ যে গাছ দেখছেন। ঐ গাছ থেকে আমাকে ফুল পেড়ে দেন। আমি ফুলের মালা বানাব।
>> এই রাহি এ দিকে আয়তো। অধরা কে কিছু ফুল গাছ থেকে ফুল পেড়ে দে। (ছোট ভাই)
>> ভাইয়া রাহি না। রাহি ছোট মানুষ। ও পারবে না।
>> ইশ! তুমি ফুল দিয়ে মালা বানিয়ে কি করবে?
কোথায় থেকে ঘাড়ে এসে ভূত প্রবেশ করেছে।
>> ভাইয়া আসেন না। এমন করছেন কেন? ফুল গাছ থেকে ফুল পেড়ে দিয়ে আপনি চলে যাবেন।
>> ঠিক আছে আমি গাছে নাড়া দিচ্ছি। তুমি ফুল গুলা ঝাড়ির মধ্যে এনে রাখো।
.
তারপর রিহান গাছে নাড়া দিয়ে কিছু ফুল মাটিতে ফেলেছে । কিন্তু অধরা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে ভাইয়া এগুলো দিয়ে ফুলের মালা সুন্দর হবে না। ফুল গুলোর মধ্যে মাটি লেগে গেছে। আপনি সতেজ ফুল গাছ থেকে পেড়ে দেন।
>> হায় রে আমার কপাল। ঐ এই মাত্র মাটিতে ফুলে পড়ছে। নষ্ট হলো কোথায় থেকে।
>> ভাইয়া আপনি বুঝবেন না। আপনি তো আর ফুল দিয়ে মালা বানান নি তাই আপনি বুঝবেন না।
দেও না ভাইয়া এমন করছেন কেন?
>> তুমি আমাদের বাসা থেকে কবে যাবে?
>> ভাইয়া দেন। নইলে আমি আন্টিকে ডাক দিব। তখন সময় বুঝবেন কি মজা।
>> দিচ্ছি বাবা দিচ্ছি।
.
তারপর ফুল গাছের ডাল টেনে এনে অধরার হাতে ধরিয়ে দিল। আর অধরা গাছের ডালে ধরে ফুল পাড়তে শুরু করল।একটা একটা ফুল গাছ থেকে ফুল পেড়ে এনে ঝাড়ির মধ্যে রাখল।
একসময় রিহানের ফোন আসলো। সে ফোন ধরে কথা বলতে শুরু করল। কিন্তু হঠাৎ রিহান গাছের ডাল ছেড়ে দিল আর অধরা গাছের ডালের সাথে উপরে উঠে গেল। আর অধরা মাগো বলে চিৎকার দিতে শুরু করল। আর রিহান ভয় পেয়ে গেল। গাছের উপর দিয়ে চেয়ে দেখে অধরা গাছের ডালে ধরে কান্নাকাটি করে। আর শুধু হেল্প মি হেল্প মি করছে। কিন্তু কেউ আর হেল্প করছে না। আর এদিকে রিহান চতুর্দিকে চেয়ে দেখে কেউ কে দেখতে পাচ্ছে না। এখন কে অধরা কে হেল্প করবে। কারণ রিহান লজ্জা পাচ্ছে অধরা কে হেল্প করতে। তাই বাধ্য হয়ে অধরা কে হেল্প করতে এগিয়ে গেল।
প্রথমে অধরার পায়ে ধরে ধীরে ধীরে মাটিতে নামাতে চেষ্টা করল। আর অধরা ভয় পেতে পেতে রিহানের মাথার চুলে শক্ত করে ধরে টেনে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করল। রিহান চুলে আঘাত পেয়ে ধপাস করে মাটিতে ফেলে দেয় অধরা কে। অধরা তো একেবারে গেছে.....
>> ভাইয়া আপনি আমাকে মাটিতে ফেলে দিলেন কেন? আমি কি আঘাত পাইনা নাকি?
>> ঐ তুমি আমাকে চুলে এতো জোরে টান দিলে কেন? আমি আঘাত পাইছি তাই তোমাকে আমি মাটিতে ফেলে দিয়েছি। এখন বুঝ। অপর কে আঘাত দিলে কেমন মজা লাগে।
>> আপনি একটা খারাপ। আপনি বুঝবেন না। আপনি কোনো দিনও বুঝবেন না।
>> ঐ আমি কি বুঝব। কি বুঝব।
>> আপনাকে কিছু বুঝতে হবে না।
.
রিহান অধরা কে খুব ভালোবাসে। কিন্তু বলে না। কারণ অধরার অবুঝ আচরণ রিহানের খুব ভালো লাগে। একেক সময় একেক আবদার করে। আর সেটা নানা ভঙ্গিতে রিহান আবদার পূরণ করে।
.
>> রিহান শুন কাল অধরা কে বাড়িতে দিয়ে আসবি। ওর বাবা ফোন করছিল। (মা)
>> থাক না আর কয়েক দিন। মাত্র তো কয়েক দিন হলো এখানে এসেছে।
>> না আমি থাকব না। আমি চলে যাব।আমাকে কেউ দিয়ে আসতে হবে না।আমি একা যেতে পারব। আমার কি হাত পা চোখ নাই।
>> আছে তো। দেখতে একেবারে রাক্ষসীর মতো। ঠিক আছে মা দিয়ে আসব। রাগ দেখাছে আমাকে। যেমন রাগ দেখানোর আর জায়গা নাই। আমাকে ঐ দেখানো লাগে।
>> তুই এভাবে কথা বলছিস কেন?
>> না মা কিছু না।
.
ট্রেনে যাওয়ার পথে...
>> আপু আমি এখানে বসব?(অপরিচিত লোক)
>> বসো ভাইয়া।( অধরা)
>> আপু আপনি কোথায় যাবেন?
আর আপনার নাম কি?
>> হি হি হি।
আমি নারায়ণগঞ্জ যাব। আর আমার নাম অধরা।
>> আপু আপনি খুব সুন্দর। আর আপনার নামটার কথা বলবার মতো তো আমার ভাষা নাই।
>> ও তাই নাকি ভাইয়া।
>> জ্বী আপু। আপু আপনার নাম্বার টা দিবেন?
>> নাম্বার। ও ঠিক আছে তুলেন।
০১৭
>> ঐ চুপ নাম্বার কাকে দিচ্ছ।
এই তুই কে রে শালা। মেয়েদের সাথে লুচ্চামি করা হচ্ছে। তোরে আমি আজ মেরে ফেলব। ঠাস ঠাস..
>> আপনি এই ছেলে কে মারছেন কেন?
আমি যাকে ইচ্ছা নাম্বার দিমু তাতে আপনার কি?
>> আমার কি মানে?
আমার অনেক কিছু। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
>> কি?
আমি শুনতে পাই নি। আবার বলো।
>> আমি তোমাকে ভালোবাসি। শুনছ এবার।
>> আপনি ট্রেন থেকে নামুন। নামুন বলছি।
>> কিন্তু কেন?
>> আগে নামুন তারপর বলছি।
আমাকে বোকা বানানো হচ্ছে।
>> আপু নাম্বার টা দিন।
>> আরে বেডা যা তো কিসের নাম্বার।
>> আপু।
>> চুপ আবার আপু বলছে। দেখছ না বেডা এখানে আমাকে কেউ একজন ভালোবাসে।
>> আচ্ছা অধরা তুমি আমাকে ট্রেন থেকে নামাতে চাচ্ছ কেন?
তুমি কি তোমাদের বাসায় যাবে না।
>> আমি তো যাওয়ার জন্য আপনাদের বাসায় আসি নি।
>> মানে।
>> মানে পরে বলব। আগে স্টেশনে নামেন।
স্টেশনে নেমে আপনাদের বাসায় চলেন।
.
বাসায় আসার পর অধরা তার মেকাপের জিনিস খুঁজতে লাগলো। তারপর অনেক খুঁজাখুঁজি করার পর সেটা পেল। আবার অধরার বাসায় চলে আসার জন্য রিহানের বাসা থেকে চলে আসতে চাইল। কিন্তু রিহান তো রাগে মাথা নষ্ট। রিহান অধরাকে বলতে লাগলো তোমার মাথায় মাথায় কিছুই নাই। যে টাকা খরছ করে স্টেশন থেকে আমাদের বাসায় এসেছি সে টাকা দিয়ে তোমার মেকাপের জিনিস দু'টা কিনা যায়।
>> ও তাই নাকি?
আপনি কি আমাকে কিনে দিবেন?
কিনে দিবেন দূরের কথা আপনি আমাকে কতগুলো কথা শুনাইবেন। তা আমি বুঝি না।
>> ঘোড়ার ডিম বুঝো
>> আমি ঘোড়ার ডিম ঐ বুঝি।
আমি বাসায় চলে যাব আমাকে দিয়ে আসেন।
>> আমি পারব না।
>> কেন পারবেন না?
>> আমার উত্তর পাই নি।
তাই আমি পারব না।
>> ওলে বাবা রে।
ঠিক আছে আমি তোমাকে ভালোবাসি না।
>> কি?
>> না না ভালোবাসি।
>> তাইলে চলো।
.
বাসার কাছে আসার পর.....
>> আমি আইসক্রিম খাব। (অধরা)
>> কিন্তু আমার কাছে তো খুচরা টাকা নাই।
>> নাই মানে কি?
আপনি আমার জন্য বাজার থেকে খুচরা টাকা করে আইসক্রিম নিয়ে আসবেন।
>> আমি পারব না।
>> তাইলে ব্রেকাপ।
>> না না যাচ্ছি তো।
----------------- সমাপ্ত -----------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now