বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নতুন রূপে কচ্ছপ ও খরগোশ

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X একটা গল্প বলি?গল্পের চরিত্রগুলো পুরোনো কিন্তু কাহিনী নতুন। কি শুনবেন তো?নাকি পড়বেন?চলুন তাহলে শুরু করা যাক। . একদা ছিল এক বিশাল বন।বনে ছিল অগণিত পশু-পাখির বসবাস।নির্দিষ্ট সময় পরপর বনের সকল পশুদের নিয়ে সভা- সমাবেশ করত তাদের দুই মোড়ল বাঘ ও সিংহ।তো একদিন বনের সকল পশু-পাখিদের নিয়ে সমাবেশের ডাক দিল মোড়লেরা। . বনের প্রান্তে বসবাস করা খরগোশ সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।পথ চলতে চলতে দেখা হয়ে গেল পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী কচ্ছপের সাথে।খরগোশের মনে পড়ে সে একদিন কচ্ছপের কাছে হেরে গিয়েছিল।সেদিনের কথা মনে পরায় খরগোশ লজ্জা ঢাকতে আবার প্রতিযোগিতার ডাক দিল। . খরগোশ কচ্ছপকে ডেকে বলল,"সেদিন আমাকে হারিয়ে দিলি বেশ কৃতিত্বের সাথে,চল দেখি আজ পারিস কিনা" "আজতো সময় হবে না বাবু।সমাবেশে যাচ্ছি।আপনি যাবেন না?"জিজ্ঞেস করল কচ্ছপ। "আমিও তো সেখানেই যাচ্ছি।চল দেখি,আজ কে আগে যেতে পারে?" . খরগোশ জানতো পথিমধ্যেই একটা নদী পরবে।আর সেই নদী পার হতে খরগোশ বিপাকে পরবে,তাই সে রাজি হয়ে গেল।খরগোশের হয়ত নদীর কথা মনে নেই। . দুজনে আরও দ্রুত বেগে চলতে শুরু করল।খরগোশ চলতে চলতে নদীর সামনে এসে উপস্থিত,কিন্তু কচ্ছপ এখনো অনেক পিছনে পরে আছে।নদীর সামনে এসে খরগোশ চিন্তায় পরে গেল।ইস!কেন যে নদীর কথা ভুলে গেলাম। কেন এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিলাম।এখন নদী পার হবো কিভাবে?এইসব ভাবতে ভাবতে কচ্ছপ এসে উপস্থিত। . "কি বাবু,খবর কি?"বিদ্রূপের সুরে বলল কচ্ছপ।খরগোশের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ।খরগোশের দিকে তাকিয়ে কচ্ছপ মনে মনে একটু হেসে নিল।তারপর খরগোশকে বলল, "একটা প্রস্তাব আছে,বাবু" "কি প্রস্তাব?বল" "আজকের প্রতিযোগিতায় আমরা কেউই হারবো না।আজ নাহয় দুজনেই জিতে যাব।আজ আমরা কাধে কাধ রেখে একসাথে সমাবেশে যাব।কি বলেন?" "কিন্তু কিভাবে সম্ভব?এই নদী পার হবো কিভাবে?" কচ্ছপ মুচকি হেসে বলল, "আমি আপনাকে আমার কাধে করে নদী পার করে দেব। তবে একটা শর্ত আছে।" প্রথম কথা শুনে খরগোশ খুশী হয়।কিন্তু শর্তের কথা শুনে খুশী মিলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। "কি শর্ত?" "নদী পার হওয়ার পর আমরা একসাথে চলব।একসাথে একই সময়ে সমাবেশে পদার্পণ করব।" "তাহলে তো ভালোই হয়।চলো তাহলে।সময় ক্ষেপন করে লাভ নেই।" . খরগোশ উপলব্ধি করতে পারল,পৃথিবীতে সকলেরই কিছু সক্ষমতার সাথে কিছু অক্ষমতাও আছে।যে জন্য একে অপরের উপর নির্ভরশীল।যদি সবাই নিজে নিজের সকল কাজ করতে পারত,কারও উপর নির্ভরশীল হতে না হতো তাহলে এই পৃথিবীতে,সমাজে কোনো ভারসাম্য থাকতো না।সকলে নিজেকে বড় ভাবতো।নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য,নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দেওয়ার জন্য একে অপরের মাঝে সংঘাত লেগেই থাকতো।এই পৃথিবীতে কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতো না।কচ্ছপের পিঠের উপর বসে এসব ভাবছিল খরগোশ। . আমরা মানুষ।আমাদের প্রত্যেকেরও কিছু সক্ষমতার পাশাপাশি কিছু অক্ষমতাও রয়েছে।আমি যা পারি,যা জানি আপনি হয়ত তা পারেন না,জানেন না।আবার আপনি যা পারেন,জানেন আমি হয়ত তা পারি না,জানি না।এজন্যই আমরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। . ধনী-গরিব।তাদের কারও ধন আছে মন নেই,আবার কারও মন আছে ধন নেই।কিন্তু যদি ধন-মন একসাথে হয় তাহলে কি হবে?ভাবুন তো।ধনীদের যদি মন থাকে তাহলে তারা গরিব শ্রমিকদের শোষণ করবে না।ন্যায্য মূল্য দিতে দ্বিধাবোধ করবে না।আর গরিব শ্রমিকরাও কর্মবিমুখ থাকবে না। দেশেও দরিদ্রতা থাকবে না। . সবই তো বুঝলাম নাকি?বুঝলে ভালো।না বুঝলে মন্দের ভালো।তাহলে চলুন আজ থেকে মিলেমিশে কাজ শুরু করি।কাউকে দুর্বল,অক্ষম ভেবে উপহাস,বিদ্রূপ না করি। তবে যাওয়ার গল্পের শেষটাতো জেনে যাবেন, নাকি? . কচ্ছপের পিঠে চড়ে নদী পার হয় খরগোশ।পারে উঠে আসে দুজনে।কচ্ছপ হাপাচ্ছে,কিন্তু মুখে বিজয়ের হাসি। খরগোশ বলে "অশেষ ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা" "এমন করে বলবেন না,বাবু।চলুন তাহলে।" "হ্যা,চল।তবে শোন,তুই আমার পিছে পিছে থাক।তুই আর আমি একসাথে মানানসই না।তোর সাথে চললে আমার ফ্রেস্টিজে লাগবে।" কচ্ছপ মুচকি হাসে।নিরাশ মনে আকাশপানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। লেখায়ঃ-A N Tusher


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now