বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এত কিছু কেন করো আমার জন্য তৌহির আম্মু

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X পাঞ্জাবি টা আজ বড্ড ঢলছে। বারবার বলেছি আমার পাঞ্জাবি ভালো লাগে না কিন্তু ও বেছে বেছে আমাকে পাঞ্জাবিই পড়তে বলে । মোবাইলে রিং এলো । . -হ্যালো . -কোথায় তুমি? আসছো? . -হ্যাঁ । তুমি? . -আমি মানে? তুমি না আসলে আমি বেরুবো কেমনে? . -কেন?পায়ে হেটে বেরোও । . -মাথা খারাপ করো না । তুমি তাড়াতাড়ি আসো । পনের মিনিটের মধ্যে । . এই বলেই ফোনটা রেখে দিলো তমশ্রী । বেড়িয়ে গেলাম । তবে শার্ট পড়ে । পাঞ্জাবি পড়ে । গিয়ে দেখি রমণী দাঁড়িয়ে আছে । মুখ টা কেমন যেন লাল দেখাচ্ছে । আমি কাছে যেতেই রিকশা ডেকে উঠে পড়লো । চুপচাপ বসে রইলো । আমি কিছুই বুঝছি না , দাঁড়িয়ে আছি । . -তোমাকে কি রিকশায় উঠার জন্য পা ধরতে হবে নাকি? . -না না উঠছি । উঠে গেলাম । রিকশা চলছে । আমার কথা বলার সাহস হচ্ছে না ওর সাথে । তমশ্রীর আবার রাগ বেশী । ঘুড়িয়ে চড় টড় দিয়ে বসলে ইজ্জত যাবে । আর হাতের ব্যাগ টা দিয়ে মারলে দাঁত ২-১টাও রিলিজ হয়ে যাবে । . -এটা কি পাঞ্জাবী? . -মানে, পাঞ্জাবী টা ছিঁড়ে গেছে একটু । . -কিইইইইইইইইইইইইই?আমার দেয়া পাঞ্জাবী তুমি ছিঁড়ে ফেলেছো? . -হ্যাঁ । ধ্যাত মানে না । ছিঁড়ে গেছে । . -কিভাবে? . -খেয়াল করিনি কবে ছিড়লো । আমার দেয়া পাঞ্জাবী তুমি একটা ঠিক মতো রাখতেও পারো না?এই ভালোবাসো তুমি?নামো এখন রিকশা থেকে।এই চাচা দাড় করান রিকশা । . -তম এমন করছো কেন?রিপু করে নিবো তো । রাগ করে না প্লীজ . -আমাকে তম বলে ডাকবে না । আদিখ্যেতা দেখাবে না একদম । নামতে বললাম নামবা । . অনিচ্ছা স্বত্বেও নেমে গেলাম। জানি না নামলে সে চীৎকার করা শুরু করে দিবে । তাই চুপ-চাপ নেমে গেলাম । কিছু খুব অপমান লাগছে নিজের । সামান্য কারণে তমশ্রীর এমন করার কারণ অহেতুক । ঘরে গিয়ে চুপচাপ ফোন বন্ধ করে বসে আছি । বন্ধ করার আগে একটা মেসেজ দিলাম যে ব্রেকাপ , . মা হয়তো টের পেয়েছে তাই অমন ঘাটাচ্ছে না । ** আজ তিনদিন আমার সাথে তমশ্রীর কোন খবর নেই । আমি ঘুমুচ্ছিলাম । মায়ের শব্দে আমার ঘুম ভাংলো । উঠে মাথা চুলকাতে চুলকাতে গেলাম ড্রয়িং রুমে । গিয়ে ধপ করে মেঝেতে পড়ে গেলাম । কাকে দেখছি । স্বপ্ন দেখছি নাকি?তমশ্রী ওর বান্ধবী নিয়ে হাজির । সামনে মা । আমার কলিজায় আর পানি নেই । মা ডাকলো । . -শুভ বাবা এরা পরিবার পরিবার দপ্তর থেকে এসছে । কি নাকি পরিসংখ্যান করবে , তারপর তমশ্রীর দিকে তাকিয়ে বলে,এটা আমার বর ছেলে ,আর ওর বাবা , মায়ের তখন ফোন আসাতে মা উঠে গেল । আমার তখনো ঘোর কাটছে না ।তখনি তমশ্রী উঠে আমার কলার ধরে বলে . -তোমার ফোন অফ কেন?ব্রেকাপের মেসেজ দিসিলা কেন?নতুন কাউকে পাইছো তাইনা? কে সে?নামটা বলো । কেটে ফেলবো , সাথে তোমাকেও । এতোদিন রিলেশন করে কিনা এখন ব্রেকাপ ? . আমি হা করে ওর ধমক শুনছি ।ওর বান্ধবী জোড় করে বসালো ওকে । মাও চলে আসলো । সেইদিনের মতো যা হবার হয়ে গিয়েছে । যাওয়ার আগে বলে গেল বিকেলে যেন দেখা করি আগের জায়গায় । মা কে দেখে মনে হচ্ছে মা ও কিছুটা সন্দেহ করছে । আমার আজকে রাগ হচ্ছে খুব তম’র উপর । যতই বলুক এটাই আর ফিরবো না । মরে গেলেও না । যাক মরে । */* বিকেলে গিয়ে দেখি তমশ্রী দাঁড়িয়ে আছে । . -তুমি ব্রেকাপ করবে বললে কেন? . -আগে এটার জবাব দাও তুমি আমার বাসায় গিয়েছিলে কেন?মা যদি ধরে ফেলতো? . -আরে আমার শ্বশুরবাড়িতে আমি গেলে ক্ষতি কি? . -তোমার শ্বশুরবাড়ির গুষ্টি কিলাও । আর যাবে না কখনো । আমার সাথেও আর কথা বলার দরকার নেই । (চীৎকার করে উঠলাম ) । . ও দেখি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমার এই রূপের সাথে ও পরিচিত না কিনা । আসলে আমি নিজেও খুব রাগিনা , কিন্তু আজ না রেগে পারলাম না । তম আমার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে আছে । ছোট্ট করে জিজ্ঞেস করলো , . -সরি আর হবে না শুভ, আই লাভ ইউ . -থাক । তুমি তোমার মতো থাকো তমশ্রী . হটাত তমশ্রী আমাকে জড়িয়ে ধরলো কিছু বুঝে উঠার আগেই ,আমার বাহুতে ওর চোখের পানির অস্তিত্ব অনুভব করলাম , অবাক এবার আমার হওয়ার পালা । আমি কোনদিন ওর চোখে পানি দেখিনি । আমি ভাবতাম ও কাঁদতেই পারে না । নাহ পারলাম না । আমিও জড়িয়ে ধরলাম । আমিও যে ভালোবাসি । . # লুতুপুতু পাঠকরা এইখানেই ট্রেন থেকে নেমে যান । আর যারা বাকি গল্প যান আসেন নিচে । ** তমশ্রীকে যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি। পাগলিটাকেই বিয়ে করেছি । তবে যতটা ভয় পেয়েছিলাম ততটা আর পাইনা । কেন জানি খুব অদ্ভুতভাবে ও শান্ত এখন ।মাকেও কি সুন্দর মানিয়ে নিয়েছে । মাঝে মাঝে আমার মায়ের কথা শুনে মনে হয় ও আমার মায়ের আপন মেয়ে আর আমি ঘর জামাই । কিন্তু আমি আগের চঞ্চল তমশ্রীকে চাই । ও প্রেগন্যান্ট। আমার তমশ্রীর মতোই প্রাণচঞ্চল সন্তান চাই । . -এই শুভ . -হুম বলো . -কি ভাবো? . -তুমি এতো চুপচাপ কিভাবে হলে তাই ভাবছি । . -আরে গাধা সামনে আমার বাচ্চা হবে এতো দুষ্টুমি করলে হবে?কিছু দুষ্টুমি আমার বডিতেই রেখে দিলাম যাতে আমার বাচ্চা জন্মগ্রহন করে তোমাদের সবাইকে মাতিয়ে রাখে . -পাগলি কোথাকার।আচ্ছা ছেলে হবে নাকি মেয়ে বলো তো? . -মেয়ে . -কেন?মেয়েই কেন? . -জানিনা বাট মেয়েই হবে । তুমি কি চাও? . -আমি চাই সুস্থ সন্তান । ছেলে হোক মেয়ে হোক সমস্যা নেই । . ** আমাদের মেয়েই হয়েছে । দুষ্টুর এক সেরা হয়েছে । মেয়েটা আমার , তমশ্রীর আর আমার মায়ের চোখের মনি । দেখতে আমার মায়ের মতো হয়েছে । থাকেও সবসময় আমার মায়ের পাশে পাশে, রাতেও । একদিন রাতে , . -বাবা গুড নাইট , মা গুড নাইট . -আচ্ছা মামনি গুড নাইট , আর তোমার মনি কে জ্বালিয়ো না মা । তোমার মনির শরীর খারাপ । . -উফফ তোমরা এত্তো কথা বলো না । আমি মনি থেকে গল্প শুনবো বাবা , যাও । . মাকে বলে ওকে আর নিজেও যেন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে । . **সকালে উঠে তম কে জিজ্ঞাসা করলাম মা আর মেয়ে কোথায়?ও জানালো দুইজনই এখনো ঘুমুচ্ছে । আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম । পরক্ষনেই আমার ঘুম ভাংলো তমশ্রীর আর্ত-চীৎকারে । দৌড়ে গেলাম । কি হলো? তাড়াতাড়ি গিয়ে মেয়েকে কোলে নিলাম , মায়ের দিকে তাকালাম ,তমশ্রী দেখি মায়ের পা ধরে বসে আছে । মেয়েকে নামিয়ে মায়ের কাছে এগিয়ে গেলাম । মায়ের সারা শরীর ঠান্ডা । . মায়ের সামনে বসে আছি । নিথর দেহ । বাসায় অনেক মানুষ । সবার চোখে পানি । আমার মেয়ে এইসব অবাক হয়ে দেখছে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করছে ওর মামনি উঠছে না কেন? বারবার দৌড়ে যাচ্ছে মায়ের কাছে । বুঝাতেই পারছিলাম না ওকে । মায়ের লাশ যখন নিয়ে যাচ্ছি সেই কান্না করছে । ওর মামনি কে এনে দিতে হবে । ও মামনি ছাড়া ঘুমুবে না । আমার মেয়েকে আমি সান্ত্বনা দিবো কি আমি নিজেই কিছু বলতে পারছিনা । মনে হচ্ছে আমার কলিজা থেকে একটা টুকরো কেটে নেয়া হয়েছে । পাগলের মতো মাকে ডাকলাম । আমার মেয়েও ডেকে যাচ্ছে । কিন্তু আমাদের কে হতাশ করে মা চলে গেল.................. ** . ডাক্তার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার মেয়ের দিকে তাকালো । এতক্ষণ আমার জীবনের গল্প শুনছিলো ডাক্তার আর আমার সুখের পর একে একে জীবনের নির্মম আঘাত গুলো । আমার মেয়ে আর সেইদিন পর থেকে কথায় বলে না । কিছু ঠিক মতো খাইনা ।তাই ডাক্তার কাছে নিয়ে এলাম , ডাক্তারের হাত হটাত ধরে ফেললাম, মিনতি করে বললাম, . -প্লীজ ডক্টর আমার মেয়েকে সুস্থ আগের মতো করে দিন ।আমি এক মাকে হারিয়েছি , আমার এই মাকে আমি হারাতে চাইনা, . পাশে বসা তমশ্রী মাথা নিচু করে রইলো,ডাক্তার আমার দু হাত চেপে মাথা নাড়ালো । ডাক্তারের চোখ থেকেও কয়েক ফোটা পানি আমার হাতে এসে পড়লো । হয়তো এই পানি আমার মেয়ের জন্য বা আমার মায়ের জন্য ....................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now