বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে শিহাব।বেশ ভালো ছাত্র।দেখতে শুনতে অনেক ভালো।কিন্তু কোনো মেয়ে ফ্রেন্ড নেই কখনো কোনো মেয়েদের দিকে তাকায় না।তাই সব মেয়েরা সবসময় একটু অবাক চোখেই তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
আর নিশি অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়ে।স্টুডেন্ট হিসেবে খুব একটা ভালো না।তবে এমনিতে অনেক ভদ্র,লাজুক টাইপের।কিন্তু ভালোবাসা তো ভীতুকেউ বীর বানিয়ে দিতে পারে,পাগলকেউ ভালো বানিয়ে দিতে পারে আবার ভালোকেউ পাগল বানিয়ে দিতে পারে।নিশির ক্ষেত্রেও ঠিক এরকমই ঘটেছে।সে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে শিহাবকে।অনেক চেষ্টা করেছিল শিহাবকে দিয়ে তাকে প্রপোজ করানোর।কিন্তু শেষে ব্যর্থ হয়ে নিজেই প্রপোজ করে বসে।নিশিকে সোজাসুজি না বলে দেয় শিহাব।কিন্তু তারপরও নিশি প্রতিনিয়ত শিহাবকে বুঝাতে থাকে যে সে তাকে অনেক ভালোবাসে।আর শিহাবও সবসময় না করে দেয়।এভাবে প্রায় এক দেড় বছর শিহাবের পিছনে ঘুরেও কোনো লাভ না হওয়ায় একসময় শিহাবকে পাওয়ার সব আশা ছেড়ে দেয় নিশি।একটা মেয়ের পিছনেও যদি একটা ছেলে দুই তিন মাস ঘুরে তাহলেই মেয়েটার মন গলে যায়।অথচ একটা সুন্দরি মেয়ে একটা ছেলের পিছনে প্রায় দেড় বছর ঘুরেও ছেলেটার মন গলাতে পারলো না।আসলে শিহাবের মন যে গলেনি তা নয়।সেও ভালোবাসে নিশিকে।কিন্তু বাবা মার কথা ভেবে সবসময় নিশিকে ইগনোর করত।শিহাব আগে থেকেই তার ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক সিরিয়াস ছিল তবে নিশিকে ভালোবাসার পর সিরিয়াসনেসটা আরও বেড়ে গেছে।
এর প্রায় দুই বছর পর শিহাব এখন অনার্স কমপ্লিট করে অনেক ভালো একটা চাকরি করছে।আর সাথে লেখাপড়াটাও চালিয়ে যাচ্ছে।শিহাব যেহেতু ভালো একটা চাকরি করছে তাই তার বাবা মা তাকে বিয়ে করে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছে।সব বাবা মাই তো নিজের সন্তানকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চায়।তো শিহাবের বাবা মা তাকে নিজেই মেয়ে পছন্দ করতে বলেছে।আর শিহাব তো আগে থেকেই নিশিকে ভালোবাসে।তাই নিশিকে ফোন দিল শিহাব।শিহাবের ফোন চেয়ে অনেকটা ভূত দেখার মতো চমকে উঠে নিশি।ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে শিহাব:
-হ্যালো নিশি।
-তুমি মনে হয় অন্য কাউকে কল দিতে গিয়ে ভুলে আমাকে কল দিয়ে ফেলছো।
-না আমি তোমাকেই কল দিছি।কেমন আছো?
-এইতো আছি।তুমি?
-আমিও ভালো আছি।আচ্ছা শুনো যে জন্য ফোন দিছি।তোমার সাথে অনেক গুরুত্বপুর্ণ কথা আছে।কালকে বিকালে একটু *** রেস্টুরেন্টে আসতে পারবা?প্লিজ না করো না।প্লিজ।
-আচ্ছা আসব
-ঠিকাছে।কাল বিকাল ৫টায়।
-আচ্ছা।
পরেরদিন বিকালে শিহাব গিয়ে দেখে যে নিশি আগেই এসে বসে আছে।শিহাব গিয়ে বলল:
-কেমন আছো?
-ভালো।হঠাত দেখা করতে বললা যে?
-আমি জানি কথাটা তুমি বিশ্বাস করবানা ।তারপরও বলি আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসতাম।
-হাহা..তাই নাকি?তুমি আমাকে কতটুকু কষ্ট দিছো মনে নাই?তো কি এখন তোমার মতো একটা স্বার্থপরকে একসেপ্ট করতে হবে?
-হ্যা।তুমি ঠিক বলছো।আমি স্বার্থপর ছিলাম।কারণ আমি তোমাকে দুই দিনের জন্য পেতে চাইনি।আমি সারাজীবনের জন্য তোমাকে পেতে চেয়েছিলাম।
-মানে?
-মানে তোমাকে যখন আমি বারবার না করে দিয়েছি তখন তুমি যতটা কষ্ট পাইছো আমি তার থেকে অনেক বেশি কষ্ট পাইছি।
-তাহলে না করছো কেনো?
-কারণ তখন যদি আমি তোমাকে একসেপ্ট করতাম।তাহলে হয়ত কখনোই এই পজিশনে আসতে পারতাম না আর এই পজিশনে না আসতে পারলে তোমাকে পাওয়ার কোনো চান্সই পেতাম না। হয়তো আর সবার মতোই সারাদিন ফোনে কথা বলা,কেয়ারিং,রাগ অভিমান এসব নিয়েই বিজি থাকতাম।তারপর হয়তো একদিন তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে যেত।আর তুমি অন্য কারো হয়ে যেতে।
আসলে আমার ক্যারিয়ার নিয়ে যে এত সিরিয়াসনেস ছিল সবই ছিল শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্যই।
-হুমমম।তো এখন?
-আমার এই সাফল্যের পিছনে ৫০% অবদান ছিল আমার মা বাবার।১০ % ছিল আমার ফ্যামিলির।আর ৪০.% ছিল তোমার।তো আমি এখন চাই যে ভবিষ্যতে আমার যে সফলতা গুলো আসবে তার ৫০% হোক আমার মা বাবার।১০%হোক আমার ফ্যামিলির।আর ৫০%হোক তোমার।
-তাহলে তো ১১০% হয়ে গেলো।
-সেটাই তো বলছি যে তুমি যদি আমার তুমি হও তাহলে তো আমার ফ্যামিলি মেম্বারও হইলা।তো ফ্যামিলি মেম্বার হিসেবে ১০% তোমার ।আর তুমি হিসেবে আগে ছিলা ৪০ %।এখন হয়ে গেলা ৫০%।মানে সবমিলিয়ে ১১০%|
-ধ্যাত।আমি এত অঙ্ক বুঝিনা।
-বিয়ের পর আমি বুঝিয়ে দিবনি।
-বিয়ে?
-কেন? করবানা?
-না
-কেন?
-তুমি আগে আমাকে যে কস্ট দিছো আগে তার শাস্তি দিব তারপর বিয়ে।
-তোমাকে বিয়ে করার চেয়ে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে?
-কি বললা তুমি?
-না মানে আই লাভিউ।
-ধ্যাত।বেশরম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now