বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাত্রী দেখা
এইযে মা আমার , নাম কি তোমার ?
জি , সুলতানা লিজা
কি কর তুমি ?
জি, পড়াশুনা করি
কিসে পড়
অনার্স প্রথম বর্ষ
পরিবারে কে কে আছে ?
মা বাবা , ভাই বোন
যদিও এসব সম্পর্কে পাত্রপক্ষকে আগেই অবগত করা হয়েছে ।
মা তুমি একটু দাঁড়াবে? (মেয়েটি দাঁড়ালো )
ঠিক আছে । এবার একটু হেঁটে দেখাও।
হ্যাঁ ঠিকই আছে । এবার বসো ।
তো মা তোমার চুল গুলো একটু খুলবে ?
মেয়েটি ইতস্তত করছিল কিন্তু পাত্রের চাচী কোনপ্রকার তোয়াক্কা না করেই মাথার ঘোমটা টেনে ফেলে দিল । এরপর ঘরভর্তি লোকজনের সামনেই মাথার খোঁপাটা খুলে চুলগুলো মুঠোয় ধরে পরিমাপ করতে করতে পাত্রের মা সহ উপস্থিত সব মহিলাগনকে ইশারায় দেখাল ।
মা এবার তোমার দাঁতগুলো দেখাওতো
এবার মেয়েটি কোনপ্রকার বিব্রত না হয়ে তার প্রশস্ত দন্ত চোঁয়াল আরো প্রশস্ত করলো যেন ক্লোজআপের নতুন এডের এডমিশন দিতে এসেছে । আর যেন বলতে লাগল "কাছে এসো, কাছে এসো , কাছে এসোনা ।
এরপর আরো অনেক কিছু দেখা হলো । যেমন হাতের আঙ্গুল ., পায়ের নোখ , কানের লতিও বাদ যায়নি । সবকিছুই বেশ ভালোভাবেই বিশ্লেষণ করা হলো ।
তুমি রান্না করতে পারো ?
জি, পারি ।
তো মা , বিয়ের পর পড়াশোনার ইচ্ছে আছে ?
জি আছে
তাহলে তো হবেনা । আমরা কি স্কুল চালাবো নাকি যে মাষ্টারনি লাগবে । ঘর সামলাবে কে তাহলে ? তার জন্যে আবার কি আলাদা মেয়ে রাখবো নাকি ?
মেয়েটির চেহারায় ফুটে উঠা স্পষ্ট অসহায়ত্বকে পাত্তা না দিয়ে মুখ চালাতে লাগল পাত্রের মা।
না এবার হাত ও চালাতে লাগল পাত্রের মা । সামনে থাকা খাবারের প্লেট গুলো এক একে খালি হলো । অধীর আগ্রহ আর করুনার দৃষ্টি নিয়ে মেয়ের বাবা তাকিয়ে আছে পাত্রের মায়ের দিকে । আর যেন বলছে " নিয়ে আমাকে উদ্ধার করুন"
এবার পাত্রের মা পাত্রের দিকে একটি আংটি এগিয়ে দিয়ে বললেন
নে বাবা এটা পরিয়ে দেয় ।
পাত্র যখন আংটি পরাতে উদ্যত হয় ঠিক তখনই মেয়ের বাবা অনেকটা জোরেই বলে উঠলেন
আংটিটা রেখে দিন , পরের বার মেয়ে দেখতে কাজে লাগবে।
পাত্রপক্ষের প্রায় সবাই একসাথেই বলে উঠলো
মানে ?
মানে এই বিয়ে টা হচ্ছে না । আমার মেয়েটাকেতো আপনারা বাজারের পন্যের জায়গাটাও দিলেন না । কারণ মানুষ বাজারের পন্যকেও এরকম ভাবে দেখেনা । আপনাদের কে অনেক ধন্যবাদ এখানে এতো কষ্ট করে আসার জন্য ।
আপনারা এবার আসতে পারেন ।
মেয়েটি তার চোখে স্পষ্ট জল অনুভব করলো । যে জলে রয়েছে বাবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর ভরসা ।
বি:দ্র: পৃথিবীর সব মেয়ের বাবাকেই দুর্বল মনে করবেন না । কারণ মাঝেমধ্যে মেয়ের সম্মান রক্ষার্থে তারাও বাপের বাপ হয়ে যায় ।
কিছুটা নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর কিছুটা কাল্পনিক উৎস হতে সংগৃহীত ।
লিখা:সুলতানা লিজা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now