বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩)
.
'ঐ শিশির, কাহিনী কী বলতো? তুই কী কাউকে দেখছিস?' জাহিদ বললো ।
শিশির ও কে থামিয়ে দিয়ে বললো,
_ 'থাম আগে দেখতে দে মেয়েটাকে । ওয়াও অপরূপ সৌন্দর্য্য! এ যেন মাত্রই আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেছে । দোস্ত, মানুষ এত মায়াবী হতে পারে? মনে হয় কোন অপ্সরী! আমি কি বাস্তবে আছি নাকি স্বপ্নে? একটুখানি চিমটি প্লিজ! ধুর শালা এত জোরে কেউ কাউকে চিমটি দেই নাকি?'
ওর কথা শুনে সবাই মুখ হা করে হাবাক + আশ্চর্য 'হাবাকাশ্চর্য' ভাব নিয়ে ওর তাকিয়ে রইলো । তা দেখে শিশির বলল ঐ তোরা এমন হা করে থাকলে তো মশা-মাছি, হাতি-ঘোড়া, ব্যাঙ-টিকটিকি সব তোদের মুখের ভিতর ঢুকে পড়বে, বন্ধ কর আগে । তাড়াখেয়ে সবাই একটু লজ্জা পেয়েছে । কিন্তু লজ্জাটে ভাব কাটিয়ে অহনা বললো, 'তুই কিনা মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছিস । ঐ তুই শিশির না?'
তা শুনে ভ্রুুকুঞ্চিত করে শিশির বললো, 'তো কি হয়ছে? আমি কি মানুষ না? পারিনা তাকাতে?'
না, ঠিক তা নয়....
শিশিরের কথায় ওরা ভাবনার অতলে ডুবে গেলো । ভাবতে লাগলো ওর ব্যাকগ্রাউন্ড.....
.
শিশির কলেজ লাইফ থেকেই সবার থেকে অন্যরকম । অসম্ভব মেধাবী, কিউট, আলাপি, এক কথায় যে কোন মেয়েকে আকর্ষিত করতে কোন গুন-ই তার মাঝে কমতি নেই । এজন্য সব মেয়েই তার পিছনে ছুটে । ছুটে বললে ভুল হবে কলেজ পেরিয়ে এখন ভার্সিটিতেও ওর বেশ নামডাক হয়েছে । কিন্তু সব কিছুর মধ্যে ওর একটা খারাপ পরিচয় হয়েছে 'নেশাখোর' নামে । গ্রাম থেকে শহরে আসার পর খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে এই একটা বদ অভ্যাস ওর মাঝে জায়গা করে নিয়েছে । শিশিরের কিছু ভাল বন্ধু ও আছে এখন যাদের সাথে আছে তারা । তারা অসংখ্য বার চেষ্টা করেছে ওকে এই অভ্যাস ত্যাগ করাতে কিন্তু পারেনি । এটুকুবাদে চেনা জানা সবার আস্থা এবং ভালোবাসার অন্যতম নাম শিশির । যে কারও বিপদে সবার আগে ও ই ছুটে যায় ।
.
তো তার এই বিশেষ বৈশিষ্ট গুলির কারণে অনেক মেয়েরা তার পিছনে ছুটলেও সে কখনও কাউকে পাত্তা দেয় না । এমনকি যাদের পিছনে বড় ভাইয়েরাও লাইন মারার চেষ্টা করে তাদের ও শিশির একবাক্যে রিজেক্ট করেছে । এমন অসংখ্য রেকর্ডস যার ব্যাক পকেটে থাকে এবং টপ থেকে টপারর্সরা যেখানে ধোপে টিকলোনা সেখানে কোথাকার কোন মেয়েকে দেখে ক্রাশ নামক অপুষ্টিকর অখাদ্য খেয়ে বসে আছে । এটা ওর পরিচিতজনদের কাছে রীতিমত অষ্টম আশ্চর্য দেখার অভিজ্ঞতা বলা যায় ।
.
তাদের ভাবনায় ছেদ পড়লো শিশিরের ডাকে -
'ঐ হাদারামের দল, তোদের আবার কী হলো?'
ওর ডাক শুনে সবাক লাফ দিয়ে উঠলো । সবাই চমকে গেছে কিন্তু সেদিকে ওর খেয়াল নেই । ও বর্ণনা করতে লাগলো মেয়েটার রূপের কথা । সবাই তো মেয়েটাকে দেখে সেইরকম ধাক্কা খেলো । বোরকা পরা, তাও আবার কালো কুচকুচে রঙ্গের তাতে কোনো স্টাইলের বালাই নেই । শুধু মাত্র চোখ দুটি ছাড়া আর কিছুই দেখি যাচ্ছে না, অথচ শিশির এমন ভাবে বলছে যেন সে বিশ্বসুন্দরী মেয়ে । শিশিরের বান্ধবীদের মধ্যে নিরুপমা শিশিরকে ভীষণ পছন্দ করে । তাই ও রীতিমত সেইরকম জ্বলা-জ্বলছে । তাই তো মুখটা ৯০ ডিগ্রি বাকা করে বললো,
.
'দেখনা গাধার কাজ, আশেপাশে এতো সুন্দরী আর স্মার্ট মেয়ে থাকতে ও শেষ পর্যন্ত কি না একটা আনস্মার্ট জঙ্গি'র প্রেমে পড়লো!'
এই বলে সবাই হোহো করে একপর্ব হেসে নিলো । তাই দেখে শিশির বললো,
'আশেপাশে যেগুলো আছ সেগুলো সব মাকাল ফল । কতক আবার এমন দশা যেন.... জানিস তো ছিলে রাখা, মাছির স্পর্শ পাওয়া কলার যেমন দাম নেই, তেমনি এই নির্লজ্জ আলগা গুলোও আমার চোখে মূল্যহীন । ইউ হ্যাভ টু জানতে হবে এদেরকে শোপিস হিসেবে মানায়, শিশিরের লাইফ পার্টনার হিসেবে নয় ।'
.
শিশিরের কথা শুনে মেয়ে গুলোর মুখে মাছি ঢোকার মত অবস্থা । একটাও আর চোখ তুলে তাকাচ্ছেনা । আর নিরুপমা তো রেগে আগুন ।
শিশির ওদের দিকে তাকিয়ে রহস্যআবৃত একটা হাসি হাসলো যার অর্থ কেবল সেই জানে ।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now