বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ আকাশটা মেঘলা, কারন তার বুকে অনেক কষ্ট জমা হয়ে, আর আমার মনের আকাশটা মেঘলা কারন আজ নিরার কথা মনে খুব পড়ছে। আকাশের কষ্টগুলো সে বৃষ্টি বর্ষনের মাধ্যমে হাল্কা করে নিবে, আর আমি আমার চোখের বৃষ্টি বর্ষনের মাধ্যমে হালকা করে নিবো। আমি নীল আর যার কথা বলেছি তার নাম নিরা, যা আগেই বলেছি। আমি আর নিরা একসাথেই পড়তাম। নিরার সাথে আমার পরিচয় হয় ভার্সিটিতে ভর্তির দিন। গ্রামের বারি যাওয়াতে ভর্তি হতে লেট হয়ে যায় আর তারাতারি করতে গিয়ে ভার্সিটি অফিসে যাওয়ার সময় একটি মেয়ের সাথে আমার ধাক্কা লাগে। আমার হাতে থাকা ফাইলটা পরে যায়, অন্যদিকে মেয়েটির হাতে থাকা ডাইরীটা পরে যায়। আমি আমার ফাইল আর মেয়েটির ডাইরীটা তুললাম। যখন ডাইরীটা দিতে যাবো, তখন নিরাকে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। মানুষ এতটা সুন্দর হয় কিভাবে। মেয়েটির ডাকে আমার ঘোর ভাঙ্গে।
- এই যে মিস্টার, দেখে চলতে পারেন না..
- হুম্মম্ম...
- হুম কি,, চোখ কি আকাশে থাকে নাকি, সামনে কি আছে তা দেখতে পাননা
- জ্বি আমি খুবই দুঃখিত, আমি আসলে দেখতে পাইনি
- আর বোঝাতে হবে না,, সুন্দরী মেয়ে দেখলেই মাথা ঠিক থাকে না যত্তসব..
- দেখুন আপনি যা ভাবছেন তা নয়,, আমার একটু তারা থাকায় আমি খেল করিনি...বাই দ্যা ওয়ে সরি বললাম তো....
- আরে রাখেন আপনার সরি, ভবিষ্যতে যাতে আর এরকম না হয়,, সেদিকে নজর রাখবেন....
- জ্বি,, ঠিক আছে...
আর কিছু না বলেই চলে আসলাম, কারন অফিসে গিয়ে ফরমটা জমা দিতে হবে। ফরম জমা দিয়ে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। সারাদিন খুব খাটাখাটির পর ক্লান্ত হয়ে গেলেম, ফ্রেশ হয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম,, আর শুয়ে মেয়েটির কথা ভাবতে লাগলাম। এত সুন্দর মানুষ হয় আমার জানা ছিলো না,, মানুষ বলা ভুল হবে, এ যেনো এক পরী, যাকে দেখে যে কেউ ক্রাশ খেয়ে যাবে। এগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম, তা বুঝতেই পারলাম না। আর আমার ঘুমের যা অবস্থা কেউ যদি না ডাকে আমার কোনো খবরই থাকে না,,, আমার ঘুম ভাঙ্গলো আম্মুর ডাকে,,,
- এই নীল উঠ, উঠ...
- আম্মু একটু ঘুমাতে দাও....
- কয়টা বাজে, খেয়াল আছে কোনো, ৯ টা বাজে...
- কি,,, ৯ টা বাজে আগে ডাকবা না,, আজকে প্রথম ক্লাস তাতে লেট....
- সেই কখন থেকে ডাকছি তুইতো উঠিছসই না,,, তুই ফ্রেশ হয়ে আস,, টেবিলে খাবার রাখা আছে,,, খেয়ে যাস কিন্তু....
- আচ্ছা, ঠিক আছে....
ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু খেয়ে বের হয়ে গেলাম, ভার্সিটির উদ্দ্যেশে। আমার বাসা থেকে ভার্সিটি হেটে যেতে দশ মিনিট সময় লাগে, হাটতে লাগলাম,, আর সামনেই কপাল গুনে একটা রিক্সা পেয়ে গেলাম। কিছুক্ষনের মধে চলে আসলাম, রিক্সা ভাড়া দিয়েই দৌড়, ইশ কিসের সাথে যেনো ধাক্কা খেলাম, কোনো খাম্বা নয়তো,,,। চেয়ে দেখি গতকালকের সেই মেয়েটি, এই আ আজকে ও বুঝি কপালে শনি আছে....
- এই যে, আপনি কি কানা নাকি যে দেখতে পান না....
- সরি দেখতে পাইনই....
- একি আপনি,,, এই আপনার সমস্যাটা কি? হুম....
- সত্যি বলতে আমি এখানে নতুন ভর্তি হয়েছি,, আর আমার ক্লাস রুম টা খুজে পাচ্ছি না,, তাই এভাবে দৌড়াচ্ছি,,আর ক্লাসের সময় ও হয়ে গেছে....
- আচ্ছা বুঝতে পেরেছি,,,, তা কোন ডিপার্টমেন্ট....( আমার প্রতি মেয়েটার একটু দয়া হল, মন হয়)
- জ্বি,, একাউন্টিং.....
- আমার ডিপার্টমেন্ট ও ঐটাই, চলেন এক সাথেই....
- জ্বি চলেন....
কপাল গুনে দুজন এক সাথেই বসি,। এরপর দুজনেই নিজেদের মধ্যে পরিচয় হই, পরিচয় হয়ে জানতে পারলাম ওর নাম নিরা, ধনী বাবার একমাত্র মেয়ে। ধনী পরিবারের মেয়ে হয়ে সে সাধারন ভাবে চলাফেরা করে।
প্রতিদিন ভার্সিটিতে যেতাম,,,নিরার সাথে কথা ও হতো। একটা সময় দেখা গেলো আমরা দুজনে খুব ভালো বন্ধু হয়ে যাই। দুজনেই দুজনের মনের কথা শেয়ার করতাম। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দুজনে মিলে ঘুরতে যেতাম, ফুচকা খেতাম, আইসক্রিম খেতাম। এভাবে দেখতে দেখতে কেটে গেলো একটি বছর। কেউ একজন বলেছিলো যে,, একটি ছেলে আর একটি মেয়ে কখনো ফ্রেন্দ হতে পারে না, একটা সময় তাদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। ঠিক সেটাই হলো। আমি নিরার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লাম। যখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি নিরাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি, তখনি আমি আমার ভালোবাসার কথা নিরাকে জানবো বলে প্রতিজ্ঞা করি। আর তার ঠিক তিনদিন পর আমি নিরাকে আমার মনের কথা বলার জন্য আসি,,,
- এই নিরা শোন
- বল কি বলবি...
- তোর সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে....
- হুম তা বল,, কি সেই জরুরী কথাটা...
- নিরা....
- হুম বল.....
- আমি তো তো তোর.....
- কি হলো তুই তোতলাচ্ছিস কেন,, কি বলবি বল
- আমি,,,তোকে,,,আজকে অনেক সুন্দর লাগছে...
- হুম,, তা আমি জানি.... আর কিছু বলবি.....
- না,,,
- ওকে বায়,,, থাক বাসায় যেতে হবেরে....
- ওকে বায়...
চলে আসলাম, আজকে ও বলতে পারলাম না। যাক বেপার না আগামি কালকে বলে দিবো। যেই ভাবা সেই কাজ,, রাতে কল দিলাম নিরাকে...
- কিরে কি করিস ( নিরা)
- কিছু না,, তুই ( আমি)
- পড়ছিলাম,,, তা কি মনে করে কল দিলি
- দোস্ত কালকে একটু দেখা করতে পারবি...
- হুম,, কোথায় আস্তে হবে বল...
- তুই রমনা পার্কে চলে আসিস, ১০ টায়....
- ওকে...বায়...
-বায়....
রাত যেনো কাটছে না,,, সারা রাত চোখে ঘুম নেই, এই ভেবে যে কি ভাবে নিরাকে আমার মনের কথা বলবো। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম, এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো,, তারা তারি উঠে ফ্রেশ হয়ে পার্কের দিকে রওনা দিলাম, একঘণ্টা আগেই চলে আসলাম। নিরার জন্য অপেক্ষা করছি..... প্রায় ৩০ মিনিট পর নিরাকে দেখতে পেলাম আসছে,,, রাস্তা পার হচ্ছে। নিরাকে আজ দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে, নীল শাড়িতে নিরাকে একদম পরীর মতো লাগছে, ইচ্ছে করছে আবার নতুন করে তার প্রেমে পরতে। নিরা আমায় হাতে ইশারা দিলো আমি আসছি। কিন্তু নিরা আর আস্তে পারলো না, রাস্তা পার হবার সময় একটি চলন্ত বাস নিরাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে যায়। নিরার দেহটা পরে থাকে রাস্তার একপাশে।নিরাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।ডাক্তার সাহেব বলছে নিরার অবস্থা নাকি খুব খারাপ,, তাকে বাচানো সম্ভব না, এই শুনে আমি নিরার কাছে ছুটে আসলাম।বাহির থেকে নিরাকে দেখছি, আজ নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে, আমার কারনেই আজ নিরার এই অবস্থা। নিরা হাতের ইশারায় আমাকে তার কাছে ডাকলো।আমি যেতেই নিরা আমাকে বললো
- নীল, আমার একটি কথা রাখবি
- বল,, কি করতে হবে
- তুই কি আমায় ভালোবাসিস....
- আমি আমার জীবনের চেয়ে ও তোকে বেশি ভালোবাসি....
- তাহলে, আমায় ছুয়ে কথা দে,, আমি চলে যাবার পর তুই নিজের কোনো ক্ষতি করবি না, আর মাদের পরিবারকে দেখে রাখবি..... কথা দে
- আমি কথা দিলাম নিরা,, আমি আমার ভালোবাসার মান রক্ষার্থে সব করবো....
- নীল আমার শেষ ইচ্ছাটা পূরন করবি.....
- আমি তোকে কোথাও যে তে দিবো না,,,
- পাগলামি করিস না নীল, আমার হাতে বেশি সময় নেয়, বল আমার শেষ ইচ্ছাটা পুরন করবি....
- কি বল....
- তোর বুকে আমার মাথা রাখার একটু জায়গা দিবি....আমায় একটু জড়িয়ে ধরবি প্লিজ....
- কি বলছিস এই সব,,, এই আমি তো তোরই, বলে নীল নিরাকে জড়িয়ে ধরে....
কিছুক্ষন পর নীল বুঝতে পারলো নিরা আর নেই। এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে, নীলকে একা করে চলে গেছে না ফেরার দেশে.। যেখানে গেলে আর কখনো কেউ ফিরে আসে না। নিরাকে দেওয়া কথা নীল অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করছে। কিন্তু প্রতিরাতেই নিরার কথা ভেবে অঝরে কাঁদে নীল আর আকাশ টা যেদিন মেঘলা থাকে, সেদিন সবাইকে দেখিয়ে কাঁদে কিন্তু কেউ বুঝতে পারে না.... আর বুজতে ও দেয় না নীল......
[ বি: দ্র:- ভালোবাসার মানুষটাকে দূর থেকে ও ভালোবাসা যায়। কাছ থেকেই যে শুধু ভালোবাসা যায়। তা নয়। কেউ চলে গেলে ভালোবাসা চলে যায় না। যদি সেটা সত্যিকারের ভালোবাসা হয়। ভালোবেসে কাছে পাওয়াতে সবসময় সার্থক হয় না, কিছু সময় ভালোবাসা ত্যাগে করলে ও ভালোবাসা সার্থক হয়। তাই বলছি, যে পেয়েছেন, সে যথার্থ মূল্য দিন, আর যে পান নি সে ধের্য্য ধরে জীবন টা পার করুন,,নিরবেই ভালোবেসে যান। ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now