বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
**
**
এইভাবে চলতে চলতে ফ্রেবুয়ারির ১২
টা দিন
কেটে গেলো। আজ ফ্রেবু: ১৩ তারিখ,
কিন্তু
এখনো ফায়সাল কনো জি.এফ এর সন্ধান
পেলো
না। ছেলেটা সকালে ঘুম থেকে উঠে
ফ্রেশ
হয়ে নিলো,আর মৌ কে ফোন দিয়ে
বল্লো,কিরে কি করিস?
মৌ: এইতো রেডি হইতেছি। তুই?
ফায়সাল: আমিও।
মৌ : ওকে তাহলে , ভার্সিটিতে চলে
আয় আমি এখনি
রওনা দিলাম। ফায়সাল:ওকে।
.
"দুইজন একসাথে ক্যাম্পাসে বসে আছে।
এরি
মাঝে ফায়সাল মৌ কে বল্লো,কিরে
নাস্তা করে
আসছিস তো।
মৌ ফায়সালের মুখে এমন কথা শুনে
আবাক হয়ে
গেলো,কারন ওদের ফ্রেন্ডশিপ হওয়ার
পর ওর
মুখে এমন কথা একটি বারো শুনে
নি,খালি
ফাইজলামি,দুষ্টামির কথা ছাড়া।
ফায়সাল:কিরে বলতেছিস না
যে। মৌ : না আজকে খেয়ে আসতে
পারি নাই। হঠাৎ
এই কথা কেন বল্লি?? ফায়সাল: কেন
জিজ্ঞাস
করতে পারিনা নাকি?
মৌ: তা না। কখনো তো তোর মুখে এই
রকম কথা
শুনি নাই।তাই আশ্চর্য হলাম। ফায়সাল :
ও। চল।
মৌ: কোথায়?
ফায়সাল: ক্যান্টিনে।
মৌ : কেন?
ফায়সাল আর কিছু না বলেই ওর হাত
টান দিয়ে ওকে
উঠিয়ে ক্যান্টিনে নিয়ে গেলো।
তারপর ফায়সাল
ওকে ক্যান্টিনে বসিয়ে,কিছু রুটি কিনে
এনে ওকে
খেতে দিলো।
মৌ ফায়সালের এই রকম কর্মকান্ড
দেখে বেশ
অবাক হলো।
মৌ : কিরে তোর আবার কি হলো!
ফায়সাল: কি হবে
আবার আমার। মৌ: কখনো তো নিজের
ইচ্ছাকৃত
ভাবে খাওয়াসনি! আজকি কনো
ইস্পেশাল দিন নাকি?
ফায়সাল: আরে না। তুই এগুলো খা তো।
মৌ: তুই
খাবিনা?
ফায়সাল: আমি বাড়ি থেকে খেয়ে
এসেছি। তারপর মৌ
নাস্তা গুলো খেয়ে নিলো। ফায়সাল:
দোস্ত কাল
সকাল থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত আমাকে
সময়
দিতে পারবি? মৌ: কেন রে?
ফায়সাল: তোকে নিয়ে সারা দিন
ঘুরাঘুরি করবো।
মৌ আবারো আশ্চর্য হলো
বুঝতেছিলোনা যে,
ফায়সালের আজ কি হলো। আজ
ফায়সালের সব কিছু
ওর কাছে অদ্ভুত লাগতেছে।ও কিছু না
বলে
ফায়সালের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ফায়সাল: কিরে
পারবিনা?
মৌ: ঠিক আছে। (কিছুটা সংকুচিত হয়ে)
ফায়সাল:
আরেকটা কথা,কালকের দিনের জন্য তুই
আমার
জি.এফ হবি। শুধু কালকের দিনের জন্য।
মৌ কি বলবে কিছুই বুঝতেছিলোনা। ও
শুধু হা করে
তাকিয়ে ছিলো ফায়সাল এর দিকে।
ফায়সাল: দোস্ত
শুধু কালকের দিনের জন্য আমার জি.এফ
হবি প্লিজ?
তুই দেখ সবাই কালকে কতো রোমেন্স
করবে
আমি এগুলা দেখে কি করে থাকবো।
আমার তো
এমনেই আবেগ বেশি। প্লিজ দোস্ত না
করিসনা।
মৌ: হারামি! এর জন্যই কই এই
হারামিটা কনো কারন ছাড়া
কেন আমাকে খাওয়াবে।। ফায়সাল: হি
হি হি। বুঝতে
পারছিস। প্লিজ দোস্ত একদিনের জন্য
আমার
জি.এফ হবি?প্লিজ প্লিজ। মৌ মনে মনে
ভাবতে
লাগলো,যাক একটা সুযোগ পেয়েছি এই
কিপ্টুস টার
পকেট টা কালকে পুরো খালি করে ওর
মাথা
থেকে জি.এফ এর নামটা ভুলিয়ে
দেওয়ার ধারুন
একটা সুযোগ পেলাম। মৌ: ঠিক আছে।
এর বিনিময় কি
পাবো? ফায়সাল:তুই যা চাস।
মৌ: বুঝে বলতেছিস তো?
ফায়সাল: হুম। কিন্তু তুই করে বলতে
পারবিনা।
দুইজনে দুইজনকে তুমি করে বলবো,তারপর
আমাকে
রোমান্টিক কথা শুনাবি,একটু আদর
করবি,যেনো
মনে হয় দুইজন একে অপরকে ছাড়া
কিছুতেই
বাঁচবোনা।
মৌ: হা হা হা। হারামি তুই এতো
রোমান্টিক হইলি কবে
থেকে?
ফায়সাল: ছোট বেলা থেকেই। আর শুন,
আজকে
রাতের ১২টা থেকেই তুই আমার জি.এফ
সো সুন্দর
করে কথা বলবি।
মৌ:ঠিক আছে।
মৌ ফায়সালের কথা শুনে হাসতেছে
কি বলবে
বুঝতেছেনা।
ফায়সাল: কিরে হাসতেছিস কেন? মৌ :
তোর
কথাগুলোই তো হাসানোর মতো আমি
কি
করবো?
ফায়সাল: দেখ সিরিয়াস হ বলতেছি।
মৌ : হুম সময় হলে
সিরিয়াস হয়ে যাবো।
ফায়সাল: হুম কথাটা যেনো
মনে থাকে।
মৌ: আরে বাবা আচ্ছা ঠিক আছে। .
**
**
রাতের ১২টা বাজে মৌ ফায়সালকে
ফোন দিয়েয়
যাচ্ছে কিন্তু ফায়সাল বিভোর ঘুমে
ব্যাস্ত। হঠাৎ
করে ঘুম ভেঙ্গে গেলো,খেয়াল করে
দেখলো,মৌ ফোন দিয়েছে রিসিভ
করেই,ওই তুই
আমাকে কেন এতো রাতে ফোন
দিছোস?
(ফায়সাল ভুলে গেছিলো আজকের রাত
১২ টা
থেকে তারা একে অপরের কলিজার
টুকরা)
মৌ: কি বেপার বাবু তোমার শরীর
খারাপ?
ফায়সাল : তা হবে কেন? (আশ্চর্য হয়ে
বল্লো)
মৌ: তাহলে জান কেন এভাবে কথা
বল্লা,তোমার কি
গতকাল সকালের কথা খেয়াল নাই?
ফায়সাল: ও সরি দোস্ত আমি ভুলেই
গেছিলাম।
মৌ: এই যে শোন আমি কিন্তু তোর
সাথেই জি.এফ
এর অভিনয় করছি। তুই আবার দোস্ত
বল্লি কেন?
ফায়সাল: ওহ সরি সোনামনি।
(আহ্লাদী ভাবে)
মৌ ওর এই টুকু কথা শুনে অবাক হয়ে
গেলো।
মনে হচ্ছে কত বছরের না সম্পর্ক না
ওদের।
মৌ কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বল্লো হুম
এখন ঠিক আছে।
তাহলে এখন ঘুমাও সকালে আমার
বাসার সামনে
থেকে আমাকে নিয়ে যাবা ঠিক আছে
বাবুই।
ফায়সাল: ওকে আমার লক্ষি পরিটা।
মৌ ফায়সাল এর প্রতিটা কথায় অবাক
হয়ে যাচ্ছে আর
খালি রহস্য জনক ভাবে হাসতেছে।
.
"ফোনটা রাখার পর ফায়সাল মৌকে
একটা মেসেজ
দিলো, জান...... আজকে কিন্তু তোমাকে
শারি
পড়তে হবে। যেনো তোমার মাঝে একটা
নিউ
লুক খুজে পাই।" I love u my cuty princes
ummmmaaaa....."
মৌ ফায়সালে মেসেজটা সিন করে হা
করে তাকিয়ে
রইলো। আর মনে মনে বলতে লাগলো
সালা দারা
কাল তোকে বুঝাবো সত্যি কারের
জি.এফ
থাকলে কি ধরনে প্যারা নিতে হয়।আর
ভবিষ্যৎ তে
জি.এফ এর নাম নিতে হবে না। এই বলেই
ছোট
একটা মেসেজ দিয়ে দিলো ঠিক আছে
বাবুই।
**
**
ফায়সাল সকাল ৯.৩০ ঘুম থেকে
উঠেই,মৌকে
ফোন দিলো
ফায়সাল : কি করতেছে আমার
বাবুনিটা?
মৌ : এইতো রেডি হইতেছে তুমি
ফায়সাল: এইতো তোমাদের বাড়ির
সামনে কিছুক্ষণ
এর মধ্যে আসতেছি।
মৌ : হুম তারাতারি আসো।আমার আর
বেশিক্ষন
লাগবেনা।
ফায়সাল: ওকে জান। i love u (আহ্লাদী
ভাবে)
মৌ : আচ্ছা বাবু আমি এখন রাখি। এই
বলেই মৌ ফোনটা
রেখে দিলো।
ফায়সাল মনে মনে বলতে
লাগলো,শয়তান,ফাজিল
মাইয়া একটা love u বল্লাম ওইটার
উত্তরটা দিলো না।
এই বলেই ফায়সাল ফ্রেশ হয়ে,মৌদের
বাড়ির সামনে
চলে গেলো। প্রায় ২০ মিনিট দাড়িয়ে
থাকার পর মৌ
ঘর থেকে বের হলো, ফায়সালকে দেখেই
মৌ
ওর কাছে গেলো। ফায়সাল ওকে দেখেই
হা
করে তাকিয়ে রইলো কি বলবে কিছুই
বুঝতেছে
না ছেলেটা,সাত রঙ দ্বারা স্টেপ করা
একটা
জরজেট এর শারি পরনে।মনে হচ্ছিলো
আকাশের
রংধনুটা ওর হাতের মুঠোয় এসে পরেছে।
ইচ্ছে
করলে ছুয়ে দিতে পারবে।চোখে ব্রাউন
কালার
এর লেন্স সাথে টানা করে কাজল
দেওয়া। মৌ এর
এই সুন্দর্যের আভাটা দেখে বার বার
ফায়সালের
মাঝে মাতাল হাওয়ার ঢেউ বয়ে
যাচ্ছিলো। ছেলেটা
কিছুক্ষন যাবৎ শুধু ওর দিকে তাকিয়েই
রইলো।
"মৌ ফায়সালকে আস্তে করে ধাক্কা
দিলো,ফলে
ছেলেটা বাস্তবে ফিরে এলো"
মৌ:কি ব্যাপার তুমি এইভাবে
তাকিয়ে আছো কেন?
ফায়সাল: মৌ তুই এতো সুন্দর কেমনে
হইলি? এই চার
বছরে তো তোকে এতো সুন্দর লাগে
নাই।
তুইতো আজকে আমাকে পাগল করে
দিলি।
মৌ লজ্জায় মাথাটা নুয়ে নিলো, আর
বল্লো তুই
করে বল্লা কেন?
ফায়সাল: ও সরি সুইট হার্ট।। আর
হবেনা।
মৌ: হুম। আর আগে থেকেই বলে
দিলাম,যা করবা
শ্লীলতা বজায় রেখে করবা।
ফায়সাল: আচ্ছা চেষ্টা করবো।
মৌ: মানে?
ফায়সাল: মানে তুমি আমার জি.এফ আর
আজকের
দিনে তো সবার মাঝে তার জি.এফ এর
সাথে
রোমেন্স
করার ইচ্ছা থাকবেই। তাই না!
মৌ: দেখ আমার রাগ উঠাবিনা একদম।
আমি কিন্তু তোর
আসল জি.এফ না যে তুই আমার সাথে যা
ইচ্ছা তা করবি!
এইটা কিন্তু আমি মেনে নিতে
পারবোনা।
ফায়সাল: আরে বাবা রাগ করিস কেন?
ওকে সরি!
কোন কিছুই করবোনা। শুধু হাতটা ধরতে
দিও বাবুনি।
(আহ্লাদি ভাবে বল্লো)
মৌ: একটু হাসি দিয়ে বল্লো হুম ঠিক
আছে। এখন
রিকশা নেও আমি নাস্তা করে বের হই
নাই,আগে
নাস্তা করাবে তারপর পর ঘুরাঘুরি
করবো।
ফায়সাল: হুম চলো।
(মৌ মনে মনে বলতে লাগলো এই দেখ
আজকেই তোকে বাশ দিয়ে বুঝিয়ে
দিবো
জি.এফ থাকলে কি রকম বাশ খেতে হয়)
**
**
দুইজনে একসাথে নাস্তা খাওয়া শেষ
করে চলে
গেলো বোটানিক্যাল গার্ডেন।
সেইখানে
যেয়ে দুইজন একসাথে একটা শান্তিপূর্ণ
জায়গায়
বসলো। কেউ কাউকে কিছু বলছিলো না।
বলবেই
বা কি ওরাতো আর সত্যিকারের
প্রেমিক প্রেমিকা
না। এরি মাঝে মৌ বলে উঠলো, কি
হলো কিছু
বলতেছো না কেন?
ফায়সাল: কি বলবো বলো,আমরাতো আর
সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমিকা না।
(হতাশা নিয়ে)
মৌ ফায়সাল এর এই হতাশার রূপ দেখে
মুচকি একটা হাসি
দিলো। আর ও নিজেই ফায়সাল এর
হাতটা জড়িয়ে
ধরলো আর বল্লো, যাও শুধু আজকের জন্য
আমরা সত্যিকারের প্রেমিক
প্রেমিকা। এই বলেই
ফায়সাল কে এতগুলা খুশি করালো। খুশি
করার একটা
কারনি ছিলো তা হলো বাশ দেওয়া।
.
কিছুখন পর মৌ ফায়সাল কে বলে
উঠলো,বাবু একটা
গান শুনাও না প্লিজ? (আহ্লাদি ভাবে)
ফায়সাল: কি গান শুনবা?
মৌ: তোমার যেইটা ইচ্ছা ওইটাই
শোনাও।
ফায়সাল: চোখে চোখে চোখ পরেছে
কি
বলবো মুখে, কে তোমায় সাজিয়েছে
এতো
অপরূপে............
মৌ খুব একটা লজ্জা পেয়েছিলো আর খুব
একটা
রোমান্টিক মোমেন্ট উপভোগ
করছিল,কিন্তু সে
এই সব ফায়সাল কে বুঝতে দেই নি।
মৌ: হুম এতোগুলা সুন্দর হইছে বাবুই।
ফায়সাল: ধন্যবাদ সোনামণি।
"কিছুখন পর মৌ দেখলো ফায়সাল অন্য
এক কাপল এর
দিকে তাকিয়ে আছে।ওই কাপলটা একে
অপরের
সাথে খুব ক্লোজ করে বসেছিলো। সেই
মুহূর্তে দুইজন একে অপরের চুমো
খাচ্ছিলো,সেই দৃশ্য দেখে ফায়সাল
হতাশা জনিত
মুচকি হাসি দিলো। মৌ ওর ফিলিং টা
বুজতে পারলো। তাই
মৌ ফায়সালকে বল্লো চলো এখান
থেকে উঠি।
ফায়সাল: কই যাবে শুনি?
মৌ: চলো আগে তারপরেই দেখবা।
তারপর দুইজন রিকশা করে হাতিরপুল
চলে গেলো।
সেইখানে যেয়ে দুইজন একটা কসমেটিক
এর
দোকানে এ ঢুকলো ফায়সাল মৌ এর
দিকে তাকিয়ে
রইলো,দেখলো মেয়েটা মুচকি মুচকি
হাসছে। ও
বুজতে পারলো যে মৌ এখন কি করবে। ও
আগে
থেকেই জানতো মৌ আজকের দিনে ওর
সাথে
প্রেমিক প্রেমিকার অভিনয় করাতে
রাজি হওয়ার
পিছনে কনো কারন জড়িত আছে। তাই
ফায়সাল আজ
কিছুই বলবেনা আজ ফায়সাল দেখতে
চাই, রংধুনুটার সব
দুষ্টামিগুলা।
.
ভাই-বোনেরা যদি ভালো লাগে তবে 1+ Star দিয়ো...&...কেমন লাগলো কমেন্ট কইরো... (আর.এম.রকি মাহমুদ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now