বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মৌমিতা ফায়সালের সব থেকে ভালো
বন্ধু।
ফায়সালের সাথে ওর পরিচয় সেই
ভার্সিটিতে ভর্তি
পরিক্ষার সময় থেকে। চার বছর যাবৎ দুই
জন এক
সাথেই চলা ফেরা করছে। দুইজন
দুইজনকে
সবসময় বন্ধুর চোখেই দেখে আসছে। খুব
ভালো বন্ধু বিদায় দুইজন একে অপরের
সাথে সব
কিছুই কনো দ্বিধাবোধ না করে শেয়ার
করতো। তাছাড়া ফায়সাল প্রতি দিনি
ওকে
একটা কথা বলেই জ্বালাতো। সেইটা
হলো, ওই মৌ
সিঙ্গেল লাইফটা আর ভালো লাগেনা।
প্লিজ দোস্ত
একটা গার্ল ফ্রেন্ড যোগায়া দেনা। (ওর
নামটা বড়
বিদায় তাই ওকে মৌ বলেই ডাকি।)
মৌ: ওই তোর মুখ থেকা কবে এই গার্ল
ফ্রেন্ড
নামের শব্দটা পরলোকগমন করবো রে?
আমি: আরে দোস্ত তুই চেতছ কেন? তুই
দেখ
তপু,অলিন,সুবন ওদের কতো কিউট কিউট
গার্ল
ফ্রেন্ড আছে। আমার কপালে কেন একটা
জুটতাছে না।
মৌ : তোর মতো কিপ্টার কপালে জুটবো
ও না।
আমি: দোস্ত তুই আমারে অভিসাপ
দিলি?
মৌ: কই? নাতো?
আমি: এই যে বল্লি আমার মতো
কিপ্টার কপালে
জুটবো না।
মৌ: হুম।কিন্তু কিউট একটা বউ পাবি
দোআ কইরা দিলাম।
আমি: যা ফইন্নি পলিয়ে পালিয়ে
প্রেম করে যেই
মজা পামু,বিয়া করে কি ওই মজা পামু।
মৌ : ফায়সাল তুই বাদ দে তো এই
সব,চার বছর ধরে
তোর এই একটা কথা শুনতে শুনতে,আমার
কানটা
নষ্ট হয়ে গেতাছে। উঠ ক্লাসে চল।
আমি: নাহ আমি ক্লাসে যামুনা তুই
যা। (রাগের ইমু)
মৌ: আচ্ছা যা একটা কিউট জি.এফ খুজে
দিমু তোর
জন্য। এখন খুশিতো।
আমি: তাহলে ১৪ ফ্রেবুয়ারির আগে?
মৌ: সব রেখে ১৪ ফ্রেবুয়ারি কেন?
আমি: এইবার ১৪ ফ্রেবুয়ারিতে যেনো
সিঙ্গেল না
থাকি তাই।
মৌ: বাবারে পোলার feeling কতো! (একটু
হেসেই
বল্লো)
আমি: ওই বান্দরনী তুই মজা মারতাছিস
তাই না?
মৌ: আরে না দোস্ত। যাহ আমি ১৪
ফ্রেবুয়ারির
মধ্যেই তোর জন্য একটা জি.এফ খুজে
দিবো।
আমি: সত্যি তো?
মৌ: হুম।
(সবসময় মৌ এই রকম মিথ্যা বলেই ওকে
সান্তনা
দিতো।)
এই বলেই দুইজন ক্লাসের দিকে রওনা
দিলো।
**
**
ক্লাস শেষে দুইজন একসাথে বের হলো।
মৌ বার
বার ফায়সালের দিকে তাকিয়ে
হাসতে
লাগলো,ফায়সাল ওর দিকে তাকিয়ে
বল্লো,
কিরে তুই হাসতেছিস কেন?
(স্বাভাবিক ভাবে
বল্লো)
মৌ: না এমনি।
-ও।
মৌ : কিরে মনটা খারাপ?
- নাতো।
মৌ: তাহলে ক্লাসেও তোকে চুপ চাপ
দেখলাম।
এখনো চুপচাপ হাটতেছিস,কনো কথা
বলতেছিস না।
- নারে দোস্ত এমনি।
মৌ : ও। আচ্ছা আমি যদি তোর জি.এফ
না পটায়া দিতে
পারি তখন কি খুব রাগ করবি? (ওকে
রাগানোর জন্য)
- নাহ। ওইটা আমার ভাগ্যের উপর নির্ভর
করবে। (খুব
ইমোশনাল ভাবে)
মৌ : কিরে তুই এতো ইমোশনাল
হইতাছিস কেন?
মানুষ ছেকা খেয়ে ইমোশনাল হয় আর
তুই প্রেম
করার আগেই ইমোশনাল হয়ে গেলি?
(স্বাভাবিক
ভাবে)
- বাদ দেতো দোস্ত। ভালো
লাগতেছেনা আমি
আজকে যাই।
এই বলেই ছেলেটা চলে গেলো।
মৌমিতা মনে
মনে বলতে লাগলো কি পাগল একটা
ছেলে,সামান্য
একটা জি.এফ না পাওয়ার কারনে কতো
ইমোশনাল
হয়ে গেলো। ও তো আমাকে ছাড়া কনো
মেয়ের সাথে কথাই বলেনা পাগলটা
কি করে
জি.এফ পাবে।
এই বলে মৌমিতা ও ওর বাসায় চলে
গেলো।
**
**
পরের দিন সকাল না হতে হতেই
মৌমিতার কাছে
ফায়সালের ফোন,
মৌ: কিরে এতো সকালে কিসের জন্য
ফোন
দিছিস?
ফায়সাল : কাজের জন্যেই ফোন দিছি।
আমি
তোদের বাড়ির নিচে।তুই একটু
তারাতারি নিচে নাম।
মৌ: কি! ফাইজালামি করতাছিস
নাতো।
ফায়সাল: আরে না দোস্ত,তুই একবার
নেমেই
দেখ না।
মৌ : দাড়া আমি আসতেছি।
ফায়সাল: হুম তারাতারি আয়।
মৌ ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে
দেখলো,সকাল ৯টা
বাজে মাত্র। ও কিছুনা ভেবেই মাথার
চুল গুলো
বেধে, রুম থেকে বের হয়ে
গেলো,বাহিরে যেয়ে দেখে ফায়সাল
দাড়িয়ে
আছে,ও ফায়সালের সামনে যেয়ে বলতে
লাগলো,কিরে তুই কি মনে করে এখানে
এসেছিস! তুই তো ১১টার আগে ঘুম
থেকেই
উঠিস না।
ফায়সাল: ওই এই সব বাদ দে তো।আগে
বল
তোদের বাড়িতে তিন তালায় ওই যে
(হাতে ইংগিত
করে দেখালো) ওই রুমে যে মেয়েটা
থাকে ওইটা কে?
মৌ : মেয়ে! কেনরে কি হইছে।
ফায়সাল: আরে বলিস না।আজকে
সকালে ঘুম
থেকে তারাতারি তে উঠে যাওয়াতে
মা আমাকে
বাজারে পাঠিয়েছিলো। বাজারে
আসার পর ওই
মেয়েটাকে দেখি আর দেখার পর এতো
ভালো লাগলো যে আমি ওর পিছু নিয়ে
নেই।
দোস্ত আমাকে এই মেয়েটার সাথে
লাইন
লাগিয়ে দেনা প্লিজ,আমার তো এই
মেয়েটাকে দেখে মাথা নষ্ট হয়ে
গেছে।
মৌ : ওই কইলি কি তুই এইটা হুম? (খুব
রেগে
যেয়ে)
ফায়সাল: কেন কি হইছে।
মৌ : শালা এইটা আমাদের ভাবি
লাগে। ওনার একটা
মেয়ে ও আছে।
ফায়সাল: কি!! আরে দেখলেতো মনে হই
১৮
বছরের ললনা।
মৌ: দাড়া ফাজিল আজ তোর একদিন
কি আমার একদিন
এই বলেই মৌ যখন ফায়সাল কে মারতে
যাবে ঠিক
তখনি ফায়সাল দিলো দৌড়।
মৌ আর ফায়সালকে ধড়তে পারলোনা।
এই বলে ও
ওর রুমে চলে গেলো।
মৌ ওর রুমে যেয়ে ফায়সালের কর্ম-
কান্ড
গুলো মনে করে হাসছে,আর মনে মনে
বলতে লাগলো, এমন কেনরে তুই
ফায়সাল,গত
কাল কতো ইমোশনাল হয়ে গেছিলি।
আর আজ
আবার আগের মতো বান্দরামি শুরু করে
দিলি।
আমাদের বাড়ির ভাবিকে ললনা মনে
করে
আমাদের বাড়ির সামনে এসে পরেছিস।
কেন
তোর এতো প্রেম করার শখ। চার বছরের
ভিতরে তোকে একটুও বুঝতে পারি নেই।
আমার
বুঝারো কনো দরকার নেই। এমন কেন তুই।
তুইতো আমাকে ছাড়া কানো মেয়েদের
সাথে ভালো করে কথায় বলতে পারিস
না,তুই
আবার কি প্রেম করবি। এই রকম শত শত
কথা
বলতে লাগলো আর মনে মনে হাসতে
লাগলো।
.
ভাই-বোনেরা যদি ভালো লাগে তবে 1+ Star দিয়ো...&...কেমন লাগলো কমেন্ট কইরো... (আর.এম.রকি মাহমুদ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now