বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিন গোয়েনদা ভলিউম★

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)



X গভীর রাতে তাঁবুরবাইরে খসখস আওয়াজ শুনেচকিতে ঘুম ভেঙে গেল মুসার ৷ কীসের আওয়াজ? চোরনাকি? মুহূর্তে চিন্তাটাঝেড়ে ফেলল ও মাথা থেকে ৷এখানে, ক্যালিফোর্নিয়ারউত্তর সীমান্তে, এই দুর্গমপাহাড়ি অঞ্চলে চোর আসবে কী করতে?ওদের চারজনেরকাছে আছেই বা কী চুরিকরার মত? তা হলে কোনওজন্তু-জানোয়ার?সারাটা দিনঘোড়ায় চেপে চড়াই-উতরাইডিঙিয়ে ক্লান্ত হয়ে এখন স্লিপিং-ব্যাগেরভিতরগভীর ঘুমে অচেতন ওর তিনসঙ্গী–কিশোর, রবিন ওফারিহা ৷কী ওটা? আরে!তাঁবুর ফ্ল্যাপটা সরে যাচ্ছেকেন একপাশে? বিস্ফারিত চোখে চেয়ে রয়েছে মুসা ৷ কাউকে জাগাবে নাকি?আড়চোখে একবার চাইলকিশোরের দিকে ৷ দেখলকিশোরের এক চোখ খোলা, ভুরুনাচাল মুসার উদ্দেশে ৷ ডানহাত বের করে আনলস্লিপিং-ব্যাগেরভিতরথেকে, মুঠোয় ধরা তাঁবুর খুঁটিগাড়বার হাতুড়িটা ৷ আস্তেআস্তে সরে গেল ফ্ল্যাপ৷ভয়ার্ত একটা মুখ দেখা দিল তাঁবুর ভিতর ৷ ওদেরইন্ডিয়ান গাইড, ট্রেফর ৷একমাথা এলোমেলো পাকা চুল,আর বুক-সমান অগোছাল দাড়িনিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকছেতাঁবুতে ৷ থরথর করে কাঁপছে ওর সর্বাঙ্গ ৷উঠে বসলকিশোর ও মুসা ৷‘কীব্যাপার, ট্রেফর? কীহয়েছে?'হড়বড় করে নিজেরভাষায় একগাদা দুর্বোধ্যশব্দ উচ্চারণ করল লোকটা কাঁপা গলায় ৷তার মধ্য থেকে বোঝা গেল কেবলএকটা ইংরেজি শব্দ,“নয়যেস্!' কীসের শব্দ, জানাগেল না বার বার জিজ্ঞেসাকরেও, নিজের নোংরা কাঁথাটা টেনে নিয়ে ডিম্পল্আর রবিনের মাঝখানে চলেএল সে, ‘হিয়ার আই স্লিপ৷'আরে! গত দু'দিন অনেকসাধাসাধি করেও এইহাবাগোবা লোকটাকে তাঁবুর ভিতর শোয়ানো যায়নি,খোলা আকাশের নীচে নাশুলে নাকি ঘুম আসে না;মাঝরাতে আজ সে নিজেইএসে হাজির, শোবে—ব্যাপারটা কী?‘কীসের নয়েয, কিশোর?'‘আমরা তোকিছু শুনলাম না,' বলল কিশোর৷ ‘হয়তো স্বপ্ন-টপ্ন দেখেথাকবে ৷ জানা যাবে কালসকালে ৷'যে-যার স্লিপিং-ব্যাগে সেঁধিয়ে চেইন টেনে দিল কিশোর ও মুসা ৷ ঘন কুয়াশা তো আছেই, অসম্ভবশীতও পড়েছে আজ ৷ রবিন ওফারিহা ঘুমাচ্ছে বেখবর৷পরীক্ষার পর দীর্ঘ একমাসছুটি ৷ আঙ্কেল ডিকের আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গেগাড়িতে চেপে রকি বিচথেকে প্রায় এক হাজারমাইল দূরেক্যালিফোর্নিয়ারউত্তরপ্রান্তে টিলা-টক্করের রাজ্যে তাঁর এক আত্মীয়রখামার-বাড়িতে বেড়াতেএসেছে ওরা ৷ বাবা-মারসঙ্গে ইউরোপে বেড়াতেগেছে বলে জিনা আসতেপারেনি ওদের সঙ্গে ৷স্যান ফ্রান্সিস্কোকে বামে রেখে,স্টকটন-স্যাক্রামেন্টোছাড়িয়ে আরও উত্তরে চলেএসেছে ওরা ৷ তারপররেডিং-এর ডাইনে সিয়েরানেভাডার পাহাড়ি রাস্তা ধরে এঁকেবেঁকে আরও উত্তর-পুবে ৷ শহর-গ্রাম ছাড়িয়েপাহাড়ের মধ্য দিয়েআঁকাবাঁকা,সরু পথ ধরেপৌঁছেছে ছবির মত সুন্দর একফার্ম-হাউসে ৷ওখান থেকে চোদ্দো হাজার একশোবাষট্টি ফুট উঁচু মাউন্টশাস্তা দেখা যায় পরিষ্কার,মনে হয়, এই তো হাতবাড়ালেই ছোঁয়া যাবে বুঝি৷মিস্টার ও মিসেস হ্যারল্ড এবং হাসিখুশি কাজের লোকইভান্সের খাতির-যত্নে তিনদিনেই ওরা যখন টের পেলকয়েক কেজি করে বেড়েগেছে ওজন, তখন ঘোড়ায়চেপে তিরিশ মাইল দূরের প্রজাপতি-উপত্যকা থেকেবেড়িয়ে আসবে বলে বেরিয়েপড়েছে ওরা ৷ ওখানে হরেকজাতের ফুল আর প্রজাপতি তোআছেই, পাখিরও নাকি সীমা-সংখ্যা নেই ৷ আঙ্কেল ডিকেরও যাওয়ার কথা ছিল,কিন্তু রওয়ানা হওয়ার আগেরসন্ধ্যায় উঠোনে পুঁতেরাখারু বাঁধবার খুঁটিতে হোঁচটখেয়ে বাম হাতের কনুইমচকে গেছে তাঁর ৷ বিশ মাইল দূরের একটা প্রাইভেটক্লিনিকে এক্স-রে করিয়েদেখা গেছে সামান্য চিড়ধরেছে হাড়ে ৷ তিনদিন পরআসছেন বলে ওদের রওনাকরিয়ে দিয়ে মোটা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও রয়েগেছেন আঙ্কেল খামারবাড়িতেই ৷সাতটা ঘোড়ারঅর্ডার দেওয়া হয়েছিল,সক্কাল বেলা ওগুলো নিয়েহাজির হয়ে গেল ঘোড়ার মালিক থুত্থুরে বুড়োইন্ডিয়ান, ট্রেফর ৷ঘোড়াগুলো মোটাসোটা,শক্তিশালী—পাহাড়ে চলাচলের জন্য খুবইউপযোগী, কিন্তু আকারে খুব ছোট ৷ কোনওটাই সাড়ে-তিনফুটের বেশি উঁচু না ৷একটা মাদি ঘোড়ার সঙ্গেগরু বাঁধবার খুঁটিতে হোঁচটখেয়ে বাম হাতের কনুইমচকে গেছে তাঁর ৷ বিশ মাইল দূরের একটা প্রাইভেটক্লিনিকে এক্স-রে করিয়েদেখা গেছে সামান্য চিড়ধরেছে হাড়ে ৷ তিনদিন পরআসছেন বলে ওদের রওনাকরিয়ে দিয়ে মোটা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও রয়েগেছেন আঙ্কেল খামারবাড়িতেই ৷সাতটা ঘোড়ারঅর্ডার দেওয়া হয়েছিল,সক্কাল বেলা ওগুলো নিয়েহাজির হয়ে গেল ঘোড়ার মালিক থুত্থুরে বুড়োইন্ডিয়ান, ট্রেফর ৷ঘোড়াগুলো মোটাসোটা,শক্তিশালী—পাহাড়ে চলাচলের জন্য খুবইউপযোগী, কিন্তু আকারে খুব ছোট ৷ কোনওটাই সাড়ে-তিনফুটের বেশি উঁচু না ৷একটা মাদি ঘোড়ার সঙ্গেুতুলের মত, সুন্দর, ধবধবেসাদা, ছোট্ট একটা বাচ্চাওআছে—সোজা হয়ে দাঁড়ালে, বড় জোর আঠারো ইঞ্চি উঁচু হবে ৷বাচ্চাটার খুরের কাছেইঞ্চি তিনেক জায়গা আরকপালের তিলকটা কালোহওয়ায় দারুণ সুন্দরদেখাচ্ছে ৷ ওটার দুই গালের হালকা দাগ দেখলেমনে হয় টোল পড়েছে ৷দেখামাত্র ওটার নাম রেখেদিল রবিন ডিম্পল ৷অল্পক্ষণেই ভাব হয়ে গেলওদের দুজনে ৷ বেশ কিছুদিন যাবৎ লক্ষ করছে কিশোর,যে-কোনও জানোয়ারেরসঙ্গে খুব সহজেই বন্ধুত্বহয়ে যায় রবিনের ৷ কেনযেন আজকাল দেখা-মাত্র ওরপ্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে জন্তু- জানোয়াররা৷আঙ্কেল যেতেপারছেন না দেখেছেলেমেয়েদের সঙ্গে গাইডহিসাবে যেতে বলা হলোট্রেফরকে ৷ কিন্তু ওকেরাজি করানো কঠিন হলো ৷ একে মানুষটা ইংরেজি বোঝেনা, তারউপর একেবারেইহাবাগোবা কিসিমের ৷প্রথমে বলল প্রজাপতি-উপত্যকা চেনে, তারপর বললচেনে না; শেষে ওর হাতে মিস্টার হ্যারল্ড একটাম্যাপ ধরিয়ে দেওয়ায়নিমরাজি হয়ে মাল-সামানতুলে ফেলল দুটো ঘোড়ারপিঠে, তারপর চড়ে বসলএকটায় ৷ কিশোর-মুসা-রবিন আর ফারিহাও উঠে পড়ল যারযে-ঘোড়াটা পছন্দ হলো তারউপর ৷ রবিনের সঙ্গে এরইমধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয়েগেছে বাচ্চা-ঘোড়া ডিম্পল-এর, মা-টা মালপত্র নিয়ে সবার আগে থাকলেওবাচ্চাটা চলল রবিনেরপাশাপাশি ৷ তিন গোয়েন্দার মনোযোগ কেড়েনিয়েছে বলে ডিম্পলের উপরখুবই অসন্তুষ্ট হলো মুসার প্রিয় কাকাতুয়া কিকো, কিন্তুকঠোর ভাষায় বকা-ঝকাদিয়েও ওকে তাড়াতে পারলনা কিছুতেই ৷দশদিন চলারমত খাবার ওদের সঙ্গেদিয়ে দিয়েছেন মিসেস হ্যারল্ড, কিপটেমি না করেপেট ভরে খেতে বলেছেনসবাইকে ৷ বলে দিয়েছেন,ভয় নেই, আঙ্কেল ডিকেরসঙ্গে আরও খাবার পাঠাবেনতিনি, কম পড়বে না ৷দু' রাত দু' জায়গায় ক্যাম্প করেছেওরা নির্বিঘ্নে, আজ এইতৃতীয় রাতে কী দেখলট্রেফর, কীসের আওয়াজ শুনলযে এমন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তাবুতে আসলো.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিন গোয়েনদা ভলিউম★

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...