বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অফুরন্ত ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arfin Shuvo (০ পয়েন্ট)

X -এই তুমি আমার দিকে একদম তাকাবেনা। -হাজারবার তাকাব। -চোখ তুলে নিব তোমার হু। -চুল ছিড়ে নিব আমি তোমার। -কি?এত্ত সাহস পেয়েছ কোথায় তুমি আমার চুলে হাত দিবে? -সাহসের দেখেছ কি আমি রাগলে যা ইচ্ছে তাই করতে পারি। -তাই নাকি তো কি করবে শুনি? -তোমার সব শাড়ি কাঁচি দিয়ে কুচি কুচি করে ফেলব। -হি হি হি ভীতুর ডিম। -ভীতুর কি হল শুনি? -রাগটা আমার উপর যা করার আমাকেই করতে হবে। -তাহলে তো তুমিও ভীতুর ডিম। -মোটেও না। -তাহলে আমার উপর রাগ করে আমার টি শার্ট গুলো এমন অবস্থা করেছ কেন। -আমি একটা মেয়ে আমার যা ইচ্ছে হবে আমি তাই করব। -আমিও একটা ছেলে যা ইচ্ছে তাই করব। -কি আর করবে শাড়ি নষ্ট করবে তো কর। মানুষে তোমাকে ক্ষ্যাপাবে পাগল বলে। -যা বলে বলুক তোমাকে সহজে ছাড়ব না। -হি হি হি গাঁধা একটা। -তুমি কি গাঁধার গাঁধী। -হু আমার বয়েই গেছে উনার গাঁধী হতে। -বেশ তো আছ কেন এই গাঁধার কাছে পড়ে যাও চলে চাও। -কোথায় যাব? -যেদিকে দুচোখ যায়। -তুমি পারবে আমার হারানোর বেদনা সইতে। -না মানে হ্যা পারতে তো হবে। -শয়তান জামাই তুমি কি ভেবেছ আমি এত সহজে তোমার ঘাড় থেকে নেমে যাব আর তুমি অন্য মেয়েদের নিয়ে টাংকি মারবে তা আমি কখনও হতে দিবনা। -তো বেশ তো থাক তুমি। -আমি থাকব মানে তুমি কই যাবে? -চলে যাব দুর বহুদুর... -ওয়াও এই আমাকেও সাথে নিও মুসাফিরের বেশে আমাদের হানিমুন টাও হয়ে যাবে। -চুপ। -কেন? -ভুলে যেও না আমরা ঝগড়া করছি কোন আবেগ চলবেনা। -এই যে মিষ্টার বিড়াল আমি সারাজীবন কেন এক সেকেন্ডও থাকতে পারব না তোমার সাথে। -কি আমি বিড়াল?তুমি ইঁদুর। -আমি ইঁদুর এ্যাক ধুর একটা ভাল নামও দিতে পার না। -না পারিনা তুমি একটা এ্যালার্জী। -কিইইই বললে? -আমার টি শার্ট গুলো তো মনে হয় নিজের দাঁত দিয়েই নষ্ট করেছ। -হ্যা করেছি করব ওগুলোর উপর আমার যথেষ্ট অধিকার আছে। -কিসের অধিকার শুনি? -তোমাকে বলব কেন তুমি কোন দেশের মহারাজা হে? -বলবে না তো বেশ দাড়াও দেখাচ্ছি। -এই শুভ্র একদম না। -হে হে হে হে এবার কেমন লাগে? (সারামুখে কালি লেপ্টে দিয়েছি) -উহু উহু উহু। -কি হল এত সহজে হেরে গেলেন মহারানী। -শয়তান পাঁজি ছেলে তুমি একটা পঁচা। -ওয়াও আমার পেত্নি বউকে নিয়ে একটা সেল্ফি তুলতে হবে। -একদম না আর আমাকে বউ ডাকবেনা। -তাহলে কি ডাকব। -কিছুনা। -ও বউ একবার আয়নায় মুখটা দেখ না একেবারে পরী তবে এ পরী একটু কালো হা হা হা। -এর প্রতিশোধ কিন্তু আমি নিয়েই ছাড়ব। -তাই বুঝি দেখি নাকের কাছে একটু বাকি আছে ওখানে একটু..... -এই একদম না...... (দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল) এই মেয়েটা পাগলী না পাগলীর ডিব্বা হা হা হা। . মায়াবতী হ্যা মায়ামাখা মুখটা যতটা হাসিখুশি রাগলে বা অভিমান করলে একেবারে শ্রাবনের কালো আকাশ। এইতো কয়েকমাস হল মায়াকে বউ করে এনেছি।এখন যেমন সময় সত্যিই একটু নরম মনেরর মেয়ে পাওয়া তো দূরের কথা চাওয়াটাই বেকার।তবু হয়ত আমার ভাগ্যের লিখনে এমন একটা মেয়েকে খুঁজে পেয়েছি।সত্যি ওকে নিয়ে ভাবতে এত কেন ভাল লাগে জানিনা।ওর সবথেকে একটা জিনিসই আমার বেশি মন কাড়ে ওর উচু নিচু দাঁতগুলো।হাসলে এত সুন্দর লাগে আমি হা করে তাকিয়ে থাকি। যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে মেয়েদের চোখের পর কি সুন্দর নিঃসন্দেহে বলব ওদের হাসি।সবার হাসি যদিও সুন্দর তবে আমার মায়াবতীর হাসিটা আমাকে বার বার প্রেমে পড়তে বাধ্য ।ওর এলেমেলো দাঁতের হাসি আমাকে বাধ্য করে তাকিয়ে থাকতে।যদিও বেশি বেশি ভালবাসা দেখায়নি কখনো।কারন কেউ যখন বুঝে তুমি তার উপর এতটা দুর্বল যে তুমি তাকে ছাড়া চলতে পারবেনা তখন সে তোমার দুর্বলতার সুযোগ নিবে।তারপরেও আমি আমার মত করেই ভালবাসি আমার মায়াবতীকে। আমাদের ঝগড়াটা একটু অন্যরকম বেশি রেগে যাওয়া যাবেনা শর্ত আছে।কিন্তু মায়া মাঝে মাঝে এতটাই রাগে যে ঠোঁটটা থর থর করে কাঁপে।যাই হোক মহারানী আজকের রাগার কারনটা হল একটা ফোন কল।কি জানি কি ভাবোদয় হল আমার কলেজ লাইফের বান্ধবী নিশা হঠাৎ আননোন নাম্বার থেকে ফোন দিল। ফোনটা অবশ্য মায়াই প্রথমে তুলেছিল। পরে আমাকে দেয় মেয়ে কন্ঠ শুনে ফোনটা আমার হাতে দেওয়ার সময় চোখ কটমট করে তাকায়। আমি ভেবেছিলাম সামান্য একটু কথা বলেই রাখব তাই মায়াকে চা ও আনতে বলেছিলাম। কিন্তু নিশা এত্তসব কথা শুরু করল যে ভুলে গেলাম সব।হাসা হাসি কথা বলা বিভিন্ন ভাবে কথা শেষ করে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি একঘন্টা পঁচিশ মিনিট বত্রিশ সেকেন্ড। ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকালাম কারন মায়াকে চা আনতে বলেছিলাম কথা বলার ফাঁকে আমাকে অবশ্য কয়েকবার ডেকেছিল কিন্তু খেয়াল করিনি।ব্যালকুনিতে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম তো মায়ার রাগী মুখ কল্পনা করে পা টিপে টিপে রুমে আসলাম। ভেবেছি মায়া হয়ত রাগে চেঁচামেচি করবে।কিন্তু বউ তো দেখি একেবারে শান্ত হাতে একটা কাঁচি নিয়ে মনযোগ সহকারে কি যেন করছে।পাশে চায়ের কাপটাও খালি নিশ্চয়ই ও খেয়েছে। কিন্তু ও কি করছে কাঁচি নিয়ে।শান্ত দেখে আস্তে আস্তে ওর কাছে যেতেই বড় ধরনের শক খেলাম।কি করেছ এটা ওহ গড কিভাবে সম্ভব এটা।কি করেছে মেয়েটা।নিজে পছন্দ করে গতদিনই তিনটে টি শার্ট এনেছি সুন্দর করে তার উপর গোলক ত্রিভুজ চতুর্ভুজ একেছে। এটা কি হল মায়া।কি হল দেখতেই পারছ। কেন করলে এরকম।ইচ্ছে হল তাই করলাম।তারপরই শুরু হল ঝগড়া।যাই হোক পাগলীটাকে হারিয়ে দিয়েছি সারামুখে কালি লেপ্টে দিয়েছি। দৌড়ে পালিয়েছে।মেয়েটা যে ফাজিল কখন কি মনে চাইবে আবার কখন কি করবে কে জানে। . পরেরদিন সকালে..... -এই মায়া এই উঠো। -কি হল এত সকালে ডাকছ কেন হু। -এখন সকাল কয়টাবাজে খেয়াল আছে। -কতইবা বাজে ঘুমিয়ে পড়। -ঘুমিয়ে পড়ব মানে এখন ৮:৩৫ বাজে আমার অফিস ৯টায় নাস্তা কই? -ইশশ এই যা এই শোন না বলছি আজকে খেতে হবেনা। -মানে কি মায়া না খেয়ে কেমনে থাকব। -একটাই তো দিন বলছি তো টের পাইনি। -ধুর। -এত রাগ দেখানোর কি আছে সামান্য ব্যাপারে। -সামান্য ব্যাপার এটা তুমি জান না আমি বাইরে খাইনা। -খাও না আজকে খাবে। -পারব না উঠো কিছু একটা বানাও। -পারব না। -কেন? -চুপচাপ শুয়ে পড়ল। যদিও ভীষন রাগ হচ্ছিল তবুও না খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম।আমি জানি কাল বলেছিল প্রতিশোধ নিবে এজন্য ইচ্ছে করেই শুয়ে আছে।অবশ্য আম্মু নাস্তা বানিয়ে দিয়েছে কিন্তু বাসায় খাইনি অফিসে এসেই খেয়েছি লেট হচ্ছিল এমনিতেই। . সন্ধ্যায়.... -মায়া শুনছ? -বল। -এক কাপ চা দাও তো। -হাতে অনেক কাজ। -কি এমন কাজ শুনি? -সব কৈফিয়ত তোমাকে দিতে হবে কেন? -মানে কি মায়া তুমি এমন বিহেভ করছ কেন? -আমি ঠিকই আছি। -তো যাও চা নিয়ে এস। -পারব না। -মনে থাকে যেন। -হু। এমনভাবে চলতে থাকলে আমার গৃহত্যাগী হতে বেশিদিন লাগবেনা।না পারি জোরে ধমক দিতে না পারি কিছু করতে।কিইবা করব কিছু করতে গেলে আম্মু আব্বু আমাকে ছেড়ে দিবেনা।আদরের বউমা তাদের আমার অস্তিত্ব এখন নগন্য।বন্ধুরা ঠিকই বলতো বউ মানে প্যারা। . দুইদিন পর সন্ধ্যায়..... মায়া আলমারিতে কাপড় সাজাচ্ছে আর আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। ইদানিং প্রায়ই তাকায় আমার দিকে কারন এখন যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে চোখের ভাষা।নাহ সবার জন্য না শুধু আমার আর মায়ার জন্য। গত দুইদিন মায়ার সাথে আড়ি।মানে ওর সাথে কথা হয় না।ওকে কখনো জ্বালাইনা খাবার দিতে বলিনা এমনি নিজেই কথা বলা বন্ধ করেছি।ও অবশ্য বলার চেষ্টা করে কিন্তু আমি পাত্তা দেইনা।ভালই যাচ্ছিল কিন্তু আজ দেখি মায়াবতীর চোখ টলমল করছে। কারনটা হচ্ছে আমার শ্যালক এসেছে ওকে নিতে সকালেই বাপের বাড়ি যাবে।আমি খাটে বসে টিভি দেখছি আর গুনগুন করছি।হঠাৎ মায়া ছুটে এসে রিমোটটা নিয়ে টিভি অফ করে ছুড়ে ফেলল রিমোটটা।বোঝা যাচ্ছে বউ আমার বেশ রেগে আছে। -এই আমার দিকে তাকাও?(আমার কলার চেপে ধরে বলল মায়া) -কথা না বলে হাত দিয়ে ইশারা করে বললাম ছেড়ে দিতে। -আমি কি এতই খারাপ যে আমার সাথে কথা বলতে এত ঘৃনা লাগে তোমার। -এই ছাড় কি করছ।(মুখ খুললাম) -কি হয়েছে তোমার হু নীরবে থেকে কি প্রমান করতে চাইছ আমার আর কোন প্রয়োজন নেই তোমার জীবনে তাইতো।নতুন কেউ এসেছে বুঝি? -কি বল এসব। -কি বলি বোঝনা।ওরকম কিছু যদি ভেবে থাক, যদি ভেবে থাক আমাকে এ্যভোয়েড করে চলবে খুন করে ফেলব বলে দিলাম। -কি করলাম আমি? -ন্যাকামি কর তাই না,কি ভাব নিজেকে হু আমার সাথে কথা না বললে আমি কষ্ট পাব তাই তো মোটেও না কোন কষ্ট নেই আমার। সব মুছে যাবে কালই তো চলে যাব বাপের বাড়ি আর কখনও আসবনা জ্বালাতে।(পাগলী টা কেঁদে ফেলেছে) -ও বউ আমি তোমাকে ভালবাসি এরকম বলনা। -একদম বউ ডাকবেনা আমাকে। -কেন? -নিজেকে খুব মহাপুরুষ ভাব তাইনা। -উহু তুমি ছাড়া আমি অসম্পূর্ন। -যাই হোক তোমার নেকামো দেখার কোন ইচ্ছে নেই কাল চলে যাব ভুলেও যেন আমাকে আসতে না বলা হয়। -আমি স্যরি তো মায়া।(হাত ধরলাম ওর) -হাত ছাড়। -শোননা লক্ষীটি। -ছাড়তে বলেছি। -সত্যিই ছেড়ে দিব? -খুন করে ফেলব। -পাগলী একটা।(বুকে মাথা রাখল) -এত কষ্ট দাও কেন? -তুমি কষ্ট পাও বলে। -মজা দেখ তাইনা? -এ মা ছি ছি কি যে বল তুমি আমার লক্ষী বউ। -এই শোন না? -বল? -দুইদিন পর আমাকে আনতে যাবে কিন্তু। -না গেলে কি হবে? -খুন করে ফেলব। -আমার মায়াবতীর কি হবে তাহলে? -হারিয়ে যাবে। -পাগলী ভালবাসি। -ভালবাসি অনেক।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now