বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুত্ব ও প্রেমের

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X একই কলেজে একই শ্রেনীতে পড়ে নীলা আর রিফাত। দুজনের বাড়িও প্রায় পাশাপাশি। ভালো বন্ধু বলতে যা বোঝায় রিফাত আর নীলার সম্পর্ক ঠিক তাই। ৩ দিন হলো রিফাত কলেজে আসেনা। নীলার কাছে বিষয়টা অন্যরকম লাগছে। কারন,রিফাত সাধারনত এতোদিন কলেজে না আসা করে না। কলেজ থেকে ফেরার পথে রিফাতের বাড়িতে একবার খোঁজ করতে ভুল হয় না নীলার। প্রিয় বন্ধু বলে কথা। (নীলা)-আন্টি রিফাত কই? ৩ দিন হলো ওকে কলেজে দেখছি না যে! (রিফাতের আম্মা)-আর বলো না মা। ওর তিন দিন হলো ভীষন জ্বর। ছেলেটা বিছানা থেকেই ঠিক মতো উঠতে পারছে না। -ও আচ্ছা। কি করছে ও এখন? -সবেমাত্র ঘুমলো। -ও কে বলেন যে আমি এসে ছিলাম। এখন যাই আন্টি। ভালো থাকবেন। -সেকি! কিছু মুখে দিয়ে যাও। -না আন্টি আজ না। ফিরতে দেরি হলে বাড়িতে সবাই আবার চিন্তা করবে। -আচ্ছা মা। আবার এসো কিন্তু। -আচ্ছা আন্টি। আসসালামুআলাইকুম। ২ দিন পরে কলেজ ক্যাম্পাসে রিফাতের সাথে দেখা হয় নীলার। (নীলা)-হাই রিফাত,জ্বর সারছে তোমার? (রিফাত)-হ্যাঁ। -এই পাঁচ দিনে বেশ কাবু হয়ে গেছ দেখছি। -না মানে ভালো খেতে পারিনিতো তাই। -তোমার তো বেশ কটা ক্লাশ মিস হয়ে গেল এই পাঁচ দিনে। -হ্যাঁ। ওই বিষয়টা নিয়েই ভাবনায় আছি। -তুমি ইচ্ছে করলে আমার ক্লাস নোটস্ গুলো দেখতে পারো। -হুম। দেখা যেতে পারে। ধন্যবাদ। -স্বাগতম। কিছু দিন পর ইন্টারমিডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষা। আর একারনে কলেজ ছুটি। নীলা আর রিফাতের দেখা ক'দিন হলো বলতে গেলে হয়ই না। এখন শুধু পড়া আর পড়া। প্রথম পরীক্ষার শেষে আবারো দেখা রিফাত আর নীলার। (নীলা)-কেমন পরীক্ষা দিলা রিফাত? (রিফাত)-হ্যাঁ। ভালোই। তোমার.কেমন হলো? -হুম.. তোমার মতোই। -মানে?-ভালো। -ও..আচ্ছা। এভাবে একটা সময় পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। এরপর রেজাল্ট বের হয়। নীলা জি.পি.এ-৫ পায় কিন্তু রিফাত অল্পের জন্য জি.পি.এ-৫ পায় না। এজন্য রিফাত বেশ ভেঙ্গে পরে। নীলা রিফাতকে বোঝায়,সামান্য রেজাল্ট খারাপের চিন্তা ঝেরে ফেলে ভার্সিটি অ্যাডমিশনের জন্য ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিতে। এরপর বেশ কটা মাস কেটে যায়। নীলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় আর রিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রিফাত আর নীলার মাঝে দুরত্ব বাড়তে থাকে। যদিও নীলা মাঝে মাঝেই ফোনে রিফাতের খবর নিতো। হঠাৎ কোন এক গরমের ছুটিতে বাড়িতে রিফাত আর নীলার দেখা হয়। (নীলা)-রিফাত,কেমন আছো? আল্লাহ্..কত্তো দিন পর দেখা। (রিফাত)-আমি ভালো আছি। তোমার খবর বলো? -হুম..চলছে। তোমার মোবাইল বন্ধকেন? ফেসবুকেও তোমারে কত খুঁজলাম। কিন্ত ুকোথাও তোমাকে পেলাম না। -আসলে সিমটা পরিবর্তন করছি। আর আমার তো কোন ফেসবুক অ্যাকাউন্টই নাই। -ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নাই! বলো কি! এই যুগে তোমার মত একটা ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নাই! -আসলে আমি ফেসবুকের প্রতি আগ্রহী নই। -যা হোক..ক'দিন আছো বাড়িতে? -আছি দিন পাঁচেক...তুমি? -আমিও ওরকমই। তোমার নতুন নম্বরটা দাও তো। -হুম..018******** -চলো কলেজের দিকে একবার যাওয়া যাক। অনেক দিন হলো ও দিকটায় যাওয়া হয় না। -আমার একটু কাজ ছিলো। স্যরি...যেতেপারবো না এখন। বাই। -ওকে..বাই। নীলা ঠিক আগের মতই আছে। ঠিক আগের মতই রিফাতকে কেয়ার করে। কিন্তু রিফাত কেমন যেন বদলে গেছে। আগেও নীলার কেয়ার করতো না আর এখনতো আরো করে না। আজ রিফাতের জন্মদিন। জন্মদিনের পার্টিতে কত্তো লোকজন,কত্তো বন্ধু- বান্ধব। কিন্তু নীলা এদের মাঝে নাই। রিফাত ভুলেই গেছে নীলার কথা। পরের দিন রিফাতের নামে একটা পার্সেল আসে। হুম... নীলার পাঠানো পার্সেল। পার্সেলটা নীল রংয়ের কাগজে মোড়ানো। নীল কাগজটাতে বড় করে লেখা 'শুভ জন্মদিন রিফাত'। কাগজটা ছেঁড়ার পর একটা ডায়েরী বেরিয়ে আসে। বেশ পুরতন মনে হচ্ছে ডায়েরীটা। ডায়েরীর লেখাটাও নীলার হাতের। রিফাত কৌতূহলের সাথে ডায়েরীর প্রথম পাতা পড়তে শুরু করে:০৭-০৫-২০১০ "আজ কলেজের প্রথম দিন। অনেক নতুন মুখ। অনেকের সাথেই পরিচিত হলাম। কিন্তু এদের মাঝে একজন ছিলো আলাদা। ছেলেটার নাম রিফাত। আমাদের মহল্লাতেই বাড়ি। ভদ্র-শান্ত একটা ছেলে। যেদিন ওকে প্রথম দেখেছিলাম সেদিনই কেমন যেন একধরনের ভালোলাগা কাজ করেছিলো। আজ যখন ওর সাথে কথা বললাম কেন জানিনা ওর প্রতি আমার ভালোলাগার পরিমানটা বেড়ে গেল। কত্তোসুন্দর করে কথা বলে ছেলেটা! তারলাজুক হাসিটাও অনেক সুন্দর।" রিফাত যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছে। ডায়রীর প্রথম পাতাটা পড়েই রিফাতের কৌতূহল আরো যোজনযোজনগুন রেড়ে যায়। এবার ডায়রীর মাঝের একটা পাতা খুলে পড়তে শুরু করে:১২-০৭-২০১০ "রিফাতের কাছে গেলেই কেমন জানি গুলিয়ে যাই। ওকে এই ক'টা দিনেই খুব ভালোবেসেফেলছি। অনেকবার বলতে গিয়েও পিছিয়ে এসেছি। যদি আমাকে ও প্রত্যাখান করে তবেতো আমি মরেই যাবো। আচ্ছা ও কি বুঝতে পারে যে,আমিওকে ভালোবাসি?" রিফাত এবার ঘামতে শুরু করেছে এই হাড় কাঁপানো ঠান্ডাতেও। খুব খারাপ লাগছে তার। বারবার নীলার সাথে কাটানো অতীত স্মৃতি গুলো মনের কোনায় উঁকি দিচ্ছে। এবার ডায়েরী ফেলে নীলার নাম্বারে ফোন দেয় রিফাত। (রিফাত)-হ্যালো,নীলা। হ্যালো...। (নীলা)-হু। -তুমি কই? এক্ষুনি আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই। অনেক কথা আছে তোমার সাথে। -আমি তো বাড়িতে। -আচ্ছা তুমি ঐখানেই থাকো আমি ঢাকা থেকে আসতেছি। কলেজ মাঠের সবুজ ঘাসের চাদরের ওপর মুখোমুখি বসা রিফাত আর নীলা যেখানে তারা একসাথে পড়েছে। দুজনেই চুপচুপ। কেউ কিছু বলছে না। শুধু মাঝে মাঝে চোখে চোখেচোখাচোখি হচ্ছে। (রিফাত)-তুমি অনেক আগেই তো বলেদিতে পারতে তোমার ভালোলাগার কথা? (নীলা)-ভয় হতো তুমি যদি ফিরিয়েদাও। -এখনো কি ভয় করছে? -হুম। -কেন? -তুমি তো এখনো বললে না তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না? -ও..তাই তো। আচ্ছা আমার চোখেরদিকে তাকাও। -পারবো না। -আচ্ছা ঠিক আছে। আমার চোখের দিকে তাকাতে সমস্যা থাকলে তাকানোর দরকার নাই কিন্তু আশা করি আমাকে বিয়ে করতে তোমার কোন সমস্যা নাই। (রিফাতের কথাটা শুনে নীলার চোখে জল এসে যায়। নীলার এই চোখের জলে মিশে আছে অনেকদিন পুসে রাখা রিফাতের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোলাগা,ভালোবাসা।)। এভাবে তাদের দুইজনের ভালোবাসা চলতে থাকলো।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now