বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বন্ধুদের ফোন পেয়ে সন্ধ্যায় বেড়িয়ে পরলাম পূজা মন্ডপে। চারদিকে হেলোজেনের আলোয় সুন্দরী মেয়েদের আনাগোনা। সাথে রং-বেরংয়ের লাইটিং। উচ্চ সাউন্ড, ধূপের ধোয়া, উলু ধ্বনি সবমিলিয়ে অন্যরকম একটা ফিলিংস।
ঘুরতেছি আর অবাক হচ্ছি। সব মেয়ে গুলো এমন সুন্দর হয়ে গেল কেমনে ? যারে দেখি তারেই ভাল লাগে।
আমি টেনশনে পরে গেলাম। এক বছরে সব হিন্দু মেয়েরা এত সুন্দর হয়ে গেল কিভাবে ?
নিশ্চয় একটা রহস্য আছে।
আমি রহস্যের সমাধান বের করতে চিন্তামগ্ন এমন সময় আমার এক বন্ধু বলল--এই সবই কৃত্রিম সৌন্দর্য। মোম পার্লিশ করা।
মোম পার্লিশ আবার কি ? আর কৃত্রিম সৌন্দর্য কি ?
এসব কথার পেচ আমার মাথায় ঢুকবে না।
থাক এতসব জানার দরকার নেই। সুন্দরী দেখতেছি ভাল লাগতেছে এতেই খুশি।
কে কিভাবে সুন্দর হলো জানার দরকার নাই।
হঠাৎ আরেক বন্ধুর বাবা হাজির। উনিও মনে হয় আমাদের মতই।
মুখে হাসি টেনে বলল--আর কত ঘুরছ ? সব জায়গায় তো একই ঠাকুর।
আমার বন্ধুও ছাড়ার পাত্র না--কি যে বল না বাবা। সব জায়গায় তো প্রতিমা একই। কিন্তু জীবন্ত প্রতিমাগুলো তো বিভিন্ন মন্ডপে, ভিন্ন ভিন্ন সাজে , ভিন্ন ভিন্ন পোষাকে আবির্ভুত হয়। তাদের একজনের আশীর্বাদ না পেয়ে বাড়ি যাব না।
বন্ধুর বাবা একেবারে হা করে আছে।
আমরা এই সুযোগে কেটে পরলাম।
প্রতি মন্ডপেই একটা ভুল করি। মেয়েদের সারিতে ঢুকে পরি। আনসার বাহিনীর কথায় আবার লাইনে।
এইবার একটা অন্যরকম কাজ হল। কারণ মেয়েদের সারিটা অনেক দূরে। মাঝখানে বিশাল জায়গা বাঁশ দিয়ে বাধানো।
হঠাৎ একটা মেয়ের দিকে চোখ পড়ল। মেয়েটাও আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
এবার আমার ভিতরে কৃত্রিম একটা ভাব চলে আসলো। নিজের অজান্তেই হাত চলে গেল মাথার চুল ঠিক করতে। শার্ট টা একটু টান টান করে দাড়ালাম।
দেখি আবার তাকাই কিনা।
আরে হ্যা এইতো তাকালো আবার। মেয়েটার সামনের লোকগুলো সরে যাওয়াতে সম্পূর্ণ ভাবে মেয়েটাকে দেখলাম।
ব্যাকগ্রাউন্ডে গান চলতেছে ”এক পারডেসি মেরা দিল লেগায়ি” (ডি জে ভার্সন)
এবার মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। চেহারাটা একদম বাংলা নায়িকা নিপুণের মত। একেবারে মাস্টার কপি। নিপুণ মারা গেলে ওরে দিয়া স্যুটিং চালানো যাবে।
একটা কালো জামা পরা। জামাটা আমার পরিচিত। এই ঈদে আমার ভাবী কিনছিল।
লাস্ট মনে হয় আমার মেমের পড়নে দেখেছি। তবে ভাবী আর মেমেরটা লাল রঙের ছিল।
যাই হোক সব মিলিয়ে মেয়েটাকে খুবই সুন্দর লাগতেছে। চোখের এক্সপ্রেসন গুলো আমাকে একেবারেই পাগল করে তুলতেছে।
একবার আমার দিকে, একবার মন্ডপের দিকে। চোখ ফেরানোর ভঙ্গিমাটা অস্থির।
ঠিক তখন বন্ধুদের আবদার--এক মন্ডপে এত সময় দেয়া যাবে নাহ।
আমি পরিষ্কার ভাষায় বলে দিলাম--তোমরা আসতে পারো। আমার আশীর্বাদ এখান থেকেই নিব।
বন্ধুরা সবাই চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মেয়েটাকে ইশারা দিলাম। মোবাইলের ব্রাইটনেস বাড়িয়ে স্ক্রীনটা ওর দিকে ঘুরিয়ে ইশারা দিলাম।
কাজ হবে মনে হচ্ছে। আমি সোজা প্যান্ডেল ছেড়ে গেইটের আড়ালে চলে আসলাম।
অল্পসময় পর সেও চলে আসল।
আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। কি বলে যে শুরু করব বুঝতেছি নাহ।
চট করে মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো। ওর জামার দামটা আমার জানা। জামা দিয়েই শুরু করি। আর পারফিউমটাও পরিচিত এটাও আলাপে আনা যায়।
যাক প্রথমে জামা নিয়ে আলাপ করতেছি। আলাপ যখন আর সামনে এগুচ্ছে না, তখন পারফিউম নিয়ে শুরু করলাম।
আসতে আসতে পড়াশুনা, বাড়ি ঘর, বন্ধু বান্ধব, পূজা নিয়ে আলাপ করতেছি।
হাটতে হাটতে অনেকদূর চলে আসছি। এইবার মূল কথা বলার পালা।
হঠাৎ একটা বাজ পড়ার শব্দ। সাথে সাথে ঝুম বৃষ্টি। আমার সাথের টাকা আর ফোনটা বাঁচানোর জন্য পাশেই পরে থাকা একটা পলিথিন নিলাম।
পলিথিনে মোবাইল আর টাকা রেখে ওর কাছ থেকে ওর জিনিস গুলো চাইতে গিয়ে চেহারায় নজর পড়ল।
আমার মাথায় মনে হয় বাজ পড়ল। ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসতেছে।
আমার সামনে সনি আটে দেখা আহটের মৃত আত্মা দাড়িয়ে আছে। সুন্দরীর চেহারা ডাইনীর চেহারা হয়ে গেছে।
আমার মাথা ঝিম ঝিম করতেছে।
এবার প্রাণপণে একটা চিৎকার দেয়ার পালা। আমার দেহে যত শক্তি আছে সব ব্যয় করে একটা চিৎকার দিলাম।
সাথে সাথে আমার বন্ধুরা চলে আসলো। মেয়েটা ওদেরকে দেখেই ভয়ে দৌড়।
আমি বললাম--দোস্ত আলিফ লাইলার ছোফানিসফা ভূতের চেহারা। তোরা না থাকলে আমার রক্ত খাইতো।
--দূর বোকা। ওটা ভূত ছিল না। মানুষই ছিল। তবে ধোকাবাজ। চেহারায় মেকাপ করে সুন্দর সাজছিল। বৃষ্টির পানিতে মেকাপ খসে গেছে। এটাই মোম পার্লিশ।
--মানে -কি বলিস? এইতো জলজ্যান্ত ডাকাতি।
--আমাদের ছাড়া প্রেম করতে আসছিলা। আমরা ঠিকই তোমার পিছনে ছিলাম।
--ধন্যবাদ দোস্ত।
--কি শিখলি? আজ(বন্ধুরা)
আমি সব ভয় ঝেড়ে ফেলে বললাম--শিক্ষা হল-সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজব না।
--ওয়াট ?
--ইয়েস-
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now