বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★★★★★★★★★★★★
আমি প্রতিদিন মিষ্টি কে দেখার জন্য ওদের বাসার সামনে পায়চারি করতাম।প্রতিদিন বিকেলে ও ঠিক একই সময়ে বারান্দায় এসে বসে থাকতো।
আমি ওর দিকে আড়চোখে তাকাতাম মাঝে মাঝে।ও ভীষণ লজ্জা পেলেও ওর এক্সপেরেশন দেখে মনে হতো ও হয়তো আমার এই চেয়ে থাকার মাঝে অনাবিল সুখের অনুভুতি খুঁজে পেতো।
এভাবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস কেটে যেতে লাগলো।
প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে।ওর প্রতি আমার ভালোলাগাটা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।কি কিউট ই না দেখতে মেয়েটা।লক্ষী বউ করে সো কেস এ সাজিয়ে রাখতে ইচ্ছে করছে।
ওর চোখ গুলি এত্তো নাইস লাগতো যে মাঝে মাঝে চোখ ফিরিয়ে নিতেও কষ্ট হতো।
সে দিন শুক্রবার ছিলো।
মিষ্টি একটা আকাশী কালার লেহেঙ্গা পরে কোচিং থেকে ফিরছিলো।
সাথে ওর দু জন মেয়ে বন্ধু ছিলো।শুনতে পেরেছিলাম অনেক ছেলেই নাকি ওর প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করে দিয়েছিলো।অনেকে প্রস্তাব দিয়েও নাকি প্রতাক্ষান।
তাই কয়েক দিন থেকে আমার ভীষণ ভয় হচ্ছিলো।না জানি মিষ্টি অন্ন কারো হয়ে যায়।
তাই ওকে সব কিছু খুলে বলার মতো মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম।ওদের সামনে গিয়ে দাড়াতেই মিষ্টি আমাকে সালাম দিলো।বাকিরাও কুশল বিনিময় করতে শুরু করলো।
ওরা আমাকে খুব বেশীই রিস্পেক্ট করতো।তাই এমন একটা প্রস্তাব দিতে গিয়ে আমার শরীর কাঁপতে শুরু করলো।
টুপুর আমাকে বললো,
ও ভাইয়া কি হইছে আপনার?
এমন লাগছে কেন?
মিষ্টি মাথা নিচু করে থাকলেও,
অও অন্ন বন্দুরা টুপুরের কথা নিয়ে আরো প্রশ্ন করতে শুরু করলো।
অবশেষ এ আমরা সবাই টুপুরের বাসায় উঠে পড়লাম।টুপুর মেয়েটা খুব বেশীই দুষ্ট ছিলো।
কোনো কথাই ওর মুখে আটকাইতো না।যা মুখে আসতো তাই বলে দিতো সবার সামনে।
আমরা সবাই মিলে গল্প করছিলাম।জানালা খোলা থাকায় বাহির থেকে ময়লার গন্ধ আসছিলো।
কি বিচ্ছিরি গন্ধ রে বাবা।
আমি টুপুর কে জানালা বন্ধ করে দিতে বললে ও বললো ওতে কোনো লাভ হবেনা ভাইয়া।
গন্ধ কিন্তু ভিতর থেকে ছড়াচ্ছে।
মিস্টির মনে হয় পেট খারাপ করছে।অই মিষ্টি যা টয়লেটে গিয়ে পেট পরিস্কার করে আয়।
এত্তো বড় হয়েছিস পরিবেশ পরিস্থিতি কিচ্ছু বুঝিস না।
মিষ্টি লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকলো।
এমনিতেই খুব বেশী লাজুক টাইপের মেয়ে ও।
অনেক বার চেস্টা করেও ওকে সেদিন মনের কথা গুলি খুলে বলতে পারিনি।
মনে মনে চিন্তা ভাবনা করেছি,
আজ ওর বাসায় গিয়ে ওকে সব কিছু খুলে বলবো।
যথা সময়ে ওর বাসায় এসে পড়লাম।ওর বাবা মা অফিসে চলে গেছে।বাসায় আর কেউ নেই।তাই নিজেকে খুব happy মনে হচ্ছিলো আমার।কখনো কল্পনাতেও ভাবিনি যে,
মিষ্টিকে কখনো এমনভাবে পাবো।
মিষ্টি আমি একটা মেয়েকে নীরবে ভালোবেসে ফেলেছি।
ওকে হারিয়ে ফেলার ভয়টা আমাকে সব সময় তাড়িয়ে বেরাচ্ছে।কারন ও এখনো কিছুই জানেনা।ওর জন্য হৃদয় টা সব সময় প্রকম্পিত হতে থাকে।
ওকে পাওয়ার জন্য আমি প্রায় উন্মাদ হয়ে গেছি।আজ সেই মেয়েটার সামনেই দাড়িয়ে আছি।
তার চোখে চোখ রেখে কথা বলছি।
ও আমার মুখে আলতো করে হাত দিয়ে চেপে ধরলো।
চুপ করেন ভাইয়া।
কি বলছেন এ সব!
আমার বাবা মা জানতে পাড়লে আমাকে আস্ত রাখবেন না।
আমাদের পারিবারিক নিয়ম কানুন অনেক কঠিন।
আর পরের মাসে আব্বুর চাকুরী ট্রান্সফার হবে ঢাকা থেকে রাজশাহী। এই সব বাদ দিন ভাইয়া।আপনার আচার আচরনে আমি বুঝতে পেড়েছিলাম অনেক আগেই।অনেক বার চেষ্টা করেছিলাম আপনাকে বোঝানোর জন্য।
কিন্তু কখনই শাহস হয়নি ভাইয়া।
আপনি ভালোকরেই জানেন আপনাকে আমি ভীষণ ভয় পাই।
ও আমার মাথার চুল গুলো আলতো করে নারছে আর বলছে কষ্ট পাবেন না ভাইয়া।
আমার চেয়ে অনেক কিউট মেয়ে আপনার বউ হবে দেইখেন।
আমি ওর হাত দুটি শক্ত করে চেপে ধরে বললাম তাহলে এভাবে কাঁদছো কেনো তুমি!
তোমার অশ্রুতে যে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে আমার হাত দুটি।ওর কান্না ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।ভাঙা ভাঙা গলায় কথা বলছে।আপনাকে এভাবে না করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে লক্ষী ভাইয়া।
আমি নীজের কষ্ট গুলি আড়াল করে ওর চোখ মুছে দিতে দিতে ওকে শান্তনা দিচ্ছিলাম।
তোমার বুঝি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তাইনা!
ও আলতো করে মাথা নারলো।
আমি ওকে আশিরবাদ করে রাস্তায় নেমে পরলাম।
জানিনা কি হবে আমার,
কোথায় যাবো আমি।
আজ মনে হচ্ছে জগতের সবচেয়ে অসহায় অবহেলিত প্রাণী আমি।
আমার প্রিয়তমা মিষ্টি, কেনো আমার হলেনা তুমি?
আমার যে বেচে থাকতে খুব বেশীই কষ্ট হবে তুমিহীনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now