বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"একটি মেয়ের স্বপ্নের মৃত্যু"
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
.............................................
✒ ShahRiyar Sajeeb(নীল টি-শার্ট)
_________________________________
আমি একটা মেয়ে কে চিনি, যার ভাবনা জুড়ে ছিল হাজারটা স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার স্বপ্ন গুলো দুঃস্বপ্ন হয়ে গেছে। এখন তার কাছে আছে শুধু এক ঝুড়ি চিন্তা। কতোদিন আর বাবা-মায়ের কাছে বোঝা হয়ে থাকবে। যদিও বাবা-মায়ের কাছে কোন সন্তানই বোঝা না। তারপরও তার মাথার মধ্যে এই একটা কথাই সবসময় ঘুরপাক খায়।
.
মেয়েটির নাম ছিল মেঘলা। রাজশাহীর ছোট্ট একটা গ্রামে থাকতো মেয়েটি। বাবা-মা, ভাই-ভাবি আর একটা বড় বোন ছিল তার। বড় বোনটার বিয়ে হয়ে যায় আগেই। মনের মধ্যে হাজার টা স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠছিল সে। গত বছর ইন্টার পাস করে মেঘলা।
.
ইন্টার পাস করে সবেমাত্র অনার্সে এডমিট হয়েছে। ভালোই কাটছিল দিন গুলি। কিন্তু হঠাৎ করেই তার আনন্দে ভাটা পড়ে গেল। কারন তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। বিয়ে নিয়ে তারও কম স্বপ্ন ছিল না। সে স্বপ্ন দেখতো তার জীবনে এমন কেউ আসবে যে তার ছোট ছোট স্বপ্ন গুলো কে পুরন করবে। আর তাকে অনেকটা ভালোবাসবে।
.
কিন্তু তার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। তার বাবা তার জন্য একটা ৪৫ বছর বয়সী পাত্র ঠিক করেছে। শুধুমাত্র টাকা আছে সেজন্য। মেঘলার পছন্দ হয়নি পাত্রকে। সে এই কথা তার মাকে বলে দিল। কিন্তু তার মা তাকে বোঝালো যে ছেলের বয়স বেশি হলেও সে তোকে বুঝবে। মেঘলার তবুও মত ছিল না বিয়েতে কিন্তু কি করবে, তার যে কিছু করার নেই। তাই মেনে নিল আর ভাবলো বাবা-মাতো সন্তানের ভালো চাই আমারও নিশ্চয়ই ভালোই হবে। এই বলে বিয়ে তে রাজি হয়ে গেল।
.
বিয়ে হয়ে গেল। পরের দিন মেঘলার জন্য কি অপেক্ষা করছিল তা সে ভাবতেও পারেনি। তার শ্বশুর বাড়ির মানুষ এখনো কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। সেজন্য কিছু নিয়মের কারনে তাকে অনেক কথা শুনতে হলো। সে কিছুই বলতে পারলো না। সে ভেবেছিল হয়তো তার স্বামী তাকে বুঝবে।
.
তাই সে তার স্বামী কে বললো, দেখেন আমি তো সবেমাত্র এসেছি আস্তে আস্তে মানিয়ে নিবো। কিন্তু কে শুনে কার কথা প্রতি রাত্রে তার উপর চলতো তান্ডব। (আমাকে সে এভাবেই বলেছিল, একটা কথা জানেন কি.. বিয়ের আগে ধর্ষণ করলে হয় নাযায়েজ আর বিয়ের পর ধর্ষণ করলে হয় যায়েজ। একটা মেয়ে কতোটা কষ্ট পেলে এভাবে বলতে পারে ভাবছেন একবার)
.
এসব সইতে না পেরে সে বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু তার বাবা-মা আবার বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেয়। আবার সে কষ্ট করে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে কিন্তু একটা কথা কি জানেন শরীরের কষ্ট সহ্য করা যায় কিন্তু মানসিক কষ্ট সহ্য করা যায় না। তাই সে আবার চলে আসে বাবার কাছে।
.
বাবার তার মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারে। তাই মেয়ের ডিভোর্স করিয়ে নিজের কাছে রেখেছে। কিন্তু এখানে কি সে ভালো আছে। না নেই, কারন প্রতিনিয়ত তার মায়ের কথা শুনতে হয়। কি করবে তার যে কিছু করার নেই।
.
আমি জানতাম মায়েদের মন হয় দয়াশীল। যেখানে কোন মেয়েই বোঝা হয় না, কখনোই না। কিন্তু এ কেমন মা, তার মনটাই বা কি দিয়ে তৈরী...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now