বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খাট থেকে নেমে এক পা দুই পা করে সামনে থাকা জানালার দিকে এগিয়ে যায় রুপা। ও জানে ওর সামনে কোনো বাধা বিপত্তি নেই। তাই নিশ্চিন্তে আনমনে ধীরে ধীরে গিয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়ায় ও।
জানালা দিয়ে হালকা ঠান্ডা বাতাস আসছে রুমের ভেতর। বাতাস গুলো যেন সাইসাই শব্দে রুমের ভেতর ঢুকে আবার রুমের চারদিকে ঘুরে বেড়িয়ে আবার কোনো এক ফাক - ফোকর দিয়ে হয়তো চলে যায়।
.
এসব কিছুই ও ওর মনের পরশ দিয়ে অনুভব করতে পারে। সপ্ন বা কল্পনার জগতে ডুব দিয়ে দেখতে পারে চারদিকে কি হচ্ছে! কি আছে ওর চারপাশে! যখন সপ্নে গিয়ে এসব কিছু ও দেখতে পায় তখন হটাৎ করে ঘুম থেকে জেগে আঁতকে উঠে রুপা। ও ভাবে আমিও যদি এখন আগের মতো এসব কিছু আবার দেখতে পেতাম তাহলে আমার জীবন আবার নতুন করে রঙিন হয়ে যেতো। কিন্তু আমার জীবনটাই তো এখন অন্ধকারে পরিপূর্ণ।
.
নিজের অজান্তে নিজের মাথাটা জানালার এক লোহার মাঝে লাগে তখন ওর এই ঘোরটা ভেঙে যায়, তখন মনে মনে রুপা ভাবে এভাবে একলা রুমে বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না। এবার একটু ছাদে থেকে ঘুরে আসি। রুমে বসে থাকতে থাকতে প্রায় বাইরের দুনিয়াটাকে ভুলেই গেলাম।
.
একা তো যেতে পারবো না ছাদে তাই বাবাকে ডাক দিতে হবে। বাবাকে ডাকাটাই এখন উচিত হবে। রুপার বাবা তখন বাইরে এক ইজি চেয়ারে বসে আজকের খবরের কাগজ পড়ছিল আর তখনই তিনি তার একমাত্র মেয়ের ডাক শুনতে পায়।
.
- বাবা, ও বাবা।
- হ্যাঁ রে মা আসছি,
- একটু তাড়াতাড়ি আসো না প্লিজ।
- এইতো আসছি, বল এবার।
- ছাদে যাব, ছাদে নিয়ে যাও।
- পাগলী মেয়ে, এখন কেউ ছাদে যায়? এখনো তো রোদের তেজ কমেনি।
- তবুও যাব নিয়ে যাও।
- আচ্ছা বাবা আচ্ছা, ঠিক আছে চল।
- চলো।
.
তারপর রুপা আস্তে করে বাবার হাতটা ধরে। আর ধীরে ধীরে সিড়ির দিকে এগুতে থাকে। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরেই সবাই হাটতে শিখে এটা সবাই জানে। কেউ কেউ আবার মার হাত ধরেই হাটতে শিখে কিন্তু সবাই বাবার গুরত্বকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
.
তেমনি রুপাও ছোটবেলায় ওর বাবার হাত ধরেই হাটতে শিখে। কিন্তু এখনো রুপা সেই বাবার হাত ধরেই হাটে।
সবাই বলে, মেয়েরা সব বাবার কাছেই সবসময় আদরে থাকে, পাগলীর মতো। তাই তাঁরাও বাবার ভক্ত হয়। বাবাই তাদের সবসময় সাপোর্ট করে। সেইজন্য মেয়েরা বাবাকেই সবচেয়ে বেশী ভালবাসে।
.
তেমনই গল্পের রুপাও ওর বাবাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসে।
সিড়ির প্রথম ধাপে পা রাখার পরই বুকটা ধক করে উঠে রুপার। যদি পরে যাই সিড়ি থেকে তাহলে আমার কি হবে?
তাই বাবাকে আরও শক্ত করে হাতটা ধরতে বলে রুপা।
.
তারপর বুকভরা বিশ্বাস নিয়ে ছাদে উঠার জন্য পা বাড়িয়ে দেয় সামনের দিকে।
ধীরে ধীরে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে রুপা ওর বাবার সাহায্য নিয়ে।
ছাদে গিয়ে ছাদের দক্ষিণ পাশে গিয়ে দাড়াতেই এক শীতল উষ্ণ বাতাস এসে ধাক্কা দেয় ওর দেহে। খুশিতে লাফিয়ে উঠতে ইচ্ছে করে রুপার। কিন্তু তেমন মনের অবস্থা ওর নেই।
.
রুপা ছাদে দাড়িয়ে সামনের কিছু না দেখতে পেলেও নিজের মনের কল্পনায় ছবি আঁকতে থাকে। মনের ক্ষুদ্র পবিত্র ডাইরিতে লিখতে থাকে চারপাশের জীবন নিয়ে ছোট্ট এক গল্প। যে গল্পের নাম ও নিজেও জানে না। হয়তো কোনো দিন ও সে গল্পের নামই খুজে পাবে না। শুধু সারাজীবন ভরে সেই অফুরন্ত ভাবে লিখেই যাবে সেই ছোট্ট ডাইরিতে চারপাশের সব কিছু।
.
ছাদে দাড়িয়ে মনের কল্পনায় ছবি আঁকতে আঁকতে হটাৎ এক কথায় ঘোর কাটে ওর,
- আর কত সময় থাকবি রে মা এখানে?
- আর একটু থাকবো বাবা। খুব ভালো লাগছে।
- তাহলে চেয়ার আনি নিচে থেকে?
- তার দরকার নাই। এখানেই কোথাও বসবো। একটু ধরে বসিয়ে দাও তো।
- আচ্ছা বস এখানে।
.
ছাদের এক কোণে বসে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে রুপা। কিন্তু কিচ্ছু দেখতে পায় না ও। মায়া ভরা সুন্দর আখিঁ দুটি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ওই নীল আকাশের বুকের দিকে। কত কিছু চলে যায়, পাখি, প্লেন, সাদাকালো মেঘ। কিন্তু রুপার সামনে আলো নেই আছে শুধু অন্ধকার যুক্ত এক পাহাড় সমান কষ্ট।
.
- বাবা !
- বল,
- আমার সামনে কি আছে?
- সামনে কিছুই নেই রে মা, শুধু সাদা আকাশ আর তার নিচে কতগুলো বাড়ি আর আমার পাশে আছে আমার পরীর মতো দুষ্টু মেয়েটা।
- বাবা, আমি আবার দুষ্টু হলাম কখন? আমি তো এখন দুষ্টামি করি না।
- হ্যাঁ, এখন দুষ্টামি করস না, এখন তুই আমার মিষ্টি মেয়ে।
- বাবা আমি যখন চোখে দেখতে পেতাম তখন তোমাদের খুব বিরক্ত করতাম তাই না বাবা?
- এমন কথা আর বলিস না রে মা। বুকটা ছিঁড়ে যায় কষ্টে।
বাবার কাছে সন্তানের কিছুই বিরক্ত লাগে না রে মা। তোর ওই জ্বালাতনের মাঝেই তো আমরা আমাদের সুখ খুজে নেই। তোর জ্বালাতন গুলো এখন খুব মিস করি রে মা। আবার যদি এভাবে সারাদিন আমাকে বিরক্ত করতি তাহলে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হতো না। সৃষ্টিকর্তা কেন এমন করলো রে মা?
.
এই বলে রুপার বাবা রুপার পাশে বসে কান্না করতে থাকে। বাবার কান্না ও ওর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পায় না। কিন্তু শুনতে পায় সেই বাবার অশ্রু সিক্ত মর্মাহত কান্না। বাবার কান্নার আওয়াজ শুনে চোখ দিয়ে টপটপ জল পড়তে থাকে রুপার।
ভেজা গলায় আস্তে করে বলে শুধু ( বাবা আর কেঁদো না)
.
রুপা ধীরে ধীরে ওর হাতটা নিয়ে যায় বাবার বুকের কাছে। তারপর ধীরে ধীরে বাবার বুক বেয়ে হাত নিয়ে চোখের কাছে নেয় তারপর বাবার চোখের জল মুছিয়ে দেয়। তারপর রুপা সেই ছোটবেলার রুপার মতো বাবার কোলে মাথা রাখে।
.
মেয়ের এ কান্ড দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারে না তিনি। একমাত্র মেয়েকে বুকে জড়িয়ে অশ্রু সিক্ত গভীর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
রুপা বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে রাখে। তবুও একটুও কাদে না আর রুপা। কারণটা ও জানে, কেদেও আর লাভ হবে না। এ চোখ আর কোনো দিন ঠিক হবে না।
.
রুপাও একজনকে ভালোবাসতো। কিন্তু আজ পরিস্থিতির সাথে সাথে সেও দূরে চলে গেছে। এখন আপন বলতে আছে শুধু বাবা। মা তো সেই ছোটবেলায় ওকে একা রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছে।
.
এখন বাবাকে আঁকড়ে ধরেই রুপা বেচেঁ আছে। কিন্তু বাবা যে প্রতিদিন রুপার জন্য কাদে এ কান্না একদম সয্য হয় না রুপার।
.
এখন বলবো রুপার এমন হলো কি করে!!
.
কয়েক বছর আগে
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবার চুল ধরে টানাটানি করাই হলো ওর কাজ।
তাই নিত্য দিনের মতো আজকেও সবার আগে ঘুম থেকে উঠে চুপিচুপি বাবার ঘরের দিকে পা বাড়ায় রুপা।
বাবার কাছে এসে বাবার চুল ধরে কয়েকটি টান দিল কিন্তু কাজ হলো না, শেষে কানের কাছে গিয়ে জোরে এক চিটি দিল, ওমনি ধরফর করে বাবা উঠে গেল।
.
- রুপা, তোর সকালে আর কাজ নাই?
- আছে তো, এইযে তোমাকে ঘুম থেকে জাগানো।
- এভাবে কেউ ঘুম থেকে জাগায়?
- কেউ না জাগালে আমি জাগাই।
- পাগলী কোথাকার।
- বাবা ভালো হবে না কিন্তু! আমাকে পাগলী বলবে না। আমি মিষ্টি মেয়ে।
- আচ্ছা ঠিক আছে, ফ্রেস হয়ে আয় যা।
- কাল আমাকে খাইয়ে দাওনি। আজ কিন্তু দিতে হবে।
- ঠিক আছে।
.
দৌড়ে ফ্রেস হতে যায় রুপা। বাবাসহ বাড়ির সবগুলো কাজের লোককে সবসময় মাতিয়ে রাখে রুপা।
ঘুমানোর সময় রাতে দরজা লক করে না রুপার বাবা। কারণ তিনি জানে, সকালে এসে মেয়ে বিরক্ত করবে আর যদি না পারে তাইলে সারা বাড়ি মাথায় তুলবে রাগারাগি করে। আর ওনিও চান মেয়েকে খুশি রাখতে ওর সঙ্গ দিয়ে ওর সঙ্গী হতে।
তাই মেয়ে যা চায় তাই দেয় সবসময়। আর সব ভুল, মেয়েরটা ঠিক।
.
নাস্তা করে অফিস চলে যায় রুপার বাবা আর রুপা গাড়ি নিয়ে কলেজে চলে যায়। রুপাও হলো কলেজে টপ ১০টা সুন্দরীর মাঝে একজন। তাই অনেক ছেলেই ওর পিছনে ঘুরঘুর করতো। কিন্তু ও কাউকে পাত্তা দিতো না। কারণ ও জানে, ওর বাবা এসব পছন্দ করে না। আর ও বাবার কথাকেই প্রাধান্য দেয় বেশী।
.
কিন্তু এমন প্রাধান্য আর বেশী দিন রইলো না। একদিন এক সুশ্রীল স্মার্ট ছেলের প্রপোজ পেয়ে তারটা এক্সেপ্ট করে নেয় রুপা।
ছেলেটাকে দেখার পর রুপাও ছেলেটার প্রেমে পরে যায়।
তাই ছেলেটার প্রপোজ এক্সেপ্ট করতে কোনো দ্বিধা বোধ করেনি রুপা।
.
কয়েক দিন ছেলেটার হাত ধরে চলে খুব বেশী ভালবেসে ফেলে রুপা সেই ছেলেকে। বাবার চোখকে ফাকি দিয়ে প্রেম করতে থাকে রুপা। রুপা ছেলেটাকে সত্যিই খুব ভালোবাসতো।
.
একদিন কলেজে না গিয়ে গাড়ি নিয়ে ছেলেটার সাথে ঘুরতে বের হয় রুপা। তারপর ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গায় এসে ছেলেটা আইসক্রিম কিনতে গাড়ি রাস্তার পাশে রেখে দোকানে যায়।
আর তখনই এক ট্রাক দূর্ঘটনাবশত এসে ওদের গাড়ির কাছে এসে পরে আর ধাক্কা মারে রুপা বসে থাকা গাড়িতে।
.
রুপা গাড়ির ভেতরই ছিলো তাই গাড়ি শুদ্ধ রুপাও রাস্তায় পাশে নিচে গিয়ে পরে। ওর বাঁচার কোনো সম্ভাবনা ছিলো না কিন্তু ভাগ্য বশতঃ বেচেঁ যায় কিন্তু সারাজীবনের জন্য দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলে।
.
রুপা যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি আসলো তখনও সেই ছেলেটা ওকে ফোন করতো, রুপার খবর নিতো। তখন ছেলেটা জানতো না রুপা আর চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু যখন রুপার কাছ থেকেই জানতে পারলো ও আর চোখে দেখতে পারে না, তখন থেকে আর ছেলেটা ওর সাথে যোগাযোগ করতো না।
রুপাও আর ওর খবর পায়নি কোনো দিন।
.
রুপাও বুঝতে পারে সে ওকে ছেড়ে চলে গেছে। হয়তো আরেক জনের হাত ধরেছে ওর হাত ছেড়ে দিয়ে। হাত ছাড়বে না তো কি করবে? এখন তো ছেলেটার আর প্রয়োজন নেই রুপার। কারণ রুপা এখন দৃষ্টিহীন। আর এই অন্ধ মেয়ের সাথে প্রেম করে, ভালবেসে কি পাবে ছেলেটা? তাই ওকে ছেড়ে চলে গেছে সে।
.
কিন্তু এখন রুপা কাদে সেই ছেলেটার জন্য। কিন্তু সে আর ওর কাছে আসে না। ছেলেটাকে অন্ধের মতো ভালবাসছিল বলেই বোধ হয় আজ ও নিজেই অন্ধ হয়ে গেছে।
যখন ও নিজে স্বাভাবিক ছিলো তখন ছেলেটি ওর পেছনে ঘুরতো কিন্তু আজ ওর একটা অনেক বড় সমস্যা আছে তাই ছেলেটা ওকে ছেড়ে আজ চলে গেছে।
.
কথায় আছে, কাজের সময় কাজী কাজ ফুরালেই পাজি।
ছেলেটার প্রেম করা শেষ হয়েছে, রুপার এখন এক সমস্যা হয়েছে তাই আজ রুপাকে ছেড়ে সে চলে গেছে কিন্তু রুপা তাকে সত্যি সত্যি ভালবাসে তাই আজও ও ছেলেটার জন্য কাদে।
.
.
তারপর ছাদে বসে থাকতে আর ভালো লাগে না ওর তাই বাবাকে বলে আবার রুমে এসে পরে রুপা।
তারপর বিছানায় শুয়ে বালিশের নিচে থেকে এক বই বের করে রুপা।
বইটা রুপার বাবা ওকে গত জন্ম দিনে উপহার দিছিলো, বইটা অনেক আগেই ওর বাবার কাছে ছিলো কিন্তু রুপা জানতো না।
.
বইটা রুপার মা ওর বাবাকে দিছিলো কিন্তু এখন রুপা পেয়ে গেছে ওটা। রুপার মার খুব প্রিয় বই ছিলো ওটা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বই এটা।
কিছু গল্প আর উপন্যাস মিশ্রিত আছে বইটাতে।
.
রুপা বিছানা থেকে উঠে বসে। তারপর বসে বসে একটা একটা করে পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকে রুপা। রুপার ইচ্ছে করে মার প্রিয় বইটা পড়তে। কিন্তু রুপা শুধু পৃষ্ঠা উল্টাতেই থাকে পড়তে পারে না।
পড়বে কি করে? ওর সামনে যে শুধু অন্ধকারের এক কালো পর্দা সব সময় উড়তেছে। এ পর্দা কোনো দিন সরানো যাবে না। হয়তো সারাজীবন রুপাকে এই ব্যথাটা নিয়ে কাটাতে হবে।
.
কয়েক দিন পর,,
বিকেল বেলা, রুপা রুমে বসে বসে ওর কাজের খালার সাথে গল্প করতেছে। তিনি রুপার বাড়িতে কাজ করে তাই রুপা ওনাকে খালা বলে ডাকে। রুপা ওনাকে কাজ করতে দেয় না বেশী। সবসময়ই ওর কাছেই বসিয়ে রাখে। আর গল্প করে দুজন মিলে।
.
তারপর সেখানে ওর বাবা আসলো,
- রুপা,
- বাবা।
- ঘুরতে যাবি? ভাবছি গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের হবো।
- হ্যাঁ, যাব। এই খালা আমাকে একটু রেডি করে দাও তো।
- আচ্ছা,,
.
তারপর আবার বাবার হাত ধরে বের হয় রুপা। গাড়ি করে কিছুক্ষণ ঘুরে আবার বাড়ির দিকে আসতে থাকে ওনারা।
বাড়ি এসে গাড়ি থেকে নামতেই কে যেন রুপার হাত ধরে।
- বাবা কে যেন আমাকে ধরেছে?
- নিজেই বুঝে নে কে ধরেছে?
- কে তুমি?
- নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডকে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি?
- মুক্তা তুই। কি করবো বল? আমি তো আর চোখে দেখতে পারিনা কিন্তু তোর গলার স্বরেই চিনতে পারছি।
- এই ফাজিল ওই কথা আর বলবি না। আয় আমার সাথে।
- এই মুক্তা কাঁদছিস কেন?
- তুই আর এমন কথা বলবি না।
- আচ্ছা, কই নিয়ে যাচ্ছিস এভাবে?
- তোকে চুরি করবো না, তোর জন্য গিফট আছে।
- কি?
- আছে!!
.
তারপর মুক্তা রুপাকে বাড়ির ভেতর নিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর,
অনেক গুলো গলার স্বর একসাথে বলে উঠলো,
( হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মাই ডিয়ার রুপা)
.
- বাবা, বাবা,
- আমি এখানেই আছি রে, আর আজ তোর জন্ম দিন।
- আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
- আমিও কিছু বুঝি নাই, তোর বান্ধবী গুলোই এসব করছে। আমি তো ভাবছি আমি একাই তোকে সারপ্রাইজ দিব কিন্তু ওরা আমাকে ফোন করে বলে এবারের বার্থডে ওরা আরেঞ্জ করবো তাই আমি আর না বলি নাই।
.
রুপা তখনই বাচ্চাদের মতো কান্না করে দেয়। আর তখনই ওর সব বান্ধবী গুলো ওর হাত কেকের কাছে নিয়ে যায়।
- এই রুপা কাঁদছিস কেন?
- তোদের সবাইকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে রে।
- তুই নিজেও কাদবি আমাদেরও কাদাবি এখন তাই না?
- কি করবো বল, তোরা এতো কিছু করছিস কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছি না রে। এসব কিছুর চেয়ে তোদের দেখতে ইচ্ছে করছে খুব। কিন্তু পারছি না রে।
- তাই বলে কাদতেঁ হবে? চুপ কর,
- আহ্, এই কি করতেছিস এভাবে কেউ খাইয়ে দেয়? মুখে কেক চেপে ধরছিস কেন?
- এবার তো একটু হাস,
- হিহিহি না হেসে পারবো তোদের সাথে।
- রুপা আজ কিন্তু আমরা তোর সাথে তোর বাড়িতে থাকবো।
- পারলে সারাজীবনই থেকে যা, তোরা ছাড়া যে আর কোনো বন্ধু আমার নেই, যারা আমাকে এতো ভালবাসবে।
এই জড়িয়ে ধরছিস কে রে?
-,,,,,,
- হিহিহি আমি না হয় কাদি আমি দেখতে পাই না তাই, কিন্তু তোরা কাঁদছিস কেন?
- জানি না রে।
- আচ্ছা, বস এখন।
.
আজ রুপা অনেক খুশি। এতো খুশির মাঝে ও ওর দৃষ্টি হারানোর কষ্টটা এক নিমিষেই ভুলে যায়। আজ ওর সব বান্ধবীরা আবার একসাথে মিলিত হয়েছে।
প্রতি বছর এই দিনটিতে ওর সব বান্ধবীরা এক হয়ে ওর বার্থডে সেলিব্রেটি করে। তাই সবাই একসাথে মিলিত হয়।
.
নিজের ছোটবেলার বন্ধু গুলো আজ কাছে পেয়ে অনেক খুশি রুপা। এই খুশির মাঝে ওই কষ্টটা কিচ্ছু না রুপার কাছে।
রাতে বান্ধবী গুলোর গলা জড়িয়ে শুয়ে পরে রুপা।
.
ওদের মুখ গুলো আজ চোখের সামনে কল্পনার জগতে ভেসে উঠেছে। এই কল্পনা ছাড়া যদি সত্যি সত্যি ও ওদের মুখ গুলো দেখতে পেতো তাহলে খুব ভালো হতো।
.
কালো পর্দাটা বোধ হয় আজ উজ্জ্বল ভাবে রঙিন হয়ে গেছে এই খুশির মূহুর্তে। পাখির ডানার মতো আজ উড়তে মন চাচ্ছে ওর। কিন্তু এটা যে সম্ভব নয়, পাখির উড়ার সপ্নটাই যে ভেঙে গেছে।
লেখা : Akash Sarker Nil
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now