বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
ঈদ হলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ একটি মাস রোজা রাখার পরেই আসে এই আনন্দের দিনটি। একটি মাস রোজা রেখে সবার মনটা পবিত্র হয়। বান্দার আমলনামা পাপমুক্ত হয়।
.
একমাস রোজা রেখে সবাই যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই রোজার ক্লান্তি দূর করে দিতে চলে আসে ঈদুল ফিতর। ঈদ সবার মনে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়।
.
চারিদিকে নতুন জামা কাপড়ের সমাহার। চারিদিকে রোজাদার ব্যক্তিদের ফুলের মতো পবিত্র মুখের সুন্দর হাসি।
.
আকাশের কোলে দেখা দিয়েছে ঈদের বাঁকা চাঁদ। জোসনার ঝিলিকে সবার মনটাও আনন্দে নেচে ওঠে। রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
.
ঈদ এলো খুশির খবর নিয়ে। এ খুশি পবিত্রতার খুশি। এ আনন্দ নির্মল ও পরিশুদ্ধতার। চারিদিকে শুধু বিশুদ্ধ বাতাসের দোল। রোজা রেখে সবার মনে বিশুদ্ধতার ঢেউ। মনের নীল সাগরে হাজারও স্বপ্নের ওড়াউড়ি।
.
ঈদের দিনে চারিদিকে মহান আল্লাহর গুনগান ধ্বনিত হচ্ছে "আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার অলিল্লাহিল হামদ"। সবার মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছে এই বানী। চারিদিকে যেন থৈ থৈ আনন্দ। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
.
শাবান মাস থেকেই শুরু হয় রোজার পবিত্র আবহ। মুসলমানদের মন থেকে ময়লা আর সকল খারাপ চিন্তাগুলো দূর করার প্রস্তুতি শুরু হয় এই শাবান মাস থেকেই।
.
রমযান মাসের আগের মাস টি হলো শাবান মাস। এই শাবান মাসের শেষ দিনেই ওঠে রোজার চাঁদ। তারাবীহ এর নামাজ দিয়ে শুরু হয় পবিত্র রমযান মাসের যাত্রা।
.
আর রমযান মাসের পরের মাস হলো শাওয়াল। রোজার শেষে শাওয়ালের চাঁদ উঠলেই আমরা এটাকে ঈদের চাঁদ বলি। এ মাসের চাঁদ দেখলেই সারা বিশ্বের মুসলমানগণ আনন্দে মেতে ওঠে। এ মাসের প্রথম তারিখেই ঈদ আনন্দে ভরে ওঠে সবার মন।
.
ঈদের সবচেয়ে বেশি দরকার হলো নিজের মনটাকে সুন্দর করা। মনের মধ্যে থেকে সকল হিংসা অহংকার দূর করা। মনটাকে ফ্রেশ করে সকলের সাথে সুন্দরভাবে মেশা। সকলের সাথে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।
.
ঈদ শুধুই যে নিজের খুশির জন্য তা নয়। ঈদের মাধ্যমে নিজে খুশি থাকা এবং অপরকে খুশি রাখাই হলো ঈদের প্রকৃত আনন্দ।
.
ঈদে নতুন জামা-জুতোর মধ্যে বেশি অর্থ ব্যয় করে অযথা বিলাসিতা করা মোটেই ঠিক নয়। তার চেয়ে বরং ঈদের বাজেট থেকে যদি কোনো অসহায় দরিদ্র মানুষের কল্যানে আসতে পারি, অসহায় মানুসের মুখে যদি ঈদের আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে পারি, তবে সেটাই হবে ঈদের আসল আনন্দ।
.
ঈদের দিনে আমরা অনেকেই অনেক টাকা পয়সা খরচ করে বিভিন্ন বোম-ফটকা, রঙ-চঙ নিয়ে মেতে উঠি। এগুলোর মধ্যে কোনো কল্যান নেই। বরং এগুলোতে শুধু টাকা পয়সার অপচয় হয়।
.
আমরা যদি এই অপচয়টা না করে টাকাগুলো বাঁচিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাড়াতে পারি, তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারি। তবে এগুলোর মধ্যেই কল্যান পাওয়া যাবে।
.
আমরা যদি ঈদে বেশি বিলাসিতা না করে কিছু টাকা বাঁচিয়ে অসহায় মানুষদের ঈদের জন্য জামা কাপড়, ঈদের পণ্যসামগ্রি কিনে দিতে পারি। ঈদের খরচের জন্য তাদের হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে পারি, তাহলে তারা অনেক খুশি হবে।
.
আমরা অনেকেই আছি ঈদ আসলে হাজার হাজার টাকা খরচ করে নিজেদের জন্য জামা কাপড় কিনতে ব্যস্ত থাকি। অথচ পাশের বাড়ির দরিদ্র মানুষগুলো অর্থের অভাবে দু বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারেনা। তাদের দিকে একটুও নজর দেইনা। এটা ঠিক নয়। তারা আমাদের প্রতিবেশি। তাদের প্রতি খেয়াল রাখাও আমাদের কর্তব্য।
.
এবার আসি নিজ পরিবারের কথায়। আমরা ঈদের সময় বাবা-মার কাছ থেকে শুধু নিয়েই থাকি। তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে ঈদের আনন্দ করি। কিন্তু কখনও কি তাদেরকে আমরা ঈদের জন্য কিছু দিয়েছি? এটাও কিন্তু আমাদের জন্য ঈদের খুশি অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়।
.
চাইলেই আমরা খুব সহজেই বাবা-মার জন্য ঈদের গিফট কিনতে পারি। আমরা যারা ছাত্র-ছাত্রী আছি, তারা সারাবছরই বাবা-মার কাছ থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়ে থাকি। আমরা সেখান থেকে যদি কিছু টাকা বাঁচিয়ে জমাতে শুরু করি। তাহলে সেগুলো দিয়েই বাব-মার জন্য ঈদের গিফট হয়ে যাবে।
.
আমাদের শুধু বাবা-মার কাছ থেকে নেবার অভ্যাসটাই আছে। তাদের দেবার অভ্যাসটা আমাদের নেই। ঈদে যদি আমরা তাদের কোনো গিফট দিতে পারি, তাহলে তারা অনেক খুশি হবেন। সেই সাথে আমাদের দেবার অভ্যাসটাও গড়ে উঠবে।
.
.
এগুলো সবকিছুর মাঝেই ঈদের আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে। আর এই ঈদটা রোজার পর বলেই আনন্দটা আরেকটু বেশিই। তাইতো কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন:-
"ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে
শোন আসমানী তাকিদ।"
.
ঈদুল ফিতরে সবার মুখে মুখে এই গান রচিত হয়। নজরুলের এই গান না হলে তো ঈদুল ফিতরই অপূর্ণ থেকে যায়।
.
.
সবশেষে লেখকের পক্ষ থেকে সকল পাঠকদের জানাই মনের গভীর থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। সকলের প্রতি রইলো অনেক ভালোবাসা এবং শুভকামনা।
""ঈদ মোবারক""
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now