বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জল কন্যা ও মেঘের গর্জন (চঞ্চল বউ)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X -এই উঠো না বাবু! -কি হইছে আজকে ছুটির দিন অন্তত্য আজকে ঘুমাতে দাও। -না আগে উঠো তার পর। -যাও তো এখন থেকে (কিছুটা রেগে) -তুমি উঠবা না? -আচ্ছা বল। (বিছানায় বসে প্রশ্ন করলাম) -দেখো না বৃষ্টি নামছে। তোমার সাথে কত দিন হল ভিজি না। চল না গো আজ একটু ভিজি (ভূবণ ভোলানো হাসি দিয়ে) -আমি পারব না তুমি ভিজো গিয়া। (কথাটা বলেই আবার শুয়ে পড়লাম) -এই বাবুটা উঠো না প্লিজ প্লিজ প্লিজ (হাত ধরে টেনে আবার বিচানায় বসিয়ে রাখল) -বললাম তো পারব না। (খুব রেগে গিয়ে) -যাও যাও ঘুমাও আমি কে যে আমার কথা শুনবা ( কান্না কান্না ভাব নিয়ে) , ধুর কি যে করি না আন্তাজে বেচারিকে কষ্ট দিলাম। শুধু কি আজকে তার এই বায়না তা নয়। এটা তার পুরাণো অভ্যাস। শীত হোক আর বর্ষা তার যেন বৃষ্টিতে ভেজা চাই চাই। , বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। একি মেয়েটা দেখি কেদেই দিয়েছে। আসলে কখনো এভাবে কথা বলি নি তো। ক্লান্ত শরীর এবং অফিসের কাজের প্রসারে কি যে ভুল ভাল বলে ফেলছি নিজেও জানি না। অফিস থেকে ফিরে লক্ষি বউটার সাথে ভাল করে দুইটা কথা বলতেও পারি নি। সেহেরী খেয়ে এসে ঘুম দিয়েছে। দুই দিক দিয়েই মেয়েটা ফুলে রয়েছে তার উপরে সকালে আবার চোখ রাঙিয়ে কথা বলছি। , -সরি আমার লক্ষি বউটা -হুম। -সরি তো -হুম -কি হুম -কানে ধরো। -কেনো বউ। -কাল রাত থেকে কথা বল নাই তাই একটু আগে কথা বল নাই সেই জন্যে। -এতো বড় ছেলেটাকে তুমি কানে ধরাবা। -ধরবা নাকি আমি কান্না শুরু করব। -আচ্ছা আচ্ছা ধরতেছি। -এই ফাজিল ইতর আমার কান না তোমার টা ধরতে বলছি। -আচ্ছা , বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে সাথে আকাশের গর্জন। বিজলি চমকাচ্ছে কিছু ক্ষন পর পর। মুশল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে সে কি বৃষ্টি রে বাবা। তিথিকে কোলে করে নিয়ে সোজা ভিজতে নেমে পড়লাম। , -এই ছাড়ো ছাড়ো, একি করছো হ্যা, পড়ে যাবো তো। -ছাড়ার জন্যে তো ধরি নি। , মেয়েটা বৃষ্টির পানির সাথে খেলা করছে। যেখানে অল্প পানি আছে সেখানে দুই পা এক সাথে করে লাফ দিচ্ছে আর সেই পানি নিমিষেই সেখান থেকে উধাও। সে ভিজতে আর আমি অলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে একটা জল কণ্যা সাগর থেকে উঠে ডাঙ্গায় এসে ভিজছে। আচ্ছা জল কণ্যারা কি খুব বেশি সুন্দর হয় আমার মনে হয় না এত সুন্দর হবে। যতটা তিথিকে সুন্দর লাগছে। কোমড়ের শাড়ির আঁচল অপর দিকে গুঁজে দিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে আকাশের দিকে চোক বন্ধ করে চেয়ে আছে। মনে হচ্ছে সে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে গেছে। , -এই যে শুনুন। -জ্বী আমাকে বলছেন। -হ্যা আপনাকে বলছি। এই দিকে আসুন। -হ্যা বলেন কি বলবেন। -এই এলাকায় কি নতুন। -হ্যা খালার বাসায় বেরাতে আসছি। -তাই বলি। তা কোথায় থেকে আসছেন। -ঢাকা গাজিপুর থেকে। -ওহ শহরের ছেলে তাও আবার গ্রামে। শহরের ছেলেরা তো আবার গ্রাম পছন্দ করে না। আপনিও কি তাদের মত। -কে বলছে শহরের ছেলেরা গ্রাম পছন্দ করে না অবশ্যয় করে। আমি গ্রাম কে খুব বেশি পছন্দ করি। পছন্দ করি গ্রামের সকল মানুষকে। গ্রামের সব থেকে কোন জিনিস টা আমাকে বেশি টানে জানেন? -না। -সূর্য যখন পূর্ব আকাশে যাই যাই অবস্থা তখন খোলা আকাশের নিছে দাঁড়িয়ে সেই অসম্ভব দৃশ্যটা। -তাহলে এখন কোথায় যাচ্ছেন। -এই তো নদীর পারে। -চলেন তাহলে আজ আমি আপনাকে গ্রাম সহ একটা সুন্দর যায়গা দেখাব। , মেয়েটার সাথে হাটা শুরু করলাম। সেই সাথে পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালিয়ে নিলাম। একটা টান দিয়ে ধুয়া আকাশের দিয়ে ছেড়ে দিয়ে দেখে মেয়েটা আমার হাত ধরে অগ্নিদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। , -একি হাত ধরছেন কেনো। ছাড়ুন মানুষে দেখলে কি বলবে। -যা বলার বলুক। আপনি সিগারেট আগে ফেলেদিন। -আচ্ছা আগে হাত ছাড়ুন তার পর ফেলে দিচ্ছি। -আচ্ছা দিন তাহলে। , সিগারেট টা যখন ফেলে দিলাম তখন মেয়েটার ঠোঁটের কোনে একচিলতি হাসির অভা দেখতে পেলাম। -দেখি দেখি পকেটে কয়টা সিগারেট আছে। -কি। -হ্যা পকেটে কয়টা সিগারেট আছে দেখান। না হলে চিৎকার দিব কিন্তু। , ভয়ে পুরা এক প্যাকেট গোল্ডলিপ সিগারেট বের করে দিলাম সাথে হাত থেকে ধাবা মেরে ম্যাচ টাও নিয়ে নিলো। নিয়েই প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে ভাঙ্গা শুরু করে দিল। নির্বাক দর্শক হয়ে শুধু দেখেই গেলাম। কিছু বলতে গিয়ে যদি আবার চিৎকার দেয় তাহলে ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে। , -এই যে মশাই কি দেখছেন। -দেখছি ব্রিটিরা কিভাবে শাসন করেছিল -কি বললেন আপনি। -কিছু না। -আপনার নাম টাই তো জানা হল না। -আমি শিহাব। অনার্স ফাইনাল ইয়ার। -আমি তিথি। সবে মাত্র ইন্টার দিলাম। , হঠাৎ বুকের মাঝে কারো অস্তিত্ব টের পেলাম সাথে মেঘের গর্জন। মেঘের গর্জনের ভয়ে মেয়েটা বুকে লুকিয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে কিন্তু মেঘের গর্জন কে প্রচুর ভয় পাই। ভয় পাওয়া টাও ভাল সেই প্রথম দিন পরিচিত হওয়ার এক সাপ্তাহ পর যখন একদিন হঠাৎ একদিন বৃষ্টিতে ভিজতে বের হলাম সেদিন মেঘের গর্জনে মেয়েটা আমার বুকে মাথা লুকিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল। সেদিন আমিও জড়িয়ে ধরেছিলাম আর ছাড়িনি যেমন টা আজকে ধরে রেখেছি। , বুকে মাথা রাখা অবস্থায় তিথিকে ঘরে নিয়ে আসি। মনে হয় খুব ভয় পেয়েছে। প্রত্যেক বার মেঘের গর্জনকে ভয় পাবেই কিন্তু তাও বৃষ্টিতে ভেজা বন্ধ হবে না।এখনো পাগলীটা একটু ভয় পেলে আমার বুকে মাথা লুকিয়ে রাখে। , ভালোবাসি তোকে ভালোবেসে যাবো। সারা জীবন বুকে আগলিয়ে রাখবো ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now