বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘কার্ডটা কীরকম
হয়েছে দ্যাখ তো।’
ফেলুদা ওর
মানিব্যাগের ভিতর
থেকে সড়াৎ করে একটা
ভিজিটিং কার্ড বার
করে আমায় দেখতে দিল।
দেখি তাতে ছাপার
অক্ষরে লেখা রয়েছে
Prodosh C. Mitter,
Private Investigator।
বুঝতে পারলাম ফেলুদা
এবার তার গোয়েন্দা
গোয়েন্দাগিরির
ব্যাপারটা বেশ ফলাও
করে জাহির করছে। আর
তা করবে নাই বা কেন।
বাদশাহি আংটির
শয়তানকে ফেলুদা যে-
ভাবে শায়েস্তা
করেছিল, সে কথা ও
ইচ্ছে করলে সকলকে বুক
ফুলিয়ে বলে বেড়াতে
পারত। তার বদলে ও শুধু
একটি ভিজিটিং কার্ড
ছাপিয়েছে এই তো!
ফেলুদার নাম আপনা
থেকেই বেশ রটে
গিয়েছিল। আমি জানি ও
এর মধ্যে দু তিনটে
রহস্যের ব্যাপারে
গোয়েন্দাগিরির অফার
পেয়েছে, কিন্তু
কোনওটাই ওর মনের
মতো হয়নি বলে না করে
দিয়েছে।
কার্ডটা ব্যাগের মধ্যে
পুরে রেখে পা দুটো
টেবিলের উপর তুলে
লম্বা করে ছড়িয়ে
দিয়ে ফেলুদা বলল,
‘বড়দিনের ছুটিতে
কিছুটা মাথা খাটানোর
প্রয়োজন হবে বলে মনে
হচ্ছে।’
আমি বললাম, ‘নতুন কোনও
রহস্য বুঝি?’
ফেলুদার কথাটা শুনে
ভীষণ এক্সাইটেড
লাগছিল—কিন্তু বাইরে
সেটা একদম দেখালাম
না।
ফেলুদা তার প্যান্টের
পাশের পকেট থেকে
একটা ছোট্ট কৌটো বার
করে তার থেকে
খানিকটা মাদ্রাজি
সুপুরি নিয়ে মুখে পুরে
দিয়ে বলল, ‘তোর খুব
উত্তেজিত লাগছে বলে
মনে হচ্ছে?’
সে কী, ফেলুদা বুঝল কী
করে?
ফেলুদা নিজেই আমার
প্রশ্নের জবাব দিয়ে
দিল। ‘কী করে বুঝলাম
ভাবছিস? মানুষ তার
মনের ভাব যতই গোপন
করার চেষ্টা করুন না
কেন, তার বাইরের
ছোটখাটো হাবভাব
থেকেই সেটা ধরা পড়ে
যায়। কথাটা যখন তোকে
বললাম, ঠিক সেই
সময়টা তোর একটা হাই
আসছিল। কিন্তু কথাটা
শুনে মুখটা খানিকটা
খুলেই বন্ধ হয়ে গেল।
তুই যদি আমার কথায়
উত্তেজিত না হতিস, তা
হলে যথারীতি হাইটা
তুলতিস—মাঝপথে থেমে
যেতিস না।’
ফেলুদার এই
ব্যাপারগুলো সত্যিই
আমাকে অবাক করে দিত।
ও বলত, পর্যবেক্ষণ
ক্ষমতা না থাকলে
ডিটেকটিভ হবার কোনও
মানে হয় না। এ
ব্যাপারে যা খাঁটি
কথা বলার সবই শার্লক
হোমস বলে গেছেন।
আমাদের কাজ শুধু তাঁকে
ফলো করা।’
আমি বললাম, ‘কী কাজে
তোমাকে মাথা ঘামাতে
হবে বললে না?’
ফেলুদা বলল, ‘কৈলাস
চৌধুরীর নাম শুনেছিস?
শ্যামপুকুরের কৈলাস
চৌধুরী?’
আমি বললাম, ‘না,
শুনিনি। কত বিখ্যাত
লোক আছে কলকাতা
শহরে—তার ক’জনের
নামই বা আমি শুনেছি।
আর আমার তো সবেমাত্র
পনেরো বছর বয়স।’
ফেলুদা একটা সিগারেট
ধরিয়ে বলল, ‘এরা
রাজসাহিতে বড়
জমিদার ছিল।
কলকাতায় বাড়ি ছিল;
পাকিস্তান হবার পর
এখানে চলে আসে।
কৈলাসবাবুর পেশা
হচ্ছে ওকালতি। তা
ছাড়া শিকারি হিসাবে
নামডাক আছে। দুখানা
শিকারের বই
লিখেছেন। এই কিছুদিন
আগে জলদাপাড়া
রিজার্ভ ফরেস্টে একটা
হাতি পাগল হয়ে গিয়ে
উৎপাত আরম্ভ করেছিল।
উনি গিয়ে সেটাকে
মেরে এলেন। কাগজে
নামটাম বেরিয়েছিল।’
‘কিন্তু তোমার মাথা
খাটাতে হচ্ছে কেন?
ভদ্রলোকের জীবনে
কোনও রহস্য আছে
নাকি?’
ফেলুদা জবাব না দিয়ে
তার কোটের বুক পকেট
থেকে একটা চিঠি বার
করে আমাকে দিল।
‘পড়ে দ্যাখ।’
আমি চিঠির ভাঁজ খুলে
পড়ে দেখলাম। তাতে এই
লেখা ছিল—
‘শ্রীপ্রদোষচন্দ্র মিত্র
সমীপেষু।
সবিনয় নিবেদন,
অমৃতবাজার পত্রিকায়
আপনার বিজ্ঞাপন
দেখিয়া আপনাকে এই
পত্র দেওয়া স্থির
করিলাম। আপনি
উপরোক্ত ঠিকানায়
আসিয়া আমার সহিত
সাক্ষাৎ করিলে বাধিত
হইব। কারণ সাক্ষাতে
বলিব। আমি এক্সপ্রেস
ডেলিভারি যোগে এই
পরে পাঠাইতেছি,
সুতরাং আগামীকল্য ইহা
আপনার হস্তগত হইবে।
আমি পরশু অর্থাৎ,
শনিবার, সকাল ১০টায়
আপনার আগমন প্রত্যাশ
করিব। ইতি ভবদীয়
শ্রীকৈলাশচন্দ্র
চৌধুরী।’
চিঠিটা পড়ামাত্র আমি
বললাম, ‘শনিবার সকাল
দশটা মানে তো আজই, আর
এক ঘণ্টার মধ্যেই।’
ফেলুদা বলল, ‘তোর
দেখছি বেশ
ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now