বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#written by : #Sheikh_Sadik(দানব ফ্রাংকেনস্টাইনের ছোট ভাই)
....
...
(হয়ত এটি কাউকে সাহাজ্য করতে পারে নতুনভাবে শুরু করতে)
...
নাহিদ হাসান ।মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের ছেলে ।বাবা ,মা ও তিন ভাইবোন নিয়ে তার পরিবার ।নাহিদ সবার বড় ।এইবার এস এস সি পরীক্ষায় গোল্ডেন পেয়ে একটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে ।ছাত্র হিসেবে ভালই সে ।নতুন নতুন কলেজে উঠে সবাই প্রথমে একটু হাওয়ায় ভাসে ।নাহিদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হলো না ।নতুন বন্ধু বান্ধব সাথে একটা জোকারনি ,,আই মিন গার্লফ্রেন্ডও জুটে গেল ।নাম রিমি ।ভালই চলছিল এভাবেই নাহিদের দিনকাল ।কিন্তু মানুষ যেই ভাবে চায় সেই ভাবে সে সবকিছু পায় না ।হঠাত্ করে একদিন নাহিদের বাবা মারা গেল ।তার পৃথিবী যেন হঠাত্ থেমে গেল ,নাহিদ অনেকটা ভেঙ্গে পড়ল এই হঠাত্ দুর্ঘটনায় ।পরিবারে তার বাবা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকায় সে পথ এখন বন্ধ হয়ে গেল ।এদিকে পরিবারের সমস্ত ভার নাহিদের উপর আসল ।এদিকে তার এইচ এসসি ফাইনাল পরীক্ষা ।কিন্তু পরীক্ষার শেষের দিকে ছোট্ট একটা দুর্ঘটনার দরুন তার পুরো বছর টাই নষ্ট হয়ে গেন ।তাকে আবার পরীক্ষা দিতে হবে ।অপরদিকে তার বাবার জমিয়ে রেখে যাওয়া টাকা দিয়ে পরিবার চালাতে খুবই সমস্যা হচ্ছে ।এর মাঝে রিমি তাকে একদিন ডেকে বলল -
রিমি :তোমাকে আমার কিছু বলার আছে ।
নাহিদ : হুমম ।বল কি বলবা ।
রিমি :তোমার মত একজন ছেলের সাথে আমি আর রিলেশন রাখতে চাই না ।আমাকে আর বিরক্ত করবে না ।
নাহিদ :কিন্তু আমার কি হবে ?
রিমি :তুমি তোমার পথ দেখ ।আমার নতুন বয়ফ্রেন্ড তোমার থেকে অনেক হাইলেভেলের ।তোমার মত নয় ।আমার সাথে আর কখনও দেখা করবা না ।বাই ।
এই বলে রিয়া সেখান থেকে চলে গেল ।নাহিদ বুঝতে পারছেনা সে কি করবে ।পরিবারের সমস্যা ,রিমির আচরন সব কিছু থেকেই সে খুব হতাশ হয়ে পড়েছিল ।তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় সে আত্মহত্যা করবে ।এই ভেবে সে আত্মহত্যা করতে যায় রেলস্টেশনে ।কিন্তু সেখানে হঠাত্ করে এক বৃদ্ধ মহিলাকে দেখে তার মায়ের কথা মনে পড়ে যায় ।মনে পড়ে যায় তার ছোট ভাই বোনদের কথা ।সে মরে গেলে তাদের কি হবে ।তারাও কি তার মত আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে ? না তা হতে পারে না ।এইসময় তার মনে পড়ে তার এক শিক্ষকের একটি উপদেশ ।ছোটতে তার পরীক্ষায় একবার খারাপ হওয়ায় সে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে চেয়েছিল ।তখন তার এক শিক্ষক তাকে বলে ,
"নাহিদ ,তুমি পড়ালেখা ছেড়ে দেও কোনো সমস্যা নেই যদি কিনা তুমি মনে কর তোমার জীবন এখানেই শেষ ।আর যদি তুমি মনে কর এটাই শেষ নয় তাহলে হার মানিও না ।পরিশ্রম করে যাও ,তুমি সফল হবেই ।"
না ,তার জীবন এখানেই শেষ নয় ।সে পারবে ,তাকে পারতেই হবে ।সে ফিরে যায় বাড়িতে ।তারপর থেকে সে সব কিছু নতুন করে শুরু করে ।পরিবারের খরচ চালাতে সে কয়েকটা টিউশনি করাতে থাকে ।দিনে টিউশনি আর কলেজ করে ,রাতে পড়াশোনা করে ।এভাবেই সে ভাল রেজাল্ট নিয়ে এইচ এস সি শেষ করে এবং স্কোলারশিপ পায় ।তারপর নাহিদ আরও বেশি করে পড়াশোনা করতে থাকে এবং একটা ভাল ভার্সিটিতে কম্পিউটার সাইন্সে চান্স পায় ।এরপর সে একটি ছোটখাট কোম্পানিতে প্রোগ্রামিং এর কাজ করে এবং সাথে পড়াশোনা করে ।প্রতিমাসে বাড়িতে টাকা পাঠায় সে ।এভাবে তার পড়াশোনা শেষ হয় এবং তারপর তার চার বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটা ছোট্ট প্রোগামিং কোম্পানি খুলে এবং ধীরে ধীরে তাকে বাড়াতে থাকে ।তার কোম্পানির সফ্টওয়ারগুলো বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে ভাল লাগায় তার কোম্পানির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং একটি বড় কোম্পানিতে তা পরিনত হয় ।তার নতুন নতুন ভার্সনের সফ্টওয়ার এর জন্য বিদেশী ক্লায়েন্টরা তাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দেয় ।এরপর নাহিদ বিদেশে গিয়ে প্রোগামিং এর উপর উচ্চশিক্ষা নেয় এবং দেশে ফিরে তার কোম্পানিকে আরও প্রসারিত করে ।এখন সে তার মা ও ভাইবোনদের সাথে সুন্দর জীবন যাপন করে ।সুখে ভরপুর ।সে পেরেছে ।তার আজ বলতে ইচ্ছা করে ,বাবা ,আমি তোমার যোগ্য সন্তান হতে পেরেছি ।সে আজও ভাবে সেদিন যদি সে হাল ছেড়ে দিয়ে মরে যেত তাহলে আজ তার মা ও ভাই-বোনদের কি হতো ।সে ভাবে আর তার সেই শিক্ষকের জন্য দোয়া করে যার উপদেশবানী তার জীবনকে পাল্টে দিয়েছে ।জীবনে কিছু করতে শিখিয়েছে ।কিন্তু তার মনের গহীনে কিছু চাপা কষ্ট এখনও লুকিয়ে রয়েছে ।এগুলো হয়তো অপ্রকাশ্যই থাকবে ।সকলের চোখের আড়ালেই রবে ।..........
[¤বি.দ্র. :।গল্পটি কাল্পনিক ।
জীবনে অনেক বাধা আসবেই ।আজ হয়তো রেজাল্ট খারাপের জন্য কোনো খারাপ কলেজে আমরা পড়ছি ।কিন্তু এটাই তো আমাদের শেষ নয় ।এখনও অনেক বাকি রয়েছে ।জীবনে কষ্ট করতে হবে ।তবেই সফলতা ।ভাল কলেজে পড়লেই যে সবাই খুব ভাল করবে ,আর খারাপ কলেজে পড়লেই যে কেউ খারাপ করবে তার কোনো মানে নেই ।পরিশ্রম কর ,হতাশ হয়ো না ।কারন ,আমরা হতাশ হলে আমরা যে কষ্টটুকু পাব তার চেয়ে বেশি পাবে আমাদের বাবা -মা রা ।চেষ্টা চালিয়ে যাও ,সৃষ্টিকর্তা তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করবে ।
তাই বন্ধুগন হতাশ হয়ো না ।তা না হলে এ হতাশাই তোমাদের কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে ।
ধন্যবাদ । ¤]
http://RadioMunna.com গল্পটি এই পেইজ থেকে নেওয়া, আমার খুব ভালো লাগলো তাই সবার সাথে শেয়ার করলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now