বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দর্পণ_প্রতিবিম্ব ১ম পর্ব

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X # __দিল আফরোজ(ঐন্দ্রিলা আদ্রি) (সিকুয়েল অফ #আয়না_বলয়) . বিয়ে বাড়ি। আনন্দঘন পরিবেশ। বাজনা বাজচ্ছে। অন্য সবাই খোশমেজাজে থাকলেও তিন জন মানুষের মুখে হাসি নেই। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ একজন মহিলা। তাদের চেহারায় কাঠিন্যের আর বিষাদের ছাপ স্পষ্ট। মনে হচ্ছে লোক গুলো হাসতে জানেনা অথবা বহুদিন ধরে হাসতে অনভ্যস্ত! অবশ্য মাঝেমাঝে তারা এর ওর সঙ্গে কথা বলছে একদম স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু মুখের ভাব অপরিবর্তনীয়। বোঝা যাচ্ছে মানুষ তিনজন বর পক্ষের সাথে এসেছে।তাদেরই কোন আত্মীয় হবে। . মোসলেম উদ্দীন বেশ ঘটা করে মেয়ে ঈষিকার বিয়ের আয়োজন করেছেন। তিনি সরকারি কলেজের রিটায়ার্ড প্রিন্সিপাল। ঈষিকা তার একমাত্র মেয়ে তাই আয়োজনে কোন ত্রুটি রাখেননি। ঈষিকার জন্মের দুবছর পর ওনার স্ত্রী মারা যান। খুব আদর যত্নে মেয়েকে বড় করেছেন মোসলেম সাহেব। পাত্র মেয়ের পছন্দের। ব্যাংকার। নাম আশরাফি আকিব। পরিবারের লোকজনও ভালো। তিনি আপত্তি করেননি। মেয়ের পছন্দের পাত্রের সাথেই বিয়ে দিচ্ছেন। এই বিয়ে বাড়িতেই উপস্থিত গুরুগম্ভীর ওই তিনজন মানুষ। বরযাত্রীদের খাওয়াদাওয়ার পর্ব সমাপ্ত হলো। তারপরই ওই তিনজন মানুষ তড়িঘড়ি শুরু করলো বিদায় নেওয়ার জন্য। মোসলেম উদ্দীন বিয়ের আগ পর্যন্ত তাদের থাকতে অনুরোধ করলেন, পাত্রের বাবা পাত্রীকে দেখে যেতে বললেন। কিন্তু তারা কোন কথা গ্রাহ্য না করেই বিদায় নিলেন। যাওয়ার আগে দুজন পুরুষের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ জন পাত্রের বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,"জামশেদ ভাই, কিছু মনে করো না। তুমি তো জানো মেয়েটা অসুস্থ। কখন কি হয়ে যায় ঠিক নেই। আমরা বউভাতে আসবো।" . বিয়ে শেষ হতে হতে রাত হয়ে যায়। মেয়েকে বিদায় দেওয়ার কেঁদেই ফেলেন মোসলেম সাহেব। আজ থেকে তিনি একা হয়ে গেলেন। মেয়েও কাঁদছে। তিনি আকিবকে বার বার বলে দিলেন যেন মেয়েকে দেখেশুনে রাখে। আকিব শ্বশুরকে আশ্বস্ত করে। তারপর বর-কনে কে নিয়ে পাত্র পক্ষের লোকজন রওনা হয় বাড়ির দিকে। মাত্র এক ঘণ্টার পথ। আকিবদের বাড়িতেও নতুন বউকে বরণ করার জন্য এলাহি আয়োজন করা হয়েছে। আকিবের মা রেবেকা বেগম নতুন বউকে আদর করে ঘরে তুললেন। মেয়েটাকে ভীষণ পছন্দ হয়েছিলো প্রথম দেখাতেই। অন্যরা নববধূর আগমনের সাথে সাথে তাকে দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। সবার মুখে একটাই কথা,"আকিবের বউকে কি মিষ্টি দেখতে!" আকিবের ছোটবোন ঋতু নতুন বউকে বাসরঘরে নিয়ে গেলো। সেখানেও আত্মীয়স্বজন গিজগিজ করছে। নতুন বউকে এ কথা ও কথা জিজ্ঞেস করছে। ঈষিকার মধ্যে বিরক্তি নেই। সে হাসি মুখেই সবার সব কথা শুনছে আর উত্তর দিচ্ছে। ঈষিকা যথেষ্ট হাসি-খুশি, মিশুক আর শান্তস্বভাবের মেয়ে। সহজে রেগে যায় না। কিছুক্ষণ পরে আকিবের বড় বোন রুবা এসে আত্মীয়স্বজনদের বের করে নিয়ে গেলো। অনেক রাত হয়েছে। এবার বর-কনেকে একা ছাড়া উচিৎ। ঋতু আকিবকে পাঠিয়ে দিলো। আকিবের হাতে খাবারের প্লেট। প্লেট টেবিলের উপর নামিয়ে রেখে সে ঈষিকার পাশে এসে বসলো। মেয়েটা লজ্জাবনত মুখে বসে আছে যেন এই প্রথমবার আকিব ওকে দেখছে। আকিব বললো,"ঈষিকা, তোমার খিদে পায়নি? সেই কখন খেয়েছো।" "হ্যাঁ, পেয়েছে", নরম কণ্ঠে ঈষিকা জবাব দেয়। "সেইজন্য মা তোমার জন্য খাবার পাঠিয়েছেন। চলো আমি তোমাকে খাইয়ে দেই।" ঈষিকা খুব খুশি হয়। বিয়ের দিন ভালোবাসার মানুষটা তাকে খাবার খাইয়ে দেবে এটা ওর কাছে খুবই আনন্দের। আকিব ওকে খাওয়াতে থাকে। ঈষিকাও প্লেট থেকে খাবার তুলে নিয়ে আকিবের মুখে দেয়। ব্যাপারটা সাধারণ হলেও ওদের কাছে খুবই আনন্দপূর্ণ। বিশেষ দিনের বিশেষ মুহূর্ত। খাওয়ানো শেষ হওয়ার পরে আকিব ঈষিকাকে নিয়ে বারান্দায় গেলো। অন্ধকার বারান্দা। তবুও আকিব বললো,"ঈষি, চোখ বন্ধ করো।" ও বেশ অবাক হলো। তবে ওর মজাও লাগছিলো। ঈষিকা চোখ বন্ধ করে। বারান্দায় লাইট জ্বালানোর শব্দ পায়। কয়েক সেকেন্ড পরে আকিব ওকে চোখ খুলতে বলে। চোখ খুলেই ভীষণ রকম অবাক হয় ইষিকা। পুলক অনুভব করে। আকিবটা পারেও। হাসি হাসি মুখে আকিব জিজ্ঞেস করলো,"কি কেমন চমকে দিলাম বলো?" "আমি ভীষণ অবাক হয়েছি আকিব। এটা আমার কতটা পছন্দ হয়েছিলো তুমি ভাবতেও পারবে না। কিন্তু দাম বেশি বলে কিনতে পারিনি।" "তোমার পছন্দ বলেই তো কিনে ফেললাম। তাছাড়া আমারও এটা পছন্দ। আগেও এই ডিজাইনের আয়না দেখেছি। আমি সেদিনই খেয়াল করেছিলাম আয়নাটা তুমি পছন্দ করেছো। তুমি দোকানীকে দাম জিজ্ঞেস করেছিলে সেটাও দেখেছিলাম। তখনই ঠিক করি বিয়ের রাতে তোমাকে সারপ্রাইজ দেবো। আমি চাইলে সেদিনই কিনে দিতে পারতাম কিন্তু আজকের মতো খুশি দেখতে পারতাম না।" "দেওয়াল আয়নাটা দারুণ। আমি ভেবেছিলাম টাকা জমিয়ে কিনে ফেলবো। কিন্তু তুমিই মনের কথা বুঝে ফেলেছো।" "এখন থেকে কোন কিছু পছন্দ হলে সাথে সাথে আমাকে বলবে বুঝেছো? আমি আছি কি করতে?" ঈষিকা পরম ভালোবাসায় আকিবকে জড়িয়ে ধরে। এই মানুষটাকে ও খুব ভালোবাসে। ঈষিকার মনের কথা যেন পড়তে পারে আকিব। "ঈষি, আজ আয়নাটা এখানেই থাক। কালকে আয়নাটা দেওয়ালে লাগিয়ে নেবো।" "ঠিক আছে।" "এখন ঘরে চলো।" ওরা ঘরে গেলো। অতিবাহিত করলো ভালোবাসাময় মধুর একটি রাত। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দর্পণ_প্রতিবিম্ব ২য় পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now