বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হোটেলের টেবিলে বসে নাস্তা করছি,
পাশের টেবিলে একজন এসে বসলো,
বসেই হোটেলের গ্লাস বয় কে ডাকছে,
এই ছেলে এই এইদিকে আয়,
ছেলেটি হয়তো ভালো করে শুনতে পায়নি,
লোকটি আবার ডাকছে
এই ছেলে এই তুই কি শুনতে পাসনা,
এইদিকে আয় এদিকে আয়,
হোটেলের গ্লাস বয় ছেলেটি ভয়ে ভয়ে
সামনে আসলো,
লোকটি এইবার গ্লাস বয় ছেলেটির কান টেনে
ধরে
আবার বলছে,
এই কুত্তার বাচ্চা শুনতে পাসনা
কয়বার ডাকছি তোরে,
কানে কি দিছিস।
নে গ্লাস টি ভালো করে ধুয়ে নিয়ে আয়,
বেচারা গ্লাস বয় অসহায় চোখে তাকিয়ে থেকে
গ্লাস নিয়ে ধুয়ে আনলো,
লোকটি গ্লাসটিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের
মতো করে ভালো করে দেখতে লাগলো,
গ্লাসের কোথাও কিছু লেগে আছে কিনা,
হ্যাঁ এইতো পেয়ে গেছে,
গ্লাসের বাহিরের দিকে তলার একপাশে, সাবানের
একটু ফেনা লেগে আছে।
এইবার তো লোকটির মাথা আরোও গরম হয়ে
গেল,
খুবই রাগন্বিত হয়ে কর্কশ কন্ঠে চিল্লাচিল্লি শুরু
করে দিলো,
হোটেলের ম্যানেজার সহ কয়েকজন এগিয়ে
আসলো
স্যার কি হয়েছে, কি হয়েছে আমাকে বলুন,
লোকটি বলছে
কি ব্যাপার এই হোটেলে কি মানুষ কে কি মানুষ
মূল্যায়ন করা হয়না,
গ্লাসে এগুলো কি,
কি সব আজেবাজে পোলাপাইন রাখেন,
ভালো করে গ্লাস টিও ধুয়ে আনতে পারেনা।
ম্যানাজার খুবই বিনয় সহকারে,
স্যার আপনি মাথা ঠান্ডা করুণ,
ব্যাপার টি আমি দেখছি,
এই বলে হোটেল ম্যানাজার, গ্লাসবয় ছেলেটির
গালে কষে একটি থাপ্পড় লাগিয়ে দিয়ে বলে একটি
কাজ ও ঠিক মতো করতে পারিস না,
কাল থেকে আর আসতে হবেনা তোকে,
যা এখন ভালো করে গ্লাস ধুয়ে স্যার কে
একগ্লাস পানি দিয়ে আস।
গ্লাসবয় ছেলেটি কান্না কান্না ভাবে লোকটির
সামনে থেকে গ্লাস নিয়ে গেল ধোয়ার জন্য,
আমি নাস্তা খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে হা করে
ছেলেটির দিকে তাকিয়ে রইলাম,
খুবই খারাপ লাগছে আমার,
কিন্তু কি করবো করার যেন কিছুই নেই আমার
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া,
গরিব হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন ছেলেটির
অপরাধ,
গ্লাসবয় ছেলেটি অনেক্ষণ ধরে ভালো করে
গ্লাসটিকে ধুয়ে হঠাৎ দেখলাম. গ্লাসের ভিতরে
থুথু নিক্ষেপ করলো, তারপর পানি ভরিয়ে
লোকটির সামনে দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে এসে
পিলারের একপাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে,
লোকটি যখনই গ্লাসে চুমুক দিয়ে ডগডগ করে
পানি খেল, আর অমনি পিলারের পিছনে দাড়িয়ে
গ্লাসবয় ছেলেটি হাহাহা করে হাসতে থাকলো,
ছেলেটির হাসি দেখে কেনো জানি আমারও হাসি
ধরে রাখতে পারলাম না।
মনে মনে আমিও অনেক্ষণ ধরে হাসলাম,
আর ভাবলাম
যেমন কর্ম তেমন ফল।
হয়তো একটু ভালো আচরণ করলে
এমনটি হতোনা,
ছেলেটি হোটেলের গ্লাসবয় হতে পারে,
তাই বলে কি সেই সুন্দর আচরণ পাওয়ার যোগ্য
নই,
এটি কেমন কথা হতে পারে।
সুন্দর আচরণ
ভালোবাসা সবাই পেতে পারে এবং
সবাই অধিকার রাখে
তাই নই কি?
by
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now