বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার স্বামী ছিলেন আমার মতোই প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয়। যে কোন সংসারি বিয়ের প্রথম পাঁচ মাস সুখের সংসার। আমারো তাই ছিল। শুনেছি, মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক যতোই খারাপ হোক, স্বামী ঠিকতো সব ঠিক। আমার বেলায় ঘটেছিল উল্টো। শ্বশুর বাড়ির লোক আমায় চোখে হারায়, আর স্বামী? তার চোখের জ্বালা ছিলাম আমি।
বিয়ের পর আমরা একই জাগায় পোস্টিং নিলাম। নতুন বাসা..টুকটার আসবাবে ঘর সাজানো, কতো কি চাঞ্চল্য আমাদের টোনাটুনির সংসারে। প্রথম কয়েক সপ্তাহ ভালোই যাচ্ছিল। যেহেতু আমি কর্মজীবী, তাই সংসারের সকল কাজ নিজ হাতে গুছিয়ে নেয়া অসম্ভব ছিল। প্রয়োজন ছিল হেল্পিং হেন্ড অর্থাৎ বুয়া। আমার স্বামীর এতে ঘোড় আপত্তি। প্রথমে সে আহ্লাদ করে বুয়াতে অসম্মতি জানালেও পরে সে সাফ সাফ জানিয়ে দিল, "আমাদের সংসারে কোন বুয়া থাকবেনা, দুজন মানুষের সংসার এতে বুয়ার কি দরকার?বাকি দিনতো পরেই আছে। একটা অকর্মা বিয়ে করে হয়েছে তার জ্বালা"। আমি বলেছিলাম, "ঠিক আছে। বুয়া রাখব না। তুমিও তবে সাহায্যের হাত বাড়িও সংসারের কাজে। খাবারটা নিজ হাতে বেড়ে খাওয়া, নিজের টাই নিজে বাধা ইত্যাদি টুকটাক কাজ নিজেই করে নিও। আমার আশায় থেকোনা।" সে এতেও ঘোর আপত্তি জানালো। তার মতে তার কল্পনার বউ ছিল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর গৃহকর্ত্রীও। স্বামী, সংসার, অফিস সমান তালে পারদর্শী হবে তার বউ।
কি জ্বালা..!! একজন গৃহিণী যেভাবে তার পুরো সময় সংসারের পেছনে দিতে পারে একজন কর্মজীবী মহিলা কি তা পারে? তবুও নারী যত চাকরীই করুক না কেন সংসারের দায় মোটেই কমে যায়না। গৃহিণী তো সকালে সকালের নাস্তা রেডি করে ধীরে সুস্থে দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে পারে, কর্মজীবীর তো সেই সকালেই দুপুরের রান্নার আয়োজন চুকিয়ে নিতে হয়। গৃহিণী যেভাবে দিনভর সংসারের টুকিটাকি গুছিয়ে নিতে পারে কর্মজীবী তা পারেনা। শুক্রবারই তার ভরসা। তবুও মাঝে মাঝে শরীর সায় দেয়না। একটু বিশ্রামতো প্রয়োজন। সারাদিন অফিস, বাসায় ফিরে সংসারের কাজ করে বড্ড ক্লান্ত হয়ে যেতাম আমি। যারপরনাই প্রতি রাত্তিরে স্বামীর আহ্লাদে শরীর সায় দিতনা। মনোমালিন্য ক্রমশ বেড়েই চলল।
সংসার টিকিয়ে রাখতে সাধ্যমত চেষ্টা করলাম একাই অফিস সংসার সামলাতে। না, আমার কোন কাজে এতোটুকু ছাড় দিত না আমার স্বামী। রান্নায় বাহারি পদ, ধুলোহীন মেঝে, ঝকঝকে জামা, চকচকে ফার্নিচার সব দেখা চাই তার। তীব্র রকমের মানসিক ও শারীরিক শ্রম যাচ্ছিল আমার উপর। মাইগ্রেন সমস্যা দেখা দিল আমার। তবুও চলছিল আমার লড়াই। কিন্তু যখন আমার বাবু পেটে আসল তখন আমি স্বামীর সাথে আলোচনায় বসলাম,"চাকরিটা ছেড়ে দিতে চাই। এভাবে আর পারছিনা।" আমার স্বামী কিছুতেই অন্ত:স্বত্বার খবরে খুশি হতে পারল না। একটা বাচ্চা লালনে কতো খরচ। বাচ্চা এখন নেয়া যাবেনা। আর চাকরীজীবীরা বাচ্চা পালেনা? বাচ্চা যখনি নেই, চাকরী ছাড়া যাবেনা। এই বাচ্চাও নেয়া যাবেনা।
এবার শুরু হল আমার বেঁচে থাকার লড়াই। আমিওতো মানুষ, আমারতো সহ্যের অসীম ক্ষমতা নেই। আমারো কষ্ট হয়। শুরু হল আমার স্বামীর শারীরিক নির্যাতন। যেই রাতে মারে সেই রাতেই আবার উষ্ণ নি:শ্বাস ছড়িয়ে আদর করতে আসে। এই আদর আমার আর সহ্য হয়না। আলাদা বিছানা থেকে আলাদা রুমে থাকা শুরু হল আমার। শেষকালে যখন জোর করে আমার গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করল আমি বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে গেলাম। আশ্চর্যকথা হল, আমার বাবা মা আমাকে বুঝালো, "স্বামীর কথা মেনে নিতে। মেয়েদের এত তেজ থাকতে নেই" আমি তেজ নয় বেঁচে থাকার তাগিদে ঘর ছেড়েছি। তাই বাবার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আলাদা বাসা নিলাম। ডিভোর্স হল আমার।
আমার কোল আলো করে ফুটফুটে এক ছেলে এলো। আমি আমার পোস্টিং চেঞ্জ করলাম। নতুন কর্মস্থলে এসে একটি বাসা নিলাম। আমি, আমার ছেলে আর আমাদের কাজের বুয়াটাকে নিয়ে আমার সুখের সংসার। আমার বাচ্চাটা অফিসের অনেকেরি চোখের মণি। অনেক পুরুষ আমাকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু আমার বাচ্চা আছে জানলে তারা বিয়ের আগ্রহ হারায়। চলছে জীবন এভাবেই। নাহ, চলছে জীবন নয়। বলব ভালোই চলছে জীবন।
গল্প: ইনবক্সে শেয়ার করা এক আপুর জীবনকথা।
লেখিকাঃ Romana Akter
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now