বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালো স্বপ্ন

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhat Hossain (০ পয়েন্ট)

X গাড়ীর কাঁচ নামাতেই ধোলা ময়লায় ঢেকে যাওয়া মলিন কালো একটা যুবতী মেয়ের চেহারা স্পষ্টহয়ে সামনে আসলো। আনুমানিক আঠারো থেকে বিশ বছর হবে বয়স,কেমন জানি বিচ্ছিরী দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। গাঁ থেকে ঘামের দূর্গন্ধ বের হচ্ছে,তবে মেয়েটার উচ্চতা,মায়াবী চেহারা ও দৈহিক গড়নে অসাভাবিক রকমের সৌন্দর্যময় আভা ফুটে আছে। শরীরের ছেঁড়া সেলাইকৃত ময়লা জামাটা দৈহীক সৌন্দর্য অনেকাংশে প্রকাশ করছে,আবার ঢেকে ও দিচ্ছে নিজের কুশ্রীতার আঁড়ালে। হঠাৎ,প্রেপার লাগবে স্যার প্রেপার,,,,,,। আরাফাতের ভাবনায় বাঁধা পরতেই গাড়ীর দরজা খুলে দিয়ে মেয়েটাকে বলল,গাড়ীতে বসো। মেয়েটা অদ্ভুতদর্শনে তাকিয়ে ভয় আক্রান্ত চেহারায় গাড়ীর পাশ থেকে দ্রুত সরে গেল। - আরাফাত আজ তিনদিন ধরে রাস্তায়,পার্কে ইত্যাদি জায়গায় মেয়েটার পিছু পিছু ঘুরছে,কিন্তু মেয়েটা আরাফাতকে দেখলেই ভয়ে পালিয়ে যায়।,,,,,,,,,,,,, - ছয়দিন পর ---------- আরাফাত গাড়ী ড্রাইভ করা অবস্থায় হঠাৎ চোখে পরলো ফুটপাতের একটা দোকানের সামনে বেশ কিছু মানুষের জটলা। ভাল করে তাকাতেই চোখে পরলো,দুইজন লোক একটা মেয়েকে চড় থাপ্পড় মারছে। হঠাৎ মেয়েটা লোক গুলোকে ধাক্কা মেরে ভীড় থেকে বের হয়ে দৌড়ে আসছে আরাফাতের গাড়ীর দিকে। আরাফাত মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখে - আরে এটা তো সেই মেয়ে,যাকে সে খুঁজছে। গাড়ীর লক খুলতেই মেয়েটা দরজা খুলে গাড়ীতে বসে পরলো। - কিছু দূর যেতেই আরাফাত মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল, -- লোক গুলো তোমাকে মারছিলো কেন? মেয়েটা কান্না জড়িত কন্ঠে বলল, -- পেটের দায়ে খাবার চুরি করে ছিলাম স্যার। -- কি নাম তোমার? -- মৌসুমি বলেই সবাই ডাকে। আরাফাতের আর কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হল না। এই এক উত্তরেই বুঝতে পেরেছে,মেয়েটা নিজের জন্ম পরিচয়টা ও জানে না,রাস্তাতেই তার মাথা গুজার স্থান। - গাড়ী চলছে এক অচেনা পাহাড়ী রাস্তায়। মৌসুমির চোখ রাস্তার সাইনবোর্ড গুলোতে। মাঝে মাঝে পাহাড়ের সৌন্দর্য ও মন কেড়ে নিচ্ছে,তবে কোথায় যাচ্ছে সেটা নিয়ে ও অনেকটা ভয় কাজ করছে মনে। প্রায় দুই ঘন্টা ড্রাইভ করার পর গাড়ী প্রবেশ করলো ইট বিছানো এক বাগান বাড়ীর রাস্তায়। কিছুক্ষণ পরই পাহাড়ী প্রকৃতির ছায়ায় ঘেরা এক নিঃসঙ্গ বাড়ির দরজার সম্মুখ্যে থামলো গাড়ী। গাড়ী আসতেই দরজা খুলে বের হয়ে এলো পরীর মত সুন্দর দুইটা মেয়ে। তাদের শরীরের প্রত্যেকটা অংশে যেন কারুকাজ করে সৌন্দর্য লেপে দেয়া হয়েছে। আরাফাত তাদের লক্ষ্য করে বলল, -- ওকে নিয়ে যাও। মেয়েগুলো মৌসুমিকে নিয়ে ভেতরে চলে গেল। - --- - ঘরের প্রত্যেকটা অংশ দেখছে আর মৌসুমি মুগ্ধ হচ্ছে। এত সুন্দর সাজানো গোছানো বাড়ি এর আগে আর সে কখনো দেখেনি। ফ্রেশ হওয়ার জন্যে মৌসুমি ওয়াশরুমে গেল। ওয়াশরুম থেকে বের হতেই তিনটা মেয়ে এসে মৌসুমির যত্ন নেয়া শুরু করলো। মৌসুমির চুল কাটা হলো,ব্রু কাটা হলো। একটা মেয়েকে সুন্দর স্মার্ট ও রূপবতী করে তুলতে যা যা লাগে সব ধরনের রূপচর্চা ও মেকাপ করানো হলো। - --- - মৌসুমি একা বসে আছে আয়নার সামনে। নিজেকে নিজে দেখেই অবাক হয়ে গেল। এত সুন্দর দেখতে সে ! অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো নিজের প্রতি। এ যেন অন্য এক মৌসুমি। এ যেন আকাশ থেকে সদ্য নেমে আসা কোন ডানাবিহীন পরী। শরীরের সাদা ড্রেস যেন তার সৌন্দর্য লক্ষগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মৌসুমি মনে মনে ভাবলো,( তাহলে মেয়েদেরকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এসে প্রথমে তাদের রূপবতী করে তুলা হয়,যাতে বিক্রি করলে দাম বেশি পাওয়া যায়। ঠিক তখনই তার পুরাতন কাপড়ের এক গোপন পকেটের কথা মনে পরলো,সাথে সাথে কাপড়ের পকেট চেক করতেই দেখলো তার মোবাইল নেই। হতাশায় মাথায় হাত দিলো মৌসুমি,এখন কি হবে ! মোবাইল ছাড়া তাদের সাথে আমি যোগাযোগ করব কি করে। যোগাযোগ করতে না পারলে তো এই মেয়ে গুলোর সাথে আমাকে ও পাঁচার হয়ে যেতে হবে। নাহ,তা কখনই আমি হতে দেব না। হঠাৎ দরজায় শব্দ হতেই মৌসুমি ভাবনা থেকে বের হয়ে এলো। - দুইটা মেয়ে এসে মিষ্টি করে সাবলীল কন্ঠে মৌসুমিকে বলল, --আপু চলুন,এখন খাওয়া দাওয়ার সময়। মৌসুমি মনে মনে ভাবে,রাস্তার মেয়েগুলো এত সুন্দর করে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছে কি করে? - মেয়েগুলোর সাথে যেতে যেতে যাওয়ার পথে মৌসুমিকে তারা একে একে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে প্রতিটা কক্ষের সাথে। আপু এটা হচ্ছে আমাদের সাঁজার কক্ষ, আরো কিছু দূর যেতেই, আপু এটা হচ্ছে আমাদের ক্লাশ রুম। এখানে আমাদের পড়ালেখা করানো হয়। আরো কিছুক্ষণ পর, আপু এটা হচ্ছে আমাদের নাঁচ শেখার কক্ষ। মৌসুমি শুনে অবাক হচ্ছে,মেয়েদের এনে এখানে পড়ালেখা ও করানো হয়,নাঁচ ও শেখানো হয়?। নানান প্রশ্ন ঘিরে ধরেছে মৌসুমিকে। - খাবার টেবিলের সামনে এসে তো মৌসুমির চোখ কপালে উঠে গেছে। বড় একটা গোল ডায়নিং টেবিল। এখানে বসে আছে আরো প্রায় ২০ জন বাচ্চা থেকে ছোট-বড় মেয়ে। প্রত্যেকটা মেয়েই যেন সৌন্দর্যের প্রতীক। শুধু মাত্র গায়ের রং ছাড়া কেউ কারো থেকে কম নয় সৌন্দর্যে ও স্মার্টনেসে। কিচ্ছুক্ষণ পর আরাফাত ও এলো খাবার টেবিলে। সবার উদ্দেশ্যে আরাফাত মৌসুমিকে দেখিয়ে বলল, ও হচ্ছে তোমাদের নতুব বান্ধবী। আশা করি তোমরা তাকে আনন্দের সহীত গ্রহণ করবে। আমি খাওয়া দাওয়া করেই চলে যাব। টিচাররা তো আছেনই। তোমাদের যে কোন প্রয়োজনে আমাকে ফোন করলেই চলে আসব। - খাওয়া দাওয়া কাজ যত শেষের দিকে যাচ্ছে,মৌসুমি ততই উদ্বিগ্ন হচ্ছে। আংগুলের আংটিতে চাপ দিয়েছে সেই কবেই। ওরা কি তাহলে লোকেশন ট্রেছ করতে পারছে না। কিছুক্ষণ পরেই তো নাটের গুরু চলে যাবে। - খাওয়া দাওয়া শেষে আরাফাত বাইরে গাড়ীর দিকে যাচ্ছে। ঠিক তখনি অন্ধকার থেকে বাইরে বের হয়ে এসে আরাফাতকে ঘিরে ধরলো কয়েকজন বন্দুকধারী লোক। হ্যান্ডসআপ বলার এক মুহুর্ত আগেই আরাফাতের হাত থেকে গাড়ীর চাবি নিচে পরে গেল। আরাফাত যখন চাবি নিতে নিচের দিকে ঝুকতে যাবে,ঠিক তখনি হ্যান্ডস আপ বলা হলো,আরাফাত শরীরের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে না পেরে নিচের দিকে ঝুকে যেতে গুলি করা হলো। - একটা পুলিশ ভ্যান ও একটা পুলিশ জিপ যাচ্ছে শহরের দিকে। মৌসুমি পুলিশ জিপের সামনে বসা। ড্রাইভিং সিটে বসা পুলিশ লোকটি দাঁত বের করে বলল, -- ম্যাডাম এই নিন আপনার মোবাইল,তখন আপনি দৌড়ে যাওয়ার সময় মোবাইল পরে গিয়েছিলো। লোকটা হাসতে হাসতে আবার বলল,আপনার অভিনয়ের তুলনাই হয় না ম্যাডাম। শেষ পর্যন্ত মিশন সাকসেসফুল করেই ছাড়লেন। সালা জানুয়ারেরা কি করে পারে অসহায় মেয়েদের বিদেশি কুত্তাদের হাতে বিক্রি করে দিতে,ছ্যাহ। - এদিকে মৌসুমির মনে চলেছে তুমুল ভাবনার ঝড়। সে কি ভুল করলো?। ক্রিমিনাল টাকে গুলি করার পর ঐ মেয়ে গুলোই বা কাঁদছিলো কেন। কোন ক্রিমিনালের জন্যে তো কারো কাঁদার কথা নয়। আরাফাতের মোবাইলটা হাতে নিয়ে মোবাইল চেক করতে লাগল। হঠাৎ একটা ভিডিও মনযোগ আকর্ষণ করলো মৌসুমির। আরাফাত একা একাই কথা বলছে ভিডিওতে, ২ মিনিটের ভিডিও তে আরাফাত বলছে, মিস হুমায়রা হিমি,এটা তোমাকে পাঠানো আমার প্রথম ভিডিও। সামনাসামনি কখনই আমাদের দেখা হয়নি। তাই ইচ্ছে হলো আমি নিজেকে তোমার সামনে জীবন্ত উপস্থাপ্তন করি। গান শুনবে হিমি?, তোমার প্রিয় একটা গান গেয়ে শুনাচ্ছি। এক মিনিটের একটা গান গাওয়ার পরে ভিডিওটা শেষ। - একের পর এক ভিডিও দেখছে মৌসুমি। - শেষ একটা ভিডিও প্লে করার পর, আবারো আরাফাত একা একা কথা বলছে। -- জানি হিমি,এই ভিডিও সেন্ড করলে ও তুমি দেখবে না। কেন হারিয়ে গেলে আমাকে ছেড়ে? কি অপরাধ ছিলো আমার? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর হয়ত আমি কখনই পাব না। ভিষণ ইচ্ছে হচ্ছে তোমার সাথে কথা বলতে,কিন্তু তা ও আমার কপালে নেই। ভার্চুয়াল সম্পর্কের উপরে কেউই বিশ্বাস করে না। কিন্তু আমি করেছিলাম। আমি পরেছিলাম তোমার নাঁচের মোহে,তোমার স্মার্টনেস আমাকে আকৃষ্ট করেছিলো। তোমার সৌন্দর আমাকে কাছে টেনেছিলো। কিন্তু জানো হিমি? তুমি ও মেয়ে,রাস্তার মেয়ে গুলো ও মেয়ে। তুমি বিত্তবান তাই তুমি নিজের পরিচর্যা করতে পারো। নাঁচ শিখতে পারো,সুন্দর কাপড় পরতে পারো। তাই তোমাকে সুন্দর দেখায়। কিন্তু রাস্তার মেয়ে গুলো তোমার মত সুযোগ সুবিধা পায় না,তারা শিক্ষিত নয়। তাই তাদের সৌন্দর্য চাপা পরে যায় আবর্জনার স্থুপের নিচে। তাদের প্রেমে কেউ পরে না। কিন্তু তাদের মনে অহংকার নেই। সাঁজালে তারা ও তোমার মত সুন্দর। তাদের ও ভালবাসা পাওয়ার আখাংকা আছে। কিন্তু সেটা কেউ জানে না। আরেকটা কথা জানো হিমি,কয়েকদিন আগে একটা একটা মেয়েকে রাস্তায় দেখলাম। মেয়েটাকে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। দেখতে হুবুহু তোমার মতন,কিন্তু মেয়েটা কেন জানি আমাকে দেখলেই ভয় পায়। হয়ত ভাবছে আমি তার সাথে খারাপ আচরণ করব। কিন্তু আমি মেয়েটার ভয় ভাঙ্গিয়ে নিয়ে আসব একদিন,অন্যান্য মেয়েদের মত তাকে ও একটা সুন্দর জীবন উপহার দিব। ভিডিওটা সমাপ্তির আগে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পরে আরাফাতের গাল বেয়ে। - মৌসুমির আর বুঝতে বাকি রইল না,আরাফাত রাস্তা থেকে তুলে মেয়ে গুলোকে কেন এখানে নিয়ে এসেছে। হস্পিটালে আরাফাতের কেবিনের দিকে যাচ্ছে মৌসুমি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে গুলো মৌসুমিকে লক্ষ্য করে অশ্রু ভেজা নয়নে অভিযোগের স্বরে বলল, -- আপনি কেন এমন করলেন? উনি তো আমাদের ভবিষৎ গড়ার জন্যেই নিয়ে গিয়েছিলেন। মৌসুমি দ্রুত কেবিনের ভেতরে চলে যায়। আরাফাতের মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগানো। এক হাত দিয়ে সে মুখ থেকে সরিয়ে নেয় মাক্স। একটা পেনড্রাইভ মৌসুমির হাতে দিয়ে বলে, -- আমি দশ বছরে যত টাকা কামিয়েছি,সব সম্পদের ব্যাংক ডিটেইলস এই পেন ড্রাইভে আছে। মৌসুমি আরাফাতের হাত শক্ত করে ধরে নিজের দুই হাত দিয়ে। কান্না জড়িত কন্ঠে বলে,সরি। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে আরাফাতের হাত একদম ঠান্ডা হয়ে গেছে। আর কখন এই হাতের রক্ত টগবগ করবে না। কিন্তু আরাফাতের স্বপ্নের এই আশ্রম কখনই কালো হতে দেবেনা মৌসুমি,মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালো স্বপ্ন
→ স্বপ্নের রং অথবা বিষাদ কালো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now