বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
~বিথীর আব্বু এই বিথীর আব্বু...
~কি হল কি তোমার শুনি?বলি এই সকালবেলা কি বাসায়
ডাকাত পড়ল যে এত চিল্লাইতে হচ্ছে?
~ওগো আমার যে ভীষন ভয় করছে...
~আহা সকাল বেলা কি শুরু করলে বল তো?বলা
নেই কওয়া নেই কি সব পাগলামী শুরু করলে।একটু
পরে যে মেয়ের বিয়ে সে খেয়াল কি আছে
তোমার..?
~আছে গো আছে।আর আছে বলেই তো
বলছি...
~এই দেখ সকাল সকাল আবোল তাবোল বলে
মেজাজ খারাপ করে দিওনা বলছি।
~আবোল তাবোল নয় গো বিথীর বাপ আমাদের
বিথী যে ঘরে নেই..
~ঘরে নেই অন্য কোথাও আছে ভাল করে
খুঁজে দেখ...
~সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি গো কোথাও
নেই..
~এ সব তোমার জন্য,পই পই করে
বলেছিলাম,মেয়ের ঠ্যাং লম্বা হয়ে যাচ্ছে
মেয়েটাকে সামলাও।নাহ সে কথা কানে তুলবে
কেন?মা হয়ে মেয়েটাকে একটু সামলে রাখতে
পারনা ছি ছি..।
~এখন তো শুধুই আমার দোষ,মেয়েকে ননীর
পুতুলের মত সব বায়না পূরন করে কে মাথায়
তুলেছিল শুনি..?
~আহা থাক না।আমাদের দুজনেরই তো ভুল
হয়েছে।এখন মেয়েটাকে খুঁজি চল।
~হ্যা গো বিথীর বাবা...
~হুম বল না শুনছি..
~বলছি আমাদের অমন হাবাগোবা মেয়ে এ কাজ
করতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
~উহু নিশ্চয়ই এর পিছনে কেউ কলকাঠি
নেড়েছে...
~আমার ও তাই মনে হয় বুঝলে আর ওই ছোকড়াটা
কে হতে পারে বল তো..?
~কে আবার ওই শুভ্র না টুভ্র কি একটা নাম যেন...?
~হ্যা ঠিক বলেছে,ওই বদমাইশ ছেলেটাকে আমার
প্রথম দিন থেকেই সন্দেহ হয়,কেমন যেন
চোরা চোরা ভাব চোখেমুখে...
~এক্সাক্টলি,পাঝি ছেলেটা আমাদের নাদুস নুদুস
মেয়েটাকে চুরি করার জন্যেই ঢুকেছিল।
~আমি বলি কি তুমি পুলিশে একবার ইনফর্ম কর..
~নাহ ওই বদমাশটাকে আমি নিজের হাতেই মারব...
~এই বিথীর বাবা সকালবেলা কিছু মুখে না দিয়ে
কোথায় বেরিয়ে যাচ্ছ...?
.
~আহ আর পারছিনা গো..(হাপাচ্ছে)
~এই তো সোনা আরেকটু....
~ও হ্যালো হোয়াট ডু ইউ মিন বাই সোনা...সোনা
কাকে বললে তুমি?ভুলে যেও না আমি তোমার...
~তুমি আমার বুঁনো শাঁলিকের গান...
~এ্যাক থু এটা আবার কি?এই দেখ আমি এভাবে আর
একটুও দৌড়াতে পারব না।হয় আমাকে ট্যাক্সিতে নিয়ে
যেতে হবে না হলে আমি বাড়ি ফিরে যাব...
~এই না না বাড়ি ফেরার কথাটা অন্তত বলনা প্লিজ।
বুঝতেই তো পারছ তাড়াহুড়ো করে তোমাকে
উঠিয়ে আনতে যেতে হয়েছে।তাই মানিব্যাগটা
নিতে ভুলে গেছি হে হে হে...
~ধাড়ি ছাগল একটা লজ্জা শরম নাই, পকেটে মানিব্যাগ
নাই গেছে মেয়ে তুলতে...
~এভাবে বল না,মানিব্যাগ না থাকলো কি হয়েছে
তাতে,তোমাকে তো পেয়েছি,তোমার
চোখের দিকে তাকিয়ে এই ক্ষনিকের জীবন
ঠিকই কেটে যাবে...
~এই যে হিরো,সারাজীবন আমি তোমার সাথে
থাকব বলে এত কষ্ট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে
আসিনি,তোমার সাথে সারাজীবন তো দূর এক
সেকেন্ডেই দম বন্ধ হয়ে আসে আমার...
~তাহলে..?
~তাহলে বুঝছনা খোকা?তোমার বন্ধু রিমন কই ও
আমার জানুটা কই...
~এখানে কোন রিমন টিমন নাই,আমিই তোমার জানু,
এখন থেকে শুভ্র এই শুভ্রই তোমার জানু...
~ইউ চিট লায়ার বেয়াদ্দপ ননসেন্স তোর এত্ত বড়
সাহস হয় কি করে আমাকে এসব বলার..তোকে জানু
বলব এ্যাক থু..
~কেন আমি কি খুবই খারাপ উহু উহু...
~খারাপ মানে তুই একটা জঘন্য.....
~কিন্তু আমি যে তোমাকে ভালবাসে ফেলেছি
আই লাভ ইউ বেবি....
~আর এক পা এগোলে ভাল হবে না কিন্তু বলে
দিচ্ছি..
~কি করবে তুমি..?
~ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিব..
~তাই, দাও ফেলে দাও...
~ঢিশুম ঢিশুম.....
.
না না না আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ
আমাকে মেরোনা ছেড়ে দাও আমাকে, আমি আর
কখনও কাউকে ভালবাসি বলব না...
আস্তে আস্তে চোখ দুটো মেলানোর
চেষ্টা করছি।বামচোখটা বহু কষ্টে মেলানোর
চেষ্টা করছি,একটু ফাঁকা হয়েছে চোখের পাতাটা।
সকালের সোনালি আলো চোখে পড়তেই চিক
চিক করে উঠল...
নাহ আমি তাহলে মরিনি।বাহ বেশ বেশ। আমি যে
একটা বীর পুরুষ সেটা কিন্তু সবাই জানেনা।জানে
শুধু আমার কোলবালিশটা।তাই তো ওকে এত বেশি
ভালবাসি।উমমমমমা।
বাব্বা কি ধকল গেল আমার উপর দিয়ে বলতো।
মেয়ে তোলা কি চারটি খানি কথা।তারউউপর বিথীর
মত বিটকেল মেয়েকে তুলেছি।বুকের পাটা
আছে আমার বলতে হবে...
কিন্তু এ কি চায়ের কাপটা এভাবে উলটে পড়ে
আছে কেন?ডিমের অমলেটটা দেয়ালের গায়ে
পোষ্টারের মত টাঙানো,আর টোস্ট দুটো
ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে.....
উবু হয়ে টোস্টটা তুলে নিয়ে মুখে
পুরেছি...অমনি...
শুভ্র আজও একই অবস্থা,তোকে না কতবার বলেছি
ডাক্তার দেখাতে।শুনবি কেন মায়ের কথা কানে
তুললে যে পাপ হবে।যা পারিস তাই কর।আমি কিন্তু
আর এসব সহ্য করতে পারবনা বলে দিলাম....
ওয়াশরুমে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম...
ধুর এরা কেউ বোঝেনা আমাকে।আমি যে একটা
মহৎ কাজ করি স্বপ্নের মধ্যে তা এরা কেউ
বোঝেনা শুধু হিংসে করে...।না হয় ব্রেকফাষ্ট টা
একটু এলেমেলো হয়ে যায় যখন মেয়েটা
আমাকে ঠেলে ফেলে রাস্তার মধ্যে।ওইতো
স্বপ্নের মধ্যেই মেয়েটা যে ঠেলে ফেলে
দেয় তার রিএ্যকশন পড়ে ব্রেকফাস্ট রাখা ট্রে এর
উপর।তাতে কি এমন ক্ষতি হয় শুনি।আমি কি বলি কখনও
আমাকে আবার নতুন করে বানিয়ে দাও।তবুও মা শুধু
বকবে....
.
গোসল করে সোজা ভার্সিটির দিকে রওনা দিলাম...
~এই শুভ্র কোথায় যাচ্ছিস খেয়ে যা...(মা)
~না খিদে নেই....
.
কিরে কিছু হল....?
মাটির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে রাতে দেখা স্বপ্নটা
নিয়ে ভাবছিলাম।বেশ লাগছিল ভাবতে।হঠাৎ তিনজনেই
একসাথে বলে উঠল..কিরে কিছু হল...
কি হল সেটা পরে বলি।আগে এই তিনজনের একটু
পরিচয় দেই...
একেবারে বামপাশে দাড়ানো মেয়েদের মত
লম্বা চুল,থুথুনিতে হাতে গোনা কয়েকটা দাড়ি,গলায়
ইয়া বড় শিকল, হাতে ডজন খানেক কালো চুরি ইহা
হইল আমাদের রাফি বাবু।মাঝখানে আতশ কাচ দিয়ে তৈরি
চশমা, ছেড়া প্যান্ট ছেড়া শার্ট অবশ্য ইহাই ভাব,এটা হল
রিমন বাবু,অতঃপর ছেলেদের কালেকশনে দাড়িয়ে
আছে, উহু ছেলেধরা নয়,মানে সম্পূর্নটাই
ছেলেদের পোষাকে সুসজ্জিত মায়ারানী।অবশ্য
ইনি ভুল করেই যে মেয়ে হয়েছে এটা তাহার
কপাল চাপড়ানো দেখে বেশ ঠাহর করা যায়..।ওহ
আর একজসন এখন অনুপস্থিত,তিনি অতি মাত্রার ভদ্র
মেয়ে, বুঝতেই পারছ.....তারছেড়া..অবশ্য এসব
কথা ওদের সামনে বললে কি অবস্থা হবে আমার
বুঝতেই তো পারছ।তো এরাই হচ্ছে যাকে
বলে বন্ধু।বন্ধুত্ব থেকেও যেন এই সম্পর্কটা
আর বেশি গভীর...
.
~কি রে কি হয়েছে তোর ওভাবে কি দেখছিস,
আগে পরে দেখিস নাই আমাদের নাকি?
~দেখেছি তবে আজকের মত নয়...
~কেন আজ কি এমন হল,আজ কি আমাদের বেশি
সুন্দর লাগছে...
~ধুর ফইন্নি তোদের সুন্দর লাগবে কেন,আমার
ওকে সুন্দর লাগছিল...
~আহা ওহো আহা...
~দেখেছিস তোদের জ্বলছে।।।।
~হ্যা সে তো জ্বলবেই,তা তোর এই ও টা
কে...
~ধুর তোরাও না পারিস,রোজ এই কাকতাড়ুয়ার পিছনে
লাগতে ভাল্লাগে তোদের?(তারছেড়া শর্মি ১০গজ
দূর হইতে এরুপ মধুবাক্য বলিতে বলিতে নিকটে
আসিল)
~কেনরে তুই বুঝি লাগিস না ওর পিছে?(সবাই মিলে
বলে উঠল)
~এই ফইন্নি তুই আবার আমাকে কাকতাড়ুয়া বললি,আজ
তোর মাথার চুল একটাও যদি থাকে তবে আমার নাম
শুভ্র নয়..
~বলেছি বেশ করেছি,আরও বলব..লজ্জা করেনা
এত বড় হয়ে গেছিস একটা প্রেম করতে পারিস না?
(শর্মি)
~ধুর ওটাই তো আমার হয়না..(মাথা চুলকিয়ে বললাম)
~তা আপনাকে দিয়ে কোনটা হয় শুধু ওইটা...হু হু
~এই ওইটা মানে কি?কি বলতে চাইছিস কি?(রেগে
গিয়ে বললাম)
~কেন ওই যে তোর পাশের বাসার পুচকো
মেয়ে কিসে যেন পড়ে... ওহ ক্লাস
নাইনে...আহা সে কি প্রেম,প্রত্যেকদিন রাতে
ওইটুকুন মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখিস তোর
লজ্জা করেনা...(কথাটা বলেই সবাই অট্টহাসিতে
মেতে উঠল)
~ধুর তোরা কি বুঝবি রে স্বপ্নের,তোদের মত
মূর্খের দল স্বপ্নের ফিলিংস বোঝে নাকি...
~তা বাবা কাকতাড়ুয়া আমরা না হয় স্বপ্নের ফিলিংস
বুঝিনা,গতকাল রাতে কি স্বপ্ন দেখলে ওই পিচ্চিকে
নিয়ে,কবুল কি বলে ফেলেছ নাকি...হে হে হে
হে
~ওরে না রে পাগলা,রোজ রোজ কি আর
একজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভাল্লাগে
রে,আজ আমি অন্যকাউকে স্বপ্নে দেখেছি
রে....
~কি.... (সবাই একসঙ্গে হা করে আছে)
থাকবেই বা না কেন,গত পাঁচ বছর ধরে আমি ওই
আমার পাশের বাসার ঝিনুক নামের একটা মেয়েকে
স্বপ্নে দেখে আসছি।শুধু ওই স্বপ্ন দেখা
পর্যন্ত বাস্তবে আমি কচুটাও পারিনা।হয়না বুঝলে
তো ওসব আমাকে দিয়ে হয়না আর হবেও না।
আরে আমি কি কম চেষ্টা করেছি,আমার
কোলবালিশটাকে মেয়ে সাজিয়ে সামনে গিয়ে
প্রপোজ করার চেষ্টা করেছি,হয়না কিছুই
হয়না,কোথা থেকে যেন একরাশ লজ্জা আর হাসি
এসে ভর করে আমায়।বন্ধুরা কি আমায় কম
পচিয়েছে।কত মেয়ের সামনে ঠেলে দিয়ে
বলেছে ভালবাসি না বলতে পারলে আজ তোকে
মেরেই ফেলব।কিন্তু বিশ্বাস কর একটা নিশ্বাস
নিয়ে ভাবি এটা তো সহজ কাজ এবার বলেই দেব।
কিন্তু মেয়েদের চোখের দিকে তাকালে সব
গুলিয়ে যায়।যেসব মেয়েদের প্রপোজ করতে
গেছি তাদের নিজেদের এখন যে মেয়ে
হয়েছে ভুল করে না কবে তাদের সামনে
যেতে হয়।তো এটাই আমার জীবন,এ হেন
নির্বুুদ্ধিতার জন্য নামটি আমার কাকতাড়ুয়া হয়ে
গিয়েছে....
~কি রে কাকতাড়ুয়া বল কাকে দেখলি রাতে?(রিমন)
~না রে দোস্ত বাদ দে,পরে বলব।
~উহু এটা মোটেও বাদ দেওয়ার কথা নয়,এটা তো
রীতিমত একটা জমকালো ব্যাপার..(শর্মি)
~আরে ধুর বোকার দল,তোরা না,চল ক্লাসে
দেরি হয়ে যাচ্ছে..(আমি বললাম)
~শোন তুই যদি আমাদের বলিস মেয়েটা কে?
তবে আজ সবাইকে খাওয়াব আমি..(রাফি)
~ধুর একটা মেয়ের নাম জানার জন্য এত কিছু কেউ
করে...(আমি)
~ঢং না করে নামটা বল তো দেখি...?(রিমন)
~না রে দোস্ত পারব না,আমাকে মাফ করে দিস
প্লিজ...
~দেখ শুভ্র ভাল হচ্ছেনা কিন্তু,সামান্য একটা
মেয়ের নাম বলবি এতে এত ঢং করার কি আছে..
(মায়া)
~তোরা বুঝতে কেন পারছিস না মেয়েটা কে
সেটা বললে একটা যা তা হয়ে যেতে পারে...
~বললে কি হবে জানিনা, তবে না বললে তোর
যে কি অবস্থা হবে সেটা তো বুঝতেই পারছিস
তাই না হে হে..(রাফি)
~তোদের কি তবে শোনাই লাগবে...?(আমি)
~হ্যা..(সবাই মিলে)
~কাল রাতে আমি বিথীকে বিয়ের আসর থেকে
তুলে নিয়ে এসেছিলাম...
~বিথী...কোন বিথী...(সবাই হা করে তাকিয়ে
আছে..)
~সোনা ছেলে ভাবীকে নিয়ে একটু মশকরা
করছিস তাই না..?(রিমন গালটা টিপে দিয়ে বলল)
~নারে দোস্ত সত্যিই সত্যিই...
~আরে তোরা বুঝতেছিস না,ও আমার বিথীকে
আমার কাছে নিয়ে আসার জন্যই তো উঠিয়ে নিয়ে
আসছিল..(রিমন কাঁদো কাঁদো সুরে বলল)
সবাই হা হয়ে তাকিয়েআছে,একটু পরে যে কি
ঘটতে চলেছে তা বোধহয় টের পেয়েছে...
~না রে দোস্ত বিথীকে তোর জন্য নয়,আমার
জন্য উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলাম....
কিছুক্ষন নীরবতা,সবাই আমার দিকে তাকিয়ে
আছে,শুধু রিমনটা বসে বসে হাটুর নিচে মাথা দিয়ে
কোৎ কোৎ করছে।কেনই বা করবেনা,আরে
বিথী যে ওর একমাত্র জি এফ।গত পাঁচবছরের
রিলেশন,আর আমি কিনা তাকে নিয়ে.....
~দোস্ত স্যরি,তোদের কাছেও স্যরি,বুঝতেই
তো পারছিস স্বপ্ন,সত্যি তো নয়,তাছাড়া ওটা তো
আমি ইচ্ছা করে করিনি বল তোরা....
কি বুঝেছিল সেদিন জানিনা,তবে সেদিন আমাকে
উত্তম মাধ্যম খেতে হয়েছিল প্রচুর,এত বড়
বজ্জাতের দল আমার মানিব্যাগ ফাকা করে দিয়েছিল
তবু একটা টাকার ওষুধ কিনে দেয়নি।আর আমি যদি আর
কোনদিন স্বপ্ন দেখি বা স্বপ্নের কথা বলি তবে
আমার চোখ তুলে নিবে...
.
বেশ কিছুদিন জিদ করেই ঘরে বসে রইলাম।ভার্সিটিত
ে যাইনা অনেকদিন।ফইন্নিগুলো ফোনের পরে
ফোন দিয়ে জ্বালায়।আমি অসুস্থতার বাহানায়
কোনরকম কাটিয়ে যাই।কিন্তু ওরকম শয়তান টাইপের
বন্ধু থাকলে নিশ্চিন্ত কি থাকা যায়।এর মধ্যে তিনবার
আমার বাসায় হানা দিয়েছে।আমার সব জিনিসপত্র
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে গেছে।অথচ অভদ্রের
দল সেদিনের জন্য একবার স্যরি পর্যন্ত বললনা.....
.
একদিন সকালে যোগব্যায়াম করছি,পদ্মাসনে
বসেছি।সবে মাত্র গুছিয়ে বসে দুটো নিশ্বাস
ফেলেছি,অমনি হুড়মুড় করে ফইন্নি গুলো কোথা
থেকে হাজির হল...
~তোর কাছে বিড়ি হবে বিড়ি?(রিমন বলল)
একে তো মেজাজ বিগড়ে গেছে তারপর
ফইন্নির মত সিগারেট না বলে বলছে বিড়ি।আমিও
পাল্টা উত্তর দিয়ে দিলাম,বিড়ি নাই সিগারেট আছে...
~ওটার মাথা বিগড়ে গেছে রে কাকতাড়ুয়া...(শর্মি)
~কেন?আমি তো আর স্বপ্ন দেখিনি কোনদিন
তাহলে...?
~তোর স্বপ্নটা যে সত্যি হতে বসেছে...(রাফি)
~মানে?ঝিনুক কি সব বুঝতে পেরেছে...(আমি)
~ধুর গাধা ওই ঝিনুক তুই মরে গেলেও কখনও
বুঝবে না তুই ওকে গত পাঁচবছর স্বপ্নে দেখিস..
(মায়া)
~তবে?এই ছাড়া আর তো স্বপ্ন নেই আমার...
~আরে কাকতাড়ুয়া ভুলে গেলি সেদিন না বিথীকে
নিয়ে স্বপ্ন দেখলি..(শর্মি)
~হ্যা তো...
~গাধা বিথীর বিয়ে...
~হ্যা সেটা তো খুব ভাল কথা....
~ভাল হত যদি রিমনের সাথে হত...(রাফি)
~রিমনের সাথে হচ্ছেনা..?(আমি)
~না রে,হলে কি আর এখানে বসে সিগারেট খেত
সে...(রাফি)
~ওহ তাই বল,তা বিয়ের কার্ড ফার্ড কিছু দিয়েছে
নাকি....
জানিনা এই কথাটার কি তাৎপর্য,তবু প্রাকটিক্যালি ফলটা
পেলাম,অতিমাত্রার উত্তম মাধ্যম..
শুধু যদি ওটকুর উপর দিয়ে যেত তবে ভালই হত,কিন্তু
এত বড় স্বার্থপর স্টুপিড ননসেন্সের দল বলে
কিনা আমাকে স্বপ্নের মত বাস্তবে বিথীকে
ওদের বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হবে...
আচ্ছা তোমরা বল হে,মেয়ে তোলা কি চারটিখানি
কথা,এটা কি সিনেমা নাকি?যে ইচ্ছা মত বাইক নিয়ে
গেলাম,মেয়েকে পিছনে তুললাম,চারতলার উপর
থেকে বাইক নিয়ে জাম্প করে ভেগে গেলাম।
আরে পাগলা এটা হল রিয়েলিটি।মেয়ে তোলা তো
দূরে থাক আমি যদি বিথীদের বাড়িতে ঢুকি এই সময়
ওর বাবা আমাকে দাড়িয়ে গুলি করে মারবে....
কিন্তু নাহ ফইন্নি গুলোর আমার কাঁদো কাঁদো মুখ
দেখে একটুও দয়া হলনা,তারা তো একেবারে
প্ল্যান করে ছকে কষে আমার কাছে এসেছিল।
.
পরেরদিন,
বিথীর বিয়ে কাল।বিথীরা এমনিতেই
প্রভাবশালী,রিমনও কোন অংশে কম নয়।তবে তার
বেশভুসা বিথীর বাপের এ্যালার্জীর কারন কিনা তাই
এই অবস্থা...
ফোনে বিথীকে সব বলা হয়েছে...
আমি আর মায়া যাব বিথীকে আনতে।মায়া হল ওদের
রিলেটিভ।তাই ওকে কোন কৈফিয়ত দিতে
হবেনা,আর আমি তো মায়ার বন্ধু হিসেবেই যাচ্ছি...
সত্যি বলতে কি আমার হৃদকম্পন অস্বাভাবিকভাবে
বেড়ে গেছে।একটু আগে বিথীদের বাড়িতে
ঢুকেছি..।সেদিন যতটা রোমান্টিক ছিল আজ বাস্তবে
তা ততটাই কঠিন।জেনেশুনে যে কেউ মৃত্যুর
মুখে পা বাড়াতে পারে তার উজ্জল দৃষ্টান্ত আমি...
.
কথা ছিল রাতেই আমরা বিথীকে নিয়ে পালাব।প্ল্যানমা
ফিক কাজও এগোচ্ছিল।সবে বিথী আর মায়াকে
নিয়ে সিড়ি দিয়ে চুপি চুপি নামছি,অমনি ইয়া বড় এক হাঁচি
কোথা থেকে এসে যেন আমার নাকের ভিতর
ঢুকল।আর কি বোমা ফাটার মত শব্দ করে হাঁচি দিয়ে
পরম তৃপ্তি নিয়ে নিচের দিকে তাকাতেই দেখি
বিথীর বাবা নিচে কটমট করে তাকিয়ে আছে
আমাদের দিকে।আমি কোনরকম পড়ি মরি করে পিছু
ফিরেই এক দৌড়ে রুমে ঢুকে খাটের নিচে
লুকিয়ে পড়েছি।
চুপচাপ কুজো হয়ে শুয়ে আছি,কিন্তু একটা সমস্যা
হচ্ছে,আমি সব কিছু যেন ঘোলাটে ঘোলাটে
দেখছি....
হঠাৎ একটু শব্দ হল,শব্দটা ধীরে ধীরে
বাড়ছে,আরও নিকটে চলে আসছে,তবে আমার
আশঙ্কটাই সঠিক।বিথীর বাবা এসেছে,তাহলে কি
আমায় এখনই মরতে হবে..
হু হা হা হা মনে মনে একটু হেসে নিলাম,কারন আমার
কাছে এখন আছে মারনাস্ত্র...
আস্তে আসাতে শব্দটা কাছে এসে থেমে গিয়ে
আমার মুখের সামনে কি যেন একটা ভেসে
উঠল,অমনি সঙ্গে সঙ্গে ক্লোরোফার্ম স্প্রে
করলাম,কিন্তু প্রতিপক্ষ বেজায় শক্তিশালী,শুধু যে
তার নাকে ঢুকেছে সেটা নয় আমার নাকেও কিন্তু
ঢুকে গেছে...
ক্লোরোফার্ম কেমন কাজ করেছিল জানিনা,যখন
ঘুম ভাঙল,চোখে তখনও ঝাপসা।তখনই খেয়াল হল
আমি যে চশমা ছাড়া চোখে দেখিনা,মাইনাস
পাওয়ারের চশমা আমার সেটা তো বলাই হয়নি।যা
হোক ভাগ্য ক্রমে আশেপাশে হাত বুলোতেই
চশমাটা পেয়ে গেলাম।ফু দিয়ে পরিষ্কার করে
চোখে লাগিয়ে প্রথমত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আমার
চোখ ছানাবড়া...সকাল ১০টা বেজে ৩৪ মিনিট...
পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি মায়াও ফ্লোরে শুয়ে
অকাতরে ঘুমাচ্ছে।চুল ধরে দু একটা টান দিতেই
উঠে বশে চোখ মুছতে মুছতে বলল আমি
কোথায়...
বুঝলাম না হঠাৎ কি হল,দুমদাম কয়েকটা কিল ঘুশি হয়ে
গেল...
ও যেমনটা বলল তেমনটা বলছি...
কাল রাতে বিথী ধরা পড়ে যাওয়ার পর আমি তো এ
ঘরে ছুটে আসলাম,ও পাশে বিথী আর বিথীর
বাবার ভিতর কথা কাটাকাটি হচ্ছিল।এক পর্যায়ে বিথী
ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।তখন মায়া
এসেছিল আমাকে ডাকতে।আর আমি তো... বাকিটা
ইকিহাস...
.
এ্যাক থু... অভদ্র শয়তান কোথাকার...(মায়া চেচিয়ে
উঠল)
কারনটা বলি শোন,মায়ার ওড়নায় সর্দি মুছে দিয়েছি...
~পঁচা ডিম কাকতাড়ুয়া বান্দর...
~ওভাবে বলিস না লাগবে...(আমি)
~কার লাগবে..?
~তোর হাবির...
~আমার হাবিকে নিয়ে তোর এত মাথা ব্যাথা কেন..?
~কারন আমার মত সে ও তো মুছবে...সর্দি..
~এাক থু ..
~দেখ সকাল বেলা মেজাজটা বিগড়ে না দিয়ে, যা
ব্রেকফাষ্ট নিয়ে আয়..
~আহা মগের মুল্লুক নাকি,কাল রাতে যা করেছিস
তারপর এরা তোকে খেতে দিবে তাই
ভেবেছিস...
~কেন দিবেনা?একশত বার দিবে,আমরা যা করেছি তা
তো ওদের মেয়ের ভালর জন্যই করেছি...
~আহা কত যে ভাল হয়েছে যা নিজে গিয়ে খা...
~এমন করছিস কেন?মনে কর আমি তোর
স্বামী,তোকে আদেশ করছি যা খাবার নিয়ে
আয়...
~তোর মত স্বামী পাওয়ার আগে আমি কচু গাছে
ফাঁসি দিয়ে মরব...
~আমার মত এমন সোনার টুকরো ছেলেকে তুই
এভাবে অবহেলা করলি যা তোর স্বামী বেটে
খাটো খিটখিটে মেজাজের হবে..
~আর তোর বউ চোখ ট্যারা হবে..
~হয় হোক তোর কি...
~আমারও যা হয় হোক তাতে তোর কি...?
~তবে রে...চুল টেনে ধরেছি...
অমনি গগনবিদারী চিৎকার.....
.
কয়েকদিন পর..
আজ রিমন আর বিথীর বিয়ে।সবার মত নিয়েই
হচ্ছে।কেন হচ্ছে সেটা জানতে গেলে একটু
ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে...
সেদিন মায়ার চিল্লানি শুনে বিথীদের বাড়ির এক
কাজের লোক এসে আমাদের ডেকে নিয়ে
গিয়েছিল খাবার ঘরে।ব্রেকফাষ্ট দিতে দিতে বলল
স্যার ম্যাডাম বিথী দিদিমনিকে নিয়ে হাসপাতালে
গেছে।কারন জিজ্ঞাসা করতে বলল কাল রাতে
ঝগড়া হওয়ার পর বিথী নিজের ঘরে ঢুকে দরজা
বন্ধ করে দিয়ে ব্লেড দিয়ে হাত কেটেছিল।
বিথীর বাবা কিছুক্ষন ডাকাডাকির পর যখন সাড়া পেলনা
তখন দরজা ভেঙে দেখে বিথীর ওই অবস্থা।
আর তারপরেই হাসপাতালে নিয়ে গেছে...
.
এদিকে রিমনেরও শোকে দুঃখে প্রান যায় যায়।
অতঃপর দুপক্ষের অভিভাবকরা মিলে এই সিদ্ধান্তে
উপনীত হল যে এদের বিবাহ দেওয়া উচিৎ।তাই
আজই হচ্ছে সেই বিবাহ...
.
সবাই এদিক সেদিক ঘুরছে এনজয় করছে।আমার
কিন্তু বেজায় খারাপ অবস্থা।বিথীর বাবা আমার দিকে
যেভাবে তাকিয়েছিল একটু আগে মনে হচ্ছিল
সেদিনের ঘটনা ভুলতে পারেনি তাই আমাকে কাঁচা
গিলে খাওয়ার মতলব এটেছে....
.
এই যে কাকতাড়ুয়া কোথায় থাকিস বলতো,সারাবাড়ি
তোকে আর মায়াকে খুঁজে বেড়াচ্ছি পাচ্ছিনা....(রি
মন,শর্মি,রাফি,বিথী)
~যার বিয়ে তাকে নিয়ে থাকনা,আমাকে খুঁজে লাভ
কি...?(আমি)
~তোকেই তো খুঁজতে হবে চান্দু...(শর্মি)
~কেনরে আমি তোর কোন শুভ কাজে ব্যাঘাত
ঘটিয়েছি রে...(আমি)
~সেটা তো পরে বলব,আগে বল মায়া কোথায়...?
~জানিনা,মায়ার খবর রাখার জন্য আমাকে কি টাকা দেয়
নাকি কেউ..
~বাব্বা এত ঢং কোথা থেকে শিখলি রে...(শর্মি)
~আরেব্বাস এটা কে রে শর্মি...(রিমন)
এত অবাক হওয়ার কারনটা বলি,মায়া একটা নীল শাড়ি
পরে সেঁজেগুজে এদিকে আসছে..
~উহুম উহুম,এটা তো পরী রে কাকতাড়ুয়া...(রাফি)
~হুম বেশি নজর দিস না,উড়ে যাবে...(রেগে
বললাম)
~জ্বলছে নাকি...?(শর্মি)
~ধুর জ্বলার মত কি আছে শুনি..(আমি)
~হুম...তাই যেন হয়...(রাফি)
~কিরে কতক্ষন এসেছিস তোরা...?(মায়া)
~তোরা না বল তুই...(রাফি)
~মানে...?(মায়া)
~কিছুনা রে।বলছিলাম শুভ্রকে তুই ওর বউ হলে কত
ভাল লাগত তোদের দুজনকে...(শর্মি)
~হ্যা তো,কাকতাড়ুয়াটা কি বলল জানিস,বলল হেব্বি
হত....
~শয়তান তোরে কিন্তু...মায়া একদম মিথ্যে কথা
একটুও বিশ্বাস করবিনা এদের কথা...(আমি)
~তোদের ও না রুচি বলে কিছু নাই রে,ওর মত
কাকতাড়ুয়াকে আমি বিয়ে করা তো দূরে থাক ওর
সাথে এক সেকেন্ডও থাকা যায়না।আর ওর তো
ঝিনুক আছে ওর কাছেই যেতে বল...(মায়া)
~এই কাকতাড়ুয়া, সত্যিই তো তোর না ঝিনুক
আছে,তুই আবার আমাদের মায়ার দিকে নজর দিচ্ছিস
ক্যান...(রাফি)
~হ্যা রে তুই ঠিকই বলেছিস মায়া,কাকতাড়ুয়ার এবার
একটা হিল্লে হওয়ার দরকার, এবার ঝিনুকের সামনে
ওকে যেতেই হবে....(শর্মি)
~একদম,আমরা আছি সাথে...(মায়া)
~উহু তুই থাকলে তো হবেনা....(শর্মি)
~কিন্তু কেন?(মায়া)
~তুই যে ছদ্মবেশি ঝিনুক তা কিন্তু আমরা জেনে
গেছি..(রিমন)
মায়া এবার মাথা নিচু করেছে লজ্জায়...
বাব্বা কি গভীর জলের মাছরে তোরা।তোর যে
আর এক নাম ঝিনুক সেটা তোর সাথে এতদিন
থেকেও আমরা জানলাম না,শুধু ওই কাকতাড়ুয়া জানে...
(শর্মি)
~উহু আমি মোটেও ঝিনুক ফিনুক নই..আর ওর ঝিনুক
ক্লাস নাইনে পড়ে....
~তোরা যখন প্রেমে পড়েছিস তখন তোরা ক্লাস
নাইনেই পড়তিস,আর কাকতাড়ুয়া তোকে সেই ক্লাস
নাইনেই ধরে রেখেছে।
~মোটেও না..(মায়া)
~তাহলে তোর ডায়েরিতে তোর নামের পাশে
ছোট্ট করে ঝিনুক লেখা কেন?(রিমন)
~ওটা তোরা কোথায় পেয়েছিস?এটা কিন্তু
জোচ্চুরি...শুভ্র উহু উহু...(আমার বুকে এসে মাথা
গুজে দাড়িয়েছে..)
~তাইতো বলি প্রত্যেকদিন একজনকে নিয়ে
স্বপ্ন দেখে,অথচ তাকে বলেনা এটা কি করে
হয়।তোর পেটে পেটে এত বুদ্ধিরে
কাকতাড়ুয়া...(শর্মি)
~হুম ভেবেছিল ডুবে ডুবে জল খাবে আমরা কিছু
টের পাবনা...(রাফি)
~তাইতো সেদিন যখন শুভ্র বিথীকে স্বপ্নে
দেখেছিল আর বলছিল রাগে ফোস ফোস
করছিল,আর ওই যে কয়েকদিন ভার্সিটিতে আসতে
দেয়নি এটা তো মায়ার কাজ।তারপর শুভ্রকে দেখার
জন্য আমাদের ওর বাসায় যেতে কে রাজি
করিয়েছিল...মায়া...(শর্মি...)
~আরে তোরা কি ভেবে দেখেছিস...কাকতাড়ুয়ার
পাশের বাসায় কিন্তু মায়া থাকে...(রিমন)
~হুম সেদিন যখন রিমনকে সিগারেট দিল,সেদিন
আমাদের আসার অনেক পরেই মায়া শুভ্রদের বাসা
থেকে বেরিয়েছিল, সেদিন কিন্তু কান ধরে
উঠবস করিয়েছিল...(শর্মি)
~তারপর বিথীকে আনতে যাওয়ার কথা ছিল শুভ্র
আর শর্মির,সেখানে মায়া কিন্তু বাধা দিয়েছিল...
~আহা থাম না তোরা দেখছিস না বেচারী লজ্জা
পেয়েছে...(আমি)
~না থামব না,তোরা করতে পারিস আর আমরা সেটা
বলতে পারবনা...
~বল না কে থামায় তোদের...(আমি)
~ও সব বললে হবে না চান্দু,আর এই যে ঝিনুক
ম্যাডাম আপনার সুদর্শন মুখখানি আমাদের একটু দেখান
এবার...(শর্মি)
~স্যরি তো...(আমি)
~স্যরি ফরি তে হচ্ছেনা,কঠিন শাস্তি হবে
তোদের....
~কি শাস্তি...?(আমি)
~জীবনে তো কোন মেয়েকে প্রপোজ
করতে পারলিনা,অবশ্য মায়া যদিও তোকে গিলে
খেত,তাই আজকে তোকে আমাদের সামনে
প্রপোজ করতে হবে...
~ধুর ওসব বাদ,আজ না রিমনের বিয়ে যা না ওদিকে যা
আমাদের জ্বালাচ্ছিস কেন...(আমি)
~বাব্বা বিয়ের আগেই এমন,বিয়ের পর তো
আমাদের দেখতেই পারবিনা...(শর্মি)
~তাই বলেছি নাকি...?(আমি)
~তাহলে প্রপোজ কর..(রাফি)
~নাহ।(আমি)
~প্রপোজ তো তোকে করতেই হবে...
(শর্মি)
~আমাকে দিয়ে হবেনা কেন বুঝতে চাইছিস না...
(আমি)
~শেষবার বলছি...
~আচ্ছা ভালবাসি ব্যাস....
~কাকে বললি আমাকে.(শর্মি)
সবাই হাসাহাসি করছে,আর ঝিনুক মানে মায়া আমার দিকে
কটমট করে তাকিয়ে আছে...
~তোরা না কোনদিনই ভাল হবিনা,এই জন্যই
তোদের বলিনি...
~ওসব বললে হবেনা.তাড়াতাড়ি প্রেমিকের মত
প্রপোজটা করে ফেল দেখি...
~ভালবাসি তোকে আকাশে মিশে থাকা নীলের
মত...
~তুই হবে না তুমি বল,আমরা জানি তোরা ফোনে
তুমি আমি করে কথা বলিস...
~সবই তো জানিস তোরা ফইন্নি....(কেঁদ
ে কেঁদে বললাম,কপালে যে আজ কেমন খারাপি
আছে আল্লাহই জানে)
~ভালবাসি,ভালবাসি,ভালবাসি,সত্যিটা তোমার জানা ভীষন
দরকার...আর তোদেরও...
মায়ার হাত ধরে নিয়ে দৌড় দিলাম।আর কিছুক্ষন থাকলে
শয়তানগুলো পাগল করে ফেলত।সবটাই জেনে
গেছে।ভেবেছিলাম বিয়ের আগে কাউকে
বলবনা আমার ঝিনুক কে..?
কিন্তু এই পাগলীটা যে ভীষন অগোছালো...
সে জন্যেই হয়ত এত বেশি ভালবাসি ওকে..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now