বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ল্যাবে ঢুকেই থমকে গেল তুষার । ওর গ্রুপমেটদের সাথে
ওই নতুন মেয়েটা কে ?
কাছে যেতেই হাত বাড়িয়ে দিল নতুন মেয়েটা । ‘হাই, আমি তৃণা ।
তুমি নিশ্চয় তুষার । তোমার কথা গ্রুপমেটদের কাছে শুনতে
শুনতে মুখস্থ হয়ে গেছে একেবারে !’
যান্ত্রিক ভাবে করমর্দন করল তুষার । জানতে পারল অন্য একটা
ভার্সিটিতে ছিল তৃণা । মাইগ্রেট করে ওদের ভার্সিটিতে জয়েন
করেছে । পুরো ব্যাপারটাই তুষারের পছন্দ হচ্ছে না ।
কেন পছন্দ হচ্ছে না – সেটা বুঝতে ল্যাবে মাত্র আধ ঘন্টা
কাটানোটাই যথেষ্ট ছিল ।
যেকোন বিষয়ে তৃণার সিদ্ধান্ত একবাক্যে মেনে নিচ্ছে
প্রত্যেকটা গ্রুপমেট । তানভীর তো বাতাসের আগে আগে
ছুটে যাচ্ছে যা কিছু দরকার আনতে । দু-একটা সিদ্ধান্ত পছন্দ না
হলে তুষার আপত্তি করে গেলেও লাভ কিছু হল না । মনে
হচ্ছে ও অদৃশ্য । অথচ তৃণার সামান্য ইঙ্গিতেই লাফালাফি করে
হুকুম তামিল করে যাচ্ছে বিশ্বাসঘাতকগুলো ।
গ্রুপের সবার মনযোগ মেয়েটার দিকে । সজীবটা আবার
বেহায়ার মত হেসেও যাচ্ছে ।
মাত্র দুই সপ্তাহ ভার্সিটির বাইরে ছিল ও । ফুটবল খেলতে গিয়ে পা
ভালভাবেই মচকেছিল । তাতেই আধিপত্য বলতে আর কিছু
থাকছে না মনে হয় । রাগে দাঁত কিড়মিড় করল তুষার । এতদিন এই
গ্রুপটার মধ্যে ওরই ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য । তাছাড়া সবাইকে কাজ
করার সুযোগ করে দিত ও – যাতে সবাই-ই শিখতে পারে । জটিল
কোন সমস্যায় আটকে গেলে তুষারই ছিল সবার উদ্ধারকারী ।
কথায় কাজ হবে না বুঝে চুপচাপ ল্যাবের সময়টা পার করে দিল
তুষার ।
*
‘মামা, একটা বেনসন দেন।’
শরীফ মামার চায়ের দোকানে এসেই সিগারেট ধরালো তুষার ।
তৃণা চোখের সামনে থেকে দূর হওয়ার পর থেকেই তানভীর
সজীব আর রাশেদ আগের মতই ব্যবহার করছে তুষারের
সাথে ।
তুষারের মন-মেজাজ ভালো নেই বুঝতে পেরে কয়েকটি
অশ্লীল জোকস ছাড়ল সজীব ।
‘শালা – তোমাদের সুন্দরী মাইয়া দেখলেই আর মাথার ঠিক থাকে
না !’ খেঁকিয়ে উঠল তুষার । ‘দুইটা সপ্তাহ পায়ে ব্যাথা নিয়া পইড়া ছিলাম
সে কথা একটা বার ভাবস নাই – সেটা মানলাম । কিন্তু এখন দেখি
আমাকে চিনতেও পারিস না আর !’
‘দোস্ত – এটা তোর বোঝার ভুল ।’ ওকে শান্ত করার চেষ্টা
করল রাশেদ, ‘আমরা প্রতিদিনই তোকে দেখতে গেছি প্রথম
সপ্তাহ । তারপর তোর অবস্থার উন্নতি হয়েছিল ভালই । তাছাড়া
ভার্সিটিতে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ...’
‘চাপ বেড়ে যাওয়ায় !’ সিগারেটে জোরসে টান দিয়ে বলল
তুষার । ‘নাকি বল তারপরই তৃণা শালি চলে আসায় আর আমাকে
তোদের মনে নাই ?’
‘তোর হবে রে ।’ এতক্ষণে কিছু একটা বলল তানভীর ।
‘কি হবে?’
‘প্রেম ।’
‘মেজাজ ভালো নাই,শালা ।’ উঠেই গেল তুষার, ‘আজাইরা কথা বলবি
তো বল । আমি গেলাম ।’
বন্ধুদের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে বেড়িয়ে গেল তুষার ।
*
ক্লাসে অথবা ল্যাবে – তৃণা হয়ে গেল তুষারের দুই চোখের
বিষ ।
যেখানে যেভাবে পারে – ওকে এড়িয়ে চলে অথবা খোঁচা
দিয়ে কমেন্ট করে তুষার ।
তৃণা আবার এদিক থেকে এক ডিগ্রী উপরে । তুষারকে
দিগন্তরেখায় দেখলেই চিল চিৎকার, ‘তুউউউউউউউউষার ! অ্যাই !!
এইদিকে !!...’
ফর্মালিটি রক্ষার্থে দুই-একটা কথা বলতেই হয় ।
পার হয়ে গেল এভাবেই চারটা মাস ।
শরীফ মামার দোকানে একদিন ক্ষোভে ফেটে পড়ল তুষার ।
‘নিজে এক ভার্সিটি থেকে ভেগে গেছে শালি এখন আমাকে
তাড়াতে চায় !’
‘তৃণার কি দোষ ?’ দোষী পক্ষের উকিল দাঁড়িয়ে গেল
তানভীর ।
‘খুব ভালো করে জানে ওকে সহ্য করতে পারিনা । ইচ্ছে
করে সামনে আসে – গায়ে পড়ে কথা বলতে চায় ! আইডিয়া কি
ওর না তোরা আমার পিছনে লাগিয়ে মজা নিচ্ছিস ?’
‘তুই একটু বেশিই ভাবছিস । আমার মনে হয় মেয়েটা তোকে
পছন্দ করে ।’ স্বভাবসুলভ অল্প কথায় কাজ সাড়ল রাশেদ ।
‘তোর মাথা আর মুন্ডু । আমার ডিস্টার্বড মুখ দেখে বেয়াদবটা
মজা পায় – আর কিছু না ।’ মেনে নিতে রাজি নয় তুষার ।
‘বেয়াদব’টা যে শুধু তুষারের বিরক্ত মুখ দেখে মজা পায় – এই
ধারণা পরের সপ্তাহেই ভুল প্রমাণিত হয়ে গেল ।
রাতের বেলায় ফেসবুকে তৃণার মেসেজ পড়ে গরম চায়ে
ঠোঁট পুড়িয়ে ফেলল তুষার ।
‘এত ইগনোর কর কেন ? চোখ দেখনি আমার একবারও ?
বোঝনা এতটা রুড বিহেভের পরও কেনই বা তোমার সামনে
পড়ি ? আমার ভবিষ্যত তোমার হাতে বাঁধা । সিদ্ধান্ত তোমার । জানিও
আমায় । তোমাকে ছাড়া জীবনটা পার করার কথা ভাবতেও পারি না ।’
সকাল সকাল রাশেদ – তানভীর – সজীবের ডাক পড়ল শরীফ
মামার দোকানে ।
ঘটনা শুনে উৎফুল্ল সবাই ।
‘মাম্মা !! তোমার তো হইয়াই গেল ।’ পিঠ চাপড়ে দেয় সজীব
উচ্ছ্বাসে ।
‘শরীফ মামা, বিল তুষারের । বেনসন দেন চারটা ।’ রাশেদ বলে ।
‘বলবি কি ওকে ?’ কনক্লুশন চায় তানভীর, ‘মেয়েটা কিন্তু
জোস ! রাজি হইয়া যা বলদ।’
‘এমন ভাব কেন নিচ্ছিস যে আমার জীবনের গল্প তোরা জানিস
না ?’
বিষাদের ছায়া নেমে আসে চারজনের ছোট্ট সার্কেলটিতে ।
*
তুষারের বাবা এক বছর আগে মারা গেছেন । মৃত্যুশয্যায় তাঁর
একটাই কথা – বন্ধুকে দেওয়া কথার যেন খেলাপ না হয় । তাঁকে
যেন ওয়াদা খেলাপকারী বানানো না হয় । তুষার নিজে বাবার হাতে
হাত রেখে বলেছে – সেদিকটা ও নিশ্চিত করবে । তখনও ও
জানত না ঠিক কি বিষয়ে কথা বলছে বাবা ।
আগে কখনও ওর সামনে এর আলোচনা হয় নি । বাবার মৃত্যুর পর
মা জানায় ওকে পুরো কাহিনী ।
তুষারের ছেলেবেলা কাটে চট্টগ্রামে । বাবার কর্মস্থল
সেখানেই ছিল তের বছর । তুষারের জন্মও ওখানে । সাত বছর
পর্যন্ত ওখানে ছিল ও । বাবার ছেলেবেলার বন্ধু কাম কলিগ
আরিফুজ্জামানও ছিলেন ওখানে । দুটো পরিবার মিশে গেছিল
ওতোপ্রোতভাবে । তুষারের ছয় মাসের ছোট একটা
মেয়ে ছিল তাঁদের । অনেক বাঙ্গালী বন্ধুদের মতই ঠিক
করেন নিজেদের ছেলে-মেয়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে
সম্পর্ক চিরস্থায়ী করে ফেলতে ।
পরবর্তী এতগুলো বছরের মাঝে কেউই ভুলে যাননি সে
কথা । তুষারের বাবা সিগারেট খেতেন প্রচুর । লাংসে যখন
ক্যান্সার ধরা পড়ল তখন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে গোটা
ফ্যামিলির । বাবাকে নিয়ে ছোটাছুটি করে নি এমন কোন জায়গা
নেই । কিছুতেই কিছু হল না । অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে
যেতেই থাকল । মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে ছেলেকে
প্রতিজ্ঞা করিয়ে যান তিনি ।
‘বাবার দেওয়া কথা আমার কাছে আমার জীবন থেকেও
গুরুত্বপূর্ণ । রাজি হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না ।’ শেষ কথা
তুষারের ।
*
রেস্টুরেন্টের নিরিবিলি কোণায় বসে তুষার আর তৃণা । এই
জায়গায় ওকে একরকম ধরেই এনেছে তৃণা ।
আড়চোখে মেয়েটাকে দেখল তুষার । লজ্জা পাচ্ছে মনে
হয় । মাথা নিচু করে বসে আছে একটা উত্তরের আশায় । নারীর
লজ্জার সাথে সৌন্দর্য্যের একটা যোগসূত্র আছে মনে হয় ।
গালের লালচে আভা আর নিচের ঠোঁট আলতো করে
কামড়ে ধরায় তৃণাকে আরও সুন্দরী লাগছে । চুলের রেখা
গুলো চোখের গরাদ দিয়েছে । বুকের ভেতর খালি খালি
লাগল তুষারের । এত সুন্দর একটা মেয়েকে কষ্ট দিতে হবে
ভেবে । কান্নাকাটি না লাগালেই হয় । সুন্দরী একটা মেয়ের
কান্না দেখার চেয়ে দূরবর্তী কিছুই নেই তুষারের কাছে।
ধীরে ধীরে ওকে খুলে বলল তুষার । ওর জীবনের
গল্প । ছেলেবেলার অদ্ভুত সেই সিদ্ধান্তের কথা ।
শুনতে শুনতে পানি জমে ওঠে তৃণার চোখের কোণে ।
ভূতের মত বেরিয়ে পড়ে দুইজনে ।
আজ কি যেন হয় তুষারের । তৃণাকে বাসায় পৌঁছে দেয় ও ।
নিজের বাসায় ফিরে আসার সময় অদ্ভুত একটা খারাপ-লাগা অনুভূতি কাজ
করে ওর ভেতর ।
বাবার কথা ভেবে মাথা থেকে বের করে দেয় সবকিছু ।
*
তিনটি দিন পার হয়ে গেছে ।
ভার্সিটি যেতে আর ইচ্ছে করে না তুষারের ।
বন্ধুদের ফোন অগ্রাহ্য করে । আর ছয়টা মাস পরই ভার্সিটি-
জীবন শেষ ওর । এর পরই মা বিয়ের কথা টানবেন ।
আজকাল ঘুরে ফিরে শুধু তৃণার মুখটাই ভেসে ওঠে তুষারের
মনে । আসলেই কি ও মেয়েটাকে দেখতে পারত না ?
একটা কথা ঠিক – তিক্ত একটা অনুভূতি প্রথম প্রথম ওর ভেতর কাজ
করছিল যখন ওকে প্রথম দেখে । কারণ ওর মনে হয়েছিল
বন্ধুদের থেকে দূরত্বের জন্য তৃণাই দায়ী । যদিও মেয়েটার
দোষ আসলে ছিল না । অথচ – এর ওপর ভিত্তি করেই অসংখ্যবার
ওকে অপমান করে তৃতীয় কাওকে কিছু বলেছে তৃণার
সম্পর্কে, তৃণার সামনেই । মেয়েটার হাসিখুশি মুখ অনুজ্জ্বল
হয়ে যেতে দেখে ভেতরে ভেতরে তৃপ্তি পেয়েছে
।
আজ প্রথম যেন উপলব্ধি করল – তৃণাকে ও ঘৃণা করত না –
মেয়েটাকে ওর ভালই লাগত । শুধুই ভালো লাগত ? গত তিনদিনের
প্রতিটি সেকেন্ড কেন তাহলে তৃণা ওর মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে
। বুঝল তুষার – আর লুকিয়ে লাভ নেই – এই কয় মাসে তৃণার প্রতি
কখন ওর তীব্র একটা ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে – ও জানে না ।
জানতেও চায় না ও । আজ মনে হচ্ছে – শুধুই একটা
ছেলেমানুষী সিদ্ধান্তের জন্য ওর জীবন পালটে ফেলার
কোন ভালো কারণ নেই । কেন ওকে বিয়ে করতে হবে
সেই মেয়েকে – যার কথা ওর মনেই নেই ঠিকমত ?
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তুষার । তৃণার মোবাইল নাম্বার ওর কাছে
নেই । শুধু ফেসবুক আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ হত ।
এখন ভার্সিটিতে ওদের থাকার কথা । পোশাক পরে বাইরে যাওয়ার
জন্য প্রস্তুত হয় তুষার ।
ঠিক এই সময় মা ঘরে ঢোকে ।
‘আরিফুজ্জামান ভাই তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন । বিয়ের
ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চান উনারা ।’
‘খ্যাতা পুড়ি!’ মনে মনে বলে তুষার ।
মুখের অবস্থা দেখেই মনের কথা পড়ে ফেলেন মা,
‘ছেলেমানুষী সিদ্ধান্ত নিয়ে উনি সচেতন । তোদের মতামত
জানতে চান কেবল । মুখদর্শনের ব্যাপার শুধু – বাবা । এরকম মুখ
কালো করিস নে ।’
*
ছেলে-মেয়েকে নিজেদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ
দিয়ে হাওয়া হয়ে গেলেন অভিভাবকদ্বয় ।
‘তৃণা !’ আনন্দের সাথেই অবাক হয় তুষার । ‘তুমি আমাকে আগে
বলনি কেন??’
‘আজ তোমাকে অন্য কিছু বলতে এসেছি তুষার ।’ বিষন্ন গলায়
বলে তৃণা, ‘তুমি এখন আমাকে জীবনসঙ্গী করতে রাজি, তাই
না?’
‘সানন্দে ! তৃণা তুমি জানো না একয়দিন আমার -’
তুষারকে বাক্য শেষ করতে দেয় না তৃণা । ‘আমার জন্য কোন
অনুভূতি নেই তোমার তুষার। তোমাকে আমি কিভাবে বিয়ে করি
বল ? তুমি কেবলই রাজি হচ্ছ তোমার বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণের
লক্ষ্যে । এমনটা হবে আমি জানতাম । সেজন্যই আমার ভার্সিটি
মাইগ্রেট করে তোমার কাছে আসি আমি । ছেলেবেলা
থেকেই তোমাকে হাজব্যান্ডের জায়গা দিয়ে এসেছি । আমি
জানতাম বাবা-মার ইচ্ছের কথা । সেখান থেকে কখন যে
তোমাকে ভালোবেসে ফেলি ! কিন্তু জানি তোমার মধ্যে
কখনও আমার প্রতি কিছুই ছিল না । তোমার ভার্সিটিতে তোমার
কাছে এসে চেয়েছিলাম নিজের স্থানটা করে নিতে । কিন্তু হল
কই ?’ চোখ মোছে তৃণা । ‘শেষ পর্যন্ত তুমি সেই
প্রতিজ্ঞাকেই বিয়ে করতে যাচ্ছ । আমাকে না ।’
‘তুমি সব না শুনে এসব ধারণা করতে পার না, তৃণা ’ তৃণার দিকে সরাসরি
তাকায় তুষার, ‘গত তিনদিন আমি খুব ভালোভাবেই ভেবছি আমাদের
ব্যাপারে । আমার মনে হয়েছে – বিয়ের ব্যাপারটা একটা
প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে ঠিক করে ফেলার মত বড় ভুল আর কিছুই
হতে পারে না। আমি আজই তোমার কাছে যেতাম । আমার
সিদ্ধান্ত তোমাকে যেতে । তৃণার কাছে যেতাম । প্রতিজ্ঞার
কাছে না ।’
‘মিথ্যে বলে আমাকে ভুলিও না, তুষার – প্লিজ।’ রীতিমত কাঁদছে
তৃণা ।
‘সত্য-মিথ্যা যাচাই-এর আগে – একটি বার কি তোমার ফেইসবুক
অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, তৃণা ?’
মোবাইল বের করে ফেসবুকে ঢোকে তৃণা । একটি নতুন
মেসেজ ।
‘মাসের পর মাস নিজের সাথে লুকোচুরি খেলে আমি ক্লান্ত ।
আমার ভবিষ্যতও যে তোমার হাতে বাঁধা । সিদ্ধান্ত আমার –
বলেছিলে তুমি । আমি তোমার হতে চাই । উইল ইউ ম্যারি মি ?’
তুষারের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অঝোরে কাঁদে তৃণা । তবে এ
কান্না স্বস্তির – আনন্দের ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now