বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনে প্রথম প্রপোজ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আজ জীবনে প্রথম কাউকে প্রপোজ করলাম, ওকে ভালো লেগেছিল তাই আজ মনের কথাটা জানিয়ে দিলাম কিন্তু এখন এ কথা শুনতে হচ্ছে। কপালটাই খারাপ, জীবনে আজ কাউকে ভালবাসার কথা মন খুলে বললাম কিন্তু সে ওই উপরের মহা উক্তিটা শুনিয়ে দিল। . ওর নাম হলো দিপা, আর আমি রিদওয়ান। দুজনে একই ক্লাসে পড়ি, অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে, খুব ভালো বন্ধু আমরা, তবে আজ কেন জানি কি মনে করে ভালবাসার কথা জানালাম, আমি নিজেই জানি না। . কয়েক দিন ধরে বেস্ট ফ্রেন্ড গুলো এতো বিরক্ত করছে যে আর কি বলবো, ওরা সবসময় বলছে দিপাকে প্রপোজ করতে, কিন্তু আমার কোনো ফিলিংস এখনো হয়নি। এমনিতে ওকে ভালো লাগে, শুধু ওকেই ভালো লাগে, ওর মতো আর কাউকে কেন যেন ভালো লাগতে চায় না। . ওকে ভালো লাগে বলে ওর সাথেই বেশীরভাগ সময় কাটাই কলেজে। আবার রাতে একটু ফেসবুকে চাটিং আর ওর যদি ইচ্ছে হয় তাইলে ফোন দিয়ে ফোনে কথা বলি, আমার এমন আচরণ দেখে সব বন্ধুরা পেছনে পড়ছে, আমি যেন দিপাকে প্রপোজ করি। কিন্তু এখনো ভালবাসার মতো এমন ফিলিংস আমার মনে জন্ম নেয়নি, শুধু বন্ধু গুলোর জন্য এ কাজ করছি। তবে বোধ হয় আমার এই ভালো লাগায় থেকেই একদিন হয়তো ওকে মন প্রাণ দিয়ে ভালবেসে ফেলবো। আমার এটাই মনে হয়। . এখন আসি আমাদের কথোপকথনে,,, - এই দিপা শুন, - বল, - আমার উওরটা দে, - বললাম না, জুতা মারবো। - উফফফ, বল না একবার ভালবাসি!!! - যদি না বলি তাইলে কি করবি? - কি আর করবো!!! ব্যর্থ প্রেমিক হয়ে চুপ করে চলে যাব। - তাহলে তাই যা। - দিপা আরেক বার ভেবে দ্যাখ, আমি তোকে ভালবাসি, একটু বুঝতে চেষ্টা কর। - আমার বোঝার দরকার নাই,, তুই চুপ করে চলে যা,,নয়তো জুতা খুলবো। - দ্যাখ, কাউকে কোনো দিন ভালবাসিনি, কিন্তু তোকে ভালবাসছি, তাই আমার ভালবাসার কথা বলে দিছি, এভাবে ফিরিয়ে দিস না প্লিজ। - অন্য কাউকে ভালবাস যা, - আমার ভালবাসা বুঝলি না,, - তুই গিয়ে অন্য কাউকে বোঝা যা,, - শেষ বার বললাম, আমি তোকে ভালবাসি। -দাড়াঁ জুতা খুইলা নই। - থাক, আর খুলতে হইবো না, যাচ্ছি। - ভাগ, হারামজাদা,,, . বুক ভরা রাগ, অভিমান আর আফসোস নিয়ে সেখান থেকে বাসার দিকে রওনা হলাম। এখন বন্ধু গুলোকে আমার মুখ দেখাবো কেমনে? আমি কি করে ওদের কে গিয়ে বলি, দিপাকে প্রপোজ করছে বলে ও আমাকে জুতা নিয়ে মারতে আসছিল। এটা যদি ওদের বলি তাহলে নিশ্চিত ওরা আমাকে এ সারা বছর এই অপমানের জন্য সবসময় আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবো। আইডিয়া,,,, ওদের কে বলবো আমি দিপাকে প্রপোজ করি নাই, আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড, এর বেশী কিছু আর আমি আশা করি না। . পরের দিন কলেজ ক্যাম্পাসে গেলাম,, . - কি রে দোস্ত, কি খবর? ( রিশান) - কি খবর চাস? - আমরা এখানে সবাই তোর কালকের প্রেম কাহিনী শুনতে বসে আছি আর তুই বলছিস কিসের খবর? - আরে কার প্রেম কাহিনী? - ভুলে গেলি নাকি? গতকাল না তোর দিপাকে প্রপোজ করার কথা ছিলো। - তোর এতো দরকার তুই গিয়ে প্রপোজ কর, আমার দরকার নাই। - কি কস এইগুলা? - আমি আর ও শুধু বন্ধু, এর চেয়ে আর বেশী কিছু হওয়ার দরকার নাই। - তাহলে কাল তুই ওকে প্রপোজ করস নাই? - না। ( ডাহা মিছা কতা) - ওহ্, তাহলে আর কি করার? চল ক্লাসে চলে যাই। - চল, চল ( সবাই বললো একসাথে) - আচ্ছা, চল। . ক্লাস শেষে ছুটির সময় গেট দিয়ে যখন বের হচ্ছিলাম তখন আবার একটা মেয়ে ডাক দিল। - এই ভাইয়া শুনেন, - জ্বী, বলেন, - আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যাবেন? - আমার সাথে মানে!!!! কই? আর আপনি কে? - আপনি বোধ হয় আমাকে চিনেন না কিন্তু আমি আপনাকে ভালো করে চিনি। - কি করে? - আমি বর্ষা, অনার্স ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হলাম গত পরশু দিন। আমি আপনাদের বাসায় পূর্ব পাশে যে ফ্লাট টা আছে, ওইটাই থাকি আর ওটা আমার নানুর ফ্লাট। কয়েক দিন আগেই আসছি এখানে আর এখানে এসেই পড়াশোনা শুরু করছি। আগে অন্য জায়গায় থাকতাম মা বাবার সাথে কিন্তু এখন ভালভাবে পড়াশোনা করবো বলে নানুর কাছে এসে পড়ছি, আর নানু বললো কলেজ থেকে আসার সময় আপনার সাথে আসতে। আর সকালে যখন নানু কাজে যায় তখন নানুর গাড়ি করেই আমাকে কলেজে রেখে যায়। - তাহলে আফজাল চাচা আপনার নানু? - জ্বী। - ওনার তো কাজে থেকে আসতে অনেক দেরী হবে। কিন্তু আমার সঙ্গে একসাথে রিক্সা করে যেতে আপনার সমস্যা হবে না? - না ভাইয়া, কোনো সমস্যা হবে না, চলুন। - আচ্ছা। . তারপর ওই মেয়েটাকে সাথে করে এক রিক্সা নিলাম তারপর দুজনে মিলে বাসার দিকে রওনা হলাম। রিক্সায় উঠে ভাবছি, দিপা বোধ হয় আমার উপর অনেক রেগে আছে, যার কারণে ও আজ আমার সাথে কথা বলে নাই। না বলুক, তাতে আমি কি করবো? আমার সাথে কথা না বললে তো ওর কিছু যায় আসে না। বন্ধু হিসেবেও না, ভালবেসেও না। আমিও আর উপর দিয়ে কথা বলতে যাব না। ও বললে বলবে, নয়তো নাই। . তারপরের দিন সকাল বেলা,,, কলেজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হইছি, বাসা থেকে বের হয়ে বাসার নিচে রাস্তায় এসে দাড়ালাম রিক্সায় উঠার জন্য। আর তখনই দেখি আফজাল চাচা আসলো বর্ষাকে নিয়ে। . - বাবা শুনো, - হ্যাঁ, চাচা বলুন, - ওকে একটু তোমার সাথে নিয়ে যাও তো। আমি আজ অফিসে যাব না। - আচ্ছা, চাচা। - আবার আসার সময় একসাথে নিয়ে আইসো। জানই তো আজ কাল কার দিন গুলো ভালো না। ছেলেরা সবসময় মেয়েদের পিছনে পড়ে থাকে কিন্তু তুমি আমার কাছের মানুষ, তাই তোমাকে বিশ্বাস করে ওকে কলেজে নেওয়ার দায়িত্বটা দিলাম, দেখো আবার যেন কোনো সমস্যা না হয়। - চাচা আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। ওর কিচ্ছু হবে না। - আচ্ছা তাহলে আসি। দেখে শুনে যাইয়ো। - ঠিক আছে চাচা। . তারপর চাচা চলে গেল আর তখনই এক রিক্সা আসলো তারপর দুজনে মিলে চড়ে বসলাম। দেখি বর্ষা খুব চুপচাপ লাজুক ভাবে বসে আছে,, তাই আমিই কথা বললাম,,, . - দেখুন আপনার নানা যে কথাটা বলছে ওটা কিন্তু একদম ভুল। - কোনটা? - এইযে বললো, ছেলেরা সবসময় মেয়েদের পেছনে পড়ে থাকে। - ভুল কি বললো? - সবাই কিন্তু একরকম না। - হুম, জানি। আপনি কয়টা মেয়ের পেছনে ঘুরছেন? - একটাও না। আমি মেয়েদের পেছনে ঘুরার মতো ছেলে না। - বাব্বা, তাই নাকি? - হ্যাঁ, তবে একজনকে ভালো লাগতো। তাকে সেদিন প্রপোজ করি, সে না করে দেয়। ব্যস, তারপর আর তার সামনে যাইনি। - ওমা তাই!!!! - আমি যাকে যা বলি একবারই বলি, বারবার বলি না। আমার ওকে ভালো লাগতে তাই সেদিন প্রপোজ করছি, কিন্তু ও না করে দিছে। একবারই করছি প্রপোজ, বারবার করতে পারবো না। - তাহলে তো দেখছি আপনি এক কথার মানুষ। - তাও বলতে পারেন। - তো কে সেই ভাগ্যবান যাকে আপনি প্রপোজ করছিলেন। - দিপা, আমার সাথেই পড়ে। - ইসসসস, বেচারি বুঝলো না। - কি যে বলেন? ও হয়তো আরও ভালো কাউকে ভালবাসে। আরেক জনকে ভালবাসলে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়াই স্বাভাবিক। - হুম, তা ঠিক। - চলুন এবার, এসে পড়ছি। - আচ্ছা। . তারপর রিক্সা থেকে নেমে কলেজের ভেতর চলে গেলাম। এরপর থেকে প্রতিদিনই ওই মেয়েটা আমার সাথে যাওয়া আসা করতো। আমার একটু অস্বস্তি লাগতো ও আমার সাথে আসে বলে কিন্তু শুধু চাচার জন্য কিছু বলতে পারি না। তাই ওকে আমার সাথে নিয়ে আসতাম। . কিছুদিন পর,,, . এখন দিপার সাথে দেখা হয় কিন্তু কথা হয় কম। শুধু দরকার হলে একটু কথা বলি তাছাড়া আর না। তারপর একদিন,,, - রিদওয়ান শুন, - কিছু বলবি? - এখন তো তোর আর আমাদের জন্য সময়ই নাই, তাই না? - হটাৎ এ কথা? - এখন বেশী কথা বলিস না আমাদের সাথে, সবসময় দেখি জিএফ নিয়ে পড়ে থাকস। - জিএফ মানে!!! - এহ্, ন্যাকামী, কিছু বুঝে না। বর্ষা কে হু? - ও আমার জিএফ না। পাশের ফ্লাটে থাকে আর ওই ফ্লাটের চাচা বলছে ওকে সাথে করে নিয়ে আসতে তাই আসি আর ও আমার জিএফ হতে যাবে কেন? - তা নাহলে সবসময় ওর পিছনে পরে থাকিস কেন? - সবসময় কই? শুধু কলেজে আসার সময় আর যাওয়ার সময়। কেন? তোর কি হইছে? - না, আমার আর কি হবে? চোখে পড়লো তাই বললাম। - আচ্ছা, - এখন আসি রে, - আচ্ছা। . দিপা কেন যেন আজ মন খারাপ করে চলে গেল, কিছু বুঝতে পারলাম না। আমার এতো বুঝে কাজ নাই। আমি ক্লাসে যাই। সারাদিন ক্লাস করলাম আবার ছুটির সময় রাস্তায় দাড়িয়ে আছি,,, . - এই শুনেন,, - কি হইছে? - আজ গেটের সামনে দাঁড়ালেন না কেন? - আরে তোমার জন্য আমি প্রতিদিন ওখানে দাড়িয়ে থাকবো কেন হ্যাঁ? সবাই কি বলে? ( এখন তুমি করেই বলি) - কি বলে? ( মাথা নিচু করে) - আমার ক্লাসের সবাই বলে তুমি আমার জিএফ। বুঝতে পারছো, তখন আমার কেমন লাগে? - লজ্জা করে খুব তাই না? - চুপ, হাসলে থাপ্পড় দিয়ে দাতঁ ফেলে দিমু। যত্তোসব,, একা একা আসতে পারো না? অন্য মেয়েরাও তো আসে একা। তুমি আসতে পারো না কেন? - এভাবে বলছেন কেন? ( মন খারাপ করে) - তো কেমনে বলবো? - আচ্ছা, আর আপনার সাথে আসবো না। আজকে শুধু নিয়ে চলুন। - আচ্ছা, চলো । . তারপর ওকে নিয়ে আবার বাসার দিকে রওনা হলাম। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে একসাথে আসার সময় একটু বেশী বকবক করছে কিন্তু আজ খুব চুপচাপ। কিন্তু একটু পরই আবার শুরু করলো, . - একটা কথা বলবো? - বলো। - এখন যদি দিপা আপনার কাছে ফিরে আসতে চায় তাহলে আপনি ওকে মেনে নিবেন? - নিতে পারি। - তাছাড়া ওর আগেই যদি অন্য কোনো মেয়ে আপনাকে ভালবাসে তাইলে তাকে মেনে নিবেন? - নিতেও পারি আবার নাও নিতে পারি। - ওহ্, - হটাৎ এ কথা বললে কেন? - না, এমনি। . তারপর আবার চুপ করে রইলো। তারপর আর কোনো কথা বলেনি। আজ একেবারে অপর সাইডে চেপে বসে আছে আর কথাও বলছে কম। কথা কম বলাই ভালো, আমার আবার বেশী কথা বলা মানুষ পছন্দ না। . পরের দিন সকাল বেলা,,, . রিক্সার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছি, মনে হচ্ছে আজও বর্ষা আমার সাথে যাবে। কিন্তু কয়েকটি রিক্সা চলে গেল আর আমি ওর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিন্তু আরও কিছুক্ষণ থাকার পর আর পারছি না, সময় চলে যাচ্ছে তাই আমি একাই চলে আসলাম। কালকের জন্য হয়তো রাগ করছে, তাই আর আমার সাথে আসে নাই। রাগ কমলেই আবার আসবে। আজকে বোধ হয় ও আর কলেজে যায় নাই। আমি চলে যাই। . কলেজে গিয়ে আমার ক্লাসের দিকে যেতেই দেখি সিড়ির ধারে বসে আছে। কি ব্যপার!! ওর ক্লাসে না গিয়ে এখানে বসে আছে কেন? - এই বর্ষা। - ও, ( মাথা উচুঁ করলো) - কার সাথে আসছো? - কার সাথে আর আসবো, একাই আসছি। - কি হইছে? চোখ এতো লাল কেন? রাতে ঘুমাওনি? - না, এমনি কিছু হয়নি। আমি আসি। - এই দাঁড়াও। - কি? - কালকের জন্য আমার উপর রেগে আছো তাই না? - রেগে থাকবো কেন? আপনি তো ঠিকই করছেন। - না, ঠিক করিনি। রাতে কেন যেন তোমার জন্য খারাপ লাগলো তাই সরি বলতে আসলাম। সরি,,, কালকে তোমাকে ওভাবে বলা ঠিক হয়নি। - আচ্ছা ঠিক আছে। ( মেঘলা মুখে হাসি ফুটে উঠলো ) . তারপর থেকে ও আর আমার সাথে আসতো না, শুধু দেখা হলে একটু আকটু কথা বলতো। তাছাড়া আর কিছু না। এখন একাই আসতো কলেজে। আমাকেও নিয়ে আসতে বলতো না আর ওর নানুর সাথেও আসতো না। সবসময় একাই আসতো। . আর আমার সাথে আগে যেভাবে বকবক করছে কিন্তু এখন কারও সাথে বেশী কথাই বলে না, খুব চুপচাপ থাকে। . মাঠের এক কোণে একা একা বসে আছি আর তখনই আবার দিপা আসলো। - কি চান্দু মন খারাপ, বর্ষার সাথে ব্রেকআপ হইছে? - পাগল নাকি তুই? ওর সাথে আবার আমার রিলেশন হলো কবে? - আমার তো বিশ্বাস হয়না তুই ওর সাথে প্রেম করস নাই। - আচ্ছা, ওকে ডাক দে তারপর ওকে জিগেস কর যা। . তারপর বর্ষাকে ডাক দিলাম,, - এই বর্ষা, আমি নাকি তোমার সাথে প্রেম করছি? - কে বললো? - এইযে সামনে বসে আছে, মহারাণী। - না আপু, ওনার সাথে আমার সেরকম কোনো সম্পর্ক নাই। আমাদের মাঝে তো ফ্রেন্ডশীপও তৈরি হয় নাই। আমি তো ওনার জন্য একটা ঝামেলা ছিলাম শুধু নানুর জন্য ওনি আমাকে সয্য করছে কিন্তু এখন আর ওনার সাথে আসি না। আপু আপনারা গল্প করেন আমি আসি। . তারপর বর্ষা চলে গেল,, - কি, এবার বিশ্বাস হলো তো। - হুম, হলো, - এবার যা, ভাগ। - কেন? যাব কেন? আমাকে না তুই ভালোবাসতি, এখন তাড়িয়ে দিচ্ছিস কেন? আমিও কি ঝামেলা হয়ে গেলাম নাকি এখন? - জানি না,, - জানি না, কি করে আমি তোমাকে বুঝাই, না বলা কথা আজ বলে দিতে চাই। - এই তোর আবার এখন কি হলো বলতো। - জানি না, তবে আমি এখন খুশি, অনেক খুশি। - কেন? - কারণ, আমার জিনিসটা এখনো আমারই আছে। - কি জিনিস? - সেটা আমার পাশেই আছে। - কি? - সময় হলে বলবো। - আচ্ছা। . তারপর দিপা ভাবতে থাকে, আমার জিনিসটা এখনো আমারই আছে আর সেটা হলো তুই। আমিও যে তোকে এখন খুব ভালবাসি। কিন্তু বলতে পারছি না। এতদিন তুই আমার কাছে না আসাতে আর আমার সাথে কথা না বলায় আমি বুঝতে পারছি তুই আমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেদিন থেকে বুঝতে পারলাম আমিও তোকে ভালবাসি, তোকে ছাড়া আমার জীবন একাকার, সেদিন থেকে তোর জন্য রাতে ভালভাবে ঘুমাতে পারিনি। শুধু সারারাত একটা কথাই ভাবছি " আমি কবে তোকে কিভাবে পাব? . কিন্তু আমি যে তোকে এখন প্রপোজ করবো সেই মুখটাও আর এখন আমার নেই। কারণ তুই তো আমাকে একদিন তোর ভালবাসার কথা বলে ছিলি আর আমি তোকে অনেক অপমান করে তাড়িয়ে দিছিলাম আর সেই মুখে এখন আমি তোকে কিভাবে বলি, যে আমিও তোকে খুব ভালবাসি। এ কথা বলতে গেলেই তো এখন আমার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে যায়। . . আমি কিছু বুঝতে পারলাম না, হটাৎ দিপা এমন আচরণ করলো। ধুরর, ও যেরকম ইচ্ছা সেরকম করুক তাতে আমার কি? আমি মরলেও যেমন ওর কিছু যায় আসে না, তেমন আমারও। এখন ভাবছি বর্ষা মেয়েটার কথা। . কেন জানি না খুব মিস করছি ওকে। এতদিন আমার সাথে আসতো কত কথা বলতো, আমার পাশে এসে বসতো। এক রিক্সা করে দুজন পাশাপাশি বসতাম, কিন্তু এখন সেদিন ওই রাগি ভাবে কথা বলছিলাম বলে আমার কাছেই আসে না। খুব মিস করছি ওকে। আবার যদি আমার পাশে এসে বসতো আবার যদি কথা বলতো তাহলে খুব ভালো হতো। . কয়েক দিন পর,,,, . না, আর থাকা যাচ্ছে না। প্রতিদিন বর্ষা এখন আমাকে এড়িয়ে চলে। এর একটা বিহিত করতেই হবে। ও আমাকে এড়িয়ে চলে কিন্তু ও জানে না আমি ওর অপেক্ষা করছি। যেদিন থেকে ও আমার সাথে আসে না, সেদিন থেকে আমি ওকে মিস করছি। রাতে ভালভাবে ঘুমাতে পারছি না। আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে মেয়েটা। সবসময় শুধু এখন ওর কথাই মনে পড়ে। কি করি এখন? তাহলে কি আমি দিপাকে না, বর্ষাকে সত্যি সত্যি ভালবাসি। . দিপার কথা তো আমি এভাবে ভাবতাম না। ওর কথা বেশী মনেও পড়তো না। কিন্তু এই বর্ষা তো আমার মাথা থেকে নামছেই না। সবসময় ওর চিন্তা করছি, ওর চিন্তা কোনো ভাবেই মাথা থেকে যাচ্ছে না। . ভাবলাম এইবার বর্ষাকে প্রপোজ করবো। তাই ওকে কাল দেখা করতে বলবো। অবশ্য ও এখন আমার সামনে আসতে চায় না, কিন্তু আমি তো চাই। ওর নাম্বারও আমার কাছে আছে কিন্তু এতদিন ফোন দেইনি তবে আজ না দিয়েও থাকতে পারছি না। আর কোনো কিছু না ভেবে কল দিলাম। . - হ্যালো, - হ্যালো, - বর্ষা? - জ্বী আমি বর্ষা, কিন্তু আপনি কে বলছেন? - রিদওয়ান, - ওহ্, আপনি, কেমন আছেন? - ভালো, তুমি? - আমি আর কেমন থাকবো!! ভালো থাকলেই দেখে কে আর খারাপ থাকলেই দেখে কে? - এখন থেকে ভাববে একজন আছে। - মানে!!! - কিছু না, কাল একটু কলেজের পেছনে বাগানে সময় নিয়ে দেখা করতে পারবে? - কেন? - পারবে কিনা? - চেষ্টা করবো। - আচ্ছা ঠিক আছে। . তারপর ফোন রেখে ঘুম দিলাম। সকাল বেলা,, কলেজের ব্যাগ আর কয়েকটি ফুল নিয়ে রওনা হলাম কলেজের দিকে। আজ একটু আগেই গেলাম। কারণ খুশিটা আর ধরে রাখতে পারছি না,,, . তারপর কলেজে গিয়ে, পেছন দিয়ে বাগানে চলে গেলাম, সেখানে অনেক সময় বসে থাকলাম কিন্তু এখনো বর্ষাকে দেখতে পেলাম না। তাই ভাবলাম ওর ক্লাসে থেকে ঘুরে আসি, দেখি আসছে কিনা!!! তারপর ক্লাসের দিকে যেতে লাগলাম। . কিন্তু মাঠে গিয়েই দেখা হলো দিপার সাথে, - এই দিপা শুন, - হ্যাঁ, বল। - বর্ষাকে দেখেছিস? - ওই ফাস্ট ইয়ারের মেয়েটা যে তোর সাথে প্রতিদিন আসতো? - হ্যাঁ। - ওকে দিয়ে কি করবি? - কাউকে বলবি না তো? - না, বল, - আমি ওকে ভালবাসি। তাই আজ প্রপোজ করবো বর্ষাকে। - আচ্ছা, যা। দ্যাখ এখন কেবল এখান দিয়ে পেছনের ওই বাগানের দিকে গেল ( কোনো রকম কান্না চেপে রেখে) - থ্যাঙ্কু, ( দিলাম বাগানের দিকে দৌড়) . দিপা এখন কি করছে জানেন? একপাশে দাড়িয়ে আছে চুপচাপ আর চোখ দিয়ে পানির বন্যা বইছে ওর। কারণ ও কোনো দিনও কল্পনাও করে নাই আজ এটা হবে। ও ভাবছিলো রিদওয়ান আজও ওকে ভালবাসে তাই ও রিদওয়ানের অপেক্ষায় ছিলো যে, আবার এসে রিদওয়ান ওকে প্রপোজ করবে। কিন্তু আজ ওর সেই ভুল ধারণাটা ভেঙে গেল। রিদওয়ান আজ ওর সামনে দিয়ে বর্ষাকে প্রপোজ করতে গেল। কষ্টে দিপার বুকটা হাহাকার করে উঠছে। কিন্তু আজ কিচ্ছু করার নেই। সময় থাকতে ও বুঝলো না, তাই রিদওয়ান ওকে ছেড়ে আরেক জনের কাছে চলে গেল। . দিপা ভাবছে একটু বাগানের কাছে যাবে আর আড়াল থেকে দেখবে রিদওয়ান কি করে। তাই ধীরে ধীরে বাগানের কাছে গিয়ে এক গাছের আড়ালে গিয়ে দাড়িয়ে চুপচাপ ওদের দুজনের কথা শুনতে লাগলো। . - এই বর্ষা তুমি এখন আমার কাছে আসো না কেন? - এসে কি করবো? - উফফফ, তুমি বুঝতে পারছো না, তুমি আমার কাছে না আসার জন্য আমি রাতে ভালভাবে ঘুমাতে পারছি না। - কেন কেন? - কারণ, - কারণ কি? - আমি তোমাকে ভালবাসি ( ফুল গুলো ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) - কিইইইই? - সত্যি বলছি। - সত্যি না ছাই, তাইলে সেদিন ওভাবে বকলেন কেন? - আরে তখন তো বুঝতে পারি নাই কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমি তোমাকে ভালবাসি। - আপনি জানেন সেদিন রাতে আমি কত কেঁদেছিলাম? - কেন কাঁদছিলা? - কিছু বুঝে না এখন। আমিও তো আপনাকে অনেক ভালবাসি। সেদিন যখন বললেন আমি আপনার জন্য একটা ঝামেলা, তাই সারারাত ঘুমাতে পারি নাই, সারারাত ধরে কেদেছি, তাই তো সকালে চোখ লাল ছিলো। - তাহলে সেদিন মিথ্যা বলেছিলে কেন?সারারাত না ঘুমানোর জন্য চোখ লাল ছিলো? - আমি কি তাহলে সরাসরি বলবো নাকি আমি আপনার জন্য কাঁদছি? - তাও তো ঠিক। এখন বলো আমাকে ভালোবাসো কিনা? - এই আমি আপনাকে না ভালবাসলে আমি এমনি এমনি আপনার জন্য সারারাত ধরে কাঁদবো কেন? - তাহলে ফুলটা নাও। - আগে কানে ধরেন। - কেন? - এতদিন কষ্ট দিছেন তাই। - আচ্ছা ধরলাম। - এইতো, গুড বয়, এবার হাত ধরেন, - ধরলাম। - চলুন, ওখানে গিয়ে দুজন বসি। - আচ্ছা, চলো। আর এখন থেকে তুমি করে বলবা। - আচ্ছা, তুমি এ কথা না বললেও আমি এরপর থেকে তোমার সাথে তুমি করেই বলতাম। - তাই, - জ্বী। . তারপর দুজন মিলে ওখানে ঘাসের উপর দুজনে একসাথে পাশাপাশি বসে পড়লো, আর দুজন দুজনের হাত শক্ত করে ধরে রইলো। আর দিপা বেচারি এসব সয্য করতে না পেরে তখনই কলেজ রেখে দৌড়ে বাসায় এসে বালিশে মুখ গুজে কাদতেঁ লাগলো। . কারণ ওর জীবন থেকে যে আজ অনেক বড় দামী জিনিস দূরে চলে গেল। ওর ভালবাসা আজ আরেক জনের হয়ে গেল, যে হারায় সে বুঝে, তাই তো রাত দিন হারানো ভালবাসার জন্য কান্না করে। যেমন এখন দিপা কাঁদছে। . আগে তাও রিদওয়ান ওর সাথে একটু আকটু সময় কাটাতো, গল্প করতো। ওকে একটু বন্ধু হিসেবে সময় দিতো। কিন্তু এখন তো আর তাও পাবে না। কারণ এখন রিদওয়ান তো বর্ষার সাথেই ব্যস্ত থাকবো। ওকে সময় দিবে কি করে আর কেনইবা দিবে? . এখন যে দিপার চোখের জল ছাড়া আর কোনো সঙ্গী নাই। এখন যখনই দিপা রিদওয়ান আর বর্ষাকে একসাথে দেখে তখনই ওর সেদিনের কথা মনে পরে যায়, যেদিন রিদওয়ান ওকে প্রপোজ করছিল, আর যখন এ কথা মনে পরে তখনই মাথা নিচু করে দুচোখের দু ফুটা অশ্রু পরে গাল বেয়ে। কিন্তু সে অশ্রু রেশমি কালো চুলের আড়াল বেয়ে পড়ে বলে কেউ দেখে না। ওর অশ্রু দেখা বা মুছিয়ে দেওয়ার মতো কেউ নাই। দিপা যার আশা করেছিল আজ সে আরেক জনের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। . সমাপ্ত,,,, . আপনার খুব কাছের পরিচিত কেউ যদি আপনাকে ভালবাসে তাহলে সে যদি তার ভালবাসার কথা আপনাকে জানায় তাহলে তাকে ফিরিয়ে দিতে নেই, নয়তো তার জন্য একদিন কাদতেঁ হবে। যেমন এখন কাঁদছে দিপা। রিদওয়ান দিপাকে এতটা ভালো না বাসলেও সেদিন যদি ওর প্রপোজ দিপা মেনে নিতো তাহলে আজ রিদওয়ান ওর কাছেই থাকতো, হারাতে হতো না। কিন্তু আজ ওর ওই ভুলের জন্য ওকে দিনরাত কাদতেঁ হচ্ছে। লেখক : Sopner Akash


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now