বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যকের ধন -------- (পর্ব ২১)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " যকের ধন " হেমেন্দ্রকুমার রায় ---------------- (পর্ব ২১) ▪▪▪করালীর আর এক কীর্তি▪▪▪ বাইরের আলো-হাওয়া যে কত মিষ্টি, পাতালের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে সেদিন তা ভালো করে প্রথম বুঝতে পারলুম। কারুর মুখে কোন কথা নেই –সকলে মিলে নীরবে বসে খানিকক্ষণ ধরে সেই আলো-হাওয়াকে প্রাণভরে ভোগ করে নিতে লাগলুম। হঠাৎ বিমল একলাফে দাঁড়িয়ে উঠে বললে, আলো-হাওয়া আজও আছে, কালও থাকবে। কিন্তু করালীকে আজ না ধরতে পারলে এ-জীবনে আর কখনো ধরতে পারব না। ওঠ কুমার, ওঠ রামহরি। আমি কাতরভাবে বললুম, কোথায় যাব আবার? যে পথে এসেছি, সেই পথে। করালীকে ধরব—যকের ধন কেড়ে নেব। —কিন্তু এখনে যে আমাদের খাওয়া-দাওয়া হয়নি। বিমল হাত ধরে একটানে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললে, খাওয়া-দাওয়ার নিকুচি করেছে। আগে তো বেরিয়ে পড়ি, তারপর ব্যাগের ভেতরে বিস্কুটের টিন আছে, পথ চলতে চলতে তাই খেয়েই পেট ভরাতে পারব।—এস, এস, আর দেরি নয়। বন্দুকটা ঘাড়ে করে বিমল অগ্রসর হল, আমরাও তার পিছনে পিছনে চললুম। বিমল বললে, সুড়ঙ্গের মুখে পাথর চাপা দিয়ে করালী নিশ্চয় ভাবছে, আর কেউ তার যকের ধনে ভাগ বসাতে আসবে না। সে নিশ্চিন্ত মনে দেশের দিকে ফিরে চলেছে, আমরা একটু তাড়াতাড়ি হাঁটলে আজকেই হয়তো আবার তাকে ধরতে পারব, এরি মধ্যে সে বেশীদূর এগুতে পারেনি। আমি বললুম, কিন্তু করালী তো সহজে যকের ধন ছেড়ে দেবে না। —তা তো দেবেই না। —তাহলে আবার একটা মারামারি হবে বল? —হবে বৈকি! কিন্তু এবারে আমরাই তাকে আগে আক্রমণ করব। এমনি কথা কইতে কইতে, বৌদ্ধমঠ পিছনে ফেলে আমরা অনেকদূর এগিয়ে পড়লুম। ক্রমে সূর্য ডুবে গেল, চারিধারে অন্ধকারের আবছায়া ঘনিয়ে এল, বাসামুখে পাখির কলরব করতে করতে জানিয়ে দিয়ে গেল যে, পৃথিবীতে এবার ঘুমপাড়ানি মাসির রাজত্ব শুরু হবে। আমরা পাহাড়ের সেই মস্ত ফাটলের কাছে এসে পড়লুম,—সরল গাছ কেটে সাঁকোর মতন করে যেখানটা আমাদের পার হতে হয়েছিল। সাঁকোর কাছে এসে বিমল বললে,“দেখ কুমার, আমি যদি করালী হতুম, তাহলে কি করতুম জানো? —কি করতে? —এই গাছটাকে যে-কোন রকমে ফাটলের মধ্যে ফেলে দিয়ে যেতুম। তাহলে আর কেউ আমার পিছু নিতে পারত না? —কিন্তু করালী যে জানে তার শত্রুরা এখন কবরের অন্ধকারে হাঁপিয়ে মরছে, তারা আর কিছুই করতে পারবে না। —এত বেশী নিশ্চিন্ত হওয়াই ভুল, সাবধানের মার নেই। দেখ না, এক এই ভুলেই করালীকে যকের ধন হারাতে হবে ...কিন্তু কে ও—কে ও? আমরা সকলেই স্পষ্ট শুনলুম, স্তব্ধ সন্ধ্যার বুকের মধ্য থেকে এক ক্ষীণ আর্তনাদ জেগে উঠছে—জল, একটু জল। —কুমাল, কুমার, ও কার আর্তনাদ? —একটু জল, একটু জল। সকলে মিলে এদিকে-ওদিকে খুঁজতে খুঁজতে শেষটা দেখলুম, পাহাড়ের একপাশে একটা খাদলের মধ্যে যেন মানুষের দেহের মত কি পড়ে রয়েছে। জঙ্গলে সেখানটা অন্ধকার দেখে আমি বললুম, রামহরি, শীগগির লণ্ঠনটা জ্বলো তো। রামহরি আলো জ্বেলে খাদলের উপরে ধরতেই লোকটা আবার কান্নার স্বরে চেঁচিয়ে উঠল—‘ওরে বাবা রে, প্রাণ যে যায়, একটু জল দাও—একটু জল দাও। বিমল তাকে টেনে উপরে তুলে, তার মুখ দেখেই বলে উঠল, একে যে আমি করালীর সঙ্গে দেখেছি। লোকটাও বিমলকে দেখে সভয়ে বললে, আমাকে আর মেরে না, আমি মরতেই বসেছি—আমাকে মেরে আর কোন লাভ নেই। এতক্ষণে দেখলুম, তার মুখে-বুকে-হাতে-পিঠে বড় বড় রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন —ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেউ তাকে বার বার আঘাত করেছে। বিমল বললে, কে তোমার এ দশা করলে? —করালী। —করালী? —হ্যাঁ মশাই, সেই শয়তান করালী। —কেন সে তোমাকে মারলে? —সব বলছি, কিন্তু বাবু, তোমার পায়ে পড়ি, আগে একটু জল দাও—তেষ্টায় আমার ছাতি ফেটে যাচ্ছে? রামহরি তাড়াতাড়ি তার মুখে জল ঢেলে দিলে। জলপান করে 'আঃ' বলে লোকটা চোখ মুদে খানিকক্ষণ চুপ করে রইল। বিমল বললে, এইবার বল, করালী কেন তোমাকে মারলে? —বলছি বাবু, বলছি। আমি তো আর বঁচিব না, কিন্তু মরবার আগে সব কথাই তোমাদের কাছে বলে যাব। আরো কতক্ষণ চুপ করে থেকে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে সে বলতে লাগল, বাবু, তোমাদের পাথর চাপা দিয়ে, করালীবাবু আর আমি তো সেখান থেকে চলে এলুম। যকের ধনের বাক্স করালীবাবুর হাতেই। তারপর এখানে এসে করালীবাবু বললে, তুই কিছু খাবার রান্না কর, কাল সারারাত খাওয়া হয়নি, বড্ড ক্ষিদে পেয়েছে —আমাদের সঙ্গে চাল-ডাল আর আলু ছিল, বন থেকে কাঠ-কুটো জোগাড় করে এনে আমি খিচুড়া চড়িয়ে দিলুম।...করালীবাবু আগে খেয়ে নিলে, পরে আমি খেতে বসলুম। তারপর কোথাও কিছু নেই, হঠাৎ আমার পিঠের ওপরে ভয়ানক একটা চোট লাগল, তখনি আমি চোখে অন্ধকার দেখে চিৎ হয়ে পড়ে গেলুম। তারপর আমার বুকে আর মুখেও ছোরার মতন কি এসে বিধল—আমি একেবারে অজ্ঞান হয়ে পড়লুম। কে যে মারলে তা আমি দেখতে পাইনি বটে, কিন্তু করালীবাবু ছাড়া তো এখানে আর জনমুনিষ্যি ছিল না, সে ছাড়া আর কেউ আমাকে মারেনি। বোধহয়, পাছে আমি তার যকের ধনের ভাগীদার হতে চাই, তাই সে এ কাজ করেছে? এই পর্যন্ত বলেই লোকটা বেজায় হাঁপাতে লাগল। বিমল ব্যগ্রভাবে জিজ্ঞাসা করল, এ ব্যাপারটা কতক্ষণ আগে হয়েছে? —তখন বোধহয় বিকেলবেলা। —করালীর সঙ্গে আর কে আছে? —কেউ নেই। আমরা পাঁচজন লোক ছিলুম। আসবার মুখেই দুজন তো তোমাদের তাড়া খেয়ে অন্ধকার রাতে ঐ ফাটলে পড়ে পটল তুলেছে। শম্ভুকে সুড়ঙ্গের মধ্যে ভূত না দানো কার মুখে ফেলে ভয়ে আমরা পালিয়ে এসেছি। এইবার আমার পালা, জল —আর একটু জল। রামহরি আবার তার মুখে জল দিলে, কিন্তু এবারে জল খেয়েই তার চোখ কপালে উঠে গেল। বিমল তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাস করলে, যকের ধনের বাক্সে কি ছিল? কিন্তু লোকটা আর কোন কথার জবার দিতে পারলে না, তার মুখ দিয়ে গাজল উঠতে লাগল ও জোরে নিঃশ্বাস পড়তে লাগল; তারপরেই গোটাকতক হেঁচকি তুলে সে একেবারে স্থির হয়ে রইল। বিমল বললে, যাক, এ আর জন্মের মত কথা কইবে না। এখন চল, করালীকে ধরে তবে অন্য কাজ। চোখের সামনে একটা লোককে এভাবে মরতে দেখে আমার মনটা অত্যন্ত দমে গেল, আমি আর কোন কথা না বলে বিমলের সঙ্গে সঙ্গে চললুম এই ভাবতে ভাবতে যে, পৃথিবীতে করালীর মতন মহাপাষণ্ড আর কেউ আছে কি?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now