বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক ঃ Azizul Islam
বড়লোক বাবা-মায়ের এক মাত্র ছেলে সোহেল।।দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি হেন্ডসাম।।ভদ্র নম্র সভাবের।।কিন্তু সব সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়।।পড়ালেখার প্রতি কোনো রকম মনমানসিকতা নেই।।পড়ালেখা পারে না বললেও চলে।।আর এইই নিয়েতার কোনো মাথা ব্যাথা নেই।।কেউ তাকে এই ব্যাপারে কিছু বলে না।।কারন বাবা কাজের জন্য বেশির ভাগ সময় বাসার বাইরে থাকে।।আর মা কলেজের প্রফেসর হওয়ায় বেশ ব্যাস্ত থাকে।।বাসায় শুধু দুইটা কাজের লোক আছে।।একজন সোহেল এর মা এর বয়সী আরেক জন দাদার বয়সী।।সোহেল কে দেখার মতো কেউ নেই।।বাবা মায়ের আদর সোহাগের অভাবে ছেলের আজ এই অবস্তা।।তবুও বাবা মা কিছুই বলে না।।এমনি এক দিন সকালে সোহেল বাসায় নিজের ঘরে বসে টিভি দেখছিল।।হটাৎ সোহেল শুন্তে পেল কোনো এক মেয়ে বলছে 'মা কি কি রান্না করব'।।কন্ঠ টা শুনে সোহেল ভাবনার মধ্যে চলে গেল।।এতো সুন্দর মিষ্টি ককিলের মতো কন্ঠ কার হতে পারে।।আমাদের বাসায় তো কোনো মেয়ে নাই।।আর মা এর কন্ঠ তো আমার চেনা।।তাহলে এই অচেনা কন্ঠের মেয়েটি কে।।সোহেল দেখার জন্য বাইরে আসে।।বাইরে সারা বাড়ি খুজতে থাকে মেয়েটিকে কোথাও পায় না।।হটাৎ তার মনে হল যে মেয়ে টি বলেছে মা কি কি রান্না করব তার মানে মেয়েটি রান্না ঘরে আছে।।সোহেল দৌড়ে রান্না ঘরে গেল।।রান্না ঘরে গিয়ে সোহেল দেখল সাধা ড্রেস পরা একটি মেয়ে রান্না করছে।।চুল গুল তার ছারা রয়েছে।।হাতের মধ্যে কয়েকটা কাচের চুরি ঝনঝন করে বাজতেছে।।সোহেল রান্না ঘরের দরজা থেকে মেয়েটি কে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।।তার মনে হচ্ছে কোনো অপ্সরা তার সামনে দারিয়ে আছে।।যদিও সে তার মুখটা এখন দেখেনি।।তাও সে ভাবছে যার কন্ঠ এতো সুন্দর।।পিছন দিক থেকে দেখতে এতো সুন্দর না জানি তার মুখটা কতো সুন্দর।।হটাৎ করে তাদের বাসার কাজের মহিলা বলে উঠে ছোট সাহেব আপনার কি কিছু লাগবে।।কাজের মহিলার কথা শুনে সোহেল বাস্তবে ফিরে আসে আর আমতা আমতা করে বলতে থাকে ,
সোহেল:-না মানে ওই একটু পানি লাগবে তাই এসেছিলাম।।
কাজের মহিলা:-তো আমাক ডাক দিয়ে বলতে পারতেন আমি গিয়ে দিয়ে আসতাম।।
সোহেল:-না না ঠিকাছে আমি নিয়ে নিচ্ছি।।
এই বলে সোহেল পানি নিতে রান্না ঘরের ভিতরে যায়।।এদিকে তাদের কথা শুনে মেয়েটি এতোক্ষন তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।।সোহেল রান্না ঘরে ঢুকতেই মেয়েটি অন্য পাশে ফিরে নিজের কাজে মন দেয়।।সোহেল রান্না ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে যায়।।ঘরে গিয়ে ভাবে এতো সুন্দর মেয়ে আমি কখন দেখিনি।।কে এই মেয়ে আমাদের বাসায় কিসের জন্য এসেছে।। এই সব ভাবতে ভাবতে সোহেল ঘুমিয়ে পরে।।ঘুম থেকে উঠে দেখে দুপুর দুইটা বাজে।।সোহেল তরিঘরি করে ঘরের বাইরে যায় মেয়েটি কে দেখতে।।কিন্তু এবার সে মেয়েটি কে দেখতে পেল না।।বাড়ির সব জায়গায় খুজেও তাকে দেখতে পেল না সোহেল।।মেয়েটি কে না দেখে সোহেল কাজের মহিলাটি কে বলে,
সোহেল:-আন্টি শুনুন সকালে যে মেয়েটি এসেছিল সে কথায়।।আর মেয়েটি কে।।
কাজের মহিলা:-সাহেব ওইটা আমার মাইয়া।।দুইদিন বাদে মেম সাব আর বড় সাহেব এর ওই বিবাহ বার্ষিকী না কি কয় ওই উনুষ্ঠান আছে তাই অনেক কাজ করতে লাগব।।তো হেল্লাইগা আমি আমার মাইয়াটারে নিয়া আইছি।।হেয় রান্না বান্না করব।।আর বাড়ির সব কাজ আমি করুম।।
সোহেল:-ও আচ্ছা।।তো ও কি চলে গেছে।।
কাজের মহিলা:-হো সাব চইলা গেছে।।
সোহেল :- কালকে আবার আসবে তো নাকি আসবে না।।
কাজের মহিলা :-ছোট সাব উনুষ্ঠান এর আগ অবদি আইব আমারে সাহায্য করার লাইগা।।
সোহেক:-ও আচ্ছা।।ঠিকাছে আপনি আপনার কাজে যান।।
এই বলে সোহেল তার ঘরে চলে আসে।।আর ভাবে একটি কাজের লোকের মেয়ে এতো সুন্দর হতে পারে আমি ভাবতেই পারিনি।। মেয়েটি কে আমার চাই।।যে করেই হোক তাকে বলতেই লাগবে আমি তাকে প্রথম দেখায় ভালবেসে ফেলেছি।।সেদিন আর সোহেল বাইরে যায় না।।বাড়িতেই থেকে যায়।।এর পরের দিন সোহেল খুব সকালে উঠে আর অপেক্ষা করতে থাকে মেয়েটির জন্য।।অপেক্ষা করতে থাকে আর ভাবতে থাকে।।আজকে যে করেই হক ওর নাম জানতে লাগবে।।কি করে সেটাও জানতে লাগবে।।ও অন্য কাউকে ভালোবাসে কি না সেটাও জানতে লাগবে।।এসব ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে সোহেল আগের দিনের মতো আজকেও তার মিষ্টি কন্ঠ শুনতে পায়।।শুনেই সে একা একা বলতে থাকে মেয়েটি কে আমি নিড়িবিলি পাব কথায়।।ওকে একা না পেলে বলব কি করে।।হটাৎ সোহেলের মাথায় একটা বুদ্ধি আসে।।সে বাইরে গিয়ে দেখে কেউ আছে কি না।।সে দেখে আশে পাশে কেউ নেই।।তাই আবার ঘরে এসে জরে জরে বলতে থাকে,
সোহেল:-কেউ এক গ্লাস পানি এনে দেও তো।।
মেয়েটি সোহেলের কথা শুনতে পায় কিন্তু ভয়ে পানি নিয়ে যেতে পারে না।।আবার আশে পাশেও কাওকে দেখছে না।।সোহেল আবার বলে উঠে,
সোহেল:-কি হল এক গ্লাস পানি চাইলাম তো।।তারাতারি এনে দেও।।
এবার মেয়েটি ভয়ে ভয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে সোহেলের ঘরে যায়।।সোহেল মেয়েটি কে দেখে খুব খুশি হয় আর এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।।সোহেল কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেয়েটি বললে উঠে,
মেয়েটি :-আপনার পানি।।
মেয়েটির কথা শুনে সোহেল বাস্তবে ফিরে আসে।।সে মেয়েটির হাত থেকে পানির গ্লাসটা নেয়।।গ্লাসটা নিতেই মেয়েটি চলে যেতে ধরে কিন্তু পিছন থেকে সোহেল বলে উঠে,
সোহেল:-এই যে একটু শুনুন।।
সোহেলের ডাক শুনে মেয়েটি দারিয়ে পরে।।
সোহেল আবার বললে,
সোহেল:-আপনার নাম কি??কি করেন আপনি।।
মেয়েটি সোহেলের দিকে ফিরে বলে,
মেয়েটি :-আমার নাম বৃষ্টি।। আগে পড়ালেখা করতাম এখন আর করি না।।
সোহেল আরো কিছু বলতে যাবে কিন্তু তার আগেই মেয়েটি চলে যায়।।সোহেল ভাবে বাবা মা এর বিবাহ বার্ষিকীতে তাকে আমার মনের কথা বলব।।যে করেই হক বলবই বলব।।এরপর সোহেল খুশি মনেই বাইরে যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।।বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে তারাতারি বাসায় ফিরে আসে কারন কাজের মহিলাটিকে বলতে হবে যেন সেই উনুষ্ঠানে মেয়েটি কে নিয়ে আসে।।বাড়িতে এসেই সে মহিলা টিকে বলে,
সোহেল:-কালকের উনুষ্ঠানে আপনার মেয়েকে নিয়ে আসবেন।।
মহিলা:-কেন সাহেব কালকে তো আর কোনো কাজ করার লাগব না।।
সোহেল:-আনতে বলছি নিয়ে আসবেন।।দুই দিন কাজ করল আর উনুষ্ঠান এ আসবে না।।
মহিলা :-ঠিকাছে সাব।।
এই বলে মহিলাটি চলে যায়।।আর সোহেল তার ঘরে গিয়ে ভাবতে থাকে কি করে কাল বৃষ্টি কে সে তার মনের কথা বলবে।।ভাবতে ভাবতে সোহেল কখন ঘুমিয়ে পরে বলতে পারে না।।পরের দিন সকাল এগারো টায় তার ঘুম ভাংগে।।ঘুম থেকে উঠেই সে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ফুলের দোকানে যায় ফুল আনতে।।দোকান থেকে এক গুচ্ছ গোলাপ ফুল নিয়ে আসে সে।।সোহেল বাড়িতে এসে রাতের জন্য অপেক্ষা করে।।কারন উনুষ্ঠান টা রাতে হবে।।দেখতে দেখতে রাত হয়ে যায়।।সব অথিতি আসতে শুরু করে।।সোহেল অপেক্ষা করতে থাকে কখন বৃষ্টি আসবে।।এক সময় সকল অপেক্ষা কে শেষ করে বৃষ্টি উনুষ্ঠান এ আসে।।বৃষ্টি কে দেখে সোহেল খুব খুশি হয়।। কিছুক্ষন পর সোহেল ফাকা পেয়ে বৃষ্টি এর হাত ধরে টেনে নিয়ে ছাদে যায়।।সোহেলের এমন ব্যবহার দেখে বৃষ্টি খুব ভয় পায়।।সোহেল বৃষ্টিকে বলে,
সোহেক:-ভয় পেয়ও না বৃষ্টি।।আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।।
এই বলে সোহেল বৃষ্টির সামনে হাটু গেরে বসে গোলাপ ফুল গুল দুই হাত দিয়ে বৃষ্টির দিকে বারিয়ে দিয়ে বলে,
সোহেল:-বৃষ্টি আমি তোমাকে সেদিন প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছি।। তোমাকে দেখার পর থেকে শুধু তোমাকে নিয়ে ভেবেছি।।আমি তোমাকে ভালোবাসি বৃষ্টি।।
সোহেলের কথা শুনে বৃষ্টি বলে,
বৃষ্টি:-দেখুন আপনারা অনেক বড়লোক আপনাদের সাথে আমাদের অনেক পার্থক্য।। আপনার বাবা মা কোনো দিনেও মেনে নিবে না এই সম্পর্ক।। এটা কখন সম্ভব নয়।।
সোহেল:-বৃষ্টি আমি তোমাকে ছারা বাঁঁচব না।।কেউ মানলে মানুক না মানলে নাই আমি শুধু তোমাকে চাই।।
বৃষ্টি আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যায়।।এর পরের দিন সোহেল জানতে পারে বৃষ্টি আত্যহত্যা করেছে।।কিন্তু কেন করেছে জানে না।।খবর শুনে সোহেল বৃষ্টিদের বাসায় যায়।।বাসায় গিয়ে দেখে বৃষ্টির মা খুব কান্না করছে।।সোহেল বৃষ্টির লাশ এর কাছে গিয়ে বসে পরে।।বসে বসে সেও কান্না করতে থাকে।।হটাৎ করেই সোহেল বুঝতে পারে তাকে কেউ ডাকছে।।আর সেই ডাক দেওয়ার কন্ঠটা ঠিক বৃষ্টির মত।।সোহেল অবাক হয়ে যায়।।সোহেল সেখান থেকে উঠে সেই ডাক টা কথা থেকে আসছে তা অনুসরন করতে থাকে।।
,
চলবে____
,
পাঠক/পাঠিকা গন আমি আগেও বলেছি আমি রোমান্টিক কোনো গল্প লিখতে পারি না।।তোবে একজন আমাকে লিখতে বলেছে।।তাই চেষ্টা করলাম লিখার কেমন হয়েছে জানি না।।আপনারা গল্পটা পরে মতামত জানাবেন।।দুই পর্বের গল্পটা।।আজকে এক পর্ব দিলাম আগামিকাল ঠিক রাতে শেষ পর্ব পাবেন।।ধন্যবাদ।।
আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন ফেসবুকে id : দুরদুরান্তের পথিক
search দিলেই পাবেন।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now