বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" যকের ধন "
হেমেন্দ্রকুমার রায়
----------------
(পর্ব ১৬)
▪▪▪অবাক কাণ্ড▪▪▪
কতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে ছিলুম জানি না। যখন জ্ঞান ল, চোখ চেয়ে দেখলুম, রামহরি আমার মুখের উপরে হুমড়ি খেয়ে আছে। আমাকে চোখ চাইতে দেখে সে হাঁপ ছেড়ে বললে, কি হয়েছে ছোটবাবু, অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে কেন?
কেন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলুম, প্রথমটা আমার তা মনে পড়ল না—আমি আস্তে আস্তে উঠে বসলুম–একেবারে বোবার মত।
রামহরি বললে, তোমার ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে আমার ভারি ভয় হল। বাঘাকে সেইখানেই বেঁধে রেখে তোমাকে খুঁজতে আমিই এইদিকে এলুম—
এতক্ষণে আমার সব কথা মনে পড়ল—রামহরিকে বাঁধা দিয়ে পাগলের মত লাফিয়ে উঠে বললুম—রামহরি, রামহরি–আমিও ওদের খুন করব।
রামহরি আশ্চর্য হয়ে বললে, কাদের খুন করবে ছোটবাবু, তুমি কি বলছ!
বন্দুকটা মাটি থেকে তুলে নিয়ে আমি বঙ্গলুম, যারা বিমলকে খাদে ফেলে দিয়েছে।
—খোকাবাবুকে খাদে ফেলে দিয়েছে। অ্যাঁ—অ্যাঁ, রামহরি চেঁচিয়ে কেঁদে উঠল।
আমি বললুম, এখন তোমার কান্না রাখো রামহরি। এখন আগে চাই প্রতিশোধ। নাও, ওঠ—বিমলের বন্দুকটা নিয়ে এইদিকে এস। আমি ঝোপ থেকে বেরিয়ে দাঁড়ালুম-ঠিক করলুম সামনে যাকে দেখব তাকেই গুলি করে মেরে ফেলব কুকুরের মত।
কিন্তু কেউ তো কোথাও নেই। খাদের পাশে খোলা জমি ধু-ধু করছে—সেখানে জনপ্রাণীকেও দেখতে পেলুম না।
রামহরি পিছন থেকে বললে, তুমি কাকে মারতে চাও ছোটবাবু?
দাঁতে দাঁত ঘষে আমি বললুম, কেরালীকে। কিন্তু এর মধ্যেই দলবল নিয়ে সে কোথায় গেল?
—করালী—স্তম্ভিত রামহরির মুখ দিয়ে আর কোন কথা বেরুল না।
—হ্যাঁ রামহরি, করালী। তারই হুকুমে বিমলকে ফেলে দিয়েছে?
রামহরি কঁদিতে কাঁদতে বললে, কোনখানে খোকাবাবুকে ফেলে দিয়েছে?
আমারও গলা কান্নায় বন্ধ হয়ে এল। কোনরকমে সামলে নিয়ে হতাশভাবে আমি বললুম, রামহরি, বিমলের খোজ নেওয়া আর মিছে।...ঐখান থেকে হাত-পা বেঁধে তাকে খাদের ভেতর ফেলে দিয়েছে। অত উঁচু থেকে ফেলে দিলে লোহাই গুড়ো হয়ে যায়, মামুষের দেহ তো সামান্ত ব্যাপার। বিমলকে আর আমরা দেখতে পাব না।
রামহরি মাথায় করাঘাত করে বললে, খোকাবাবু সঙ্গে না থাকলে কোন মুখে আবার মা-ঠাকুরুণের কাছে গিয়ে দাঁড়াব? না, এ প্রাণ আমি রাখব না। আমিও পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে মরব। এই বলে সে খাদের ধারে ছুটে গেল।
অনেক কষ্টে আমি তাকে থামিয়ে রাখলুম। তখন সে মাটির উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে ফুলে ফুলে কাঁদতে লাগল।
যেখান থেকে বিমলকে নীচে ফেলে দিয়েছে, আমি সেখানে গিয়ে দাঁড়ালুম। তারপর ধারের দিকে ঝুঁকে পড়ে দেখতে লাগলুম, বিমলের দেহটা নজরে পড়ে কিনা।
নীচের দিকে তাকাতেই আমার মাথা ঘুরে গেল। উঃ, এমন গভীর খাদ জীবনে আমি কখনো দেখিনি—ঠিক খাড়াভাবে নীচের দিকে কোথায় যে তলিয়ে গেছে, তা নজরেই ঠেকে না! তলার দিকটা একেবারে ধোঁয়া ধোঁয়া—অস্পষ্ট!
হঠাৎ একটা অদ্ভূত জিনিস আমার চোখে পড়ল। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে হাত পনেরো নীচেই পাহাড়ের খাড়া গায়ে একটা বুনো গাছের পুরু ঝোপ দেখা যাচ্ছে,--আর—আর সেই ঝোপের উপরে কি ও-টা? —ও যে মানুষের দেহের মত দেখতে।
প্রাণপণে চেঁচিয়ে আমি বললুম, রামহরি, রামহরি, দেখবে এস?
রামহরি তাড়াতাড়ি ছুটে এল—সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের উপরে দেহটাও নড়ে উঠল।
আমি ডাকলুম, বিমল, বিমল?
নীচে থেকে সাড়া এল, কুমার, এখনো আমি বেঁচে আছি ভাই?
আবার আমি অজ্ঞানের মত হয়ে গেলুম—আনন্দের প্রচণ্ড আবেগে। রামহরি তো আমোদে আটখানা হয়ে নাচ সুরু করে দিলে। অনেক কষ্টে আত্মসংবরণ করে আমি বললুম, রামহরি, ধেই ধেই করে নাচলে তো চলবে না, আগে বিমলকে ওখান থেকে তুলে আনতে হবে যে।
রামহরি তখনি নাচ বন্ধ করে, চোখ কপালে তুলে মাথা চুলকোতে চুলকোতে বললে, তাই তো ছোটবাবু, ওখানে আমরা কি করে যাব, নামবার যে কোন উপায় নেই?
উঁকি কি মেরে দেখলুম বিমলের কাছে যাওয়া অসম্ভব—পাহাড়ের গা বেয়ে মানুষ তো আর টিকটিকির মত নীচে নামতে পারে না! ওদিকে বিমল যে-রকম বেকায়দায় হাজার ফুট নীচু খাদের তুচ্ছ একটা ঝোপের উপরে আটকে আছে—
এমন সময়ে নীচে থেকে বিমলের চীৎকার আমার ভাবনায় বাধা দিলে। শুনলুম, বিমল চেঁচিয়ে বলছে, কুমার, শীগগির আমাকে তুলে নাও,—আমি ক্রমেই নীচের দিকে সরে যাচ্ছি।
তাড়াতাড়ি মুখ বাড়িয়ে আমি বললুম, কিন্তু কি করে তোমার কাছে যাব বিমল?
বিমল বললে, আমার ব্যাগের ভেতরে দড়ি আছে, সেই দড়ি আমার কাছে নামিয়ে দাও।
—কিন্তু তোমার হাত-পা যে বাঁধা, দড়ি ধরবে কেমন করে?
—কুমার, কেন মিছে সময় নষ্ট করছ, শীগগির দড়ি ঝুলিয়ে দাও।
বিমলের ব্যাগটা সেইখানেই পড়ে ছিল— ভাগ্যে করালীরা সেটাও নিয়ে যায়নি। রামহরি তখনই তার ভিতর থেকে খানিকটা মোট দড়ি বার করে আনলে।
জোর বাতাস বইছে আর প্রতি দমকাতেই ঝোপটা দুলে দুলে উঠছে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিমলের দেহ নেমে যাচ্ছে নীচের দিকে। কি ভয়ানক অবস্থা তার! আমার বুকটা ভয়ে ঢিপ ঢপ করতে লাগল।
বিমল বললে, দড়িটা ঠিক আমার মুখের কাছে ঝুলিয়ে দাও। আমি দাঁত দিয়ে দড়িটা ভালো করে কামড়ে ধরলে পর তোমরা দুজনে আমাকে ওপরে টেনে তুলো।
আমি একবার সার্কাসে একজন সাহেবকে দাঁত দিয়ে আড়াই মণ ভারি মাল টেনে তুলতে দেখেছিলুম। জানি বিমলের গায়ে খুব জোর আছে, কিন্তু তার দাত কি তেমন শক্ত হবে?
হঠাৎ বিষম একটা ঝোড়ো বাতাস এসে ঝোপের উপরে ধাক্ক। মেরে বিমলের দেহকে আরো খানিকটা নীচের দিকে নামিয়ে দিলে— কোনরকমে দেহটাকে বাঁকিয়ে-চুরিয়ে বিমল একরকম আলগোছেই শূণ্যে ঝুলতে লাগল। তার প্রাণের ভিতরটা তখন যে কি রকম করছিল, সেট। তার মড়ার মত সাদা মুখ দেখেই বেশ বুঝতে পারলুম। হাওয়ার আর একটা দমকা এলেই বিমলকে কেউ আর বাঁচাতে পারবে না।
তাড়াতাড়ি দড়ি ঝুলিয়ে দিলুম–একেবারে বিমলের মুখের উপরে। বিমল প্রাণপণে দড়িটা কামড়ে ধরলে।
আমি আর রামহরি দুজনে মিলে দড়ি ধরে টানতে লাগলুম— দেখতে দেখতে বিমলের দেহ পাহাড়ের ধারের কাছে উঠে এল; তার মুখ তখন রক্তের মতন রাঙা হয়ে উঠেছে—সামান্য দাঁতের জোরের উপরেই আজ নির্ভর করছে তার বাঁচন-মরণ!
রামহরি বললে, ছোটবাবু, তুমি একবার একলা দড়িটা ধরে থাকতে পারবে? আমি তাহলে খোকাবাবুকে, হাতে করে ওপরে তুলে নি?
আমি বললুম, পারব।
রামহরি দৌড়ে গিয়ে বিমলকে একেবারে পাহাড়ের উপরে, নিরাপদ স্থানে তুলে ফেললে। তারপর তাকে নিজের বুকের ভিতরে টেনে নিয়ে আনন্দের আবেগে কাঁদতে লাগল। আমি গিয়ে তার বাঁধন খুলে দিলুম।
বললুম, বিমল, কি করে তুমি ওদের হাতে গিয়ে পড়লে?
বিমল বললে, নিজের মনে গান গাইতে গাইতে আমি এগিয়ে যাচ্ছিলুম, ওরা বোধহয় পথের পাশে লুকিয়ে ছিল, হঠাৎ পিছন থেকে আমার মাথায় লাঠি মারে, আর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।
আমি বললুম, তারপর যা হয়েছে, আমি সব দেখেছি। তোমাকে যে আবার ফিরে পাব, আমরা তা একবারও ভাবতে পারিনি।
বিমল হেসে বললে, হ্যাঁ, এতক্ষণে নিশ্চয় আমি পরলোকে ভ্রমণ করতুম—কিন্তু ভাগ্যে ঠিক আমার পায়ের তলাতেই ঝোপটা ছিল। রাখে কৃষ্ণ মারে কে?
আমি মিনতির স্বরে বললুম, বিমল, আর আমাদের যকের ধনে কাজ নেই—প্রাণ নিয়ে ভালোয় ভালোয় দেশে ফিরে যাই চল।
বিমল বললে, তেমন কাপুরুষ আমি নই৷ তোমার ভয় হয়, তুমি যাও । আমি কিন্তু শেষ পর্যন্ত না দেখে এখান থেকে কিছুতেই নড়ব না।
▪▪▪গাছের ফাঁকে ফাঁড়া▪▪▪
আবার আমাদের চলা শুরু হয়েছে। এবারে আমরা প্রাণপণে এগিয়ে চলেছি। পিছনে যখন শক্র লেগেছে, তখন যত তাড়াতাড়ি গন্তব্যস্থানে গিয়ে পৌছানো যায়, ততই মঙ্গল।
কত বন-জঙ্গল, কত ঝরনা, খাদ, কত পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই পার হয়েই যে আমরা চলেছি আর চলেছি, তাঁর আর কোন ঠিকানা নেই। মাঝে মাঝে আমার মনে হতে লাগল, আমরা যেন চলবার জন্যেই জন্মেছি, আমরা যেন মৃত্যুর দিন পর্যন্ত খালি চলবই আর চলবই। দুপুরবেলায় পাহাড় যখন উনুনে পোড়ানো চাটুর মত বিষম তেতে ওঠে, কেবল সেই সময়টাতেই আমরা চলা থেকে রেহাই পেয়ে রেঁধে-খেয়ে কিছুক্ষণ গড়িয়ে নি। রাত্রে জ্যোৎস্না না থাকলে দায়ে পড়ে আমাদের বিশ্রাম করতে হয়। নইলে চলতে চলতে রোজ আমরা দেখি,—আকাশে উষার রঙিন আভাস মস্ত এক ফাগের থালার মতন প্রথম সূর্যের উদয়, বনের পাখির ডাকে সারা পৃথিবীর জাগরণসন্ধ্যার আভাসে মেঘে মেঘে রামধমুকের সাত-রঙ সমারোহের মধ্যে সূর্যের বিদায়, তারপর পরীলোক-থেকে-উড়িয়ে দেওয়া ফামুসের মত চাদের প্রকাশ। আবার, সেই চাঁদই কতদিন আমাদের চোখের সামনেই ক্রমে স্নান হয়ে প্রভাতের সাড়া পেয়ে মিলিয়ে যায়,—ঠিক যেন স্বপ্নের মায়ার মতন।
কিন্তু করালীর আর দেখা নেই কেন? এতদিনে আবার তার সঙ্গে আমাদের দেখা হওয়া উচিত ছিল—কারণ এখন সে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে যে, পকেট-বইয়ে পথের কোন ঠিকানাই লেখা নেই। সে কি হতাশ হয়ে আমাদের পিছন ছেড়ে সরে পড়েছে, না আবার কোনদিন হঠাৎ কালবোশেখীর মতই আমাদের সামনে এসে মূৰ্তিমান হবে?
এমনিভাবে দিনরাত চলতে চলতে শেষে একদিন আমরা রূপনাথের গুহার স্বমুখে এসে দাঁড়ালুম। শুনেছি এই গুহার ভিতর দিয়ে অগ্রসর হলে সুদূর চীনদেশে গিয়ে হাজির হওয়া যায়। একবার এক চীন-সম্রাট নাকি এই পথ দিয়েই ভারতবর্ষ আক্রমণ করতে এসেছিলেন। অবশ্য, এটা ইতিহাসের কথা নয়, প্রবাদেই এ কথা বলে । রূপনাথের গুহা বড় হোক আর ছোট হোক তাতে কিছু এসে যায় না, আর তা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাবার দরকারও নেই। কিন্তু এখানে এসে আমরা আশ্বস্তির হাঁপ ছেড়ে বাঁচলুম—কেননা এতদিন আমরা এই গুহার উদ্দেশেই এগিয়ে আসছিলুম এবং এখানে পৌছে অন্ততঃ এইটুকু বুঝতে পারলুম যে, এইবারে আমরা নিশ্চয়ই পথের শেষ দেখতে পাব। কারণ যে জায়গায় যকের ধন আছে, এখান থেকে সে জায়গাটা খুবই কাছে—মাত্র দিন-তিনেকের পথ।
বিমল হাসিমুখে একটা গাছতলায় বসে গুনগুন করে গান গাইতে লাগল।
আমি তার পাশে গিয়ে বসে বললুম, বিমল, এখনি অতটা স্ফূতি ভালো নয়!
বিমল ভুরু কুঁচকে বললে, কেন?
—মনে কর, বৌদ্ধমঠে গিয়ে যদি আমরা দেখি যে, যকের ধন সেখানে নেই,—তাহলে?
—কেনই বা থাকবে না?
—যে সন্ন্যাসী আমার ঠাকুরদাদাকে মড়ার মাথা দিয়েছিল, সে যে বাজে কথা বলেনি, তার প্রমাণ?
—না, আমার দৃঢ় বিশ্বাস সন্ন্যাসী সত্যকথাই বলেছে। অকারণে মিছেকথা বলে তার কোন লাভ ছিল না তো!
আমি আর কিছু বললুম না।
বিমল বললে, ও-সব বাজে ভাবনা ভেবে মাথা খারাপ কোরো না। আপাততঃ আজকের মত এখানে বসেই বিশ্রাম কর। তারপর কাল আবার আমরা বৌদ্ধমঠের দিকে চলতে সুরু করব।
সূর্য অস্ত গিয়েছে। কিন্তু তখনো সন্ধ্যা হতে দেরি আছে। পশ্চিমের আকাশে রঙের খেলা তখনো মিলিয়ে যায়নি—দেখলে। মনে হয়, কারা যেন মেঘের গায়ে নানা রঙের জলছবি মেরে দিয়ে গেছে।
সেদিনের বাতাসটি আমার ভারি মিষ্টি লাগছিল। বিমল নিজের মনে গান গাইছে, আর আমি চুপ করে বসে শুনছি—তার গান বাস্তবিকই শোনবার মত। এইভাবে খানিকক্ষণ কেটে গেল।
হঠাৎ সামনের জঙ্গলের দিকে আমার চোখ পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে আমার সর্বাঙ্গে কাঁটা দিয়ে উঠল।
আমি বেশ দেখলুম, একটা গাছের আড়াল থেকে করালীর কুৎসিত মুখখান উঁকি মারছে! কুতকুতে চোখ দুটো তার গোখরো সাপের মত তীব্র হিংসায় ভরা। আমাদের সঙ্গে চোখাচোখি হবামাত্র মুখখানা বিদ্যুতের মত সাৎ করে সরে গেল।
আমি তাড়াতাড়ি বিমলের গা টিপলুম, বিমল চমকে গান থামিয়ে ফেললে।
চুপিচুপি বললুম, করালী ! বিমল একলাফে দাঁড়িয়ে উঠে বললে, কৈ?
আমি সামনের জঙ্গলের গাছটার দিকে দেখিয়ে বললুম, ঐখানে? বিমল তখনি সেইদিকে যাবার উপক্রম করলে। কিন্তু আমি বাধা দিয়ে বললুম, না, যেও না। হয়তো করালীর লোকেরাও ওখানে লুকিয়ে আছে। আচমকা বিপদে পড়তে পারে।
বিমল বললে, ঠিক বলেছ। কিন্তু আমি যে আর থাকতে পারছি না, কুমার। আমার ইচ্ছে হচ্চে, এখনি ছুটে গিয়ে শয়তানের টুটি টিপে ধরি।
আমি বললুম, না, না, চল, আমরা এখান থেকে সরে পড়ি। করালী ভাবুক, আমরা ওদের দেখতে পাইনি। তারপরে ভেবে দেখা যাবে আমাদের কি করা উচিত।
চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে আমরা সেখান থেকে চলে এলুম। বেশ বুঝলুম, করালী যখন আমাদের এত কাছে কাছে আছে, তখন কোন-না-কোন দিক দিয়ে একটা নতুন বিপদ আসতে আর বড় দেরি নেই। যকের ধনের কাছে এসেছি বলে আমাদের মনে যে আনন্দের উদয় হয়েছিল, করালীর আবির্ভাবে সেটা আবার কর্পূরের মতন উবে গেল। কি মুস্কিল, এই রাহুর গ্রাস থেকে কি কিছুতেই আমরা ছাড়ান পাব না?
(চলবে)
--------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now