বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#69
পর্ব-১
রহস্য জাতীয় ব্যাপারগুলিতে মীরার বরাবরই সাংঘাতিক আগ্রহ,সেই স্কুল জীবনে থেকেই যেখানে রহস্যের গন্ধ পেয়েছে সেখানেই ছুটে গিয়েছে,এই জন্যই বন্ধুরা তাকে মীরা হুজুর বলে ডাকে, যত রহস্যই হোক মীরা কোন না কোন ভাবে যুক্তি দাড় করিয়ে রহস্যর পেট ফুটো করে দেয়।সেইজন্যই প্রায়ই তার পরিচিত মানুষদের কাছে সুযোগ হলেই রহস্য কিছু গল্প-টল্প শুনতে হয় ,এই নিয়ে প্রায় লিখালিখিও করে সে,মাসিক একটা কিশোর পত্রিকাতে ৬ পর্বের ধারাবাহিক "রহস্যের মোটাবুদ্ধি"নামের টান টান উত্তেজনার একটা উপন্যাস লিখেছিল,বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছিল।।গত মাসে তার স্কুলে(মীরা একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বাচ্চাদের পড়ায়)দেখা করতে আসল তার ছোটবেলার বান্ধবী রাবেয়া,দুজনে একটা কফি শপে কফি খেতে খেতে কত গল্প করল,মীরা খুব ভালো করে লক্ষ্য করলো রাবেয়া কি যেন বলতে চাচ্ছে তাকে কিন্তু বার বার কেন যেন থেমে যাচ্ছে।।
___কিরে কি বলতে চাচ্ছিস বলতো?তুই এমন আমতা আমতা করছিস কেন?
___আচ্ছা মীরা,জাহিদ ভাইর সাথে তোর ব্রেকআপের কারন কি রে?
___তুই এটা জানতে চাইতেছিলি?
___ধুর না,এমনি, সেই ক্লাস নাইনে পড়ার সময় তোর আর জাহিদ ভাইর ইটিসপিটিস,হঠাৎ কিছুদিন আগে ঢাকা ক্লাবের একটা প্রোগ্রামে দেখলাম সাদা নাক থেবরি একটা মেয়ের কোমর জড়িয়ে হাহাহিহি করে পার্টি ইনজয় করতেসে, পরে বুঝলাম সেই নাক থেবরি জাহিদ ভাইর স্ত্রী,আমাকে দেখেও না দেখার ভান করল,আজব,আমিও কম না কি করসি জানিস?গিয়ে বলসি?"আপনাকে কোথায় জানি দেখেছি,ওহো আপনি চিকু জাহিদ না? গার্লস কলেজের সামনে যে দাড়ায় থাকতেন মীরার জন্য?"বেডার চেহারা দেখার মতো হইসিল রে,আমি আর ফিরে তাকাই নাই, আচ্ছা এটা বল,আমিতো গত বছরও জানতাম তোদের বিয়ে সামনে তাছাড়া...
____থাম থাম,আগে একটু হেসে নেই,তুই যা জানতি
ভুল জানতি, আজকে কয় বছর পর আমার খবর নিলি হিসেব আছে? কত ঝড় তুফান গেল আমার উপর তুই তখন লন্ডনে তাই হয়ত কিছু জানিস না।।শোন আমার বাপ মারা যাওয়ার পর আমাদের খুব ছেড়াবেরা অবস্হা হয় রে,আব্বা বেশ কিছু লোন করে যায় যেটা মিটাতে গিয়ে আম্মাকে আমাদের বাড়িটা বিক্রি করে দিতে হয়,আমরা পরি মাহা সাগরে,নানাবাড়ির সবার সাথে মার সম্পর্ক খুব একটা ভালো না, মা যে কি কস্ট করে আমাদের দুই ভাইবোনকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসছে তুই কল্পনা করতে পারবিনা,
আমি তখন মাত্র অনার্সে ভর্তি হইসি,ইমরানের মেট্রিক ছিল সামনে,মা সারা রাত সেলাই করে, সকালে আইহসপিটালে রিসেপশনিস্টের কাজ,আমি ২ টা বাচ্চা পড়িয়ে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে ভার্সিটির খরচ সামলিয়ে নিতাম,জাহিদ দেখলাম কেমন কেমন যেন করতে শুরু করলো,আমি নিজেকে গুটিয়ে নিলাম,ইচ্ছে করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেই।সেও আর বেশী কিছু বলতে চায়নি,কখনও আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক ঠীকও করতে চায়নি,তোর কাছে শুনে ভালো লাগছে যে ও বিয়ে করেছে।।
____ও এই ব্যাপার?ফালতু লোক,তোর বিপদে তোকে একা করে দিয়েছিলো!ভাগ্যিস তুই বিয়ে করিস নি বদটাকে।।আচ্ছা বাদ দে শোন না তুই কি আগের মতোই রহস্যবিসারদ আছিস?নাকি চেন্জ হয়ে গেছিস?
_____না রে এখন এতো সময় পাইনা,লিখালিখিটাও কেন যেন আটকিয়ে গেছে,কিন্তু একটু গুছিয়ে নেই তারপর আবার লিখবো, মাথায় অনেক গুলো গল্প গিজগিজ করছে।আর আজকাল পুরো পৃথীবিটাই তো রহস্য দিয়ে ভরে গেছে সেটার কুলকিনারা করার মতো ক্ষমতা আমার নাইরে,আমি অতি সাধারন,ইদানীং রাতে ঘুম হচ্ছেনা, বারান্দায় অনেক্ষন পায়চারী করি তখন কি দেখি জানিস?আমাদের গেইটের বাইরে রাস্তার একটা কালো কুকুর বসে থাকে,আমি যতক্ষন বারান্দায় হাটাহাটি করি কুকুরটাও অবিকল আমার মতো হাটে পার্থক্য শুধু একটাই, সে লেজ নাড়িয়ে হাটে আর আমি লেজ ছাড়া,আবার একটু পরপর আমার দিকে তাকিয়ে থাকে,কি অদ্ভুত না ব্যাপারটা?
____তোর মাথা যে এক সময় খারাপের দিকে যাবে তা অবশ্য আমি জানতাম,তুই চল আমার বাসায় আজকে, তোর এই কুকুর রহস্য থেকেও একটা বড় রহস্য আছে আমার বাসায় সেটার সমাধান করে দে।
_____সেটা আবার কি? খুলে বল আগে
_____আমার বাসায় দুটো কচ্ছপ আছে বেলজিয়ামের ক্রিস্টালের গোল একুরিয়ামে তাদের বসবাস,আমার জামাইর বড় শখের,একটার নাম আলিমুদ্দিন আরেকটার নাম কলিমউদ্দিন
_____মানে কি? কচ্ছপের নাম "আলিমুদ্দিন" "কলিমউদ্দিন"?
_____হুম, আমার জামাইর নাম ইয়াকুবুদ্দিন রাজন, সে তার নামের সাথে মিলিয়ে তার পোষা প্রানীদের নাম রাখে,আমাদের জার্মান সেফার্ড ২ দুটার নাম ও তার সাথে মেলানো,একটা রইসুদ্দিন আর মহিলাটা শেফালুদ্দিন,তুই এমন পাগলের মতো হাসতেছিস কেন মীরা? আই সোয়ার একটা বাক্যও মিথ্যা বলছিনা।।
_____কুকুরগুলো তোর জামাইর বংশের নাকি?কুকুর বংশ...হা হা হা
এই বলতে বলতে রাবেয়ার চোখ টলমল করতে লাগল, সে চুপ হয়ে গেল,মীরা নিজেকে একটু সামলিয়ে নেওয়ার চেস্টা করল তারপরও বারবার হাসি চলে আসছে,এটা কোন কথা?কুকুর কিংবা কচ্ছপের নাম এমন হতে পারে তার ধামনাই ছিল না,
____একি!তুই দেখি কাঁদছিস,আমি তো ফাজলামো করলাম,
রাবেয়া ফুপিয়ে উঠে,মীরা বুঝতে পারে এই কান্না অন্য কারনে,সে জানতে চায়,কি হলো রাবেয়া?এনিথিং সিরিয়াস?
____হু, আমাদের কচ্ছপগুলো আমাকে হুমকি দেয়,
____কি যাতা বলতেছিস?কচ্ছপ হুমকি দেয় মানে কি?
____প্রতিদিন ভোরে ঠীক ৬ টা ৯ মিনিটে তারা দুজনে বলে "বেগম রাবু সময়মতো করবো তোমায় কাবু"
মীরা বহু কষ্টে হাসি থামাল,এ রকম সময়নিষ্ঠ কথা বলা কচ্ছপ আছে নাকি দুনিয়াতে?রাবেয়া মীরার নির্বিকার ভঙ্গি দেখে বল্ল, কিরে বিশ্বাস করলিনা,তাইনা?
___জ্বি না, করলাম না, এটা বিশ্বাস করার মতো কোন ঘটনা না।
___এক রাত থাক আমার বাসায়,আমার সাথে,নিজের চোখে দেখ কচ্ছপগুলোকে আর নিজের কানে শোন। ফজরের পর আমি তোকে উঠায় দেবো তুই ঘড়ি ধরে বসে থাকবি দেখিস ঘড়ির কাটা যখন ৬টা ৯ এ গিয়ে দাড়াবে,তখনই দুজনে এক সাথে বলে উঠবে "বেগম রাবু সময়মতো করবো তোমায় কাবু"পর পর তিনবার বলবে।।
____আরে দুর! কি যে বলিস!শোন যদি সত্যি এমন হয়ে থাকে তাহলে আমি বলবো তুই একটু বেরিয়ে আয় কোথা থেকে,আমার মনে হয় টানা কাজ করতে করতে তোর মস্তিষ্ক অস্থির হয়ে পরেছে,রেস্ট দরকার তোর।।
রাবেয়া মুখ কালো করে মীরার কাছ থেকে বিদায় নিল,ওর আসলেই মীরার কিংবা খুব কাছের কারো সাহায্য দরকার,ব্যাপারটা যে সত্যি তার সাথে ঘটছে তার যে মানষিক অবস্হা ভয়ন্কর খারাপ সেটা সে বুঝতে পারছে।এই বিশাল পৃথিবীতে কেউ কি নেই যে তাকে এই অসহায় অবস্হা থেকে উদ্ধার করবে?
________চলবে_________
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now