বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আল্লাহ মহান

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ১. জুম্মার জন্য বের হব। দরজা খোলার আগেই ভিখারির গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। সে সিড়ি বেয়ে উঠছে আর সাহায্য চাইছে। আমার মেস সাততলার ফ্লাটে। এই রোজায় সামর্থবান নারী না হলে এত সুস্থভাবে মধ্যবয়সী নারী সাততলার উপরে উঠতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। অপর ফ্লাটের দরজা বন্ধ। আমি বাইরে বের হলাম। উনি আমার কাছে সাহায্য চাইলেন কিন্তু আমি কিছু না বলেই দাড়িয়ে রইলাম। আমি সাধারণত সামর্থবান কাউকে ভিক্ষা দিই না। উনাকেও তাই দিইনি। নিরাশ হয়ে নেমে গেলেন। উনার নেমে যাওয়া দেখছি আর নিবিষ্টমনে ভাবছি... সামর্থবান মানুষ এত কষ্ট করে উপরে উঠলেন কিন্তু ভিক্ষা না পেয়ে নেমে যাচ্ছেন। উনার কষ্ট আমার মনে ভিক্ষা দেবার অভিপ্রেত হলনা। কি লাভ হল উনার কষ্টের? কি প্রত্যাশা নিয়ে এতদুর উঠলেন কোন রকম কিছু পাবার নিশ্চয়তা ছাড়াই? ২. আমি যে মসজিদে নামাজ পড়ি সেই মসজিদের গেটে ছোটখাটো ভিড় লেগে থাকে জুম্মার দিনে। সামর্থবান নারী পুরুষের ভিড় ও। কেউবা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আসে, কেউ হুইল চেয়ারে, কেউবা রাস্তায় গড়াগড়ি দেয়। অনেকেই খুচরা টাকা নিয়ে আসে ওদের উদ্দেশ্যে। ভাগে কেউ পায় আবার কেউ পায় না। মসজিদের রাস্তায় এক প্রতিবন্ধী তো গড়াগড়ি করে। পা দুটো খুব সরু। সিম্পলি হাটতে পারেনা এজন্য। নামাজের ওয়াক্ত যায়, ওয়াক্ত আসে। সে ময়লা রাস্তায় গড়াগড়ি করে, আল্লাহ আল্লাহ করে ভিক্ষা চাই, ধুলাবালি গায়ে মাখে অথচ নামাজের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ নাই, ভ্রুক্ষেপ শুধু প্লাস্টিকের গামলায় কেউ কয়জন টাকা দিচ্ছে সেইদিকে!! ৩. পরিণতি অথবা উপসংহার :: কিছু নামধারী মুসলিম বলব এদেরকে। সারাদিন পানাহার নাই অথচ রোজা আছে সেই আস্ফালনে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছে নিয়মিত আপডেট করে, ইচ্ছা করে ঘুমায় নইলে অনলাইনে ভিডিও গান দেখে বা শুনে কিন্তু চাইলে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে বা শুনতে পারে, শুয়ে শুয়ে ইউটিউব বা ফেসবুক চালাতে চালাতে যখন দিনের যেকোনো নামাজ আখেরি ওয়াক্তে চলে আসে তখন তড়িঘড়ি করে নামাজ পড়ে। ইফতারিতে বসে যাবতীয় গল্প করে, সেল্ফি তুলে, নতুবা ইফতারির উন্নত মেন্যুর ছবি তুলে আপলোড করে। কেউবা দলবদ্ধ হয়ে তো আজকাল ইফতার পার্টি করে। ও হ্যা পার্টি মানে তো দল, তাই দলবদ্ধ হয়ে এসব করাই যায়। হুম দলবদ্ধ ভাবে ইফতারির জন্য তাগিদ আছে কিন্তু ইফতারি সামনে রেখে সেল্ফি তুলতে বলা হয়নি, বন্ধুবান্ধবী নিয়ে ফুর্তি করতে বলা হয়নি, বলা হয়েছে ইফতারির সময় জেনে ইফতারি সামনে রেখে না খেয়ে যারা তাকওয়া করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহর কাছে অতিপ্রিয়। আর আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন রোজাদারের পুরষ্কার আল্লাহ নিজ হাতেই দিবেন। সুতরাং লোক দেখিয়ে, সেল্ফি উঠিয়ে, আর সারাদিন ফেসবুক ইউটিউব ঘাটাঘাটি করে সময় কাটিয়ে পনেরো ঘন্টা পানাহার না করে থাকাটা তাই প্রথম ভিখারির ঘটনার মতই হবে। আল্লাহর অনুগ্রহ কে পাবে কেউ জানে না। নিশ্চয়ই যে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে, তাকওয়াপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করবে, লোক দেখানো ইবাদতের বাইরে থাকবে, আল্লাহর জান্নাত পাবার সাধনা করবে নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত তার দিকেই বর্ষিত হবে। নিশ্চিত পুরষ্কার জেনেও যদি সারাদিন টা আল্লাহর পথে না চালিয়ে পার করে দেন তাহলে ভিখারির মত কষ্টই সার হবে। পানাহার না করার কষ্টই অর্জিত হবে কিন্তু কোন সফলতা আসবে না। এত কষ্ট করে যদি আল্লাহর কাছ থেকে বিগত পাপের মাফ না পাইলেন তাহলে কি লাভ হবে এসবের? একটা হাদিসের সামান্য অংশ বলে শেষ করছি। মহানবী (সাgj একদিন মেহরাব থেকে নামার সময় জিব্রাইল (আgj এর তিনটা কথায় আমিন বলেছিলেন। তার ভিতরে একটা কথা ছিল রমজান মাসে যারা নিজেদেরকে আল্লাহর কাছ থেকে বিগত গোনাহর মাফ করাতে না পারল তারা ধ্বংস হোক। এমন হুশিয়ারী তে মহানবীর (সাgj এর আমিন বলে সায় দেয়ার ভয়াবহতা কতটুকু তা উপলব্ধির চেষ্টা করুন আর চেষ্টা করুন তাকওয়া অর্জনের। আল্লাহ আমাদের বাকি রোজা গুলো তাঁর রাজি খুশির মত করে যেন রাখতে পারি সেই মত আমাদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মহান আল্লাহই আমাদের সবচেয়ে বেশি কেয়ার করেন ভালোবাসেন।
→ মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব
→ আল্লাহ মহান

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now