বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--"কিরে দোস্ত! কি হয়ছে তোর?"
আমি অনমনেই বললাম,
--"নারে কিছু না!"
রুমমেট এবার আমার সামনে এসে
আমার গালের দুপাশে আঙুল দিয়ে
ধরে বললো,
--"দোস্ত! তোর চোখে এই প্রথম
পানি দেখলাম! আর তুই বলিস কিছু
হয়নি? কি হয়ছে বলতো?"
আমি ওর কথা শুনে অবাক হয়ে
চোখে হাত দিলাম। তাইতো!
আমার চোখে পানি! আমিও
এতক্ষণ খেয়ালও করিনি।
.
আসলে আজ ঘুম থেকে উঠেই আম্মু
আব্বুর জন্যে কেমন যেন করছে!
অনেক দিন হল তাদের থেকে দূরে
আছি। এই রোজার ভিতরে
প্রতিদিন আম্মুর ডাকে ঘুম
ভাঙতো। সেহেরি খেয়ে
পাঞ্জাবি পরে আব্বুর সাথে
একসাথে নামাজ পড়তে যেতাম।
পাশাপাশি নামাজ পড়ে আবার
একসাথে গল্প করতে করতে বাসায়
চলে আসতাম।
অনেকদিন হল এই রুটিনে চলা হয়নি!
আম্মুর ডাকে উঠে সেহেরী
খাইনি!বাবার পাশাপাশি
নামাজ পড়া হয়নি!
এই ভার্সিটির হলেই পড়ে আছি
তিনবছর ধরে। ছুটিতেও বাড়ি
যাইনি টিউশনির জন্যে।
তবে আজ সকাল থেকে খুব ইচ্ছা
করছে ইফতারিটা যেন বাবা
মায়ের সাথে করি তারপর বাবার
সাথে একসাথে গিয়ে পাশাপাশি
নামাজ পড়ি।
আমার রুমমেট আমাকে দেখে
বোধহয় বুঝতে পারলো তাই ওই
কথাটি বললো।
বন্ধুর জোরাজুরিতে ওকে সব খুলে
বললাম। ও সব শুনে বললো,
--"দোস্ত সামনে তো পরিক্ষা!
এখনতো যাওয়া যাবে না! এককাজ
করি চল!"
আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে
বললাম,
--"কি?"
ও বললো,
--"আমরা ফ্রেন্ডরা মিলে
বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে আজ ইফতারি
করে আসলে কেমন হয়? আমরা সবার
জন্যে ইফতারি কিনে নিয়ে গিয়ে
একসাথে উনাদের সাথে বসে
ইফতারি করবো!"
বন্ধুর কথা আমার মনে অত্যন্ত
ভাবে ধরেছে।
আমি ওকে বললাম,
--"জোশ কথা বলছিস তো! সবাইকে
বলি চল!"
বলে সব ফ্রেন্ডদের কাছে চলে
গেলাম খবরটি দিতে। আমাদের
ফ্রেন্ডস গ্রুপটি আমাদের দুজনের
কথাতেই চলে তাছাড়া এমন একটি
ভাল প্রস্তাবে কেউ রাজি না
হয়ে পারলোও না।
.
সবার কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে
ইফতারি কিনে আমরা বৃদ্ধাশ্রমে
দল বেধে হাজির হলাম। বৃদ্ধাশ্রম
অথোরিটির কাছে আমাদের
উদ্দেশ্য বলাতে তারা খুশি হয়েই
আমাদের অনুমতি দিয়ে দিলো।
বৃদ্ধাশ্রমে ঢুকে আমরা প্রথমে
অবাক হয়ে সব কিছু দেখছিলাম
কারন আমরা কেউ আগে কোনদিন
বৃদ্ধাশ্রমে ঢুকিনি।
মহিলাদের জন্যে আলাদা সেক্টর,
পুরুষদের জন্যে আলাদা সেক্টর।
বৃদ্ধাশ্রমের মাঝখানে বিশাল
মাঠ। সেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা বসে
গল্প করছে।
আমাদের দল বেধে আসতে দেখে
উনারা আমাদের দিকে তারা দ্রুত
চলে আসলো।একজন বললো,
--"বাবা! তোমরা কার লাশ নিতে
আসছো? কে মারা গিয়েছে?"
আমরা অবাক হয়ে গেলাম।বলে কি
উনি! আমি বললাম,
--"আমরা তো লাশ নিতে
আসিনি! আমরা আসছি
আপনাদেরকে সাথে নিয়ে
ইফতারি করতে! আপনার এমন মনে
হল কেন?"
আমার কথা শুনে তাদের ভিতর
একরকমের গুঞ্জন পড়ে গেল।একে
অপরকে বলতে লাগলো,
--"ছেলেগুলি আসছে আমাদের
সাথে ইফতারি করতে! শুনছো
তোমরা!"
ওই লোকটি আবার বললো,
--"বাবা!এভাবে দল বেধে এখানে
তখনি আসে যখন কেউ মারা যাই!
তাছাড়া তো এভাবে কেউ
আসেনা!''
আমরা সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।
বুকটা ভার হয়ে গেল সবার।
.
পুরো বৃদ্ধাশ্রমটি আমরা ঘুরলাম।
প্রায় সবার সাথেই কথা হল। মানুষ
যে কতটা অসহায় হতে পারে তা
আজ প্রথম জানলাম। অনেকে এসে
যেভাবে জড়িয়ে ধরে আদর করলো
যে আমাদের চোখে পানি চলে
এলো।
সবার তার নিজের বাবা মার কথা
মনে পড়ে গেল।
এদিকে ইফতারির সময় হয়ে
আসাতে সবাই লম্বালম্বি ভাবে
বারান্দাতে বসে গেল। আমি
খাবারের প্যাকেট গুলি সবার
সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। একজন
অন্ধ বৃদ্ধার সামনে প্যাকেট
দিতেই বৃদ্ধাটি বলে উঠলো,
--"বাবা! ফটিক! তুই আইছিস বাবা!
আমি থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
বৃদ্ধাটি আবার বললো,
--"জানিস বাবা! আমি জানতাম
তুই আসবি!মারে ছাড়া তো তুই
একটুও থাকতে পারতি না! আমি
তোর গায়ের গন্ধেই তোরে চিনে
ফেলছি!"
আমি হাটু ভেঙে উনার সামনে
বসে পড়লাম। উনার চোখ দিয়ে
পানি পড়ছে।আমি উনার পাশের
জনকে ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম,
--"কি হয়েছে?
সে যা বললো তার মানে হল উনার
একমাত্র ছেলে ফটিক তার বউ
বাচ্চা সহ এসে তাকে এখানে
রেখে যে চলে গিয়েছে আর কখনো
আসেনি। উনি এভাবেই আছে প্রায়
৬ বছর ধরে। এই কথা শুনে আমার
বুকের ভিতরটা হুহু করে উঠলো।
বন্ধুদের দিকে তাকাতে দেখি
সবার চোখ থেকে পানি পড়ছে।
আমি উনার চোখের পানি মুছিয়ে
দিয়ে বললাম,
--"মা আমাকে ক্ষমা করে দাও!
আমি এখন থেকে প্রতিমাসে এসে
তোমাকে দেখে যাবো! কথা
দিচ্ছি মা!"
উনি বললো,
--"বাবা! তোর মনে আছে
প্রতিদিন ইফতারির সময় তোকে
আমি খাওয়াই দিতাম! আজকে একটু
আমাকে খাওয়াই দিবি বাবা?"
আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে
ফেললাম।চোখ দিয়ে টপটপ করে
পানি পড়ছে আমার। আমি
আরেকজনকে ইশারা দিয়ে
প্যাকেট গুলি সার্ভ করতে বলে
উনার পাশে বসে বললাম,
--"হ্যা মা! সাইরেন দিক আমি
খাওয়াই দিচ্ছি"
.
সাইরেন দিয়ে দিয়েছে। আমি
উনাকে খাওয়ে দিচ্ছি। এই ছোট্ট
জীবনে এত ভাল লাগা কোন কাজ
করে লাগেনি আমার। বৃদ্ধাটি
আমার বামহাত চেপে ধরে আছে।
আমি ডানহাত দিয়ে তাকে
খাওয়াই দিচ্ছি আর নিজে
খাচ্ছি।
খাওয়ানো শেষ হলে আরো
কিছুক্ষণ থেকে আমরা বিদায়
নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সবার
কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন ওই
বৃদ্ধার কাছে গেলাম তখন বৃদ্ধা
বললো,
--"বাবা এখন আমি মারা গেলেও
আফসোস থাকবে না! আমার
অনেকদিনের ইচ্ছা আজ পূরণ হয়ছে!
"
আমি বললাম,
--"মা এখন থেকে প্রতি মাসে
এসে তোমাকে খাওয়ে দিয়ে
যাবো! আমার জন্যে দোয়া করো"
বলে উনার পায়ে সালাম করে চলে
এলাম।
.
এই ঘটনার এক মাস পর আমি ঠিকি
খাবার নিয়ে ওই বৃদ্ধাশ্রমে
গিয়েছিলাম উনাকে খাওয়ে
দিতে কিন্তু সেখানে উনি ছিলেন
না। আমরা ইফতারি করিয়ে চলে
আসার কিছুদিন পরে নাকি উনি
ইন্তেকাল করেছিল।
.
.
আজকে আমরা যুবসমাজ রোজার
ভিতরে ক্যারাম খেলে,টিভিতে
খেলা দেখে সময় পার করি...!
আমরা কি পারিনা ৩০ টি রোজার
ভিতরে যেকোনো একদিন সকাল
থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথিবীর সব
থেকে অসহায়দের আশ্রয়স্থলে
গিয়ে তাদের সাথে ইফতারি
করতে...!
একদিনের জন্যে তাদের কষ্ট
গুলিকে ভাগ করে নিতে..!
একদিনের জন্যে তাদের সন্তান
হয়ে তাদের সাথে মিশতে...!
একবার কাজটি করে দেখুন না...!
বুকে হাত দিয়ে বলছি এই কাজটি
করে যতটা আনন্দ পাবেন, ততটা
আনন্দ স্টেডিয়ামে গিয়ে মেসি/
রোনালদোর খেলা দেখেও পাবেন
না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now