বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি আমার বাবুটাকে খুন করতে চাই—আদনান

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #১ হাসপাতালের ওয়েটিংরুমের এক কোণায় বসে আছে রুমি।চোখ বেয়ে ঝড়ছে পানি।কয়েকজন মহিলা ও একটা ছোট পিচ্চি মেয়ে।রুমির হাতে একটা টিস্যুর প্যাকেট আর পাশের সিটে তার ভ্যানিটিব্যাগ। রুমি খুব ভাল শব্দহীনতায় কাঁদতে জানে।সে যতই কষ্ট পাক তার কষ্টের কথা কেউ জানবে না যদি সে না বলে।শত কষ্টের মাঝেও খুব হাসিখুশি মুখ নিয়ে চলতে পারে সে।তার ভিতরে থাকা কষ্টের ছাপ মুখে খুব কমই দেখা যায়।কিন্তু আজকাল রুমির দু চোখের নিচে কালো দাগ বসেছে।রুমি যতই এই দাগ সড়ানোর চেষ্টা করছে তা মুছে না। রুমি কখনোই মুখে শীতকাল ছাড়া ক্রিম দেয়নি মেকাপ তো দূরের কথা।রুমি কখনো পার্লারেও যায়নি।কিছুদিন যাবৎ রুমি মুখে বেশ আটা ময়দা দিচ্ছে।কিন্তু সেটা তার রুপ দেখানোর জন্য নয় চোখের নিচের কালো দাগ ঢাকার জন্য।সে শত চেষ্টা করছে এই দাগ যেনো কেউ না দেখে।রুমি যখনি একা থাকে তার মুখের আটা ময়দা ভেসে যায় একধরণের বন্যাস্রোতে।আবার যখন কেউ আসে সেই বন্যাস্রোত থামিয়ে নেকাব পরে চশমা পড়ে নেয় নিমিষে। সামনে পিচ্চি মেয়েটা ছুটাছুটি করছে।রুমি তার বাম হাতটা নিজের পেটে ধরলো আর ডান হাতে মুখ।কান্নায় শব্দ হতে পারে।যেটা রুমি মরে গেলেও দিবে না যে কেউ তার কান্নার শব্দ শুনে তার দিকে করুণা নিয়ে তাকাক।মানুষ কাঁদলে আমরা তাকাই একফোঁটা করুণা নিয়েই। কিছুক্ষণ সময় পর পিচ্চি মেয়েটা রুমির কাছে যায় তার বল খুঁজতে।মেয়েটার জামা একটা চেয়ারের কোনায় আটকে যায়।মেয়েটি রুমির দিকে তাকিয়ে তার মাকে ডাক দেয় রুমি চমকে উঠলো।মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না রুমির।মেয়েটির মা এসে মেয়েটিকে নিয়ে গেলো।রুমি তার পেটের উপর হাত রেখে ভাবছে এমনই একটা মেয়ে হয়ত তার গর্ভে বড় হচ্ছে।আসলেই কি মেয়ে নাকি ছেলে হবে? রুমিকে একজন নার্স ডেকে পাঠালেন।রুমি ধীরেধীরে এগোতে লাগলো এক্ষুনি সে একটা খুন করবে। কথাটা ভাবতে পারেনা রুমি।সে খুন করবে কিভাবে?যেই খুনের কথা শুনলেই গায়ে জ্বর এসে যায় সেই খুন সে নিজেই করবে।এসব ভাবতে ভাবতেই গিয়ে ডক্টর এর সামনে বসলো।একফোঁটাও সাহস নেই রুমির শরীরে তখন।তার পৃথিবী ঝাপসা হয়ে বিদ্যুৎ গতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে। ডাক্তার-বেবি খুন করতে এসেছেন? রুমির পৃথিবী থমকে দাঁড়ালো।রুমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাক্তারের সামনে রাখা একটা ছবির দিকে। ডাক্তার-কি দেখছেন? -এই বাবু একটা আমার এখানে(নিজের পেটে হাত রেখে দেখাচ্ছে রুমি।চোখে পানির ঝড় তখন রুমির) -খুন করবেন কেনো? -ওর বাবা নেই। -কি হয়েছে ওর বাবার? -জানিনা কি হয়েছে কিন্তু আমি এখন ভাবি সে মরে গিয়েছে।(কান্না স্বরে) ডাক্তার বুঝে গেলেন তার কেইসটা।সে প্রেম করেছে।সেখান থেকেই শারীরিক সম্পর্ক এখন ছেলে পল্টি নিয়েছে।এমন ঘটনা এখন অহরহ হচ্ছে। -আমি কয়েকবার সুইসাইড করতে গিয়েছি কিন্তু পারিনি।আমার বাবা একজন সরকারি ছোট কর্মকর্তা মা টুকিটাকি সেলাই কাজ করেন।বাবা মার একমাত্র মেয়ে আমি।তাদের স্বপ্ন আমি ডাক্তার হবো।আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ডাক্তার একটু মৃদু হাসলো।ডাক্তারের হাসি দেখে রুমি একটুও অবাক হলো না।কারণ সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হয়ে এমন ভুল করাটা একটু হাস্যকরই বটে। ডাক্তার-আপনি সেই কলেজের ছাত্রী যেই কলেজের একসময়কার ছাত্রী আমি।যাইহোক তোমার কষ্টের সময় আমি হেসেছি বলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।এখন প্রশ্ন আমার একটা আপনার কাছে"the question is Really do u Want to kill your baby? রুমি-আমি কি করব ভাবতে পাড়ছি না। ডাক্তার-হ্যাঁ বা না উত্তর দিন। রুমি মাথা নিচু করে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। -বেবিটাকে রাখতে পারবো না আমি। -আচ্ছা।(ডাক্তার লিখে দিয়েছে অপারেশন এর কথা) সেদিন আর অপারেশন করাতে পারেনি রুমি।২ দিন পর সে তার গর্ভে থাকা বাবুটাকে মারবে।রুমি বাসায় অনেক ভাবে বাবুটাকে মারবে কি না।যদি এখনো রাহিম বলতো যে আমাদের বাবুটাকে মেরো না।তাহলে তো আমাকে এই খুন টা করতে হতো না। ২দিন পর হাসপাতালে রুমি।হাসপাতালের রেলিংয়ে হাত রেখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে এক হাত তার পেটের উপরে।গাল বেয়ে পড়ছে চোখের পানি। -এক্সকিউজমি? রুমি চোখের পানি মুছে পিছু ফিরে তাকালো।অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার মুখটির দিকে।সে কি ভুল দেখছে?চোখ কুচকালো,নিজের গায়ে চিমটি কাটলো।না এটা সত্যিই। -আমাকে চিনতে পারছো? -হ্যা। -অবাক হয়েছে নিশ্চই? -কিছুটা তো হবোই। -কি ভেবেছিলে? -ভাবার কিছু নাই। -বেবিটাকে খুন করতে পারবে? রুমি কেঁদে উঠলো, এই প্রথম যে কেউ তার কান্না দেখছে,কেউ তার চোখের ঝড়া পানি দেখছে। -কাঁদছো কেনো? -দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই আমার কাছে। -যদি সে বেক করে সরি বলে তাহলেও কি খুনটা করবে? -হয়ত না।কিন্তু সে আসবে না আমি শতভাগ শিউর। -যদি তার জায়গায় কেউ আসে তোমার হাত ধরে,বাবুটার পিতৃ পরিচয় দিতে চায়।এই বাবুটার মুখ থেকে বাবা ডাক শুনতে চায়?তাহলে? রুমি অবাক হয়ে আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে। -কি দিবে সেই সুযোগ? রুমি আদনানের পায়ের উপর ঢলে পরে কাঁদতে শুরু করলো।কিন্তু আজ তার কান্নার শব্দ সাড়া হাসপাতালের কোনে গিয়ে পৌছালো। আদনান রুমিকে তুলে তার বুকে জড়িয়ে নিলো।আদনানের বুকে থাকা হাহাকারের শব্দটা বন্ধ হলো অবশেষে। আদনান ও রুমি পারিবারিক ভাবেই বিয়ে করেছে।যদিও আদনানের পরিবার পরিজন নেই কিন্তু রুমির বাবা মা তা খুব খুশিতেই মেনে নিয়েছে। বাবুটার নাম আরিয়া আদনান রুমকি।আরিয়ার সবকিছু আদনানকেই করতে হতো।এখন রুমির বাবার রিটায়ার হয়েছে তারা আদনানদের সাথেই থাকে।আদনান একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে।রুমির মেডিকেল এর শেষ বর্ষ এটা। রুমির চাকরি ঠিক হয়ে আছে।রুমি মনে করে তার চেয়ে বেশি সুখি কেউ নেই।আদনানের বুকে খুঁজে পায় স্বর্গ নীড়।আদনানকে রুমি ভালবাসে সীমাহীন আকাশের চেয়েও বেশি।আদনানও রুমিকে অনেক অনেক ভালবাসে এবং ভাল রাখে।আদনানকে প্রায় সময়ই রুমি ধন্যবাদ দেয় আদনানের অজানা এক কারণকে উদ্দেশ্য করে।আদনান রুমিকে জিজ্ঞেস করতেই হেসে বলে "I love you"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now