বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"প্রার্থনা"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নীহার চাকরিটা একেবারে নতুন। চাকরির বয়স এখনো এক মাসও হয় নি। এখনো পাঁচ দিন বাকি, যোগ দিয়েছিলো ১ তারিখে, আজ ২৫ তারিখ। যদিও সমস্যা স্বামীপ্রাসঙ্গিক, ইতিমধ্যে পারিবারিক সমস্যা প্রসঙ্গে দুই দিন ছুটি কাটানো হয়ে গেছে। ভেবেছিলো দু’দিনেই আমাকে সারিয়ে তুলতে পারবে। আমার জ্বরের বয়স দু’দিন পার করে আজ তিন দিন। পুরোপুরি সারছেই না, ডাক্তার দেখানো হয়েছে, নিয়ম করে নীহা ওষুধও খাওয়াচ্ছে, তবু। এই সারছে, আবার আসছে, আবার সারছে, আবার আসছে৷ গত দু’দিন ধরে এই তালেই আছে। গতকাল রাতেও যে নীহা কপালে, বুকে, পিঠে হাত দিয়ে দিয়ে ভালো করে দেখে ‘যাক, আল্লাহ বোধহয় মুখ তুলে চেয়েছেন’ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোলো, সেই নীহা আজ ভোরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে জেগে উঠে বললো, ‘এই, তোমার তো আবার জ্বর এসেছে, সুশান! তোমার জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে!’ নীহার কথায় ঘুম ভেঙে গেলো আমারও। নীহার দিকে তাকিয়ে আমি একটু হাসতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু হাসিটা বোধহয় ঠিকঠাক হাসি হয়ে উঠলো না। হাসিটা অন্যকিছু হয়ে গেলো। ‘আহা রে! আমার পাগলটা হাসতেও পারছে না!’ বলেই নীহা ডানহাতটা আমার গালে ছোঁয়ালো। তারপর মুখ এগিয়ে আমার ঠোঁটে ছোট্ট করে একটা চুমু দিয়ে উঠে বসলো। কাঁথাটা আমার গায়ে ভালো করে টেনে দিয়ে বিছানা থেকে নেমে বাথরুমের দিকে এগোলো৷ অসুস্থাবস্থায় নীহাকে একমুহূর্তের জন্যও কাছ ছাড়া করতে ইচ্ছে করে না। কাছ ছাড়া করলেই মনে হয় কষ্টটা, যন্ত্রণাটা বেড়ে গেছে বহুগুণ। আমি শুয়ে শুয়ে বাথরুমের বন্ধ দরজার দিকে অপলক চেয়ে থাকলাম। তারপর কতো অনন্ত যন্ত্রণাকাল যেনো কেটে গেলো আমার! নীহা বেরিয়ে এলো তারপর। ‘তোমার তো আজ থেকে অফিস। একা থাকতে আমার খুব কষ্ট হবে।’ আমি জানি, প্রাইভেট ফার্মগুলো ছুটিছাটার ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি। দুই দিন ছুটি কাটানো হয়ে গেছে নীহার। আজ আবার যদি ছুটি চায়, নির্ঘাত খুব কথা শুনতে হবে ওকে। এমনকি এমন কথাও শুনতে হতে পারে— তোমার আর আসা লাগবে না। তুমি তোমার ফ্যামিলি নিয়েই থাকো। জানি, তারপরেও কেনো যেনো মুখ ফসকে উপরোক্ত কথাটা বের হয়ে গেলো আমার। নীহা বললো, ‘তোমাকে এভাবে ফেলে আমি যাচ্ছি নে, সুশান। আমি একটু পরে বসকে ফোন করে ছুটি চেয়ে নেবো।’ সঙ্গে সঙ্গে আমি বললাম, ‘না না, ছুটি চাইতে হবে না। তুমি অফিস যাও। আমি থাকতে পারবো। কোন কষ্ট হবে না। আর মোবাইল আছে না? তুমি ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিয়ে খবর নিয়ো।’ ‘তোমাকে এভাবে ফেলে আমি অফিস যাবো? আমার অফিস আগে, না তুমি আগে?’ ‘না, নী। বুঝতে চেষ্টা করো। এর জন্যে তোমাকে অনেক বাজে কথা শুনতে হবে। আমার সমস্যা হবে না। আমি একদম ঠিক থাকবো।’ ‘বাজে কথা শুনতে হয়— হোক। যদি তারচেয়েও বেশি কিছু হয়, যদি চাকরিটা চলেও যায়, যাক। আমি তো চাকরি করছি চিহ্নর জন্যে। আমাদের চিহ্ন তো এখনো আসে নি। ও আসার আগে আরেকটা চাকরির যোগাড় করে নেবো।’ এই কথার পরেও অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নীহাকে রাজি করালাম। ও অফিস যাবে। তার আগে ও আমার ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দিলো, আমি ফ্রেশ হলাম, মুখটুখ ধুয়ে নিলাম। ও পরোটা বেলে রেখে গোসল করলো। তারপর সেগুলো ভাজলো। ডিম ভাজলো। প্লেটে তুলে এনে, আমাকে হাত লাগাতে দিলো না, ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাইয়ে দিলো, নিজেও খেলো। আমাকে ওষুধ খাইয়ে দিলো। তারপর ও ফেরার আগ পর্যন্ত আমি কী কী খাবো, আমার কী কী লাগবে ইত্যাদি সব প্রস্তুত করে, অফিসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ‘সুশান, দাও, পরিয়ে দাও।’ টিপ— এটা সবসময় পরিয়ে দেবার দায়িত্ব আমার। আমি নীহার হাত থেকে টিপটা নিয়ে সুন্দর করে ওর দুই ভ্রুর মাঝখানে বসিয়ে দিলাম। নীহা তারপর আমার দুই চোখের পাতায় এবং ঠোঁটে মোট তিনটে চুমু দিয়ে বেরিয়ে যাবার উদ্যোগ নিলো। তখনই ওকে আমি ডাক দিলাম — ‘নীহা!’ নীহা ফিরলো। বুঝতে পেরে মুখটাও বাড়িয়ে দিলো। আমি ওর ঠোঁটে ছোট্ট করে একটা চুমু খেয়ে বললাম, ‘সাবধানে যেয়ো।’ ‘আচ্ছা, সাবধানে যাবো’ বলেই এক টুকরো মুচকি হাসি উপহার দিয়ে নীহা বেরিয়ে পড়লো। . একটা কথা— চিহ্ন, সুশান আর নীহার অনাগত সন্তানের নাম। ওরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে, ওদের বাচ্চা হলেই, ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, তার নাম হবে— চিহ্ন। মানে “নিদর্শন”। চিহ্ন ওদের ভালোবাসার প্রথম নিদর্শন হবে তো, তাই। যাহোক, নীহা যেদিন চাকরি পেলো, সেদিনই সাফ সাফ বলে দিয়েছিলো— আমি এখন থেকে মাসে মাসে টাকা পাবো। খবরদার! আমার একটাকায়ও নজর দিবা না। আমার সব টাকা আমি জমাবো আমাদের চিহ্নর জন্যে। সব টাকা আমি ওর পেছনে খরচ করবো। সুশান হাসতে হাসতে বলেছিলো— আচ্ছা বাবা, তাই হবে। আমি তোমার একটাকায়ও নজর দেবো না। তোমার সব টাকায় নজর দেবে আমাদের চিহ্ন। . ঘুম এসে গিয়েছিলো। ঘুম ভাঙলো কাশতে কাশতে। সে কী কাশি— বুকের ভেতরের সবকিছু ছিঁড়েখুড়ে যেতে লাগলো! আমি উঠে বসলাম। কিছুক্ষণ পর কাশিটা থামলো। আমি নিজের গালে, নিজের গলায়, গায়ে নিজেই হাত দিয়ে দেখলাম জ্বর কতোটা। পরপরই আমার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। পাঁচ বছর আগের কথা। আমি তখন খুলনা শহরের মিস্ত্রীপাড়া বাজারের কাছে ছোট্ট একটা রুম ভাড়া করে থাকতাম একা একা। যে চাকরিটা করতাম, সারাদিন তাতে সময় দিয়ে রাতে ফিরে ঘুমোতাম। সেইসব ঘুমগুলোর কোনো কোনোটা কোনো কোনো রাতে হঠাৎ ভেঙে যেতো। পরপরই নিজের গায়ে হাত ছোঁয়াতেই টের পেতাম জ্বর এসেছে শরীর জুড়ে। তারপর শুরু হতো পানির তেষ্টা। কিন্তু তার বড় দোষ ছিলো, হঠাৎ খিদে পেলে খাবার জন্য ঘরে কোনো শুকনো খাবার, এমনকি তেষ্টা পেলে গলা ভেজাবার জন্য অন্তত এক জগ পানিও রাখার অনোভ্যেস। সেদিন রাতেও ঘুম ভাঙার পর টের পেলাম জ্বর এসেছে। সেই সাথে পেয়েছে বুকজোড়া পানির তেষ্টা। মনে হতে থাকলো মৃত্যুর সময় বোধহয় এমন তেষ্টা পায়। আর বোধহয় বাঁচবো না। একটু পরেই বোধহয় মরে যাবো। খুব বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করলো। আমি বিছানা থেকে নামলাম। আলো জ্বেলে টেবিলে রাখা জগের কাছে গিয়ে দেখলাম জগ খালি। এক ফোটা পানি নেই। কিন্তু খাবার পানির কল তো গেটের বাইরে। গেট তখন তালাবন্ধ। আমার তেষ্টা আরো বেড়ে গেলো। দরজা খুলে বের হলাম। রুমের পাশেই গোসলখানা। গোসলখানায় ঢুকে ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে আজলা ভরে পানি খেলাম, সে-পানি খাবার অযোগ্য হলেও। তারপর রুমে এসে শোবার সাথে সাথেই মোবাইলটা বেজে উঠলো। আমি মোবাইল কানে ধরে বললাম, ‘কে?’ ওপাশ থেকে মিহিকণ্ঠের একটা মেয়ে বলে উঠলো, ‘বলছি। তার আগে বলেন, আপনি কি অসুস্থ? কণ্ঠ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।’ ‘আমার জ্বর।’ ‘জ্বর কতো?’ ‘জানি নে।’ ‘ঘরে থার্মোমিটার আছে?’ ‘না। মাপতে হবে না। এ জ্বর এমন কিছু না। প্রায়ই আসে। সকাল হতে না হতে চলেও যায়।’ ‘তারপরেও মাপতে হবে। আচ্ছা, আপনার কপালে আপনি নিজের হাতটা রাখেন তো। রেখেছেন?’ আমার কী হলো কে জানে, সম্মোহিতের মতো অপরিচিত মেয়েটা যা যা বলতে থাকলো, আমি তাই তাই করে যেতে থাকলাম। একটা হাত কপালে রেখে আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, রেখেছি।’ ‘কপাল কি খুব গরম? আন্দাজ করেন তো, জ্বর কতো হতে পারে।’ ‘একশ দুই-টুই হবে।’ ‘মিথ্যে বলছেন কেনো? জ্বর তো একশ তিন।’ ‘এই রকম জ্বর প্রায়ই আসে— তাই তো?’ ‘হুঁ।’ ‘শোনেন, আপনি কালই ডাক্তারের কাছে যাবেন। সবকিছু খুলে বলবেন। জ্বরটা প্রায়ই আসে, এটা অবশ্যই বলবেন। মনে থাকবে? আমি কাল ফোন দিয়ে খোঁজ নেবো কিন্তু। আমার কথা যদি না শোনেন, আমার খুব মনখারাপ লাগবে।’ ‘কিন্তু আপনি কে?’ ‘আমি পেত্নী-টেত্নী না। আমি মানুষ। আপনার ফেসবুক বন্ধু নীহা।’ তারপর সত্যি সত্যিই আমি পরদিন ডাক্তার দেখালাম। কয়েকটা টেস্টও করা লাগলো। কিছুদিন ওষুধ খেয়ে সেরে উঠলাম। এবং তারপর থেকে জ্বরটাকে আর আসতে দেখা গেলো না। প্রায়ই তো না-ই, মাঝে মাঝেও না। আমার মনে হচ্ছে এ জ্বর নতুন না— পুরোনো সেই জ্বরটাই বোধহয় নতুন করে ফিরে এসেছে। তবে এখনকার জ্বরটা রাতের যেমন— দিনেরও। আমার সেই জ্বরটা ছিলো কেবল রাতের। রাতে রাতেই আবির্ভাব, ভোর হবার আগে আগেই তিরোধান! ঠিক কেনো জানি না— ঘটনাটা মনে পড়তেই আমার বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করে উঠলো। খুব অসহায় লাগতে থাকলো। মনে হলো নীহাকে একটা ফোন দেবো নাকি? বলবো নাকি— নীহা, আমার খুব খারাপ লাগছে একা একা! কিন্তু এই কথা শুনে নীহা কি আর অফিস করবে? ও তো ছুটতে ছুটতে চলে আসবে। তাতে চাকরির কোনো সমস্যা হবে না? হোক গে। যে ভালোবাসে, যাকে ভালোবাসি, তাকে শুধু নিজের আনন্দটুকু দিয়ে আনন্দিত করবো কেনো? নিজের কষ্টটুকুও তাকে দিয়ে ব্যথিত করবো না কেনো? যদি আমার সকল কিছুই তাকে দিতে না পারলাম, তাহলে সে আমার, আমি তার কেমন ভালোবাসার মানুষ? কেমন? শিয়র থেকে মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়েই দেখি নীহার একগাদা মিস্ডকল! আমার সাড়া না পেয়ে না জানি কী দুশ্চিন্তা করছে পাগলীটা! এক্ষুনি বলা দরকার— আমি ঘুমোচ্ছিলাম। ফোন করা লাগলো না। পরপরই নীহা ঘরে ঢুকলো। ‘ঘুমোচ্ছিলে?’ ‘হ্যাঁ।’ ‘আমিও তাই ভাবছিলাম। এখন জ্বর কেমন?’ বলতে বলতে নীহা ওয়াড্রোবের উপর ব্যাগটা রেখে কাছে সরে এসে আমার কপালে হাত ছুঁইয়ে বললো, ‘জ্বরটা তো আরো বেড়েছে!’ তারপর বাথরুমের দিকে যেতে যেতে বললো, ‘জানো, আরো দু’দিনের ছুটি নিয়ে এসেছি! মিথ্যেকথা বলে ছুটি নিই নি। তোমার অসুস্থতার কথা বলতেই স্যার ছুটি দিয়ে দিলেন। স্যারটা না জানো, খুব ভালো! আমি এতোদিন কতো খারাপ ভেবে এসেছি!’ . ‘তুমি কাশি বাঁধালে কী করে?’ বাথরুম থেকে একপ্রকার হুড়মুড় করে বেরিয়ে এলো নীহা। ওর কণ্ঠে এক রাজ্যের ভয়। বিছানার কিনারায় বসে নিচে পা ঝুলিয়ে দিয়ে আমি তখন কাশছি। কাশতে কাশতে আমার গলা, বুক ছিঁড়ে আসছে। কুঁকড়ে আসছে শরীর। নত হয়ে আসছে মাথা। আমার সামনে দাঁড়ানো নীহা। আমি জানি, ও আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে। আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে ও কাঁদছেও— ওর চোখে জল। কতোক্ষণ কেটে গেলো জানি না— নীহা আমার খুব কাছে সরে আসলো। আজলা ভরে তুলে নেয়া জলের মতো করে দু’হাত দিয়ে আমার নিচু করা মুখটা ও তুলে ধরলো উঁচু করে। আমি এবার সরাসরি ওর দিকে তাকালাম— মুক্তোর দানার মতো জল চিকচিক করছে নীহার চোখে। নীহা কাঁদছে। একটু হাসতে চেষ্টা করে আমি বললাম, ‘নী, তুমি কাঁদছো কেনো?’ নীহা কেমন কাতর হয়ে অধৈর্যকণ্ঠে বললো, ‘তুমি সুস্থ হবা না? একটু সুস্থ হও না! একটু সেরে ওঠো না, সু!’ আমি আবার একটু হাসার চেষ্টা করলাম। কিন্তু হাসিটা বোধহয় এবারও হাসি হয়ে উঠলো না। হয়ে গেলো অন্যকিছু। ‘কতো সুন্দর মুখটা কী হয়ে গেছে আমার পাগলটার! হাসতেও পারছে না আমার পাগলটা!’ বলেই নীহা ওর ঠোঁট নামিয়ে আনলো। ওর কোমল ঠোঁট দুটো আমার সারা মুখটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেতে থাকলো। এমনভাবে ছুঁয়ে যেতে থাকলো— যেনো একটুখানি জোরে ছোঁয়ালেই আমি ব্যথা পাবো! ব্যথায় আমি কঁকিয়ে উঠে বলবো— উহ্! আদর করা শেষ হবার পরেও নীহা আমার মাথাটা সেভাবেই ধরে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। এতো আদর পাবার পরে আমিও স্বাভাবিক থাকি কী করে? বিস্ময়চোখে তাকিয়ে থাকলাম ওর দিকে— ও আমাকে এতো ভালোবাসে! এতোটা! নীহা বললো, ‘কী হলো— ওভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমাকে এর আগে যেনো কোনোকালেও দেখো নি!’ সে-কথা গ্রাহ্য না করে আমি বললাম, ‘একটা জিনিস খেয়াল করেছো?’ ‘কী?’ ‘তুমি আমার মুখটা কীভাবে ধরে আছো?’ ‘কীভাবে?’ ‘সেই সাথে আমাকে কতোগুলো চুমু খেলে!’ নীহা একটু হাসলো— কথা বললো না। আমি বললাম, ‘এবং যখন চুমুগুলো খাচ্ছিলে, তখন তোমার চোখে ছিলো পানি!’ নীহা এবারও কথা বললো না। তবে হাসলোও না। ওর চোখেমুখে কৌতূহল জেগে উঠলো। আমি আবার বললাম, ‘খেয়াল করেছো জিনিসটা?’ নীহা বললো, ‘কী জিনিস?’ আমি বললাম, ‘একজন মানুষ নামায শেষে কী করে? মোনাজাত। প্রার্থনা। তুমি দু’হাত দিয়ে আমার মুখটা যেভাবে ধরে আছো, মোনাজাতের সময় মানুষটা শূন্যের উপর হাত দুটো ঠিক এভাবে ধরে না! তারপর মোনাজাত করতে করতে মানুষটার চোখে কিন্তু পানিও চলে আসে, মানুষটা কাঁদেও! এবং মানুষটা কিন্তু দু'হাতের ভেতর একসময় চুমুও খায়!’ পরপরই নীহার চোখেমুখে পূবের আকাশের মতো সূর্য খেলে গেলো! চিকচিক করে উঠলো চেহারাটা। বললো, ‘তাহলে! তাহলে এই যে আমি তোমাকে, তুমি আমাকে আদর করো, ভালোবাসো— এগুলো তাহলে প্রার্থনা!?’ ঠিক জানি না, সত্যি কিনা। কিন্তু আমার খুব দৃঢ়ভাবেই মনে হলো নিজে বানিয়ে বানিয়ে যে কথাগুলো এবার আমি বলতে যাচ্ছি, তারচেয়ে বড় কোনো সত্যি নেই। আমি বললাম, ‘হুঁ। প্রার্থনা। আরাধনা। প্রত্যেকটা গভীর ভালোবাসাই একেকটা গভীর আরাধনা, একেকটা গভীর প্রার্থনা— ভালোবাসার চেয়ে গভীর কোনো প্রার্থনা নেই, এবং নেই পূণ্যও।’ লেখক: সুপণ শাহরিয়ার


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now