বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সমীকরণ -রাফিন ইকরাম

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X -স্লামালেকুম ডাক্তর সাব। -ওয়ালাইকুম আস্সালাম। -শফিক মিয়া যে. . . কি খবর? আছেন কেমন? -জ্বি আল্লায় রাখছে। আপনে কেমুন আছেন। -জ্বি ভালো। তা বাসার সবাই ভালো? -জ্বি। একটা সমস্যা নিয়া আসছিলাম। -জ্বি বলুন। কি সমস্যা আপনার? -সমস্যা আমার না, আমার পোলার। আপনারে কষ্ট কইরা একটু আমার বাড়ি যাওন লাগব। -ও আচ্ছা। চলুন। তবে সমস্যাটা কি? -সমস্যা হইল আমার পোলাডা আন্ধার হওনের পর কথা কয় না। আর মাঝ রাইতে চিক্কুর দিয়া ঘুম থাইকা উইডা পরে, পরে আর ঘুমায় না। কন তো কি করন যায়? কবিরাজ হুজুর তো কম দেখাইলাম না। পরে মিলনের মায় আপনের লগে দেহা করতে কইল। তাই আপনের কাছে আইলাম। -আপনার ছেলে অন্ধকার হওয়ার পর কথা বলে না? আজব ঘটনা। -আজিব মাইনে? সেরাম আজিব। কি যে হইছে পোলাডার? -গলায় কোনো সমস্যা নাকি? গলাব্যাথা থাকতে পারে। জিজ্ঞেস করেছেন ওকে? -গলায় সমস্যা হইলে দিনের বেলায় কথা কইত না। কিন্তক দিনের বেলায় তো সব ঠিক। কথা কয়, খায় দায়, ঘুরে। আর রাইতের কথা জিগাইলে স্বিকার যায় না। -ওহ্। দেখুন আমার মনে হচ্ছে ওর সমস্যা টা মানসিক। আপনি কোনো সাইক্রিয়াটিস্ট মানে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। আমি রিকমেন্ড করে দিচ্ছি। -ডাক্তর সাব, আপনে পরিচিত মানুষ। আপনে একটু দেইখা দ্যান। -দেখুন আমি একজন নিওরোলজিস্ট। এসব মানসিক সমস্যার সমাধান আমি একেবারেই করতে পারব না। -তবুও ডাক্তর সাব একবার আমার পোলাডারে দেইখা তো দ্যান। -আসেন ডাক্তর সাব। বসেন। এই হচ্ছে গরিবের বাড়ি। শফিক মিয়া নিজেকে গরিব বললেও নিতান্ত গরিব সে নয়। গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়িটি তারই। তবে তারএকমাত্র ছেলে মিলনকে নিয়ে সে যে বড় বিপদে পড়েছে তা তার চোখেমুখে প্রকাশ পাচ্ছে। মিলনের মা এক গ্লাস লাচ্ছি নিয়ে মিলনের ঘরটাতে ঢুকল। তারও চোখ টলমল করছে। -কেমন আছ মিলন? মিলন কোনো কথা বলল না। ঘরের ৩ জন মানুষের দিকে ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছে। মুখে ক্লান্তি নাকি অস্বস্তি কিসের ছাপ তা বোঝা যাচ্ছে না। ডাঃ সাব্বির আশংকা করলেন যে ওর কান দিয়ে শব্দ প্রবেশ করলেও তা সম্ভবত ব্রেইন রিসিভ করতে পারে না। কিন্তু দিনের বেলা তো সব ঠিকঠাক। সম্ভবত সূর্যের সাথে ব্যাপারটা কোনোভাবে রিলেটেড। -কতদিন যাবত এই সমস্যা? -আন্ধার হওনের পর ওরে কোনদিন কথা কইতে শুনি নাই। -রাতে খাওয়াদাওয়া করে? -না। খাওন মুখে দিলে সেইডা মুখে নিয়া বইসা থাকে চাবায়ও না গিলেও না। -রাতে বাথরুম ব্যবহার করে? -না। বিছানা নষ্ট করে। মাইরা ধইরাও ওরে রাইতে বাথরুমে নিতে পারি না। সাব্বির এর ধারনা এবার একটু পাল্টালো। সূর্যাস্তের পর ওর সম্ভবত একদমই ব্রেইন নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। যার জন্য দশ বছর বয়সেও রাতে ওর বাথরুম ব্যবহারের জ্ঞান হয়নি এটা ভাবা একদমই অস্বাভাবিক। নাহ্। এরকম রোগী তো এর আগে দেখেনি সে। অবশ্য দেখার কথাও না। এসব রোগী তার কাছে আসে না। সাব্বির তার ঘরে বসে মিলনের ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছে। কিছুতেই মেলাতে পারছে না, এরকমটা হওয়ার কারণ কি? যদিও সে সাইক্রিয়াটিস্ট নয় তবুও সে ব্যাপারটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছে না। কেননা সে মিলনের ব্যাপারে একটা অদ্ভুত ঘটনা দেখে এসেছে যা তার বাবা মা ধরতে পারেনি। ওর হৃদপিন্ডটা ডান দিকে। সাব্বির অনেক্ষণ যাবৎ ইন্টারনেট ঘাটছে। তার এক সাইক্রিয়াটিস্ট বন্ধু মিলনের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেনি। কিসব যেন আবল তাবল বকছিল। নাহ্। নিওরোলজিস্ট না হয়ে সাইক্রিয়াটিস্ট হলেও লাভ হতনা। তবে মিলনের যেহেতু সমস্যা আছে সেহেতু সমাধানও থাকার কথা। তবে ডান পাশে হৃদপিন্ড থাকার ব্যাপারটা ততটা অস্বাভাবিক না। বরং অনেকেরই এরকমটা হয়ে থাকে। এছাড়া ওর আসল সমস্যাটা মোটেও হৃদপিন্ড দ্বারা প্রভাবিত না। ধুর। ইয়াহু এনসার কোনো কাজেরই না। আমি কত সুন্দর করে ঘটনাটা বর্ণনা করে কার্যকারণ জানতে চাইলাম আর ওরা আমাকে সায়েন্স ফিকশন লেখার জন্য অভিনন্দন জানালো? মুখটাই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে আমি ভাবছি কাল সারাদিন মিলনের সাথে থাকব। রাতে ওর সাথেই ঘুমাবো। মাঝরাতে চিৎকারের ব্যাপারটা এতে পরিস্কার হতে পারে। আমার যা ধারণা ওর বাবা মা মাঝরাতের কথা বললেও আসলে ঘটনাটা মাঝরাতের না। পুবাকাশে সূর্যোদোয়ের আভাস যখন দেখা দেয় মিলন তখনই চিৎকার দিয়ে উঠে পড়ে। আর এতেই সে আগের মত আবার স্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তারপর দিনের বেলা যথারীতি স্কুল, দুষ্টুমি, খেলা ইত্যাদি। সকাল হতেই সাব্বির শফিক মিয়ার বাড়িতে হাজির। সকালের নাস্তাটা সবাই একসাথেই করল। স্বাভাবিকভাবে মিলন প্রচন্ড চঞ্চল। খেতে বসে কথা যেন মুখ থেকে সরছিলই না। বিভিন্নভাবে বাবাকে জ্বালাতন করছিল। কিন্তু শফিক মিয়া সেগুলো মুখবুজে সহ্য করছিলেন। তার ধারণা ছেলেটা বুঝি বেশিদিন বাঁচবে না। মিলনের মায়ের চোখ যথারীতি লাল। মহিলা রাতে একটুও ঘুমায় না। ছেলেকে দেখে রাখেন হয়ত। মাঝে মাঝে হয়ত নাকের কাছে আঙুল রেখে দেখেন ছেলে শ্বাস নিচ্ছে কিনা? মিলনকে নিয়ে সাব্বির আজ সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেন। মিলনের আচার আচরণ একটুও অস্বাভাবিক লাগেনি তার কাছে। বরং আট দশটা সাধারণ ছেলের মতই। তবে সাব্বিরের আসল কাজ বিকাল বেলাটা মিলনের ওপর ভালোমত খেয়াল রাখতে হবে একদম সুর্যাস্ত পর্যন্ত। বিকাল হয়ে সন্ধ্যা হবে হবে অবস্থা। সাব্বির ক্রমাগত মিলনের প্রেশার, টেম্পারেচার আর হার্টবিট এর ওপর নজর রাখছে। সব ঠিক থাকলেও প্রেশারটা আপ ডাউন করছিল। কিন্তু হটাৎই থার্মোমিটারটা ফেটে গেল। প্রেশার মাপার যন্ত্রটাও কাজ করছে না। আর কিছুক্ষণ পর সাব্বির লক্ষ্য করল স্টেথোস্কপির ইয়ারপিস দিয়ে কোনো শব্দ আসছে না। তবে কি মিলনের হার্টবিট থেমে গেছে? কিন্তু তার চোখের পলক ফেলা তো এখনো বন্ধ হয়নি। তার মানে সে জীবিত। সাব্বির স্টেথোস্কপি চেক করার জন্য নিজের হার্টবিট শোনার চেষ্টা করল। নাহ্, স্টেথোস্কপি ঠিকই আছে। সাব্বির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মিলনের হৃদস্পন্দন থেমে গেলেও সে বেঁচে আছে। সাব্বিরের আপাতত কিছুই করার নেই। শুধু এতটুকু বুঝতে পেরেছে ছেলেটা মানবীয় বৈশিষ্ট বহির্ভুত। মিলন। অন্যরকম একটি ছেলে। সুর্যাস্তের পর থেকে সুর্যোদয় পর্যন্ত ছেলেটা একরকম নিষ্ক্রিয় পর্যায়ে চলে যায়। কিন্তু দিনের বেলা সব স্বাভাবিক। ছেলেটার হৃদপিন্ড ডান দিকে। সুর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে ছেলেটার হৃদস্পন্দন দশ সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ছেলেটা মানুষ নয়। তবে সে জ্বিনও হবে না। কেননা জ্বিন খুব দ্রুত চলাচল করে। মিলনের চলাফেরার গতি স্বাভাবিক। মিলন ছেলেটা তাত্ত্বিকভাবে জীবিত হলেও সে আসলে মৃত। তার বাবা মার ভাষ্যমতে তার জন্মের দেড়মাস পর মিলন অসুস্থ হয়ে পড়ে। বেশ কিছুদিন যাবৎ সারাদিন কান্নাকাটি করে। হঠাৎই একদিন কান্না থেমে যায়। তারপর থেকেই মিলনের অস্বাভাবিক আচরণ শুরু। অর্থাৎ মিলন মারা যায় এবং তার দেহে কিছু একটা প্রবেশ করে যা তাকে বাঁচিয়ে। আমার ধারণা ছিল নিশ্চই সে কোনো মহাজাগতিক প্রাণী দ্বারা প্রভাবিত। সেটা এলিয়েনও হতে পারে। কিন্তু আসলে মিলনের মধ্যে একটা এলিয়েন বাস করছে যে এমন একটা সম্প্রদায় থেকে এসেছে যারা আত্মার সমীকরণ বের করে ফেলেছে। এরই সাথে আত্মা পরিবর্তন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের পর্যায়গুলো বের করতে পেরেছে। এলিয়েনটা যেই গ্রহে বাস করে সেই গ্রহটি দুটো নক্ষত্রের মাঝামাঝি একটা স্থানে অবস্থিত এবং গ্রহটি নক্ষত্র দুটি হতে সমদুরত্ব বজায় রেখে এদের পার্শ্ব বরাবর ঘুরছে। যার জন্য সেই গ্রহের সৌরবর্ষে কোনো রাতের প্রভাব নেই। মিলনের দেহে বসবাস করা এলিয়েনটা ঠিক এই কারণেই অন্ধকারে বিচলিত হয়ে পড়ে আর ভোরের আলো দেখার সাথে সাথেই চিৎকার দিয়ে হাঁফ ছাড়ে। ডাঃ সাব্বির ডায়েরিটা ব্যাগে রেখেদিলেন। নিজের কল্পনাশক্তি দেখা সে নিজেই অভিভূত। গ্রামে এসে এতটা অদ্ভুদ অভিজ্ঞতা হবে সে তা ভাবতেই পারেনি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন চারটা বেজে গেছে। ছয়টার ট্রেনে ঢাকা ফিরবে সে। মিলনের বাবা মাকে সে শুধু এতটুকুই বলে এসেছে যে ছেলে যেভাবে আছে সেরকমই থাক। আগ বাড়িয়ে কিছু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সে চাইলে ডায়েরির কথাগুলো বলতে পারত। কিন্তু এতে বিভ্রান্তি বাড়ত। থাক। একটা এলিয়েন যদি একটা মানুষের ভেতর আশ্রয় খুঁজে পায় তো ক্ষতি কি? দুটো জীবন বাঁচবে এতে। ভালো থেকো মিলন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now