বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্য আকাশের ঘুড়ি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X .................................... মামা লিচু কত করে.? ৩০০ টাকা শ। মামা ১০ টাকায় তিনটা দেন!! ধুর মামা তিন টা লিচু দিয়া যাবে না, মিনিমাম ২৫ টা নেন.. না মামা টাকা নাই বুঝেনি তো স্টুডেন্ট মানুষ। শিশিরের কথায় ও মুখে এক লজ্জা ও মায়া। হঠাৎ করে দোকানীর কি হলো নেন মামা বলে তিনটা লিচু ছিড়ে দিলো। শিশির লিচু ছিড়ে খেতে খেতে ভাবলো গরীবের কি কষ্ট কত কি না খেতে ইচ্ছা করে কিন্তু টাকা নীরব করিয়ে দেয়। সে ভাবে এই শহরে তার মত কত না গরীব ছাত্র আছে। ইস যদি ধনী হতাম!!!! আজ শিশিরের হামিদ স্যারের কাছে ইন্টার মিডিয়েট একাউন্টিং পড়া শুরু, প্রথম ক্লাস। সে ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে আজকের লিচু খাওয়ার গল্প টা বন্ধু ইমন কে শুনায়। ইমন শুনে আর হাসে। এভাবে তার পড়া চলতে থাকে, স্যার প্রতিদিন বোর্ড এ অংক করে দেয় তারা তা দেখে দেখে উঠাই। একদিন শিশির খেয়াল করলো পাশের ব্রেঞ্চে বসে ছোঁয়া নামের মেয়েটা অংক তুলার আগেই স্যার মুছে পরের লাইনে চলে যায়। শিশির মেয়েটার দিকে খেয়াল করে খুব ভালো ভাবে। মেয়েটা যদিও তার ক্লাস মেট কিন্তু তাদের মধ্যে কোন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। শিশির ইতস্তত করেও ছোঁয়া কে বলে ফেলে দাও আমি তোমায় অংক তুলে দিঈ। ছোঁয়া প্রথমে একটু দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লেও তার খাতাটা এগিয়ে দেয়। এভাবে প্রায় দিনই শিশির ছোঁয়ার খাতায় অংক করে দেই। একটু একটু করতে করতে শিশির ছোঁয়ার বন্ধুত্ব এখন খুব ভালো পর্যায়ে। প্রাইভেটে এসে তারা পাশাপাশি বসে পড়া শেষে ইতিউতি ঘুরে। এভাবে চলতে চলতে ছোঁয়া একদিন শিশিরের খাতা নেয় অংক করবে বলে ২ দিন পর তা ফেরৎ দেয়। খাতা নিয়ে পাতা উল্টিয়ে দেখতেই চোখে পরে I lOVE U SHISHIR লেখাটি, তা দেখেই শিশির চমকে যায়। সে ছোঁয়া কে পাশের একটা আম বাগানে নিয়ে যায় শোন ছোঁয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস এই আআম্রকাননের মত কাননেই লেখা হয় আজ আমার তোমার ইতিহাস ও লেখা হবে এই আম বাগানে। বলো তুমি কি আমার খাতাই এই লেখাটি লিখেছো.? ছোঁয়া উত্তর দেই হ্যা। শিশির বলে জানো ছোঁয়া আমার যে তোমাকে পছন্দ না তা নয় কিন্তু আমি দারিদ্র্যের কাছে বন্দি। আর প্রেম মানে খরচ এটা তো জানো সরল ভাবে বলে ফেলে শিশির। শিশির শোন তুমি যেমন গরীব আমিও তেমন গরীব, আমি এই পর্যন্ত এসেছি নিজে টিউশনি করিয়ে। আমাদের বন্ধুত্ব ও হয়েছে আমাদের মানসিকতার মিল রয়েছে তাই, ছোঁয়া কথা গুলো এক নিশ্বাসে বলে নীরব হয়ে যায়। ছোঁয়া চলে যেতে চাইলে শিশির হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার হাত ধরে আটকায়। সত্যিই আজকে তাদেরো এক ইতিহাস লেখা হয় অদৃশ্য কালিতে। এভাবে ফাইনল ইয়ারে যায় তাদের প্রেম হয়ে উঠে গভীর থেকে আরো গভীর। একদিন সন্ধ্যায় ছোঁয়া শিশির কে ফোন করে বলে জানো বাড়ি থেকে আমার বিয়ের খুব জোর করছে আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না তুমি প্লিজ ব্যবস্থা করো। শিশির, ছোঁয়ার সব কথা স্তব্ধ হয়ে যায় কিছু বলতে পারে না। তার পরের দিন ছোঁয়া শিশিরের কাছে এসে বলে আমরা আজই বিয়ে করবো, শিশির নির্বাক। তবুও সে কিছু বন্ধুকে ফোন দিয়ে সাহায্য চাই কিন্তু কোথাও থেকে সাহায্য পাই না। সব দেখে সে ছোঁয়া কে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়, সেইদিন রাতেই ছোঁয়াকে তার দাদা ফোন করে বাড়ি ডাকে এবং সে বাড়ি গেলেই তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। ছোঁয়ার ফোন সাতদিন যাবৎ বন্ধ শিশির কি করবে বুঝতে পারে না। এর মধ্যে একদিন কলেজ এসে শিশির যেন তলিয়ে যেতে লাগলো অতল পাতালে। ছোঁয়া এক সবুজ সালোয়ার কামিজ আর সিঁথি তে লাল সিঁদুর আর হাতে সাদা শাখা পড়ে দাড়িয়ে আছে, শিশির কি বলবে বুঝতে পারে না। ছোঁয়া দৌড়িয়ে এসে শিশিরে হাত ধরে কাঁদতে থাকে, শিশির নীরব!!!! ছোঁয়া বলতে থাকে শিশির আমার বিয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে তো কি হয়েছে আমার মন শরীর সব তোমার..। শিশির শুধু বলে ছি: ছোয়া। বলেই হাটতে থাকে........ ব্যস্ত এই শহরকে শিশিরের তিতা মনে হচ্ছে খুব তিতা। মুঠোফোনটাকে ছুড়ে ফেলে এক ভারি ট্রাকের নিচে। সোজা হাটতে থাকে স্টেশনের দিকে, এক হেল্পার কে জিংগাসা করে আচ্ছা মামা, এখান থেকে ৩৪২ টাকায় কতদূরে যাওয়া যাবে??? আরে মামা গাড়িতে উঠে বসেন পরে দেখছি, শিশির গাড়িতে চড়ে বসে। কিছুক্ষণ পর গাড়ি ছাড়ে, সব ফেলে ছুটে যায় বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে। শিশিরের কানে শুধু বাজতে থাকে, " এই মিথ্যে কথার শহরে তোমার আমার লালনীল সংসার" শিশিরের চোখ বেয়ে অবাধে জল গড়িয়ে পড়ছে, পাশের যাত্রী বলে ভাইয়া আপনার বুঝি জার্নি তে চোখ দিয়ে জল ঝরে.? শিশির নীরবে চোখ বন্ধ করে থাকে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now