বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কার্টেজি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমার আম্মা মরিচ, আদা-রসুন আর ডিম দিয়ে এক ধরনের টিফিন বানাতে পারত... সেটার নাম ভাত-ভাঁজি ব্যাপারটা কিছুটা হলুদ হলুদ ফ্রাইড রাইস আমার মনে হয় ৯০ দশকের সব আম্মারাই এটা বানাতে পারত আল্লাহ্‌র ৩৬৫ টা দিন এটা স্কুলে আমার টিফিন হিসেবে থাকত ঝড় হোক ভূমিকম্প হোক, স্কুলে টিফিন বক্স খুলে এটা পেতাম এটা খাওয়ার পর কুলি না করলে দাঁতে হলুদ হলুদ ভাত লেগে থাকত শুধু কেজুয়াল কুলি না... কুলকুচি করা লাগতো তারপর ক্লাসের নীরবতা ভেঙ্গে ঢেঁকুরের বিষয়টা তো আছেই একদিন বাসায় ফিরে আম্মার চোখের দিকে না তাকিয়ে বলে দিলাম, ‘আম্মু স্কুলে এই ভাতের আইটেম নিয়ে যেতে নিষেধ করেছে... কি জানি এক নতুন নিয়ম করসে স্কুল’ পরের দিন আম্মা স্কুলে হাজির আমাকে ডাকা হলো হেড মাস্টারের রুমে স্যার স্যারের চেয়ারে... আম্মা তার সামনের চেয়ারে... আর তাদের দুইজনের মাঝের টেবিলের উপর ইগলুর বক্সে, সেই হলুদ ভাতভাজি স্যার আমাকে বেতের বাড়ি দিতে দিতে বলল, “তুই দেখি জগদীশ চন্দ্র বসুর মতো কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা হয়ে গেসস... নিজে নিজেই নিয়ম বানাস’ মারটা আমি খেলেও সেদিন সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছিল আম্মা এর পর থেকে ভাতভাজি দেয়া বন্ধ করে দিলো রুটি ভাঁজি দিতো... রুটিতে জেলি লাগিয়ে দিত কিন্তু ভাত ভাঁজি আর দিতো না স্কুল শেষ হলো... কলেজেও দিলো না... ইউনিভার্সিটিতেও না এমবিএ করতে ইংল্যান্ডে গেলাম... একটা বছর টিফিনে ব্রেড বাটার কুকিস খেয়ে ছিলাম প্রতিদিন ক্লাস শেষে রুমে ফিরে ভাত ভাঁজি বানানোর চেষ্টা করতাম কাঁদতে কাঁদতে যেটা বানাতাম সেটাই খেতাম ইংল্যান্ডে একদিন হুট করে ইমেইল পেলাম আম্মার কাছ থেকে... ‘Arif Kaman asa? Dupure ki khaico?’ আমার ছোটভাই আম্মাকে ইমেইল খুলে দিয়েছে সেই ইমেইল দেখে আমার কান্না আর থামে না আমি আম্মাকে লেখলাম, “amma missing ur bhatbhaji” কোনও রিপ্লাই পেলাম না এটাই আম্মার সাথে আমার শেষ ইমেইল ওয়েট... আমার আম্মা এখনও বেঁচে আছে... উনি ইমেইলের পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেছে তাই আর ইমেইলে আলাপ হয়নি তার পর থেকে যতদিন বেঁচে আছে উনি, উনার বানানো খাবার আমি হাসি মুখে খেয়ে যাব ট্রাস্ট মি, এটাই সুখি জীবনের পাসওয়ার্ড -- আমার আব্বা এখনও ভাত খেতে বসলে দাদীর হাতের রান্নার কথা বলে... “আগের দিনের রান্নার টেস্টই ছিল আলাদা... আমার আম্মা এমন সুন্দর আলুর ডাল রান্না করতে পারত... তোমরা তার কিছুই পারো না” আম্মা বলে, ‘শুনো, আমার আম্মাও যে সুন্দর ডিমের কর্মা রান্না করতে পারত, এটা কেউ পারবে না... সব মায়ের রান্নাই সবার সন্তানের কাছে ভালো’ বাট সেটা বুঝতে কিছুটা সময় যেতে দিতে হয় সেদিন স্কুলে নামিয়ে দেয়ার সময় আমার ছোট মেয়ে আমাকে ফিসফিস করে বলছে, ‘মাম্মি যে টিফিন দেয় সেটা ইয়াক্কি’ আমি বললাম, “দে দেখি খেয়ে কেমন ইয়াক্কি?” সে টিফিন বক্স খুলে রুটি জাতীয় কিছু একটার পুরোটাই আমার হাতে দিয়ে খালি বক্স ব্যাগে ঢুকাতে ঢুকাতে বলল, “স্কুলে এই সব রুটি মুটি আনা ব্যান করে দিলেই হয়” আমি মুচকি হাসি পাসওয়ার্ড জানার, বয়স যে এখনও হয়নি তোদের হাজারটা other day পার করার পর mothers day বুঝার পাসওয়ার্ড পাবি... তার আগে না কার্টেজি- আরিফ আর হোসাইন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now