বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভার্সিটির ক্লাস শেষে বাসে করে বাড়িতে ফিরছিলাম।
রাস্তায় জ্যাম লাগার কারণে বাসের জানালা দিয়ে বাহিরে
আপন মনে তাকিয়ে ছিলাম।
হঠাৎ কানে একটা শব্দ আসালো,,,
-" ফুল নিবেন ফুল?? "
আমি তাকালাম,,দেখলাম একটা ৫ বছর বয়সী ফুটফুটে
একটি মেয়ে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
দেখে আমি একটু অবাক হলাম,,এতো সুন্দর
মেয়েটি রাস্তায় বাসে বাসে ফুল বিক্রি করছে?
মেয়েটির চেহারা অসম্ভব মায়াবী,,দেখে খারাপ
লাগলো তাই আমি শুধু শুধু একটি ফুল কিনে ১০ টাকা
দিলাম।
ইতিমধ্যে জ্যাম শেষ হলো এবং বাস ছাড়লো,,আমি
জানালা দিয়ে পিছন ফিরে মেয়েটিকে দেখছিলাম।।
পরেরদিন আমি বেলা ১টার সময় গুলিস্তান দিয়ে
আসছিলাম,,একটু ক্লান্তির কারণে গুলিস্তানের
পার্কটাতে গিয়ে কিছুক্ষণ বসেছিলাম।
কিছুক্ষণ পর একটি মেয়ে কন্ঠ ভেসে
উঠলো,,,সেই মেয়েটি যার থেকে আমি গতকাল
ফুল কিনেছিলাম।
মায়াবতী সেই মেয়েটি ফুল হাতে করুণ চোখে
বলল,,
-ভাই,,ভাবির লেইগ্গা একটা ফুল নিয়া যান না..ভাবি অনেক
খুশি হইবো।
আমি একটু মুচকি হেঁসে বললাম,,
-না লাগবে না,,বাসায় বউ নেই।
মেয়েটি তখন একটু অনুরোধ ককরে বলল,,,
-ভাই নেন না আর মাত্র একটা ফুল আছে,,'আপনি
ফুলের গন্ধ পাইলে আমি ভাতের গন্ধ পামু।'
মেয়েটি কথা শুনে খুবই সহানুভূতি হলো,,আমি
বললাম,,
-ঠিকাছে দাও।
মেয়েটি অনেক হাঁসি মুখে আমাকে ফুল দিয়ে
টাকাটা নিলো,,
আমার খুবই ইচ্ছে হচ্ছিলো মেয়েটির নাম
জানতে,,,তাই মেয়েটিকে বলে ফেললাম..
- এই মেয়ে শোনো,,তোমার নাম কী?
-আমার নাম মধু।
- বাহ্,,খুবই সুন্দর নাম।তোমার বাবা-মা নেই?
-নাহ্ আব্বা ১ বছর আগে একসিডেন্ট কইরা মইরা
গেছিলো।
-তোমার মা?
-মায় তো আব্বা মরার কিছুদিন পরে আমারে এই
জায়গায় থুইয়া অন্য একটা ব্যাটার লগে গেছেগা। এর
পর থেইক্কাহ আমার আর কেউ নাই। এহন ফুল বেঁচি।
-তাহলে তুমি একা থাকো?
- হ,,আমি একলাই থাকি আগে আম্মু-আব্বুর লগে
ভালো বাসায় থাকতাম,,স্কুলেও ভর্তি হইছিলাম কিন্তু আর
পড়াশোনা হইলো না।দাদা/দাদী,, নানা/নানী এগুলারে
কখনও চোক্ষে দেখিনাই।নয়তো হেগো কাছে
থাকলে আমার পড়াশোনাডা হইতো,ফুল বেচঁতে
হইতো না।
-তুমি এখন কোথায় থাকো?
-আমি???আমি এহন এই পার্কেই থাকি।তোতা মিয়া
আমারে কিছু ফুল দেয় আমি ঐগুলা বেইচ্চা দিলে
আমারে দুই বেলা খাইতে দেয়
-ওহ্ আচ্ছা।তুমি না স্কুলে পড়তে??তোমার ভাষা এমন
কেন?
-আমি এখন পার্কে থাকতে থাকতে এভাবেই কথা
বলি,,আগে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতাম।
মেয়েটির কথা শুনে আমি রিতীমতো অবাক,,খুবই
খারাপ লাগলো,,যে বয়সে তার ফ্রক পড়ে পুতুল
খেলার কথা,,,, সেই বয়সে বাসে-বাসে আর পার্কে
ফুল বিক্রি করে।
বাসার থেকে ফোন আসার কারণে মেয়েটিকে
বিদায় দিয়ে বাসায় চলে এলাম।
বাসায় ফিরে রাতে মেয়েটির কথা
ভাবছিলাম,,চোখের কনে হালকা জ্বল এসে
গেছিলো,,,যে বয়সে বাবা-মার থেকে বায়না করে
চকলেট খাওয়ার কথা ছিলো,,সেই বয়সে নিজের
ভরণ পোষণ নিজে চালায়,,।কত চঞ্চল একটি
মেয়ে,,কত মায়া তার চেহারায়,,যে কোনো
মানুষকে ও কথা বলে নরম বানিয়ে দিতে পারবে।
যাই হোক,,মেয়েটির জন্য অসম্ভব মায়া
হলো,,,কারণ আমার ছোট বোন নেই,,থাকলে
হয়তো আমার কাছে নানান ধরনের বায়না করতো।
পরের দিন আবার একই সময়ে মেয়েটিকে
দেখতে পার্কে গিয়েছিলাম,,ঐ সময়টায় বোধ হয়
পার্কে সকালকার ফুলের বিক্রির হিসাব দিতে
আসে,,আর খেতে আসে।
পার্কে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম,,দেখলাম এক আইসক্রিম
আলার আশেপাশে অনেক ছেলে-মেয়েরা টাকা
নিয়ে ভিড় করেছে,,কিন্তু একটু দূরে ছিলো সেই
মেয়েটি যাকে দেখতে এসোছিলাম,,দেখলাম
সে একটু লোলুপ দৃষ্টিতে আইসক্রিমের দিকে
চেয়ে আছে।
আমি মেয়েটির কাছে গেলাম,,বললাম
-কি করছ এখানে?
- কিছু না,,অনেকদিন ধরে আইসক্রিম খাইনা,,তাই
দেখছিলাম।
- আইসক্রিম খাওয়ার বড্ড ইচ্ছে জেগেছে তাইনা??
- হ্যা,,কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই,,তোতা মিয়াকে
ফুল বিক্রি করে সব টাকা দিয়ে দিয়েছি।
আমি একটু হেঁসে আইসক্রিম আলাকে দুইটা
আইসক্রিম দিতে বললাম,,
একটি আইসক্রিম আমি নিয়ে আরেকটি আইসক্রিম
মেয়েটির সামনে নিয়ে বললাম,,
-এই নাও,,এটা খাও।
-ভাইয়া,,আমার কাছেতো টাকা নেই।আর ফুল ও নেই।
-টাকা লাগবেনা তুমি নাও,,বড় ভাইয়া হিসেবে দিলাম।
-না না তা কী করে হয়,,আমি ভিক্ষে নেইনা।
-আরে পাগলী ভিক্ষে কেন
দিবো,,প্রয়োজনে তুমি কাল আমাকে একটা ফুল
দিয়ে দিও।
-আচ্ছা ঠিক আছে,,তাহলে কাল ফুল নিতে আসবেন
কিন্তু।
-আমি বললাম ঠিক আছে।
খুশি মনে পার্ক থেকে বের হয়ে বাসায় গেলাম,,
আম্মু আমাকে খুশি দেখে বলল,,
-কীরে কী হয়েছে??এতো খুশি কেন??
আমি তখন মধুর(মেয়েটির) সব কথা আম্মুকে বললাম।
আম্মুর সাথে আমি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ,, একমাত্র সন্তান
আমি,,আম্মু আমাকে খুশি দেখে বলেই
ফেললো,,,
-তাহলে কাল মেয়োটাকে বাসায় এনে দুপুরের
খাবার খাওয়ালেই তো পারিস।
-মা তুমিও না,,মনের সব কথা বুঝে যাও,,আমিও এই কথাটি
ভাবছিলাম।
-তুইতো আমারই ছেলে,,আমি বুঝি জানিনা,,তোর
ছোট বোন নেই বলে তুই ছোট মেয়েদের
কত আদর করিস।
-হুমমম মা,,অনেক ধন্যাবাদ তোমাকে।
রাতে আবারও মেয়েটির কথা ভাবলাম,,ওর কথা ভাবলে
অনেক ভালো ললাগে,,একটু আফসোসের
সহকারে ভাবলাম,,ইসসসস মেয়েটি যদি আমার ছোট
বোন হতো।হঠাৎ মাথায় আইডিয়া এলো,,সাথে
সাথো দৌড়ে আম্মুর কাছে গেলাম,,
-আম্মু আমারতো কোনো ছোট বোন
নেই,,তাই না?
-হ্যা,,আমার জানামতে তো তুই আমাদের একমাত্র
সন্তান,,এখন যদি তোর বাবা অন্য জায়গায় আরেকটা
বিয়ে করে এবং তোর ছোট বোন হয় সেটা
অন্য ব্যাপার।
-ধুর মা,,তুমিও না,,সিরিয়াস মুডে হাসিয়ে দাও,,আমার বাবা
মোটেও এমন না।
-হ্যা জানা আছে,,এবার বল কী বায়না নিয়ে এসেছিস।
-বলছি কী মা,,আমারতো কোনো ছোট বোন
নেই,,আর বউ ও নেই।বাবাতো বিদেশে
থাকে,,সারাদিন তুমি একা একা বাসায় থেকে নিশ্চয়ই
বোর হও।
-বাহ,,এতদিন পর এই কথা ভাবলি??কেন বিয়ে ঘরে
আরেকজন আনতে চাস??বিয়ে করবি নাকী??
-উফফ,,না মা,, আমি ভাবছি ঐ মেয়েটাকে বোন
বানিয়ে এক্কেবারের জন্য আাসায় নিয়ে আসবো।।
প্লিজ মা প্লিজ।
-হায়রে,,আমি জানতাম তুই এরকম কিছু বায়না করবি।
-প্লিজ মা প্লিজ,,তোমারও ভালো লাগবে আর
আমারও।আর একজন শিশু থাকলে আমাদের তো
কোনো ক্ষতি হবেনা।
-আচ্ছা বাবা ঠিক আছে।তোর কোনো বায়না আমি
ফেলেছি।
-লাভ ইউ মা।
একমাত্র ছেলোর বায়না আম্মু আর না রেখে
পারলো না।
পরের দিন খুশি মনে মার্কেট থেকে মধুর জন্য
কিছু নতুন জামা কাপড় আর খেলনা কিনে এবং তোতা
মিয়াকে কিছু টাকা দিয়ে ওকে আনার জন্য প্রস্তুতি
নিলাম।
বাসে করে পার্কের দিকে আসছিলাম,,দেখলাম
অনেক মানুষ জড়ো হয়ে আছে একটা জায়গায়,,
কিছু আন্দাজ করতে পারলাম না..তাই সামনে গেলাম,,
শুনলাম বাসে নাকী কেউ চাপা পড়ে মারা গেছে।
গিয়ে দেখলাম ছোট কোন মেয়ের মাথা
বেয়ে অনেক রক্ত পড়ছে,,মগজ দেখা যাচ্ছে।
কেউ একজন সামনে এসে মেয়েটির মুখ
ঘুরালো,,যা দেখলাম সেটা দেখে পা থেকে মাটি
সরে গেলো।
মেয়েটি মধু,,,,
রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের নিচে চাপা পড়েছে।
মূহুর্তের মধ্যে আমার সব উলট-পালট হয়ে
গেলো।
হাত থেকে ব্যাগ গুলো ফেলে দিয়াে মধুর
সামনে গিয়ে তার মাথাটা বুকে নিয়ে চিৎকার করে
কাঁদতে লাগলাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now