বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিদীর্ণ বিবেক

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অণূ গল্প বিদীর্ণ বিবেক শেষ কক্ষপথের ইলেক্ট্রন জামান সাহেব অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন।দেখছেন তার নিজের বানানো পুরনো ধাচের বাড়িটির দিকে। কত বয়স হবে বাড়িটার? হয়ত চল্লিশ বছর বা তার বেশিও হতে পারে। অল্প বয়সে ব্যবসায় নেমেছিলেন তিনি।মাথা খাটিয়ে আর পরিশ্রম করে বেশ ভালো অবস্থানে গিয়েছিলেন অল্প সময়েই। বাড়ি বানানোর আগে তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তাকে বলেছিলেন এক তলা বাড়ি বানাতে।বাড়িতে যেন পাঁচটা রুম থাকে আর একটা বারান্দা। রাহেলা বেগমের মনের মত করেই তিনি বাড়ি বানিয়েছিলেন। দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে এই বাড়িতে কাটিয়েছেন জীবনের এতটা সময়। ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করিয়েছেন, বিয়ে দিয়েছেন। আজ তাদের নিজেদের সংসার হয়েছে। রাহেলা বেগমের মৃত্যু জামান সাহেবকে বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছিল। একা একা দু চোখের পানিও ফেলেছিলেন নীরবে। আজ অবশ্য ভাবছেন রাহেলা আগে চলে গিয়েছে ভালোই হয়েছে। সেদিনের পর থেকেই এই কথা ভাবছেন, যেদিন বড় ছেলে এসে তাকে বলল,আব্বা, বাড়িটা ডেভেলপার দের হাতে দিয়ে দিলাম। ওরা চার তলা করবে এটাকে। আমরা নিচের তলায় থাকবো। " জামান সাহেব শুধু চোখ তুলে ছেলের দিকে তাকালেন একবার। ছোট ছেলে হঠাৎ বলল, "তুমি চিন্তা করো না বাবা,তোমার জন্য খুব ভালো মানের একটা বৃদ্ধাশ্রম ঠিক করেছি। আমার এক কলিগের বাবা থাকে সেখানে। তোমার কোন সমস্যা হবে না। " জামান সাহেবের পায়ের তলা কেঁপে উঠেছিল সেদিন। ওদের সামনে বসে থাকতে পারেননি আর। রাহেলা বেগমের ছবির সামনে এসে আনমনে বলেছিলেন ,চলে গিয়ে ভালো করেছো, এই কষ্ট তুমি সইতে পারতে না। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যেন একফোঁটা পানি তার চশমার কাচে এসে জমা হল। বাড়িটার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিলেন। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে বাড়ির গায়ে। প্রত্যেকটি আঘাতের শব্দ তার হৃদয়ে কেমন যেন একটা নির্মম ব্যথা ঢেলে দিচ্ছে। আর থাকতে পারলেন না জামান সাহেব। পা চালানো শুরু করলেন। পাঞ্জাবীর পকেটে হাত ঢুকিয়ে শক্ত করে ধরে রেখেছেন একটা সোনার চুড়ি।রাহেলা বেগমকে বিয়ের রাতে পরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি এটা।এই একমাত্র স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে চান আপাতত বাকি দিনগুলো। চলতে থাকেন তিনি। পেছনে ফেলে যান হাতুড়ির আঘাতে বিদীর্ণ হতে থাকা শত স্মৃতি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now