বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ২৪ঃ
জোনাথন হারকারের ডায়েরী :
পরের অংশ কুইন্সির জন্য
আতঙ্কে অস্থির হয়ে ছিল মীনা, তবে ওর কামরায়
ঢোকার পর খানিকটা শান্ত হলো। বিছানায় পরম
শান্তিতে ঘুমোচ্ছে ছেলেটা, জানলা দিয়ে এসে পড়া
চাঁদের আলোয় ওকে যেন দেবশিশুর মতো লাগছে। ঘরের
কোথাও কোনও গোলমালের চিহ্ন দেখা গেল না, দেখা
গেল না কোনও বৈসাদৃশ্যও। সাবধানে কুইন্সিকে পরীক্ষা
করলাম আমরা, কিন্তু ওর শরীরের কোথাও কোনও আঘাত
বা কামড়ের দাগ পেলাম না। আমাদের উপস্থিতিতে
পাছে ওর ঘুম ভাঙে তাই সাবধানে ওকে পরীক্ষা করে ওর
কামরা থেকে বেরিয়ে এলাম আমরা, আর বেরোতে
গিয়েই দেখা হয়ে গেল ইলিনার সঙ্গে। কুইন্সির ঠিক
পাশের কামরাটায় থাকে ও, আওয়াজ শুনে বেরিয়ে
এসেছে, পরনে ঘুমের পোশাক। হাই তুলে আমাদের
জিজ্ঞেস করল, " কি ব্যাপার? আপনারা সবাই এখানে
কেন?"
থমকে গেলাম আমরা, যেন চুরি করতে এসে ধরা পড়ে
গিয়েছি। কয়েক মূহুর্ত বোবার মতো তাকিয়ে থাকার পর
মীনা এগিয়ে গেল ওর দিকে। বলল, " কিছু না। কুইন্সির
কান্না শুনেছি বলে মনে হলো, তাই এসেছিলাম ওকে
দেখতে। আসলে কিছুই হয়নি, বোধহয় বাতাস টাতাসের
শব্দ শুনেছি ".....কথা বলতে বলতে ইলিনাকে তার কামরায়
নিয়ে গেল মীনা।
বাকিরা চলে এলাম ড্রয়িংরুমে। সোফায় বসে চোখ
মুদলেন ভ্যান হেলসিং, মনে হলো এক ধাক্কায় যেন ওঁর
বয়স দশ বছর বেড়ে গেছে। একটু পরেই ফিরে এল মীনা।
জানাল, ইলিনাকে একটা ক্রুশ দিয়ে এসেছে.....ওটা গলায়
ঝুলিয়ে রাখতে বলেছে দিন রাত, চব্বিশঘণ্টা। " ইলিনা
এতে অবাক হয়নি?" জিজ্ঞেস করলাম। " তা তো হয়েইছে",
বলল মীনা, " পরে সব ব্যাখ্যা করব বলে বুঝিয়ে দিয়ে
এসেছি; কিন্তু কি বলব, সেটাই মাথায় আসছে না"।
চোখ খুললেন ভ্যান হেলসিং। শান্ত গলায় বললেন, "
সবকিছু সাফ সাফ জানিয়ে দেওয়াই বোধহয় ভাল। অযথা
ওকে অন্ধকারে রাখার কোনও প্রয়োজন দেখছি না। এই
বাড়ির বাসিন্দা হিসেবে ও-ও আমাদের মতোই বিপদে
আছে"।
" গত রাতে আমি ড্রাকুলাকে স্বপ্নে দেখেছি ", বলল
মীনা, " আমার কামরায় এসে রক্ত চাইছিল.....আর সে রক্ত
আমায় নাকি স্বেচ্ছায় দিতে হবে। হা ঈশ্বর, এখন মনে
হচ্ছে, সেটা আদৌ স্বপ্ন ছিল না"। পাশে গিয়ে মীনার
গলা ও ঘাড় পরীক্ষা করলেন প্রফেসর হেলসিং। বললেন, "
কামড়ের তো কোনও দাগ দেখছি না......মীনা, তোমার কি
মনে পড়ে, ও তোমায় আক্রমণ করেছিল কিনা? অথবা
রক্তক্ষয়ের কারণে কোনওরকম দুর্বলতা...... "
" নাহ!" মাথা নাড়ল মীনা, " আমি নিশ্চিত, ও আমায় স্পর্শ
করেনি"।
" হুম", মাথা ঝাঁকালেন প্রফেসর। বললেন, " আমি নিশ্চিত,
আগের চেয়ে আমরা অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছি
"।
" কি রকম?"
প্রফেসর বলতে লাগলেন, " দেহ ধারণ করেছে আমাদের
শত্রু।.....এবং ওর দৈহিক আক্রমণ ঠেকানোর পন্থা জানা
আছে আমাদের। ইলিনাকে ডেকে সব বুঝিয়ে বলতে হবে।
কুইন্সিকেও কিছুটা সতর্ক করে দেওয়া দরকার।
আগামীকাল থেকে কাজে নামব আমরা"। " ইলিনা আর
কুইন্সি এখানে না থাকলেই বেশী স্বস্তিবোধ করতাম",
বললাম আমি, " মীনা'ও"। " ভুল ধারনা ", বললেন হেলসিং, "
বাইরে আরও বিপদের মধ্যে থাকবে। এখানে থাকলেই
বরং আমরা ওদের রক্ষা করতে পারব। যা কিছুই ঘটুক,
আপাতত এই বাড়ি ছাড়া চলবে না আমাদের কারোর"।
( ডায়েরীর এই অংশ জোনাথনের নিজের হাতে লেখা)
সভা ভেঙে দিয়েছেন ভ্যান হেলসিং, সবাইকে ঘুমোতে
পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, আজ রাতে আর কিছু ঘটবে
না। আমাদেরকে ভয় দেখাতে এসেছিল ড্রাকুলা, সেটা
পেরেছেও......কাজেই আজ আর অন্য কিছু করবার প্রয়োজন
নেই তার। তারপরেও রাতে পাহারায় থাকবেন তিনি।
কুইন্সির সঙ্গে ঘুমোতে গেছে মীনা, কিন্তু আমার চোখে
ঘুম নেই। তাই প্রফেসরের সঙ্গে ড্রয়িংরুমে বসে আছি
আমি। করবার মতো কিছু পাচ্ছিলাম না, তাই ডায়েরীটা
নিয়ে বসেছি। ডান হাতটা ব্যবহার করতে কষ্ট হলেও
চেষ্টা করছি লেখার।
বাড়ির দেয়ালের ওপর বাইরে থেকে হামলে পড়ছে
ঝোড়ো বাতাস। তার মাঝে মানুষের গোঙানির মতো
আওয়াজ শুনছি আমি, শুনছি বুনো কুকুরের চিৎকার। সত্যি
না মিথ্যে কে জানে। পরিবেশটা ভৌতিক। নীচতলায় যত
বাতি আছে, সব জ্বালিয়ে রেখেছি আমরা; সেইসঙ্গে
জ্বেলেছি বাড়তি মোমবাতি। তবু অন্ধকার যেন কাটছেই
না। প্রতি ঘন্টায় একবার করে মীনা আর কুইন্সিকে দেখে
আসছি আমি - ওরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এখনো পর্যন্ত
বিপদের কোনও আভাস চোখে পড়েনি। ভোর হয়ে আসছে।
দিনের বেলা ড্রাকুলা অসহায়, কাজেই এবার কিছুটা
স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। ভ্যান হেলসিংও আমায়
ঘুমোতে যাবার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন। ডায়েরী বন্ধ
করি।
১১ নভেম্বর, সকাল।। বিচ্ছিরি.... আপত্তিকর এক স্বপ্ন
দেখলাম ঘুমের মধ্যে। দেখলাম শ্বেতবসনা একটা মেয়ে
এসে ঢুকেছে আমার কামরায়, বিছানার পাশে এসে ঝুঁকে
পড়ছে আমার গায়ের ওপর। অপরূপা সুন্দরী - একবার মনে
হলো লুসি, তারপর আবার মনে হলো ড্রাকুলা ক্যাসলের
সেই তিন ডাইনীর একজন। আমায় যেন যাদুর মায়ায়
আটকে ফেলেছে, নড়তে পারছিলাম না।
হঠাৎ এবার চিনতে পারলাম মেয়েটাকে। আরে, এ তো
ইলিনা! একেবারে আমার মুখের কাছে মুখ নিয়ে এল সে।
জিভ বের করে চাটল সুন্দর ঠোঁটজোড়া। লক্ষ্য করলাম, ওর
জিভের ডগাটা সাপের মতো চেরা। তা দেখে বিবমীষা
অনুভব করলাম না, বরং অনুভব করলাম অমোঘ এক আকর্ষণ।
ইচ্ছে হলো জড়িয়ে ধরি ওকে, নিজেকে বিলিয়ে দিই ওর
পায়ে।
আমার মনের কথা পড়তে পেরেই যেন হেসে উঠল ইলিনা।
ফিসফিস করে বলল, " হ্যাঁ, আমাকেই দরকার তোমার।
মীনাকে নয়"।
মাথা ঝাঁকাতেই মুখ আরেকটু নামাল সে। ওর গরম নিশ্বাস
অনুভব করলাম চামড়ায়। ঠোঁটজোড়া ফাঁক হলো, বেরিয়ে
এল দু'পাশের শ্বদন্ত - লম্বা, ছুঁচালো.... একটু বাঁকা।
শ্বদন্তের গা বেয়ে পড়ছে স্বচ্ছ এক তরল। কি ওটা, বুঝতে
অসুবিধা হলো না। বিষ! ভয়ে চেঁচিয়ে উঠতে চাইলাম,
কিন্তু গলা দিয়ে কোনও শব্দ বেরোল না। আমার ওপর
ক্ষুধার্ত পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল ও। মুখ দিয়ে বুকের সব
বাতাস বেরিয়ে গেল আমার। মনে হলো দম নয়, আত্মাটাই
বুঝি বেরিয়ে গেল দেহের খাঁচা ছেড়ে। চোখের সামনে
থেকে নেই হয়ে গেল দুনিয়া। অতল এক গহ্বরে যেন পতিত
হলাম আমি। ডুবে গেলাম জমাট অন্ধকারে।
কি বিশ্রী স্বপ্ন! ঈশ্বর, কেন দেখছি আমি এসব? মীনার
প্রতি আমার ভালবাসায় কোনও খাদ নেই, তা হলে কেন
বারবার স্বপ্নে হানা দিচ্ছে ইলিনা? অবচেতন মনে আমি
কি তা হলে ওকে.......
না, না, এমন ভাবাও পাপ। আমি যেহেতু বিবাহিত এবং
এক সন্তানের পিতা, আমার পক্ষে অন্য কোন নারীকে
নিয়ে চিন্তা করাও পাপ। সব ওই অভিশপ্ত পিশাচ
ড্রাকুলার দোষ। ওর কারণেই ছারখার হচ্ছে আমার
সংসার আর মন।
ওকে আবারও ধ্বংস করতে হবে। নইলে কিছুতেই পারব না
আমার প্রেমময়ী স্ত্রী 'র কাছে ফিরে যেতে। পরে।
প্রয়োজনীয় বিশ্রাম আর নাস্তার পর অনেকটাই ভাল
বোধ করছি। দিনের আলো ফিরিয়ে দিয়েছে আমার মনের
জোর। ইতিমধ্যে মীনাকে স্বপ্নটার কথা জানিয়েছি
আমি, চাইনি আমাদের মধ্যে গোপন কিছু থাকুক।
ব্যাপারটা শান্তভাবে মেনে নিয়েছে ও, স্বান্তনা
দিয়েছে - স্বপ্ন স্বপ্নই;ও নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
আশ্চর্য মেয়ে মীনা! অন্য কেউ হলে এইরকম স্বপ্নের কথা
শুনে নির্ঘাত আপসেট হয়ে যেত, অথচ ও....ওকে স্ত্রী
হিসেবে পেয়েছি, এ আমার পরম সৌভাগ্য। ভ্যান
হেলসিং তাঁর স্বভাবজাত ভঙ্গিতে কাজে নেমে
পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে ঘরের সমস্ত দরজা জানলায়
ক্রুশ আর বুনো গোলাপের ডাল ঝোলাবেন ঠিক করেছেন
তিনি। আমস্টারডাম থেকে রসুন ফুল আনাবারও ব্যবস্থা
করেছেন। শুরুতেই কেন তাঁকে কাজটা করতে দিলাম না,
ভেবে দুয়ো দিচ্ছি নিজেকে। প্রফেসরকে এ কাজে
সাহায্য করছেন ডাঃ সিউয়ার্ড আর আর্থার
গোডালমিং। তাঁরা ড্রাকুলার আস্তানার খোঁজে
আশপাশের এলাকায়ও তল্লাশি চালাবেন। এই ফাঁকে
মীনা, ইলিনা আর কুইন্সিকে নিয়ে আমাকে বেড়িয়ে
আসার পরামর্শ দিলেন প্রফেসর। আপত্তি
জানিয়েছিলাম, কিন্তু ভদ্রলোক যুক্তিতর্ক দিয়ে প্রমাণ
করে ছাড়লেন - একটা দিন খোলা বাতাসে বেড়ালে
শরীর -মন দুইই ভাল থাকবে আমাদের। কারণ এরপরই শুরু হবে
বাড়ির ভেতরের বন্দিজীবন। শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো,
ট্রেনে চেপে সাগর সৈকতে যাব আমরা, সারাদিন সাগর
সৈকতে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে আসব সন্ধের আগেভাগে।
মীনা যখন তৈরি হতে গেল, ঘুরে ফিরে দেখলাম
প্রফেসরের কাজ। বাড়িটাকে ছোটখাটো একটা দূর্গ
বানিয়ে ফেলছেন তিনি। জিজ্ঞেস করলাম, " আপনার এই
'জেলখানা'য় কতদিন আমাদের থাকতে হবে, প্রফেসর?
বন্ধ জায়গায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসে"। " যত অসুবিধেই
হোক", ভ্যান হেলসিং বললেন, " যতদিন না ড্রাকুলার
আস্তানা খুঁজে পাচ্ছি, আর ওকে ধ্বংস করছি, ততদিনই
আমাদের থাকতে হবে এভাবে "। " কিন্তু ওকে ধ্বংস
করবেন কিভাবে? " জিজ্ঞেস করলাম আমি।
" যেভাবে ভ্যাম্পায়ারকে ধ্বংস করতে হয় - হৃদপিন্ডে
কাঠের গজাল গেঁথে....মাথা ধড় থেকে আলাদা করে
মুখের ভেতর রসুন গুঁজে দিয়ে...." " সনাতন পন্থায় এক দফা
চেষ্টা চালিয়েছি আমরা", মনে করিয়ে দিলাম আমি, "
তাতে কিন্তু কাজ হয়নি। আবার ফিরে এসেছে সে। "
কাঁধ ঝাঁকালেন প্রফেসর। বললেন, " নতুন কোনও উপায়
যতক্ষণ না পাচ্ছি, পুরনোটাই ভরসা"। তারপর একটু যেন
বিমর্ষ হয়ে বললেন, " সত্যি বলতে কি, জোনাথন,
ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজেও চিন্তিত। প্লিজ, আর
কোনও প্রশ্ন কোরো না। জবাব দিতে পারব না"। কি আর
করা, সরে এলাম তাঁর সামনে থেকে।
ক্রমশ
★২৫তম পর্ব ২ ঘন্টা পর। লাইক কমেন্ট করে সাথে থাকুন।
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now