বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ১১ঃ ইলিনা কোভাক্সের ডায়েরীর শেষাংশ ১ সেপ্টেম্বর।। অবশেষে ডায়েরী লেখার মতো শক্তি ফিরে পেয়েছি। আমি এখন বুদাপেস্টে, আমাদের বাড়িতে। কিভাবে এখানে পৌঁছলাম, সংক্ষেপে তা জানাই। দূর্গ থেকে আমার অদৃশ্য সঙ্গীর নির্দেশে সেদিনই বেরিয়ে পড়েছিলাম আমি, পাহাড়ের মাঝে উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকা অবস্থায় একদল রাখাল আমায় খুঁজে পায়। পাগলের মতো দেখাচ্ছিল আমায়- উষ্কখুষ্ক চুল, গায়ে ময়লা, কাঁধে মাটিভর্তি বোঁচকা। আসল ঘটনা কিছুই জানাইনি ওদের, মিথ্যে করে বলেছি... বাবার সঙ্গে ক্যারিজে চেপে বিসট্রিজে যাচ্ছিলাম, পথে একদল নেকড়ে হামলা করে আমাদের ওপর ;বাবা মারা গেছে, আমি কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছি। আমার এ কাহিনী ওরা সরল মনেই বিশ্বাস করে নেয়, তাই খুব বেশী প্রশ্ন করেনি। গ্রামে নিয়ে গিয়ে আমার সেবা শুশ্রূষা করেছে, নতুন পোশাক দিয়েছে, তারপর তুলে দিয়েছে বুদাপেস্টগামী ট্রেনে। বলা বাহুল্য, সবকিছুই ঘটে চলেছে আমার অদৃশ্য সঙ্গীর ইশারায়। সে যা বলছে, তাই-ই করছি আমি। নিজস্ব স্বত্তা বলতে কিছুই নেই, আমি এখন স্রেফ তার হুকুমের দাসী। যেভাবে আমায় চালাচ্ছে, ঠিক সেভাবেই চলছি। আনন্দের সঙ্গে। বাড়িতে এখন আমাদের বুড়ি হাউজকীপার ছাড়া আর কেউ নেই। ওর মুখেই শুনলাম, মিকোলাসকে নিয়ে আন্দ্রে চাচা নাকি কি এক প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে গেছেন....অন্তত দু'এক সপ্তাহের আগে ফিরছেন না। অবাক হইনি, ছেলেবেলা থেকেই জানি সুযোগ পেলেই ঘর ছেড়ে দূর দূরান্তে বেরিয়ে পড়া চাচা'র স্বভাব। উনি না থাকাতে বরং খুশীই হয়েছি। এখুনি বাবা'র মৃত্যুসংবাদ দিতে হলো না। ঘটনাটার সঠিক ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হতো না আমার পক্ষে। বাড়িতে চাচা'র একটা চিঠি পড়ে আছে - আব্রাহাম ভ্যান হেলসিংয়ের লেখা....খোলা হয়নি। বোধহয় চিঠিটা এসে পৌঁছনোর আগেই রওনা হয়ে গেছেন চাচা। কেন যেন চিঠি'টা পড়ে দেখবার তীব্র ইচ্ছা জাগল, যদিও অন্যের চিঠি পড়া একদম উচিত নয়। নাহ, কাজটা ঠিক হবে না। ডায়েরী লেখা থামাই। চিঠি লিখতে হবে এখন আমাকে। আন্দ্রে কোভাক্সের কাছে আব্রাহাম ভ্যান হেলসিংয়ের চিঠি ( এই চিঠি প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্স পান'নি) ২৮ আগস্ট, আমস্টারডাম।। প্রিয় আন্দ্রে, প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তোমার চিঠির জবাব দিতে এত দেরী করায়। গত কিছুদিন ধরে মনটা বিক্ষিপ্ত হয়েছিল অন্য একটা বিষয়ে। কোনও কাজে মন দিতে পারিনি। আমার স্ত্রী মারা গেছে, আন্দ্রে। কষ্ট পাচ্ছি....কিন্তু বলতে দ্বিধা নেই, মৃত্যুটা এক অর্থে মুক্তি দিয়েছে ওকে। বেঁচে থাকতেই যেন ও বেশী কষ্ট পেত আর কষ্ট দিত আমায়। তুমি তো ওর ব্যাপারটা জানো আন্দ্রে, পাগল হয়ে গিয়েছিল বেচারি, অনেকদিন ধরেই মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিল, আমাকে পর্যন্ত চিনতে পারত না। স্ত্রী বেঁচে থাকা স্বত্তেও আমি ছিলাম বিপত্নীক। এবার সেই সুতোও ছিঁড়ে গেল। ভালই হয়েছে একদিক থেকে। যাক সেসব কথা। তোমার স্কলোম্যান্স অভিযানের প্রসঙ্গে আসি। আগ্রহ জাগাবার মতোই একটা কাজে নামতে চলেছ তুমি, কিন্তু তোমায় এক্ষেত্রে সতর্ক করে দেবার প্রয়োজন আছে। আগেই বলেছি, শয়তানের অশুভ ক্ষমতার ব্যাপারটা স্রেফ গল্পগাথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ড্রাকুলা'র অস্তিত্ব -ই ছিল সেটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। স্কলোম্যান্স আছে কি নেই, এই প্রশ্ন যদি করো তো নির্দ্বিধায় বলব, ওটা আছে। তবে স্কলোম্যান্স খুঁজে বের করা এবং সেখানে পৌঁছনো সহজ কাজ নয়। নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গোপন আর সুরক্ষিত জায়গায় লুকিয়ে আছে ওটা। শয়তান'ও নিশ্চয়ই এমন সব বাধা বিপত্তির জাল বিছিয়ে রেখেছে যে সাধারণ মানুষ সহজে ওখানে পৌঁছতেই পারবে না। তবে তোমার মতো উদ্যমী, জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মানুষ যে সব বাধা উতরে যেতে পারবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপর? স্কলোম্যান্স খুঁজে বের করার ফলাফল যে কি হতে পারে, তা কি তুমি ভেবে দেখেছ? এই পরিস্থিতিতে একটাই পরামর্শ তোমায় দিতে পারি...মানবে কি মানবে না, সেটা তোমার ব্যাপার। আমি বলব, স্কলোম্যান্স'কে ঘাঁটাতে যেও না; যেমন আছে, তেমনই থাকতে দাও অশুভ ওই জায়গা'কে। না, শুধু পরামর্শ নয়, এ আমার অনুরোধ জানবে। যেয়ো না তুমি ওই অভিযানে, প্রিয় বন্ধু আমার। কিছুতেই না। ইতি, তোমার বন্ধু, আব্রাহাম ভ্যান হেলসিং মীনা হারকারের কাছে ইলিনা কোভাক্সের চিঠি ১ সেপ্টেম্বর।। প্রিয় মাদাম হারকার, শ্রদ্ধা নেবেন। জটিল এক পরিস্থিতিতে এই চিঠি লিখছি। ভয়ানক এক ঘটনা ঘটে গেছে....আমার বাবা মারা গেছেন। সন্ধেবেলায় ছবি আঁকতে গিয়েছিলেন বাইরে; কারোর বারণ শোনেননি, ফলে যা ঘটবার তাই ঘটেছে। বুনো নেকড়ের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন তিনি। যখন তাঁকে উদ্ধার করা হয়, তখন আর কিছু করার করার ছিল না। অল্প সময় পরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। খামারে আর থাকা সম্ভব হয়নি আমার পক্ষে। সোজা ফিরে এসেছি বাড়িতে। কিন্তু এখানে পৌঁছেই দেখলাম, আন্দ্রে চাচা আর তাঁর ছাত্র মিকোলাস এক অভিযানে চলে গেছেন। কবে ফিরবেন কোন ঠিক নেই। ওঁরা জানেন না, ফেরার সঙ্গে সঙ্গে কি দুঃসংবাদ পাবেন তাঁরা। এদিকে আমার মাথা খারাপের মতো অবস্থা..... একাকী এ বাড়িতে কিছুতেই মন বসছে না। একজন সঙ্গীর দরকার অনুভব করছি প্রতি মূহুর্তে। আপনার প্রতি তাই আমার অনুরোধ - যদি সম্ভব হয় কয়েকটা দিন আপনাদের ওখানে থাকতে দিন আমায়, চাচা না ফেরা পর্যন্ত। অনুরোধটা করছি নিতান্ত অনন্যোপায় হয়ে। কথা দিচ্ছি, আপনাদের কোনও অসুবিধা করব না। প্রয়োজনে আপনাদের কাজেকর্মেও সাহায্য করতে রাজি আছি। তারপরেও যদি আপত্তি থাকে, আমি কিছু মনে করব না। কিন্তু যদি এটুকু উপকার করেন, আমি সেটা সারাজীবন মনে রাখব। আর কিছু লিখতে পারছি না। আপনার সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি জানাবেন। বিনীতা, ইলিনা কোভাক্স ইলিনা কোভাক্স'কে লেখা মীনা হারকারের চিঠি ৫ সেপ্টেম্বর।। প্রিয় ইলিনা, তোমার চিঠি পড়ে খুব কষ্ট পেলাম। এখানে আসতে চাইছ....অবশ্যই আসবে। এ পরিস্থিতিতে একাকী থাকা উচিত হবে না তোমার। মিঃ এমিল কোভাক্সের মৃত্যুর খবর জেনে আমরা সবাই মর্মাহত। কার্পেথিয়ানের মতো দুর্গম বিপদসঙ্কুল জায়গায় আরেকটু সতর্কভাবে চলাফেরা করলে হয়তো এ ঘটনা ঘটত না। কিন্তু এখন আর এ নিয়ে মাতম করে লাভ হবে না। যত তাড়াতাড়ি পারো চলে এসো। প্রফেসর ভ্যান হেলসিং-কেও খবর দিয়েছি আমরা। তোমার চাচার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনি, নিঃসন্দেহে তোমার পাশে থাকতে চাইবেন। কবে - কখন - কিভাবে আসছ, পত্র মারফত জানিয়ো আমাকে। যাত্রার ব্যাপারে কোনও সাহায্য বা পরামর্শের প্রয়োজন হলে চাইতে দ্বিধা কোরো না। ইংলন্ডে পৌঁছনোর পর ট্রেনে চেপে এক্সেটারে আসতে পারবে, অথবা আমি আর জোনাথনই লন্ডনে গিয়ে তোমায় রিসিভ করতে পারি। কিসে তোমার সুবিধা হয় জানিও। এখানে থাকার বিনিময়ে আমাদের ঘরের কাজে কর্মে সাহায্য করতে চাও বলে জানিয়েছ, তবে ওসবের প্রয়োজন নেই। একটা ব্যাপারেই শুধু বন্ধু হিসেবে তোমার সাহায্য পেলে ভাল হয়... আমার ছেলে কুইন্সির দেখাশোনার ব্যাপারে। ওর গভর্নেসের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তাই চাকরী ছেড়ে চলে গেছে সে। মিসেস অ্যালিস সিউয়ার্ড যদ্দূর পারেন করছেন, কিন্তু তাঁরও তো ঘর সংসার আছে। কাজেই যে-কদিন এখানে থাকবে, সে- কদিন তুমি একটু কুইন্সি'কে সঙ্গ দিতে পারো, খুব উপকার হবে আমাদের। আশা করি তার মধ্যে আমরা নতুন একজন গভর্নেস জোগাড় করে ফেলতে পারব। তোমার আসার অপেক্ষায় রইলাম। ইতি, মীনা হারকার। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now