বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্পটা ভুল ছিলো

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্পটা ভুল ছিলো _______ হৃদয় মাহমুদ । : : : রুপা আজ নিশ্চুপ নির্বিকার। একা থাকে, একা হাসে, নিজেই নিজের সাথে কথা বলে, গুনগুনিয়ে গান গায় একাকীত্বে। কোন চাওয়া পাওয়া নাই, কোন চাহিদা নাই। প্রয়োজনেরটাও বলবে না, অপছন্দও কাউকে বুঝতে দিবে না। কোন উপলক্ষ্যে তাকে আর দেখা যায় না। পরিবারে মা-বাবা,ভাই-বোন সবাই আছে তথাপিও সে একা। বড়ই অসহায়। . একটা সময় রুপা ছিলো পরিবারের সবার আদরনীয়। সকলের চোখের মনি। তাকে ছাড়া কোন কাজই সম্পূর্ণ হতো না। সে না'বললে কোটি টাকা ক্ষতি হলেও তা করা হতো না। একটু হাসির জন্য পরিবারে হৈহৈ শুরু হয়ে যেতো। আর যদি এক ফোঁটা চোখের পানি পড়তো তবেতো সবার ঘুম হারাম হয়ে যেতো। কিন্তু সকলের এত্ত আদরের রুপা আজ অবেহেলিত। পরিবারের সকলের কাছে মূল্যহীন একেবারে অচল পয়সা। আজ তাকে খেয়েছে কিনা কেউ জিজ্ঞেস করেনা। কিছু লাগবে কিনা তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। কথায় কথায় ঘৃনার তীর ছুঁড়ে দেয়। একটু এদিক সেদিক হলেই কথার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। তাইতো সে নিশ্চুপে একাকার। . রুপা ভালোবেসেছিলো পাশের গ্রামের একটি ছেলেকে। দুজনে একই স্কুলে একই শ্রেনিতে পড়তো। ছেলেটি নিতান্তই গরীব ছিলো। একটা ভালো জামা কেনার সামর্থ্য ছিলো না। রুপা সেই মাধ্যমিক লেভেল থেকে ছেলেটিকে সবদিক থেকে সহযোগীতা করে আসছে। ছেলেটিও ছিলো স্মার্ট এবং ব্রিলিয়ান্ট তাই রুপাও সহপাঠী হোক বা ভালো বন্ধু মনে করেই তাকে সাথে নিয়ে চলতো। ছেলেটিও রুপার সাথে সবার থেকে আলাদা আচরন করতো। রুপাকে ছাড়া কিছুই বুঝতো না। . উচ্চ মাধ্যমিকে এসে দুজনের সম্পর্কটা প্রেমে রুপান্তর হয়ে গেলো। একে অন্যকে ভীষন ভালোবাসে। তখন থেকে রুপা ছেলেটির যাবতীয় খরচ বহন করতো। ছেলেটিও যখন যাহা প্রয়োজন হতো শুধু রুপাকে ঈশারা করতো আর সাথে সাথে পেয়ে যেতো। . বিষয়টা রুপার পরিবার জানতে পেরে রুপাকে খুবই ফোর্সড করলো সরে যেতে কিন্তু রুপা সরতে রাজি না। দুনিয়ার সবকিছু ভুলা যাবে, শুধু একটা জিনিস বাদে আর তা হলো ছেলেটি। রুপাকে তার জন্য অনেক নির্যাতন সইতে হলো। বিষয়টা জানার পর থেকেই রুপার উপর নেমে এলো কালবৈশাখী ঝড়। . রুপা জানতো তার পরিবার কখনোই এমন একটা ছেলেকে মেনে নেবেনা। তারপরও সে ভালোবেসেছে নিরন্তর। রুপার উদ্দেশ্য ছিলো ছেলেটিকে পড়াশুনা করিয়ে মানুষের মত মানুষ করে তার পরিবারের যোগ্য করে তুলবে। তারপর তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে বলবে "দেখো, আমি যাকে পছন্দ করি সেই লোকটি কেমন "?ঐ সময় সবাই মুখে মুখে বলবে মেয়েটির পছন্দ আছে। তখন তার পরিবার ছেলেটিকে ফেলে দিতে পারবে না। রুপা তার পরিবারকে গর্বের সাথে বলবে "তোমাদের চাইতে ও (ছেলেটি) কোন অংশে কম নয় "। তাই রুপা নিজের জমানো টাকা দিয়ে ছেলেটির টিউশন ফি, বেতন, বই অর্থাৎ যাবতীয় খরচ চালাতো। . বাড়িতে সবার সাথে কন্টিনিউ ফাইট হতো ছেলেটিকে নিয়ে। পরিবার তাকে ফেরাতে না পেরে বিয়ে দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেও পারে নি। পরিবারের সবাই তার "ওরে আমি মানুষের মত মানুষ করে তোমাদের সামনে দাঁড় করাবো " কথার জবাবে বলতো "তখন সে আর তোকে চিনবে না। তোকে ফাঁকি দিয়ে, কষ্ট দিয়ে অন্যকে নিয়ে সুখের ঘর বাঁধবে "। রুপা পরিবারের মধ্যে সবার ছোট এবং খুবই গরম মেজাজের । সবাই তাকে এত্ত মানসিক ফোর্সড করলেও সে একটুখানি ভেঙ্গে পড়েনি, ভয়ও পায়নি। জিদ্দি এবং সাহসিনী। . ছেলেটিকে অন্ধের মত ভালোবেসেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই ক্ষেপে গেছে, এক পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে। সে এতটাই দূর্বল ছিলো যে ছেলেটি যা চাইতো তাই দিতো। ইচ্ছে করলে পালিয়ে বা সবার সামনেই বিয়ে করতে পারে কিন্তু রুপার জেদ হলো উপযুক্ত করে সবার সম্মতিতে বিয়ে করবে। . উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হওয়ার পর কোচিং করার জন্য ভর্তি করে দিলো। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলো। রুপার কথা হচ্ছে তোমার যা প্রয়োজন শুধু আমারে বলবা দেবো কিন্তু ভালো একটা ভার্সিটিতে চান্স পেতে হবে। আমি তখনই সার্থক হবো। আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। রুপার বিশ্বাস তার পরিশ্রম বৃথা যাবে না। যেই কথা সেই কাজ। ছেলেটি দেশের প্রথম সারির ভার্সিটিগুলোর একটিতে চান্স পেলো। রুপা ভর্তি করে দিলো। রুপা ভর্তি হলো একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে। দীর্ঘ অনেকটা সময় এক সাথে থাকার পর জীবনের এই পর্যায়ে এসে আলাদা হয়ে গেলো। দুই জন দুই প্রান্তে। খুব একটা কষ্ট হলেও নিজেকে শান্তনা দিলো যে মাত্রতো কয়েকটা বছর। এরপর তো বিয়ে করবো আর সেও একজন যোগ্য ব্যক্তি হয়ে ফিরে আসবে। ছেলেটি ভার্সিটিতে চলে যাওয়ার সময় রুপা খুব কাঁদলো। এই প্রথম বারের মত তার জন্য খারাপ লাগলো। দুজনে কথা হলো, প্রত্যেক দিন ফোনে কথা হবে, মাসে একবার করে দেখা করবে। . এভাবে চলতে লাগলো। বাড়িতে সবার সাথে যুদ্ধের মত লেগে আছে। কত যে বিয়ে ভেঙ্গেছে তার ইয়ত্তা নেই। সবাইকে বলতো তার বিয়ে হয়ে গেছে। প্রায় দুবছর কেটে গেলো। . একদিন রুপার ভাই খবর নিয়ে এলো ছেলেটির অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে। নানান রঙ্গে বুঝাতে চাইলো কিন্তু রুপা এই বিষয়ে কানই দিলো না। ছেলেটি এই কথা শুনে কষ্ট পাবে বলে রুপা কোন কিছু জিজ্ঞেসও করেনি। কারন তার সাথে সেই আগের মতই কথা হয়, দেখা হয়, যা যা দরকার চেয়ে নিচ্ছে। অন্য কারো সাথে সম্পর্ক করলে আমাকে সময় দিবে কেনো। তাছাড়া সে এই রকম ছেলেইনা। আমি ওকে ভালো করে চিনি। তোমরা যতই ষড়যন্ত্র করোনা কেন আমি ওকে এই বাড়ির যোগ্য জামাই করে গড়ে তুলবো। মনে মনে ভাবে। . রুপা আরো এক কাছের লোকের মুখে ছেলেটির অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কের কথা শুনেও চুপ রইলো কারন প্রতিটা ভালোবাসা অন্ধ। রুপার সম্পর্কটা সবাই জানতো তাই জনে জনে বলতে লাগলো ছেলেটির অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে। নাহ রুপা এবার বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে থাকলো। যাই রটে কিছুনা কিছু ঘটে। রুপা এক রকম বিপর্যস্ত হয়ে পড়লো। বিষয়টি তদন্ত করতে করতে একদিন ছেলেটির ভার্সিটিতে গিয়ে পৌঁছালো। সেখানে গিয়ে দেখে ঘটনা সত্য। উচ্চ মাধ্যমিক থেকেই অন্য একটি মেয়েকে পছন্দ করতো আর রুপাকে প্রেমের ফাঁদে পেলে টাকা নিতো। অভিনয় করে ভুলিয়ে রাখতো, কখনো বুঝতে দেয়নি। সব সময় রুপার সাথে নিষ্পাপ প্রেমের অভনয় করে গেছে। ছেলেটি যখন নিজের মুখেই প্রতারনার কথা স্বীকার করলো, রুপাতো শুনেই অজ্ঞান হয়ে গেলো। . সেদিন থেকে রুপা চুপ। নিজের কাছে নিজেই হেরে গেছে তাই নিজেকে লুকিয়ে রাখে। পরিবারের সবার কাছে ঘৃণিত হয়ে বেঁচে আছে। এখন আর কোন আনন্দ তাকে স্পর্শ করতে পারে না। শুধু নিশ্চুপে একাকী কাঁধে। কান্নাই এখন তার নিত্য সঙ্গী।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now