বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরিচয়

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্প - পরিচয়। - এই সজীব, সজীব! ঘুম থেকে উঠ! বহুকষ্টে ঘুম ভাঙ্গলো সজীবের। রাতে অনেক পরিশ্রম গেছে সজীবের। সারারাত স্টেশনে মাল টানাটানি করেই সময় কাটে ছোট্ট সজীবের। আর বৃহস্পতিবার মানুষের ভিড় বেশি থাকে তাই কাজের চাপও বেশি। সারারাত পরিশ্রম করে এখন সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠা কষ্টকরই সজীবের জন্য। তাই বন্ধু রতনকে এড়িয়ে ওপাশ ফিরে শুলো সজীব। কিন্তু রতন নাছোড়বান্দা। সে হাল ছাড়লো না। - সজীব, ওঠ ভাই। কাম আছে একটা। সজীব জবাব দিলো না। তবুও রতন বলে চললো, - স্কুল মাঠে পান্তা খাওয়াইতাছে। চল খাইতে যামু। এইবার শোয়া থেকে উঠে বসলো সজীব। বিরক্তি আর রাগ একসাথে চেপে ধরেছে তাকে। চোখ ডলতে ডলতে বলল, - পান্তা ভাত তো প্রত্যেকদিনই খাই। এইটা খাইতে আবার স্কুল মাঠে যাওন লাগবো কেন?? -- আরে বেটা, পান্তা ভাতের লগে ইলিশ মাছও দিবো। সজীব এতক্ষণে রতনের উচ্ছসিত হওয়ার হেতু খুঁজে পেলো। প্রতিদিন পান্তার সাথে মরিচ ডলে খাওয়া আর কালেভদ্রে ডিম দিয়ে পান্তা খাওয়া ছেলেটি ইলিশ দিয়ে পান্তা খাওয়ার লোভ সামলাতে পারলো না। দ্রুত তৈরি হওয়া শুরু করলো। (দুই) সজীবকে এক চেয়ারে বসিয়ে রতন কই যেনো হাওয়া হয়ে গেল। অনেক মানুষের ভিড়। সবাই পান্তা ইলিশ খাচ্ছে। চারপাশে কেমন উৎসবের আমেজ। মিনিট দশেক পরে রতন দুটি প্লেট হাতে ফিরে আসলো। মুখে তার যুদ্ধজয়ী সেনাপতির মতো হাসি। প্লেট হাতে নিয়ে সজীব দেখলো প্লেটে পান্তার সাথে আছে ইলিশ মাছের ছোট এক টুকরো আর শুটকি ভর্তা। আগ্রহ নিয়ে রতনের প্লেটের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর প্লেটে শুধু পান্তা আর শুটকি ভর্তা। ইলিশ মাছের চিহ্নও নেই। সজীব জিজ্ঞেস করলো, - কিরে, তোকে ইলিশ মাছ দেয়নি?? -- আরে বেটা, ইলিশ মাছ একটাই দিছে। তুই খা। সজীবের মন খারাপ হয়ে গেল। টোকাইয়ের মতো পোশাক পড়া এই দুজনকে যে মানুষ জামাই আদর করবে না তা আগেই বোঝা উচিত ছিলো। সজীব ইলিশের অর্ধেক অংশ রতনের পাতে তুলে দিলো। রতন অবশ্য আপত্তি তুললো না কারণ অর্ধেক অংশ তার প্রাপ্য ছিলো। (তিন) - দোস্ত, পেট ভরে নাই। পোষাইলো না! রতনের কথা শুনে চুপ করে রইলো সজীব। সজীবের মাথায় অন্য চিন্তা। সজীব একটা টোকাই ছেলে, রতনও তার মতো। তারা দুজন থাকে বস্তিতে। বুঝ হওয়ার পরে বাবা মাকে চোখে দেখেনি সজীব। দেখেছে এক বুড়ি মহিলাকে আর রতনকে। সজীব অনেকবার বুড়িকে জিজ্ঞেস করেছিলো, " রতন কি আমার ভাই?? " বুড়ি প্রতু্ত্ত্যরে বলেছিলো, " না। " বুড়ি না বললেও সজীবের মাঝেমধ্যে রতনকে নিজের ভাই মনে হয়। কিন্তু সজীব জানে রতন আসলেই তার ভাই না। মাঝেমধ্যে আশেপাশের মানুষ বলে বুড়ি মা নাকি সজীব আর রতনকে কুড়িয়ে পেয়েছে। সজীব অবাক হয়ে যায়। এতদিন সজীব দেখেছে, কুকুরের বাচ্চা, বিড়ালের বাচ্চা রাস্তাঘাটে পাওয়া যায়। মানুষ সেগুলো তুলে এনে অনেক শখ করে পালে। তেমনি বুড়ি মা তাদের কুড়িয়ে এনেছে। সজীব গতকালও একজনের মুখে শুনলো নদীতে এক নবজাতকের লাশ ভাসছে। বাচ্চাটি হয়তো তাদের মতোই কেউ। কেউ হয়তো ফেলে দিয়ে চলে গেছে। জীবিত থাকলে সজীব তাকে অবশ্যই তার কাছে নিয়ে আসতো। তার মতো আর রতনের মতো জীবন যেনো আর কারো না হয়। পরিচয়হীনভাবে বসবাস করার জ্বালা একমাত্র সজীব আর রতনই ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারে। (সমাপ্ত) (এইসব জন্মপরিচয়হীন মানুষ দুটির বাবা মা কে?? নিশ্চয়ই কেউনা কেউ ওদের বাবা মা। তারা হয়তো এখন কোন সম্ভ্রান্ত ঘরের বউ অথবা জামাই। সন্তানের আদর্শ বাবা অথবা মা। সমাজের চোখে উঁচুস্তরের মানুষ, সম্মানিত মানুষ। কিন্তু তাদের গর্ভে ধারণ করা অথবা কোন পুরুষের রক্ত আজ ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজের অলিগলিতে, সজীবের মতো! রতনের মতো! অল্প কিছু সময়ের বিকৃত সুখের আশায় সমাজের কিছু মানুষ জন্ম দিচ্ছে জন্মপরিচয়হীন মানুষদের। এদের দায়িত্ব কেউ নিবেনা। নববর্ষে একটি ইলিশকে দুভাগ করে খেয়ে যেতে হবে আজীবন। প্রিয় বাবা মায়েরা, নজর রাখুন আপনার সন্তানের দিকে। তারা কি করছে, ভুল করছে নাকি বিপথে যাচ্ছে! ভুল শুধরে দেয়ার দায়িত্ব তো আপনারই। মুছে যাক সকল বিকৃত আনন্দ। মানুষ মানুষকে সম্মান করতে শিখুক। উৎসব হোক উৎসবের মতো। শুভ নববর্ষ।) লেখা - মুনীর আহমদ। (গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক হলেও বাস্তবিক। আর নদীতে নবজাতকের লাশ পাওয়ার কথাটি সম্পূর্ণ সত্য।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আন্তরিকতার পরিচয়
→ নেপোলিয়ান বোর্নাপাটের পরিচয়
→ প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়
→ প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়
→ কুরআন মাজিদের পরিচয়।
→ (My real পরিচয়)
→ ☕ক্যাঙারুর পরিচয়☕
→ মুসলমানের পরিচয়
→ জিজেতে আমার পরিচয়
→ মেঘ-বৃষ্টিতে আল্লাহর পরিচয়
→ মানুষের আকৃতিতে আল্লাহর পরিচয়
→ কোরআনে আল্লাহর পরিচয়
→ আমার মাঝে আল্লাহর পরিচয়
→ আল কুরআনের আলোকে হযরত ঈসা (আ:) এর পরিচয়
→ বুদ্ধির পরিচয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now